আল-কুরআনের শিক্ষা
- আল-কুরআনের শিক্ষা
- অনুবাদকের আরয
- আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষারত
- লেখকের আরয
- অপশক্তিধরদের আলোকিত চিন্তা চেতনা
- আল্লাহ্ কি হিংস্রতা এবং জুলম করেন?
- মানবাধিকার ও আমেরিকা
- ইসলাম ও কুফুরীর দ্বন্ধ
- ফোরকানুল হকের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা
- কোরআন সংরক্ষণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- কুরআন মাজীদের সাত ক়েরাত
- নে’মতের বহিঃপ্রকাশ
- কোরআন মাজীদের চেলেঞ্জ কি?
- ফোরকানুল হকের ফেতনা
- ফোরকানুল হকের শয়তানি
নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস
- নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস
- প্রথম সংস্করণের ভূমিকা।
- দ্বিতীয় সংস্করণের বিজ্ঞাপন।
- ভৌগলিক বৃত্তান্ত।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: প্রাচীনযুগ।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: মধ্যযুগ।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: নবযুগ।
- ধর্ম্মপ্রণালী।
- সামাজিক রীতিনীতি।
- জাপানের শিক্ষা-প্রণালী।
- জাপানের সাহিত্য ও সংবাদপত্র।
- জাপান সাম্রাজ্যের গঠনপ্রণালী ও রাজনীতি।
- জাপানের বাণিজ্য।
- জাপানের সমর বল।
- জাপানের নানাকথা।
- রুষ ও জাপান যুদ্ধের ইতিহাস।
ইস্তাহার
- ইস্তাহার
- মুখবন্ধ
- ইস্তাহার
- মশাল
- জনতা
- আদিম ও আগামী
- চোখ
- জেহাদ
- রাজনীতি
- সঙ্কট
- বন্যা
- জবানবন্দী
- নেতা
- শকুনির পাশা
- মহাজীবন
- যৌথ
- জালিয়াত
- সাংবাদিক
- কুতুব মিনার
- বাংলা দেশ
- হিপি
- চন্দ্রকাব্য
- পিঞ্জরে বন্দী
- বেনামী সার্কাস
- আরশি
- রঙের গোলাম
- শোষক মশক
- মুক্তির নিমন্ত্রণ
- বীরবরণ
- জলছবি
- বিকল্প
- মুক
- প্রতিবাদ
- প্রস্তরমূর্তি
- নিরুপায়
- বিনষ্ট
- প্রস্থান
- সংশোধন
- বিবৃতি
- সেই লোকটি
- পলাতক
- মাটি ও মানুষ
- মৃত্যু
- গরীয়সী
- প্রণাম
চোদ্দ শতকের বাঙালী
- চোদ্দ শতকের বাঙালী
- শতক বিহরণ
- বিপ্লববাদী সমাজের অভ্যুত্থান
- হিন্দু সভ্যতার শিকর আবিষ্কার
- কুলীনের মেয়ের মুক্তি
- হিন্দু বিবাহ-বিধান
- মুসলিম বিবাহ ও তিন তালাক
- বিয়ে বাড়ির আদব
- শতাব্দীর মর্মন্তুদ অগ্নিকাণ্ড
- কলকাতার দাঙ্গা
- শতাব্দীর আর্থিক চিত্র
- পশ্চিমবঙ্গের নবরূপ
- সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম
- বাঙালী জীবনচর্যার পরিবর্তন
- বাঙালী জীবনের অস্তাচল
- বাঙালী আরও হারিয়েছে তার স্বয়ম্ভরতা
- নারী নির্যাতনে দেশ গেল ভরে
- বাঙালীর দুর্গতি
- ঘটনাপঞ্জী
যুগবাণী
- যুগবাণী
- উৎসর্গ
- নবযুগ
- গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ!
- ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ
- ধর্মঘট
- লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য
- মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান
- ছুঁৎমার্গ
- উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন
- মুখবন্ধ
- রোজ কেয়ামত বা প্রলয় দিন
- বাঙালির ব্যবসাদারি
- আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন?
- কালা আদমিকে গুলি মারা
- শ্যাম রাখি না কুল রাখি
- লাট-প্রেমিক আলি ইমাম
- ভাব ও কাজ
- সত্য-শিক্ষা
- জাতীয় শিক্ষা
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
- জাগরণী
বিষের বাঁশী
- বিষের বাঁশী
- উৎসর্গ
- কৈফিয়ত
- আয় রে আবার আমার চির-তিক্ত প্রাণ!
- ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্ : আবির্ভাব
- ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্ : তিরোভাব
- সেবক
- জাগৃহি
- তূর্য-নিনাদ
- বোধন
- উদ্বোধন
- অভয়-মন্ত্র
- আত্মশক্তি
- মরণ-বরণ
- বন্দি-বন্দনা
- বন্দনা-গান
- মুক্তি-সেবকের গান
- শিকল-পরার গান
- মুক্ত-বন্দি
- যুগান্তরের গান
- চরকার গান
- জাতের বজ্জাতি
- সত্য-মন্ত্র
- বিজয়-গান
- পাগল পথিক
- ভূত-ভাগানোর গান
- বিদ্রোহীর বাণী
- অভিশাপ
- মুক্ত-পিঞ্জর
- ঝড়
ছায়ানট
- পলাতকা
- ছায়ানট
- বিজয়িনী
- কমল-কাঁটা
- চৈতি হাওয়া
- বেদনা-অভিমান
- নিশীথ-প্রীতম্
- অ-বেলায়
- হার-মানা-হার
- লক্ষ্মীছাড়া
- শেষের গান
- নিরুদ্দেশের যাত্রী
- চিরন্তনী প্রিয়া
- বেদনা-মণি
- পরশ পূজা
- অনাদৃতা
- শায়ক-বেঁধা পাখী
- হারামণি
- নীল পরী
- স্নেহ-ভীতু
- চিরশিশু
- মানস-বধূ
- দহনমালা
- বিদায়-বেলায়
- অকরুণ পিয়া
- ব্যথা-নিশীথ
- সন্ধ্যাতারা
- দূরের বন্ধু
- আশা
- মরমী
- মুক্তি-বার
- আপন-পিয়াসী
- বিবাগিনী
- প্রতিবেশিনী
- দুপুর-অভিসার
- ছলকুমারী
- পাপড়ি-খোলা
- বিধুরা পথিকপ্রিয়া
- মনের মানুষ
- প্রিয়ার রূপ
- বাদল-দিনে
- কার বাঁশি বাজিল?
- অ-কেজোর গান
- স্তব্ধ বাদল
- চাঁদমুকুর
- চির-চেনা
- পাহাড়ী গান
- অমর-কানন
- পূবের হাওয়া
- আলতা-স্মৃতি
- রৌদ্রদগ্ধের গান
ফণী-মনসা
- ফণী-মনসা
- সব্যসাচী
- দ্বীপান্তরের বন্দিনী
- প্রবর্তকের ঘুর-চাকায়
- আশীর্বাদ
- মুক্তিকাম
- সাবধানী ঘণ্টা
- বিদায়-মাভৈঃ
- বাংলার মহাত্মা
- হেমপ্রভা
- অশ্বিনীকুমার
- ইন্দু-প্রয়াণ
- দিল-দরদী
- সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ
- সত্য-কবি
- সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ-গীতি
- সুর-কুমার
- রক্ত-পতাকার গান
- অন্তর-ন্যাশন্যাল সঙ্গীত
- জাগর-তূর্য
- যুগের আলো
- পথের দিশা
- যা শত্রু পরে পরে
- হিন্দু-মুসলিম যুদ্ধ
বাঁধনহারা
- বাঁধনহারা
- উৎসর্গ
- পরিচ্ছেদ ক : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ ক : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ খ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ খ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ গ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ গ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র তিন
- পরিচ্ছেদ ঙ
- পরিচ্ছেদ চ
- পরিচ্ছেদ ছ
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র তিন
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র চার
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র পাঁচ
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র ছয়
বুলবুল
- বুলবুল
- উৎসর্গ
- ‘বুলবুলে’র কবি
- বাগিচায় বুলবুলি তুই
- আমারে চোখ-ইশারায়
- বসিয়া বিজনে কেন একা মনে
- ভুলি কেমনে আজও যে মনে
- কেন কাঁদে পরান
- মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে
- কে বিদেশি মন-উদাসী
- করুণ কেন অরুণ আঁখি
- এত জল ও-কাজল-চোখে
- আসে বসন্ত ফুলবনে
- দুরন্ত বায়ু পুরবৈয়াঁ
- চেয়ো না সুনয়না
- পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়
- সখী জাগো, রজনী পোহায়
- নিশি ভোর হল জাগিয়া
- এ বাসি বাসরে আসিলে
- বসিয়া নদীকূলে
- কেন দিলে এ কাঁটা
- সখী, বোলো-বঁধূয়ারে
- নহে নহে প্রিয়
- এ আঁখি-জল মোছ পিয়া
- কী হবে জানিয়া বলো
- পরদেশি বঁধুয়া
- কেন উচাটন মন
- আসিলে এ ভাঙা ঘরে
- আজি দোল পূর্ণিমাতে
- রুমুঝুমু রুমুঝুম্
- আজি এ কুসুম-হার
- গরজে গম্ভীর গগন কম্বু
- হাজার তারার হার হয়ে
- অধীর অম্বরে গুরু গরজন
- ঝরে ঝরঝর কোন গভীর
- হৃদয় যত নিষেধ হানে
- শুকাল মিলন-মালা
- স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়
- গহীন রাতে ঘুম
- কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ
- জাগিলে ‘পারুল’ কি গো
- চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে
- নমো হে নমো যন্ত্রপতি
- পুরবের তরুণ অরুণ
- কে শিব সুন্দর
- কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে
- কেন আন ফুল-ডোর
- কেমনে রাখি আঁখি-বারি
- কেন আসিলে যদি যাবে চলি
- সাজিয়াছ যোগী
- মুসাফির! মোছ এ আঁখি জল
- এ নহে বিলাস বন্ধু
চোখের চাতক
- চোখের চাতক
- আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী
- কাঁদিতে এসেছি আপনারে লয়ে
- ছাড়িতে পরান নাহি চায়
- কে তুমি দূরের সাথী
- আজি এ শ্রাবণ-নিশি
- আজি বাদল ঝরে
- মোর ঘুম ঘোরে এলে
- কেউ ভোলে না কেউ ভোলে
- যাও যাও তুমি ফিরে
- ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায়
- নিশীথ-স্বপন তোর ভুলে যা
- ঘোর তিমির ছাইল রবি শশী
- দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়
- এত কথা কি গো কহিতে জানে
- মন কেন উদাসে
- আমার গহীন জলের নদী
- তোমায় কূলে তুলে বন্ধু
- আমার সাম্পান যাত্রী না লয়
- ওরে মাঝি ভাই
- কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
- আঁধার রাতে কে গো একেলা
- কী হবে লাল পাল তুলে
ছাড়পত্র
- ছাড়পত্র
- ছাড়পত্র (কবিতা)
- আগামী
- রবীন্দ্রনাথের প্রতি
- চারাগাছ
- খবর
- ইউরোপের উদ্দেশে
- প্রস্তুত
- প্রার্থী
- একটি মোরগের কাহিনী
- সিঁড়ি
- কলম
- আগ্নেয়গিরি
- দুরাশার মৃত্যু
- ঠিকানা
- লেনিন
- অনুভব
- কাশ্মীর
- সিগারেট
- দেশলাই কাঠি
- বিবৃতি
- চিল
- চট্টগ্রাম : ১৯৪৩
- মধ্যবিত্ত '৪২
- সেপ্টেম্বর '৪৬
- ঐতিহাসিক
- শত্রু এক
- মজুরদের ঝড়
- ডাক
- বোধন
- রানার
- মৃত্যুজয়ী গান
- কনভয়
- ফসলের ডাক : ১৩৫১
- কৃষকের গান
- এই নবান্নে
- আঠারো বছর বয়স
- হে মহাজীবন
ঘুম নেই
- ঘুম নেই
- বিক্ষোভ
- ১লা মে-র কবিতা '৪৬
- পরিখা
- সব্যসাচী
- উদ্বীক্ষণ
- বিদ্রোহের গান
- অনন্যোপায়
- অভিবাদন
- জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী
- কবিতার খসড়া
- আমরা এসেছি
- একুশে নভেম্বর : ১৯৪৬
- দিন বদলের পালা
- মুক্ত বীরদের প্রতি
- প্রিয়তমাসু
- ছুরি
- সূচনা
- অদ্বৈধ
- দিক্প্রান্তে
- চিরদিনের
- নিভৃত
- বৈশম্পায়ন
- নিভৃত
- কবে
- অলক্ষ্যে
- মহাত্মাজীর প্রতি
- পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে
- পরিশিষ্ট
- মীমাংসা
- অবৈধ
- ১৯৪১ সাল
- রোম : ১৯৪৩
- জনরব
- রৌদ্রের গান
- দেওয়ালী
গীতিগুচ্ছ
- গীতিগুচ্ছ
- ওগো কবি তুমি আপন ভোলা
- এই নিবিড় বাদল দিনে
- গানের সাগর পাড়ি দিলাম
- হে মোর মরণ
- দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে
- শয়ন শিয়রে ভোরের পাখির রবে
- ও কে যায় চলে
- হে পাষাণ, আমি নির্ঝরিণী
- শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল
- কিছু দিয়ে যাও
- ক্লান্ত আমি কর ক্ষমা
- সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন
- কঙ্কণ-কিঙ্কিণী মঞ্জুল মঞ্জীর ধ্বনি
- মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে
- গুঞ্জরিয়া এল অলি
- কোন অভিশাপে নিয়ে এল
- ভুল হল বুঝি
- মুখ তুলে চায়
- ফোটে ফুল আসে যৌবন
সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা
- সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা
- ক্ষুধা
- দুর্বোধ্য
- ভদ্রলোক
- দরদী কিশোর
- কিশোরের স্বপ্ন
- ছন্দ ও আবৃত্তি
- বর্ষ-বাণী
- যেমন ক’রে তপন টানে জল
- জনগণ হও আজ উদ্বুদ্ধ
- আমরা জেগেছি
- শৃঙ্খল ভাঙা সুর
- ভবিষ্যতে
- সুচিকিৎসা
- পরিচয়
- আজিকার দিন কেটে যায়
- চৈত্রদিনের গান
- সুহৃদ্বরেষু
- পটভূমি
- ভারতীয় জীবনত্রাণ-সমাজের মহাপ্রয়াণে
- “নব জ্যামিতি”র ছড়া
- জবাব
- চরমপত্র
- মেজদাকে : মুক্তির অভিনন্দন
- পত্র
- মার্শাল তিতোর প্রতি
- ব্যর্থতা
- দেবদারু গাছে রোদের ঝলক
পলাশির অজানা কাহিনী
- পলাশির অজানা কাহিনী
- ভূমিকা
- প্রাক্-পলাশি বাংলার রূপরেখা
- সিরাজ চরিত-কথা
- ইউরোপীয় কোম্পানি ও এশীয় বণিক সম্প্রদায়
- সিরাজদ্দৌল্লা ও ইংরেজ কোম্পানির সংঘাত
- পলাশি বিপ্লবের অনিবার্যতা
- ষড়যন্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ
- চক্রান্তের মূল নায়করা
- পলাশি অভিমুখে : ইংরেজ পরিকল্পনা
- পলাশির পরিণাম : সুদূরপ্রসারী প্রভাব
- উপসংহার
- নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি
হযরত ওমর
- হযরত ওমর
- গুমরাহীর অন্ধকারায়
- ইসলামের আলোকধারায়
- খেলাফতের প্রতিষ্ঠায়
- বিজয়ীর বেশে ফিরে দেশে দেশে
- ইরাক-আরব বিজয়
- ইরাক-আযম বিজয়
- সিরিয়া বিজয়
- মিসর বিজয়
- ওমরের শাহাদাত
- রাজ্যজয় ও রাষ্ট্রগঠন
- প্রশাসনিক ও রাজস্ব-ব্যবস্থা
- সেনাবিভাগ
- শহর পত্তন ও পূর্তবিভাগ
- বিচার-বিভাগ
- জিম্মীদের অধিকার সংরক্ষণ ও দাসপ্রথা নিয়ন্ত্ৰণ
- শিক্ষাবিস্তার ও ধর্মপ্রচার
- রাষ্ট্রনায়ক : ব্যক্তিত্ব
- মানুষ ওমর
- ওমর-কাহিনীগুচ্ছ
- শেষ প্ৰসঙ্গ
ঐতিহাসিক সমগ্র
- ঐতিহাসিক সমগ্র
- ভারতের দ্বিতীয় প্রভাতে
- মহাভারতের শেষ মহাবীর
- পঞ্চনদের তীরে
- ভগবানের চাবুক
- আলেকজান্ডার দি গ্রেট
- দিগবিজয়ী নেপোলিয়ন
- রক্ত বাদল ঝরে
- হন্তারক নরদানব
- সিরাজের বিজয় অভিযান
- তিন সম্রাটের ত্র্যহস্পর্শযোগ
- সাতহাজারের আত্মদান
- আলেকজান্ডারের পলায়ন
- ওষ্ঠাধরে রাজদণ্ড
- মরা মানিক আর জ্যান্ত মানিক
- মুসলমানের জহরব্রত
- সূর্য দেবী, পর্মল দেবী
- মারাঠার লিওনিডাস
- ভারতের একমাত্র সুলতানা
- ব্যাঘ্রভূমির বঙ্গবীর
- উপন্যাসের চেয়ে আশ্চর্য
- মরণ বিজয়ীর দল
- ছত্রপতির ছত্রভঙ্গ
- জগন্নাথদেবের গুপ্তকথা
- নতুন বাংলার প্রথম কবি
- শিবদাস ভাদুড়ি
- ইতিহাসের রক্তাক্ত প্রান্তরে
- বীরাঙ্গনা, পরাক্রমে ভীমা-সমা
- বর্গি এল দেশে
- হে ইতিহাস গল্প বলো
- প্রথম বাঙালি সম্রাট
- অনামা বীরাঙ্গনা
- ইতিহাসের রক্তাক্ত দৃশ্য
- ছত্রপতির অ্যাডভেঞ্চার
- বাংলাদেশের বোম্বেটেরাজ
ক্রুসেড সিরিজ
- গাজী সালাহুদ্দীনের দুঃসাহসিক অভিযান
- গোপন বিদ্রোহী
- হেমসের যোদ্ধা
- পাপের ফল
- তুমুল লড়াই
- উমরু দরবেশ
- টার্গেট ফিলিস্তিন
- গাদ্দার
- সালাহুদ্দীন আয়ুবীর কমান্ডো অভিযান
- বিষাক্ত ছোবল
- খুনী চক্রের আস্তানায়
- পাল্টা ধাওয়া
- সুবাক দুর্গে আক্রমণ
- ইহুদী কন্যা
- ধাপ্পাবাজ
- ভয়ংকর ষড়যন্ত্র
- ভয়াল রজনী
- আবারও সংঘাত
- দূর্গপতন
- ফেরাউনের গুপ্তধন
- উপকূলে সংঘর্ষ
- সর্প কেল্লার খুনী
- চারদিকে চক্রান্ত
- সামনে বৈরুত
- দুর্গম পাহাড়
- ভণ্ডপীর
- ছোট বেগম
- রক্তস্রোত
- রিচার্ডের নৌবহর
- মহাসমর
বাবরনামা
- দ্বিতীয় অধ্যায়
- বাবরনামা
- ভূমিকা
- প্রথম অধ্যায়
- তৃতীয় অধ্যায়
- চতুর্থ অধ্যায়
- পঞ্চম অধ্যায়
- ষষ্ঠ অধ্যায়
- সপ্তম অধ্যায়
- অষ্টম অধ্যায়
- নবম অধ্যায়
- দশম অধ্যায়
- একাদশ অধ্যায়
- দ্বাদশ অধ্যায়
- ত্রয়োদশ অধ্যায়
- চতুর্দশ অধ্যায়
- পঞ্চদশ অধ্যায়
- ষোড়শ অধ্যায়
- সপ্তদশ অধ্যায়
- অষ্টাদশ অধ্যায়
- ঊনবিংশ অধ্যায়
- বিংশ অধ্যায়
- একবিংশ অধ্যায়
- দ্বাবিংশ অধ্যায়
- ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
ভাটির দেশ
- ভাটির দেশ
- প্রথম পর্ব
- ভাটির দেশ
- আমন্ত্রণ
- ক্যানিং
- লঞ্চে
- লুসিবাড়ি
- পতন
- স্যার ড্যানিয়েল
- স্নেল’স উইন্ডো
- ট্রাস্ট
- ফকির
- চিঠি
- ডিঙিতে
- নির্মল আর নীলিমার কথা
- নোঙর
- কুসুম
- কথা
- বনবিবির মহিমা
- স্পন্দন
- মরিচঝাঁপি
- ময়না
- কাঁকড়া
- ভ্রমণকাহিনি
- গর্জনতলা
- আলোড়ন
- হঠাৎ আলো
- শোনা
- তীরে ভেড়া
- ধাওয়া
- স্বপ্ন
- অনুসরণ
- দ্বিতীয় পর্ব
- পুনরাগমনায় চ
- বন্দরের কাল
- ভোজ
- আলাপ
- ঝড়
- আলোচনা
- অভ্যাস
- একটি সূর্যাস্ত
- রূপান্তর
- তীর্থদর্শন
- নিয়তি
- মেঘা
- স্মৃতি
- মধ্যস্থ
- ঘেরাটোপে
- কথা
- অপরাধ
- বিদায় লুসিবাড়ি
- ব্যাঘাত
- বাঁচা
- রবিবারের ডাকঘর
- একটি হত্যা
- জেরা
- মিস্টার স্লোয়েন
- ক্রেতি
- চিহ্ন
- আলো
- খোঁজ
- হতাহত
- উপহার
- মিঠে জল, নোনা জল
- দিগন্তে
- ক্ষয়ক্ষতি
- তরী থেকে তীরে
- ঢেউ
- পরদিন
- বাড়ি : একটি উপসংহার
- লেখকের কথা
- অনুবাদ প্রসঙ্গে
দ্বিতীয় পর্ব
- দ্বিতীয় পর্ব
- পুনরাগমনায় চ
- বন্দরের কাল
- ভোজ
- আলাপ
- ঝড়
- আলোচনা
- অভ্যাস
- একটি সূর্যাস্ত
- রূপান্তর
- তীর্থদর্শন
- নিয়তি
- মেঘা
- স্মৃতি
- মধ্যস্থ
- ঘেরাটোপে
- কথা
- অপরাধ
- বিদায় লুসিবাড়ি
- ব্যাঘাত
- বাঁচা
- রবিবারের ডাকঘর
- একটি হত্যা
- জেরা
- মিস্টার স্লোয়েন
- ক্রেতি
- চিহ্ন
- আলো
- খোঁজ
- হতাহত
- উপহার
- মিঠে জল, নোনা জল
- দিগন্তে
- ক্ষয়ক্ষতি
- তরী থেকে তীরে
- ঢেউ
- পরদিন
- বাড়ি : একটি উপসংহার
- লেখকের কথা
- অনুবাদ প্রসঙ্গে
অলৌকিক জলযান
- অলৌকিক জলযান
- এক
- দুই
- তিন
- চার
- পাঁচ
- ছয়
- সাত
- আট
- নয়
- দশ
- এগার
- বার
- তের
- চৌদ্দ
- পনের
- ষোল
- সতের
- আঠার
- উনিশ
- বিশ
- একুশ
- বাইশ
- তেইশ
- চব্বিশ
- পঁচিশ
- ছাব্বিশ
- সাতাশ
- আঠাশ
- ঊনত্রিশ
- ত্রিশ
- একত্রিশ
- বত্রিশ
- তেত্রিশ
- চৌত্রিশ
- পয়ত্রিশ
- ছত্রিশ
- সাইত্রিশ
- আটত্রিশ
- উনচল্লিশ
- চল্লিশ
- একচল্লিশ
- বিয়াল্লিশ
- তেতাল্লিশ
- চুয়াল্লিশ
- পঁয়তাল্লিশ
- ছিচল্লিশ
- সাতচল্লিশ
- আটচল্লিশ
- উনপঞ্চাশ
- পঞ্চাশ
- একান্ন
- বাহান্ন
- তিপ্পান্ন
- চুয়ান্ন
হরিদাসের গুপ্তকথা
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- তৃতীয় খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- হরিদাসের গুপ্তকথা
- ভূবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
- প্রকাশকের নিবেদন
- প্রথম খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- ষষ্ঠ কল্প
- সপ্তম কল্প
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- দশম কল্প
- একাদশ কল্প
- দ্বাদশ কল্প
- ত্রয়োদশ কল্প
- চতুর্দ্দশ কল্প
- পঞ্চদশ কল্প
- ষোড়শ কল্প
- সপ্তদশ কল্প
- অষ্টাদশ কল্প
- উনবিংশ কল্প
- বিংশ কল্প
- একবিংশ কল্প
- দ্বাবিংশ কল্প
- ত্রয়োবিংশ কল্প
- চতুর্ব্বিংশ কল্প
- পঞ্চবিংশ কল্প
- ষড়্বিংশ কল্প
- সপ্তবিংশ কল্প
- অষ্টাবিংশ কল্প
- ঊনত্রিংশ কল্প
- দ্বিতীয় খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- ষষ্ঠ কল্প
- সপ্তম কল্প
প্রথম খণ্ড
- প্রথম খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- দশম কল্প
- একাদশ কল্প
- দ্বাদশ কল্প
- ত্রয়োদশ কল্প
- চতুর্দ্দশ কল্প
- পঞ্চদশ কল্প
- ষোড়শ কল্প
- সপ্তদশ কল্প
- অষ্টাদশ কল্প
- উনবিংশ কল্প
- বিংশ কল্প
- একবিংশ কল্প
- দ্বাবিংশ কল্প
- ত্রয়োবিংশ কল্প
- চতুর্ব্বিংশ কল্প
- পঞ্চবিংশ কল্প
- ষড়্বিংশ কল্প
- সপ্তবিংশ কল্প
- অষ্টাবিংশ কল্প
- ঊনত্রিংশ কল্প
ছয়
সায়মা ফাইন্যাল পরীক্ষা নিয়ে দু’মাস ব্যস্ত রইল। এরমধ্যে একদিনও আপুকে আব্দুস সাত্তারের ব্যাপারে কোনো কথা বলে নি। গতকাল পরীক্ষা শেষ হলেও রাতে তাকে কিছু বলে নি। আজ সকালে নাস্তা খাওয়ার পর বলল, তুই কী আব্দুস সাত্তার সাহেবের কোনো খোঁজ টোজ নিয়েছিলি?
তাসনিম খুব রাগের সঙ্গে তার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলল, না।
তুই রেগে যাচ্ছিস কেন আপু? সত্যিই তিনি বিয়ে করেছেন কিনা জানা উচিত ছিল তোর।
দেখ ওর সম্পর্কে আর একটা কথা বলবি না।
তুই ভুল করছিস আপু, বাসার কাজের বুয়ার কথাকে বিশ্বাস করে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা তোর ঠিক হয় নি।
তাসনিম আরো রেগে উঠে বলল, কথাটা যদি সত্য না হবে, তা হলে ওই বা এতদিন ফোন করে নি কেন?
ফোন না করার হয়তো কারণ থাকতে পারে।
তাসনিম বিদ্রুপকণ্ঠে বলল, ফোন না করার যে কারণ থাকতে পারে, তা তো। জানি না। আগে তুই তাকে ফ্রড বলতিস, এখন তার ফরে কেন কথা বলছিস বুঝতে পারছি না। আমার তো মনে হচ্ছে, সে সত্যিই একটা ফ্রড। বড়লোকের ছেলে ধরাকে সরা জ্ঞান করে। আমার মতো কতো মেয়ের সঙ্গে যে প্রেম করে। বেড়ায়, তার কোনো ঠিক আছে? ওদের মতো ছেলে অনেক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করলেও বিয়ে করে মা বাবার পছন্দ মতো মেয়েকে।
সায়মা চিন্তা করল, বেশি কিছু বললে, আপু আরো রেগে যাবে। তার চেয়ে সে গোপনে আব্দুস সাত্তারের খোঁজ খবর নেবে।
দুপুরে খেয়ে এসে রেষ্ট নেওয়ার সময় সায়মা ভাবল, আপু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ড্রইংরুম থেকে আব্দুস সাত্তারের বাসায় ফোন করবে। তাই ঘুমের ভান করে। অনেকক্ষণ শুয়ে রইল। তারপর আপু ঘুমিয়ে গেছে বুঝতে পেরে খাট থেকে নেমে। দরজার বাইরে এসেছে, এমন সময় ফোন বেজে উঠতে ফিরে আসতে লাগল।
সায়মা আসার আগেই তাসনিমের ঘুম ভেঙে গেল। হাত বাড়িয়ে রিসিভার কানের কাছে নিতে আব্দুস সাত্তারের গলা শুনতে পেল “আসসালামু আলায়কুম।”
তাসনিম ধড়ফড় করে উঠে বসল। তখন তার হার্টবিট অনেক বেড়ে গেল। সালামের উত্তর দিতে পারল না; রাগে ফুলতে লাগল।
কী হল তাসনিম? চুপ করে আছ কেন? জান না, হাদিসে আছে, “সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজীব?” না দিলে গুনাহ হবে। তা ছাড়া তোমার কণ্ঠস্বর শোনার জন্য পাগল হয়ে আছি। প্লীজ, কথা বল।
তাসনিম কর্কশ কণ্ঠে বলল, একজন প্রতারক, ছোটলোক, ইতরের মুখে হাদিসের পবিত্র বাণী শুনতে চাই না।
আব্দুস সাত্তার খুব আশ্চর্য হয়ে আহতকণ্ঠে বলল, এ তুমি কী বলছ তাসনিমঃ আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
একজন ফ্রড ও বেঈমানের মুখে আমার নামও শুনতে চাই না। আমি তোমাকে ঘৃণা করি বলে রিসিভার রেখে দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
সায়মা এতক্ষণ পাশে দাঁড়িয়েছিল। বুঝতে পারল, আবদুস সাত্তার ফোন করেছেন। আপুর কথা শুনে সেও খুব আশ্চর্য হল। তাড়াড়াড়ি রিসিভার তুলে কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করে যখন কোনো সাড়া পেল না তখন রিসিভার রেখে বলল, তার সম্পর্কে কিছু না জেনেই এসব কথা বলা তোর মোটেই উচিত হয়। নি।
কাঁদার জন্য তাসনিম কিছুক্ষণ কথা বলতে পারল না। তারপর সামলে নিয়ে ভিজে গলায় বলল, তুই আমার মনের অবস্থা যদি জানতিস, তা হলে উচিত অনুচিতের কথা বলতিস না। তুই এখান থেকে যা, আমাকে একটু একা থাকতে দে। তারপর দুহাতে মুখ ঢেকে আবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।
সায়মা চুপচাপ বেরিয়ে এসে ড্রইংরুম থেকে আব্দুস সাত্তারের বাসায় ফোন করল। কিন্তু তাদের ফোন খারাপ, তাই রিং বাজল না। হঠাৎ সায়মার মাথায়। একটা বুদ্ধি এল। ড্রইংরুম থেকে বেরিয়ে ড্রাইভারের কাছে গিয়ে তাকে কিছু ইনস্ট্রাকসান দিয়ে গাড়ি নিয়ে আব্দুস সাত্তারের বাসায় পাঠাল।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ড্রাইভার ফিরে এসে বলল, তাকে দারোয়ান গেটের ভিতরে ঢুকতে দিলেও বাসায় যেতে দেয় নি। তার কাছে জেনেছে, প্রায় দু’মাস আগে সাহেব এ্যাকসিডেন্ট করে দেশের হাসপাতালে ছিলেন। একটা পা ভেঙে গেছে। সেখানে প্লাস্টার করে দিয়েছিল। ইনফেকসান হয়ে গেছে। তাই কাল ঢাকায় নিয়ে এসে ইবনেসিনা ক্লিনিকে কাল রাতেই অপারেশন করে আবার প্লস্টার করে দিয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন, আর দু’চার দিন দেরি হলে পুরো পাটা কেটে বাদ দিতে হত। আজ দুপুরের দিকে জ্ঞান ফিরেছে। বাসার সবাই সেখানে আছে। তাই দারোয়ান বাসায় যেতে দেয় নি।
সায়মা বলল, সাহেব বিয়ে করেছেন কিনা জিজ্ঞেস করেন নি?
সাহেবের সম্পর্কে এইসব জানার পর বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে না ভেবে করি নি।
সায়মা চিন্তা করল, বিয়ে করলে আব্দুস সাত্তার কিছুতেই আপুকে ফোন করতেন না। তার এ্যাকসিডেন্টের কথা আপুকে বললে বিশ্বাস তো করবেই না, বরং উল্টো পাল্টা অনেক প্রশ্ন করবে। তার চেয়ে তাকে নিয়ে ক্লিনিকে গেলেই সবকিছু জানা যাবে।
তাকে চুপ করে থাকতে দেখে ড্রাইভার বলল, আমি এবার যাই?
আপনি গাড়িতে গিয়ে বসুন। তারপর আসছি বলে সায়মা রুমে এসে দেখল, আপু আসরের নামায পড়ছে। সেও অজু করে এসে নামায পড়ল। তারপর তাসনিমকে বলল, তোকে এক জায়গায় নিয়ে যাব। তাড়াতাড়ি কাপড় পাল্টে নে।
তাসনিম বলল, আমার মন খারাপ। কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না, তুই যা।
বাসায় থাকলে আরো খারাপ লাগবে। বাইরে গেলে মন ভালো হয়ে যাবে। একা যেতে আমার ইচ্ছা করছে না। প্লীজ আপু, চল।
কোথায় যাবি?
আহা চল না। যেখানে যাচ্ছি, সেখানে গেলেই তোর মন যে ভালো হয়ে যাবে, তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। তারপর তাকে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলল, না গেলে আমি ভীষণ কষ্ট পাব।
ঠিক আছে ছাড়, কাপড় পাল্টে নিই। তুইও পাল্টে নে।
গাড়ি ইবনেসিনা ক্লিনিকে ঢুকতে দেখে তাসনিম বলল, এখানে এলি কেন? রুগী দেখে তো মন আরো খারাপ হয়ে যাবে?
এমন অনেক রুগী থাকে, যাকে দেখলে খারাপ মন ভালো হয়ে যায়।
গাড়ি থামার পর সায়মা বলল, তুই নেমে একটু দাঁড়া, আমি এসে তোকে নিয়ে যাব। তারপর ইনকোয়ারী কাউন্টারে গিয়ে আব্দুস সাত্তারের কেবিন নম্বার জেনে ফিরে এসে বলল, চল।
গতকাল ঢাকায় এসেই আব্দুস সাত্তার তাসনিমকে ফোন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ডাক্তারদের পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যস্ততায় ও অপারেশনের কারণে তা সম্ভব হয়। নি। আজ দুপুরের দিকে জ্ঞান ফেরার পর উম্মে কুলসুমকে বলল, তুই তাসনিমদের বাসায় ডায়েল করে রিসিভারটা আমাকে দে।
এ্যাকসিডেন্ট করে জ্বরের ঘোরে আব্দুস সাত্তার যখন তাসনিমের নাম বলত তখন তার মা-বাবা ফুফু বুঝতে না পারলেও উম্মে কুলসুম বুঝেছিল। আজও। সবাই রয়েছেন। উম্মে কুলসুমকে তাসনিমদের বাসায় ফোন করার কথা বলতে সবাই তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন।
উম্মে কুলসুম না দেখার ভান করে ডায়েল করে রিসিভার ছোট ভাইয়ার হাতে দিল। তারপর কথা বলতে বলতে তার মুখ বিবর্ণ হতে ও হাত থেকে রিসিভার পড়ে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে বলল, কী হল ছোট ভাইয়া? ততক্ষণে আব্দুস সাত্তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। উম্মে কুলসুম হাত ধরে নাড়া দিতে লাগল। তারপর সাড়া না পেয়ে ডাক্তার নিয়ে আসার জন্যে ছুটল।
ডাক্তার এসে পালস ও হার্ট পরীক্ষা করে বললেন, ভয়ের কিছু নেই। কোনো কারণে অজ্ঞান হয়ে গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে। জ্ঞান ফেরার পর আপনারা রুগীর সঙ্গে কথা বলবেন না। আর রুগীকেও কথা বলতে দেবেন না।
প্রায় আধঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে এলে আব্দুস সাত্তার মা ও ফুফুকে বলল, তোমরা আমার বুকে একটু হাত বুলিয়ে দাও তো।
উম্মে হাফসা ছেলের বুকে হাত বুলোতে বুলোতে বললেন, কাকে ফোন করেছিলি?
আব্দুস সাত্তার কিছু বলার আগে উম্মে কুলসুম বলল, আহ আম্মু, ডাক্তার। সবাইকে কথা বলতে নিষেধ করে গেলেন না? তোমাদেরকে আমি পরে বলব।
কেবিনের কাছে এসে সায়মা দাঁড়িয়ে পড়ল।
তাসনিম বলল, কী রে? দাঁড়ালি কেন?
সায়মা বলল, যাকে দেখতে এসেছি, তার সম্পর্কে তোর জানা দরকার। তারপর কিভাবে ড্রাইভারকে আব্দুস সাত্তারের বাসায় পাঠিয়ে তার এ্যাকসিডেন্টের কথা ও গতকাল ঢাকায় আসার পর অপারেশনের কথা জেনেছে, সে সব বলে বলল, ভিতরে হয়তো ওর সব আত্মীয়রা আছেন। প্লীজ আপু, অশোভনীয় কোনো সীন ক্রিয়েট করবি না।
তাসনিম খুব অবাক হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, তার আগেই সায়মা একটা হাত ধরে টেনে নিয়ে ভিতরে ঢুকল।
সবাইর অবাক দৃষ্টি তাদের উপর পড়ল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উম্মে কুলসুম সামলে নিয়ে এগিয়ে এল।
সায়মা সালাম দিল।
উম্মে কুলসুম সালামের উত্তর দিয়ে তাসনিমের একটা হাত ধরে বেডের কাছে নিয়ে এল।
তাসনিম সবাইর দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে সালাম দিয়ে মাথা নিচু করে নিল।
উম্মে হাফসা সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, কে মা তোমরা তোমাদেরকে তো চিনতে পারছি না।
উম্মে কুলসুম বলল, আমরা ডাক্তারের সাবধান বাণী কেউ মানছি না। ইনারা ছোট ভাইয়ার পরিচিত। খবর পেয়ে দেখতে এসেছেন।
তাসনিম আব্দুস সাত্তারের দিকে তাকিয়ে দেখল, অনেক রোগা হয়ে গেছে। মুখটা খুব মলিন। চোখে চোখ পড়তে অপলক দৃষ্টিতে দু’জনেই তাকিয়ে রইল।
চোখে পানি এসে গেছে বুঝতে পেরে আব্দুস সাত্তার মুখ ঘুরিয়ে নিল। তারপর সামলে নিয়ে উম্মে কুলসুমকে বলল, ওদেরকে চলে যেতে বল।
উম্মে কুলসুম ওদেরকে কেবিনের বাইরে নিয়ে এসে তাসনিমকে উদ্দেশ্য করে বলল, আপনার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ছোট ভাইয়া অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তার বলেছেন, তার কথা বলা একদম নিষেধ। প্লীজ, আপনারা এখন চলে। যান। ছোট ভাইয়া সুস্থ হওয়ার পর আমি ফোন করে জানাব, তখন আসবেন।
আব্দুস সাত্তারের অবস্থা দেখে তাসনিমের দুঃখ হলেও বিয়ের ব্যাপারটা জানতে পারে নি বলে রাগটা এখনো রয়েছে। তাই রাগের সঙ্গে বলল, বিয়ের পরে নিশ্চয় এ্যাকসিডেন্টটা হয়েছে? তা আপনার ভাবিকে দেখলাম না যে?
তার কথা শুনে উম্মে কুলসুম প্রথমে হকচকিয়ে গেল। তারপর সামলে নিয়ে বলল, ছোট ভাইয়া বিয়ে করেছে, কে বলেছে আপনাকে?
তাসনিম রাগের সঙ্গেই বলল, যেই বলুক, কথাটা সত্য কিনা বলুন?
উম্মে কুলসুম এবার রেগে উঠে বলল, না বলব না। যে প্রেমের মূল্য জানে না, কদর জানে না। প্রেমিককে বিশ্বাস করে না, তার কথার উত্তর দেব না। যান চলে। যান, আর কোনো দিন আসবেন না। ছোট ভাইয়াকেও বলে দেব, সে যেন। আপনাকে আর কোনো দিন বিরক্ত না করে। কথা শেষ করে কেবিনে ঢুকে গেল।
আপুর কথায় সায়মা রেগে গিয়েছিল। উম্মে কুলসুম কেবিনে ঢুকে যাওয়ার পর রাগের সঙ্গে বলল, বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করা তোর উচিত হয় নি।
উম্মে কুলসুমের কথা শুনে তাসনিম বুঝতে পেরেছে, বিয়ের কথাটা সত্য নয়। অনুতপ্ত কণ্ঠে বলল, আব্দুস সাত্তার আমাদেরকে চলে যেতে বলায় আমার মাথা। গরম হয়ে গিয়েছিল।
কেন উনি চলে যেতে বলেছেন, ভেবে দেখেছিস? ফোনে ওকে কি কি বলে অপমান করেছিস মনে নেই?
ছলছল চোখে তাসনিম বলল, এখন কি করব বলতে পারিস?
এখন বাসায় চল, ভেবে চিন্তে যা করার করা যাবে।
উম্মে কুলসুম ঢুকতেই উম্মে হাফসা আতঙ্কিত স্বরে বললেন, এতক্ষণ কোথায় ছিলি? আব্দুস সাত্তার আবার অজ্ঞান হয়ে গেছে।
সেকি বলে উম্মে কুলসুম ডাক্তারকে খবর দিতে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
তখনও দু’বোন কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়েছিল। তাকে তন্তদন্ত হয়ে বেরোতে দেখে সায়মা জিজ্ঞেস করল, এভাবে কোথায় যাচ্ছেন?
উম্মে কুলসুম যেতে যেতে বলল, ছোট ভাইয়া আবার অজ্ঞান হয়ে গেছে, ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি।
সায়মা আপুর দিকে তাকিয়ে বলল, তোর কারণেই উনি বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ না করুক, যদি কিছু হয়ে যায়, সেজন্য তুই-ই দায়ী হবি। ওঁর মা-বাবা ও আত্মীয়রা ব্যাপারটা জানেন না, তারা তোকে দায়ী করবেন না ঠিক; কিন্তু উম্মে কুলসুম তোকে দায়ী করবেই। আর তুইও কী নিজেকে ক্ষমা করতে পারবি?
তাসনিম ভুল বুঝতে পেরে মুখ নিচু করে অনুশোচনায় দগ্ধ হতে লাগল; কিছু বলতে পারল না।
উম্মে কুলসুম ডাক্তার ডাকতে যাওয়ার সময় দোতলার বারান্দা থেকে স্বামীকে আসতে দেখে তরতর করে সিড়ি বেয়ে নেমে এসে সালাম দিল।
আব্দুল মজিদ বিদেশ থেকে ফিরে এসে মাসখানেক হল পি.জি.তে প্রফেসার হিসাবে জয়েন করেছে। সেই-ই আব্দুস সাত্তারকে ঢাকায় নিয়ে এসে ইবনেসিনায় ভর্তি করেছে। ডিউটি সেরে ক্লিনিকে এসেছে। স্ত্রীর সালামের উত্তর দিয়ে বলল, কী ব্যাপার? তোমাকে খুব পেরেশান মনে হচ্ছে?
হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি চল। দুপুরের দিকে ছোট ভাইয়ার জ্ঞান ফিরে। কিছুক্ষণ পর ফোনে তাসনিমের সঙ্গে কথা বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যায়। আধঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে আসে। একটু আগে তাসনিম ও সায়মা এসেছিলেন তাদেরকে চলে যাওয়ার কথা বলে আবার অজ্ঞান হয়ে গেছে। আমি ডাক্তারকে খবর দিতে যাচ্ছিলাম, তোমাকে দেখতে পেয়ে নেমে এলাম।
আব্দুল মজিদ স্ত্রীর কাছে বন্ধুর প্রেম কাহিনী শুনেছে। হাঁটতে শুরু করে বলল, ওঁরা চলে গেছেন।
না, কেবিনের বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। তারপর ওদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ব্যাপারটা বলল।
এটা তুমি ঠিক করো নি। ওর মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করা তোমার উচিত ছিল। উনি নিশ্চয় কারো কাছে আব্দুস সাত্তার ভাইয়ের বিয়ের কথা শুনেছেন। ভেবে দেখ, আমি ফেরার আগে তুমি যদি খবর পেতে আমি সেখানে একটা বিয়ে করেছি, তা হলে তোমার মানসিক অবস্থা কী হত? যাক গে, যা হওয়ার হয়েছে। ওর ভুল ভাঙিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিও। ততক্ষণে তারা দোতলায় উঠে। কেবিনের কাছে চলে এল।
সায়মা উম্মে কুলসুমকে উদ্দেশ্য করে বলল, আপনার ছোট ভাইয়ার জ্ঞান ফেরার পর একটু বাইরে আসবেন।
উম্মে কুলসুম কিছু বলল না।
আব্দুল মজিদ এক নজর দু’বোনের দিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে বলল, ওঁরাই না কী?
হ্যাঁ, তারপর স্বামীকে নিয়ে কেবিনে ঢুকল।
ওরা ঢোকার একটু আগে আব্দুস সাত্তারের জ্ঞান ফিরেছে।
আব্দুল মজিদ বেডের কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বলল, এখন কেমন লাগছে?
আব্দুস সাত্তার সালামের উত্তর দিয়ে বলল, ভালো। তারপর উম্মে কুলসুমকে বলল, তুই কোথায় গিয়েছিলি?
তুমি অজ্ঞান হয়ে যেতে ডাক্তারকে খবর দিতে যাচ্ছিলাম, ওকে আসতে দেখে বলে লজ্জা পেয়ে থেমে গেল।
আব্দুল মজিদ স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, আব্বাকে দেখছি না যে? বাসায় গেছেন।
না, দুপুরে ছোট ভাইয়ার জ্ঞান ফেরার পর ড্রাইভারকে নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। আব্বার কলেজে এবারও ইন্টারের পরীক্ষা কেন্দ্র হয়েছে। কাল থেকে পরীক্ষা শুরু। তারপর একটু আসছি বলে বেরিয়ে এসে তাসনিম ও সায়মাকে বলল, ছোট ভাইয়ার জ্ঞান ফিরেছে। এবার আপনারা বাসায় যান। পরে আপনাদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করব।
সায়মা বলল, প্লীজ, একটু সময় দেবেন? কয়েকটা কথা বলব।
উম্মে কুলসুম স্বামীর কথাগুলো চিন্তা করে বলল, ঠিক আছে, চলুন রিসেপসনে বসি।
রিসেপসন রুমে লোকজন বসার জন্য সোফা সেট ও বেশ কয়েকটা চেয়ার রয়েছে। ওরা এক সাইডে বসল। বসার পর সায়মা বলল, দেখুন, আপুর কথায় আপনি মনে কিছু নেবেন না। আপনারা দেশে যাওয়ার তিন চার দিন পর আমরা আপনাদের বাসায় গিয়েছিলাম। আপনাদের কাজের বুয়া বলল, আপনার ছোট। ভাই এর বিয়ে। তাই সবাই দেশে গেছেন। কথাটা শুনে আপু এ্যাবনরম্যাল হয়ে পড়েছিল। তারপর এই দীর্ঘ দু’আড়াই মাস হয়ে গেল আপনার ছোট ভাইয়া যোগাযোগ করেন নি। এ্যাকসিডেন্টের কথা কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত আমরা জানতাম না। তাই উনি যখন আজ দুপুরের দিকে ফোন করেন তখন আপু কয়েকটা অশোভন কথা বলেছে। তারপর কিভাবে এ্যাকসিডেন্টের কথা জেনে আপুকে নিয়ে সে এসেছে বলে বলল, এবার আপনিই বলুন, আপুর কতটা দোষ?
সায়মা থেমে যেতে তাসনিম করুণস্বরে বলল, আমার মাথা ঠিক ছিল না। তাই কিছুক্ষণ আগে আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। দয়া করে মাফ করে দিন।
উম্মে কুলসুম বলল, আপনি উচ্চ ডিগ্রী নিচ্ছেন, অথচ এটা জানেন না, শোনা কথা যাচাই না করে বিশ্বাস করতে নেই? যাই হোক, মানুষ মাত্রেই ভুল করে। আমিও না জেনে আপনাকে অনেক কিছু বলে ভুল করেছি। আপনিও আমাকে মাফ করে দিন।
তাসনিম বলল, আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করুক। এখন আমি কী আপনার ছোট ভাইয়ার কাছে যেতে পারি।
এখন যাওয়া ঠিক হবে না। আপনাকে দেখে ছোট ভাইয়া হয়তো আবার জ্ঞান হারাবে। আমি বলি কী, আপনারা বাসায় চলে যান। আমি ছোট ভাইয়াকে। ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলব। পরিস্থিতি বুঝে কাল সকালে ফোন করে আপনাদের আনাব। ফোনে কী বলেছিলেন জানি না, ছোট ভাইয়ার মুখ বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল, হাত থেকে রিসিভার পড়ে গিয়েছিল। তারপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। আপনাকে ছোট ভাইয়া যে কত ভালবাসে, তা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন?
ছলছল চোখে তাসনিম বলল, জানি ভাই জানি। খবরটা যাচাই না করে যে কত বড় ভুল করেছি, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
উম্মে কুলসুম বলল, আমাদের কাজের বুয়ার মাথায় একটু গোলমাল আছে। কি বলতে কি বলে, কি শুনতে কি শুনে তার কোনো ঠিক নেই। ওর একমাত্র ও ছয় বছরের ছেলে ও স্বামীকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনারা মেরে ফেলে ওকে ক্যাম্পে নিয়ে চলে গিয়েছিল। ও আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। আব্ব জানতে পেরে অনেক টাকার বিনিময়ে ওকে নিয়ে আসে। তারপর থেকে ওর মাথা খারাপ হয়ে যায়। আব্ব চিকিৎসা করিয়ে ভালো করে। কিন্তু সম্পূর্ণ ভালো হয় নি। মাঝে মাঝে ভুল বকে, আর উল্টো পাল্টা কথা বলে। আপনাদেরকেও ঐরকম কিছু বলেছে। আসল ঘটনা হল, পাঁচ বছর আগে আমার আকদ হয়েছিল। একটু আগে আমার সঙ্গে যে ডাক্তার কেবিনে গেলেন, উনি আমার স্বামী। আকদ হওয়ার এক বছর পর উনি উচ্চ ডিগ্রী নিতে বিদেশে গিয়েছিলেন। যেদিন ফিরলেন, সেদিনই আমরা সবাই এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করে দেশের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার কয়েকদিন পর আমার বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের দিন পাশের গ্রাম থেকে। রাজনৈতিক পার্টির কিছু ছেলে এসে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। ছোট ভাইয়া দিতে অস্বীকার করে। ফলে তারা ভাইয়াকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করে। গ্রামের ছেলেরা জানতে পেরে বাধা দিলে দুই দলে মারপিট শুরু হয়। ওরা নানারকম অস্ত্র নিয়ে তৈরি হয়ে এসেছিল। আমাদের গ্রামের ছেলেদের সেসব ছিল না। লাঠিসোটা, বল্লম, দা, হেঁসো বের করতে দেরি হয়। ততক্ষণে আমাদের অনেকে জখম হয়। শেষে গ্রামশুদ্ধ লোক যখন তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ল তখন তারা পালাতে বাধ্য হল। অবশ্য তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছিল। তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ছোট ভাইয়া গুরুতর জখম হয়েছিল। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। তারপরের ঘটনা তো আপনারা দারোয়ানের কাছে থেকে জেনেছেন। আর সময় দিতে পারছি না। ছোট ভাইয়া আমাকে চোখের আড়াল হতে দেয় না। এতক্ষণে হয়তো আমার স্বামীকে খুঁজতে পাঠিয়েছে। তারপর আসি বলে উম্মে কুলসুম তাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করে কেবিনে ফিরে এল।
তাকে দেখে উম্মে হাফসা একটু রাগের সঙ্গে বললেন, এতক্ষণ কোথায় গিয়েছিলি? আব্দুস সাত্তার তোকে ডেকে নিয়ে আসার জন্য বারবার তাগিদ দিচ্ছে। একটু আগে আব্দুল মজিদ তোকে খুঁজতে গেল। আব্দুল মজিদ ফিরে এলে তোর ফুফুকে নিয়ে তার সাথে বাসায় যা।
উম্মে কুলসুম বলল, আমি আজ রাতে এখানে থাকব। তুমি ও ফুফুআম্মা তোমাদের জামাইয়ের সাথে চলে যাও। ড্রাইভারকে দিয়ে আমাদের রাতের খাবার পাঠিয়ে দিও।
এমন সময় স্বামীকে ফিরতে দেখে তার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি আম্মু ও ফুফুআম্মাকে নিয়ে বাসায় যাও। মাগরিবের নামাযের সময় হয়ে আসছে, বাসায় গিয়ে নামায পড়বে।
রাতে খাওয়ার পর উম্মে কুলসুম ছোট ভাইয়ার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল, একটা কথা বলব, রেগে যাবে না অথবা টেনসান করবে না বল?
আব্দুস সাত্তার দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, তুই যা বলতে চাচ্ছিস, আমি বুঝতে পেরেছি। ওর কথা না বলাই ভালো।
ঠিক আছে, ওর কথা না হয় নাই বললাম; কিন্তু তুমি কী ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবে?
বাঁচা মরা আল্লাহর হাতে।
তাতো অবশ্যই। হায়াত যতদিন আছে বাঁচবেই। কিন্তু সেরকম বেঁচে থাকার যে কি যন্ত্রণা তা তুমি ভালোভাবেই জান। এখনও কী কম যন্ত্রণা ভোগ করছ?
আচ্ছা বল, কী বলতে চাচ্ছিস।
তাসনিম কেন ছোট ভাইয়ার সাথে এত রূঢ় ব্যবহার করল, সে সব বলে বলল, যত নষ্টের গোড়া আমাদের কাজের বুয়া জমিলা খালা।
শুনে আব্দুস সাত্তার এত খুশী হল যে, মনে হল তার বুকের উপর থেকে হাজার মণ ওজনের পাথর কেউ সরিয়ে দিল। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে চুপ। করে রইল।
কী হল ছোট ভাইয়া? কিছু বলছ না কেন?
একটা কথা ভেবে খুব আশ্চর্য হচ্ছি, তাসনিমের মতো উচ্চ শিক্ষিত মেয়ে সত্য মিথ্যা যাচাই না করে কথাটা বিশ্বাস করল কি করে?
আমিও সে কথা ওকে বলেছিলাম। ওর বোন সায়মা বলল, বিয়ের কথা শুনে তাসনিম আপা এ্যাবনরম্যাল হয়ে পড়েছিলেন। তাই সত্য মিথ্যা যাচাই করার কথা মাথায় আসে নি।
তুই এসব জানলি কেমন করে?
তোমার বন্ধুকে নিয়ে যখন এলাম তখনও ওরা কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। তারপর কিভাবে জানল বলে বলল; তাসনিম আপা খুবই অনুতপ্ত। আমার কাছে সবকিছু শোনার সময় চোখ থেকে পানি পড়ছিল। তখনই ক্ষমা চাওয়ার জন্য তোমার কাছে আসতে চেয়েছিলেন। তাকে দেখে তুমি যদি আবার অজ্ঞান হয়ে যাও? তাই বলেছি, আমি ব্যাপারটা তোমাকে বোঝাব এবং কাল সকালে তাকে ফোন করে জানাব।
প্রসঙ্গ পাল্টাবার জন্য আব্দুস সাত্তার বলল, তুই যে আমার কাছে সব সময়। রয়েছিস, আমার বন্ধুর অসুবিধার কথা ভাবছিস না কেন?
উম্মে কুলসুম লজ্জা পেয়ে বলল, তা আবার ভাবি নি। তাকে খুশী রাখার জন্যই তো তোমার কাছে সব সময় রয়েছি। আমাদের কথা বাদ দাও, তাসনিম আপার ব্যাপারে কিছু বললে না তো? কাল সকালে কী তাকে আসতে বলব?
সে কথা কাল বলব। এখন যা ঘুমিয়ে পড়। রাত জেগে জেগে তুই অনেক রোগা হয়ে গেছিস।
উম্মে কুলসুম ঘুমিয়ে পড়ার পর সাড়ে বারটার সময় আব্দুস সাত্তার তাসনিমকে ফোন করল।
রাতে খাওয়ার পর সায়মা আপুকে বলল, মনে হয়, উম্মে কুলসুম আজই তার ছোট ভাইয়াকে সবকিছু বলবে এবং কাল সকালে আমাদেরকে ফোন করে জানাবে।
তাসনিম বলল, আমারও তাই মনে হচ্ছে। তারপর তাকে শুতে দেখে বলল, কী রে? এক্ষুনি ঘুমাবি? আজ হাদিসের একটা বই পড়বি বলেছিলি না?
আজ ঘুম পাচ্ছে, কাল পড়ব বলে পাশ ফিরে শুল।
তাসনিম বড় লাইট অফ করে টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে একটা বই নিয়ে বসল। কিন্তু পড়ায় মন দিতে পারল না। কেবল আব্দুস সাত্তারের মলিন মুখটা বই এর পাতায় ভেসে উঠতে লাগল। ভাবল, উম্মে কুলসুমের কাছে সবকিছু শোনার পর। কী তার মনের পরিবর্তন হবে? আমাকে কী ক্ষমা করবে? আবার ভাবল, উম্মে কুলসুম যদি ফোন করে যেতে বলে, তা হলে কোন মুখে তার সামনে গিয়ে। দাঁড়াব? সত্য মিথ্যা যাচাই না করে তাকে কি জঘন্য ভাষায় অপমান করেছি। তারপরও কী সে আমাকে ক্ষমা করতে পারবে? ক্ষমা করলেও কী আগের মতো ভালবাসবে? আমিও কি আগের মতো তার কাছে ফ্রি হতে পারব? এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে সাড়ে বারটা বেজে গেল টের পেল না। ফোন বেজে উঠতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবল, নিশ্চয় ও ফোন করেছে। কাঁপা হাতে রিসিভার তুলে কানের কাছে নিতে আব্দুস সাত্তারের সালাম শুনে চোখে পানি এসে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সামলে নিয়ে সালামের উত্তর দিয়ে ভিজে গলায় বলল, তোমার এই নাদান তাসনিম ক্ষমাপ্রার্থী। বল ক্ষমা করে দিয়েছ?
কথাগুলো আব্দুস সাত্তারের কানে কান্নার মতো শোনাল। বলল, ক্ষমা চাইছ কেন? তুমি যে ভুল করেছ, এতদিন তোমার সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে তার থেকে কম ভুল আমিও করি নি। তা হলে তো তোমার কাছে আমারও ক্ষমা চাওয়া উচিত। অবশ্য কাউকে দিয়ে চিঠি বা টেলিগ্রাম করে জানাতে পারতাম, তুমি। দুশ্চিন্তা করবে ভেবে জানাই নি। আর যাওয়ার দিন আমার যাওয়ার কথা ছিল না, পরের দিন ছিল। এয়ারপোর্টে সবাইকে যখন গাড়িতে তুলে দিলাম তখন ছোট বোনের স্বামী কিছুতেই ছাড়ল না। ও আবার আমার ছেলেবেলার বন্ধু। তাই তোমাকে ফোন করে জানাবারও সুযোগ পাই নি। ভেবেছিলাম, উম্মে কুলসুমের বিয়ের অনুষ্ঠানের পরের দিন চলে আসব। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা ছিল না। তাই এত কিছু ঘটে গেল।
তাসনিম কান্নাজড়িত স্বরে বলল, এতকিছু বলার দরকার ছিল না। আমি জানি, তুমি এতটুকু ভুল বা অন্যায় করতে পার না। তবু যে কেন তোমার বিয়ের কথা শুনে আমি এ্যাবনরম্যাল হয়ে পড়লাম, তা আল্লাহ জানেন। কাল ফোনে তোমাকে যেভাবে অপমান করেছি, সে কথা মনে পড়লে মরে যেতে ইচ্ছা করছে। তুমি ক্ষমা না করলে, আমাকে সেই পথ বেছে নিতে হবে।
এ তুমি কী বলছ তাসনিমঃ বেহেস্তের সোনালী ঝরণা নাম নিয়ে তুমি জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে চাচ্ছ? এক্ষুনি তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও বলছি। নচেৎ …….কথাটা শেষ করতে পারল না। কান্নায় তার গলা বুজে এল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সামলে নিয়ে আবার বলল, বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, কাল তোমার কথা শুনে খুব আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম ঠিক, কিন্তু তোমার প্রতি ভালবাসা এক বিন্দু কমে নি। এরপরও যদি তুমি ক্ষমা করার কথা শুনতে চাও, তা হলে তোমাকেই আগে বলতে হবে, আমাকে ক্ষমা করেছ।
তাসনিম এতক্ষণ মনে মনে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তার কথা শুনছিল। আব্দুস সাত্তার থেমে যেতে বলল, আল্লাহ আমাদের দু’জনকেই ক্ষমা করুন। তারপর জিজ্ঞেস করল, তোমার কাছে কে আছেন?
উম্মে কুলসুম।
তোমাকে কখন একা পাব বলবে?
আম্মু আটটার সময় আসতে পারেন, তুমি তার আগে এস। তোমাকে দেখলে উম্মে কুলসুম কেবিন থেকে বেরিয়ে যাবে।
ঠিক আছে, ইনশাআল্লাহ আসব। উম্মে কুলসুমের কাছে শুনেছি, ডাক্তার তোমাকে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। অনেক কথা বলেছ। আর নয়, এবার। ঘুমিয়ে পড়।
কথা না হয় নাই বললাম; কিন্তু ঘুম কি আসবে? তোমাকে না দেখা পর্যন্ত ঘুম আসবে না। সারারাত হয়তো জেগে কেবিনের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকব তোমার আসার অপেক্ষায়। কাল তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে যে কষ্ট পাচ্ছি, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
এই কথা শুনে তাসনিমের চোখে আবার পানি চলে এল। ভিজে গলায় বলল, প্লীজ, আর এসব কথা বলো না, আমিও খুব কষ্ট পাচ্ছি। বাকি রাতটুকু আমাকেও জেগে কাটাতে হবে তোমার কাছে যাওয়ার সময়ের প্রতিক্ষায়।
