» » পলাশি অভিমুখে : ইংরেজ পরিকল্পনা

পলাশি অভিমুখে : ইংরেজ পরিকল্পনা

পলাশির ষড়যন্ত্র পাকা হয়ে যাওয়ার পরও কিন্তু পলাশি বিপ্লবের পথ খুব সহজ বা সোজা ছিল না। ইংরেজরা অস্থির হয়ে পড়েছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিপ্লব ঘটাতে। তাই সমস্ত ব্যাপারটার মধ্যে সমন্বয় করা এবং তা সংগঠিত করার দায় বর্তায় তাদের ওপরই কারণ দেশীয় ষড়যন্ত্রীদের ওপর খুব একটা ভরসা করা যাচ্ছিল না। ওয়াটস বেশ চতুর ও বিচক্ষণ বলে দেশীয় চক্রান্তকারীদের অবস্থাটা ভাল বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি লিখেছেন:[১]

এদের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করা ঠিক নয়। বড় জোর যুদ্ধ বাধলে এরা নিরপেক্ষ থাকবে, তার বেশি নয়। আমরা যদি সফল হই, এরা তার ফায়দা তুলবে। আর আমরা হারলে এরা যেমন ছিল তেমনই থাকবে। আমাদের সঙ্গে যে এদের কোনও সম্পর্ক ছিল তা বুঝতেই দেবে না।

মীরজাফরের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত (৫ জুন ১৭৫৭) হওয়ার পরও কিন্তু সিলেক্ট কমিটি বিপ্লব ত্বরান্বিত করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। ১১ জুন কমিটি বিস্তারিত আলোচনা করল—‘তখনই সোজা মুর্শিদাবাদ অভিমুখে অভিযান করা সমুচিত হবে, না মীরজাফরের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত খবর এবং কার্যোদ্ধারে কী ভাবে এগুনো যাবে সে-সম্বন্ধে তাঁর কাছ থেকে খসড়া পরিকল্পনা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।’ আলাপ-আলোচনার পর কমিটি সিদ্ধান্ত নিল যে:[২]

মীরজাফরকে মসনদে বসাবার যে পরিকল্পনা সেটা সফল করার জন্য এর চেয়ে সুবর্ণসুযোগ আর আসবে না কারণ আর বেশি দেরি করলেই সিরাজদ্দৌল্লা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটা জেনে ফেলতে পারেন। আর তা হলে নবাব তখন মীরজাফরকে কোতল করবেন এবং ফলে আমাদের পুরো পরিকল্পনাই বানচাল হয়ে যাবে। তখন আমাদের পক্ষে এদেশের সঙঘবদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে একাই লড়াই করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।

বস্ততপক্ষে মীরজাফরের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরই ওয়াটস ক্লাইভ ও সিলেক্ট কমিটিকে নবাবের বিরুদ্ধে অভিযান করার জন্য পীড়াপিড়ি করতে থাকেন।[৩] ১২ জুন তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে পালাবার আগে ক্লাইভকে আবার তাড়াতাড়ি অভিযান করার জন্য অনুরোধ জানান কারণ ‘সামান্যতম দেরি হলেই আমাদের সর্বনাশ হতে পারে।’[৪] এদিকে তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেল। ৯ জুন নাগাদ[৫] নবাব মীরজাফরকে বক্সির পদ থেকে বরখাস্ত করেন, ফলে নবাবের সঙ্গে মীরজাফরের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় এবং এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যা স্ক্র্যাফ্‌টনের মতে, ইংরেজদের সব আশা-আকাঙক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারত। নিজের প্রাণনাশের ভয়ে মীরজাফর দরবারে যাওয়াই বন্ধ করে দিলেন। তিনি ক্লাইভকে লিখে পাঠালেন যে এই মুহূর্তে নবাবের বিরুদ্ধে ক্লাইভের অভিযান ছাড়া অন্য কিছু তাকে বাঁচাতে পারবে না।[৬]

সিরাজদ্দৌল্লা যথারীতি মীরজাফরের বিরুদ্ধে কোনও চরম ব্যবস্থা নিতে দোনামনা করতে লাগলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ শুভার্থীরা তাঁকে বোঝাতে চাইল যে মীরজাফরের যোগসাজশেই ইংরেজরা মুর্শিদাবাদ অভিযান করার পরিকল্পনা করছিল। তাই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়াই উচিত। কিন্তু দরবারে মীরজাফরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী সিরাজকে আপাতত মীরজাফরের সঙ্গে একটা রফা করা ও পরে সুযোগ বুঝে তাঁকে একহাত নেওয়ার পরামর্শ দিল। ফলে দু’জনের মধ্যে একটা বোঝাপড়া হয়ে গেল। দুজনেই কোরাণ নিয়ে শপথ করলেন—সিরাজের দিক থেকে মীরজাফরের প্রাণনাশের কোনও চেষ্টা হবে না আর মীরজাফর প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তিনি নবাবের জন্য লড়াই করে যাবেন। এর পর ‘দু’জনে হাসিমুখে পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিলেন কিন্তু মনে মনে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস ও ঘৃণা নিয়ে গেলেন।’ এখানেই সিরাজদ্দৌল্লা মস্ত বড় ভুল করে বসলেন, মীরজাফরকে বরাবরের মতো নিস্তব্ধ না করে দিয়ে। এ প্রসঙ্গে স্ক্র্যাফ্‌টনের মন্তব্য বিশেষ প্রণিধানযোগ্য:[৭]

If the Soubah (Sirajuddaulla) erred before in abandoning the French, he doubly erred now, in admitting a suspicious friend…to continue in charge of a great body of troops, when self-defence would have taught him to make use of for his own preservation.

জাঁ ল’-রও অভিমত, সিরাজদ্দৌল্লা ছাড়া অন্য যে-কোনও কেউ, যার মনের জোর আছে, এ সময় মীরজাফর, রায়দুর্লভ এবং শেঠদের কারাগারে বন্দি করে রাখত। এঁদের এভাবে জব্দ করা গেলে ইংরেজরা খুব সম্ভবত আর মুর্শিদাবাদের দিকে এগুতে সাহস করত না।[৮]

এদিকে সিরাজদ্দৌল্লার সঙ্গে মীরজাফরের আপাত বোঝাপড়ার ফলে মীরজাফর ইংরেজদের চোখে সন্দেহের পাত্র হয়ে দাড়ান। তাই ওয়াটস লিখছেন যে মীরজাফর নবাবের সঙ্গে আবার হাত মেলাবার ফলে, যদিও তাদের মধ্যে সত্যিকারের কোনও বোঝাপড়া হয়নি, তাঁর ওপর ভরসা করা যায় কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর পরের ঘটনাক্রম থেকে দেখা যাবে যে এ-সন্দেহ খুব অমূলক নয়।’[৯] কিন্তু তার মধ্যে ইংরেজরা সিরাজদ্দৌল্লার বিরুদ্ধে অভিযান করার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। মুর্শিদাবাদ রওনা হওয়ার আগে ক্লাইভ হুগলির ফৌজদার আমিরুল্লাকে ১২ জুন লিখলেন যে সন্ধির শর্তগুলি যাতে পালিত হয় তা দেখার জন্য ইংরেজ বাহিনী রাজধানীর দিকে অভিযান শুরু করছে।[১০] চিঠি পেয়েই আমিরুল্লা ক্লাইভকে জানালেন যে ‘নবাবের সঙ্গে শেষ যখন তাঁর দেখা হয় তখনও নবাব ইংরেজদের প্রতি তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সদিচ্ছার কথা বলেছেন এবং চুক্তির শর্তাবলী পালন করতে তাঁর সম্মতির কথা জানিয়েছেন। ব্যাপারটা অত গুরুত্বপূর্ণ বলেই তাতে কিছুটা দেরি হয়তো হচ্ছে। কিছু বদলোকের প্ররোচনায় ক্লাইভের পক্ষে এরকমভাবে হঠাৎ একটা অভিযান করা নিতান্তই অনুচিত।’[১১]

কিন্তু ইংরেজদের পরিকল্পিত পলাশির বিপ্লব ত্বরান্বিত করতে তাদের কিছু একটা অজুহাত দেখাবার প্রয়োজন ছিল। তাই ক্লাইভ ১৩ জুন সিরাজদ্দৌল্লাকে লিখলেন যে, যেহেতু নবাব চুক্তির শর্তাবলী পালন করেননি এবং যেহেতু তিনি আগের প্রতিশ্রুতি আপনার শত্রু আমার শত্রু, আমার শত্রু আপনার’[১২] না মেনে ফরাসি নৌ সেনাপতি বুসির [Bussy] সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন, সেজন্য তিনি মুর্শিদাবাদ অভিমুখে অভিযান করছেন। মুর্শিদাবাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে ব্যাপারটি তুলে ধরা হবে, তাদের সুবিচারের জন্য।[১৩] সিরাজ কিন্তু এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বারবার জানিয়েছেন যে আলিনগরের সন্ধির চুক্তির শর্তগুলি বরাবরই মেনে চলা হয়েছে এবং তাঁর দিক থেকে কোনও বিচ্যুতি কখনও হয়নি। তিনি ইংরেজদের এটাও বারবার পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তারা মুর্শিদাবাদ অভিমুখে অভিযান শুরু করলে তা চুক্তিভঙ্গের সামিল হবে।[১৪] মুর্শিদাবাদ থেকে ওয়াটসের পালানোর পর নবাব ক্লাইভ ও ওয়াটসন দু’জনকে জানালেন যে এটা তাঁদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং চুক্তি ভাঙার উদ্দেশ্যেরই পরিচায়ক।

ক্লাইভ যখন মুর্শিদাবাদ অভিযান শুরু করেন তখনও পর্যন্ত মীরজাফরের কাছ থেকে শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কোনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে মীরজাফরের সাক্ষাৎ পরিচয়ই ছিল না। তিনি ১৯ জুন কাটোয়া দখল করলেন। সেখানে ‘নিদারুণ অস্বস্তি’র মধ্যে তাঁকে দু’দিন কাটাতে হয়। কারণ তখনও পর্যন্ত মীরজাফর বা তাঁর সঙ্গীদের কাছ থেকে কোনও খবর বা নির্দেশ কিছুই পাওয়া যায়নি। খবর যখন পৌঁছুল তখন দেখা গেল যে, ওয়াটসের মন্তব্য অনুযায়ী, তাতে সন্তোষজনক বা পরিষ্কারভাবে কিছুই বলা নেই।[১৫] ফলে ক্লাইভ বেশ ভীত ও হতাশ হয়ে পড়লেন। তিনি সিলেক্ট কমিটিকে লিখলেন যে মীরজাফরের কাছ থেকে কোনও রকমের স্পষ্ট সংকেত না পেয়ে তিনি ‘খুবই উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও লিখলেন যে মীরজাফর ইংরেজদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করলেও যেভাবে তিনি সতর্কতার সঙ্গে এগুতে চাইছেন তাতে পুরো ব্যাপারটাই ভেস্তে যাবার আশঙ্কা। একইভাবে তিনি কমিটিকে জানালেন যে, তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে মীরজাফর যাতে ইংরেজদের সঙ্গে যোগ দেন তার একটা শেষ চেষ্টা তিনি করছেন। কমিটিকে এটাও জানানো হল, মীরজাফর তাঁর সঙ্গে যোগ না দিলে তিনি নদী পেরোবেন না। কোনওরকমে আট-দশ হাজার মন খাদ্যশস্য জোগাড় করতে পারলে তার সঙ্গে কাটোয়ায় যা তাদের হাতে এসেছে, সব মিলিয়ে বর্ষা পর্যন্ত ওখানে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। তারপর প্রয়োজন হলে মারাঠারা বা বীরভূমের রাজা বা এমনকী দিল্লির উজির গাজিউদ্দিন খান কারও না কারও সঙ্গে সমঝোতা করে কার্যোদ্ধার করা যাবে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ক্লাইভ সিলেক্ট কমিটিকে লিখছেন যে, তাঁর ইচ্ছা খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোনো যাতে ইংরেজ বাহিনীর কোনও বড় রকমের ক্ষতি না হয় ‘কারণ এই ফৌজ অক্ষত থাকলে আমাদের বর্তমান পরিকল্পনা সফল না হলেও ভবিষ্যতে যে-কোনও সময় বিপ্লব সংগঠিত করার শক্তি আমাদের বজায় থাকবে।’[১৬]

এ থেকে বোঝা যায় মীরজাফর ও তাঁর সঙ্গীরা সিরাজদ্দৌল্লাকে মসনদ থেকে হঠাতে ইংরেজদের শেষপর্যন্ত সাহায্য করতে এগিয়ে না এলেও, ইংরেজরা অন্য কারও সহায়তায় এ-কাজ সম্পন্ন করতে দ্বিধাগ্রস্ত হত না এবং সেই অন্য কেউ দরবারের বিশিষ্ট অমাত্যই যে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। ইংরেজদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যে কেউ হলেই চলত। আসলে তখনও পর্যন্ত ক্লাইভ মীরজাফর সম্বন্ধে ঠিক নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না। তাই তিনি সিলেক্ট কমিটির কাছে জানতে চাইলেন যদি মীরজাফর সাহায্য করতে এগিয়ে না আসেন তা হলে কী করা যাবে।[১৭] তবে বিপ্লব ঘটাতে তিনি এতই উদগ্রীব ছিলেন যে মীরজাফরের ওপর আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি এবং তাঁকে ইংরেজ ফৌজের সঙ্গে যোগ দিতে বারবার প্ররোচিত করতে লাগলেন। কাটোয়া থেকে ১৯ জুনও তিনি মীরজাফরকে লিখলেন:[১৮]

আপনার পক্ষে বিশেষ করে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারেও আপনি খুব একটা গা করছেন না দেখে আমি খুবই উদ্বিগ্ন হচ্ছি। এ ক’দিনের মধ্যে আমি যখন ফৌজ নিয়ে অভিযান করছি তখন আমি ঠিক কী করব বা কী ব্যবস্থা নেব সে-সম্বন্ধে আপনার কাছ থেকে কোনও ইঙ্গিত বা নির্দেশ পাইনি। আপনার কাছ থেকে কোনও সদুত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই অবস্থান করব আর এগুব না। আমার মনে হয় অতি সত্বর আমার ফৌজের সঙ্গে আপনার যোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ওপরের এই চিঠি থেকে স্পষ্ট, ইংরেজরা সিরাজদ্দৌল্লাকে হঠাবার জন্য কতটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মীরজাফর ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা কিন্তু এ-ব্যাপারে পুরো মনস্থির করে ইংরেজদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েননি—তাঁরা দোনামনা করছিলেন। ২১ জুনও ক্লাইভ সিলেক্ট কমিটির কাছে জানতে চাইলেন, এ-অবস্থায় তিনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। যুদ্ধক্ষেত্রে মীরজাফর যদি শুধু নিরপেক্ষ থাকতে চান, তার বেশি কিছু করতে রাজি না হন, তা হলে তিনি কী করবেন তা নিয়ে খুব চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁর ভয় হল ইংরেজরা যদি নবাবকে আগে আক্রমণ করে তা হলে তাদের সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসবে না এবং ফলে ইংরেজ ফৌজ নবাবের সঙ্গে যুদ্ধে আটকে পড়বে। সুতরাং ওই অবস্থায় গাজিউদ্দিন খান বা মারাঠাদের বাংলা অভিযান করার জন্য আমন্ত্রণ জানানোই উচিত হবে।[১৯]

সে যাই হোক, সিলেক্ট কমিটিকে লেখা ক্লাইভের চিঠি ২৩ জুন আলোচনা করা হল। কমিটির দুই সদস্য, রজার ড্রেক ও রিচার্ড বেচার, মত দিলেন যে ক্লাইভ যা আশঙ্কা করছেন তার খুব একটা ভিত্তি নেই। কমিটি সিদ্ধান্ত নিল: ‘নবাবের সঙ্গে নতুন কোনও চুক্তির কথা ভাবা উচিত হবে না। আমাদের শক্তি যদি থাকে এবং সুযোগ যদি আসে, তা হলে এখনই আমাদের নবাবের বিরুদ্ধে অভিযান করা যুক্তিযুক্ত হবে।’ কমিটি এটাও স্থির করল যে আর বেশি দেরি করলে ইংরেজদের শক্তি দিন দিন কমে যাবে, অন্যদিকে নবাবের শক্তি বৃদ্ধি হবে, কারণ নবাব তখন চারদিক থেকে তাঁর অনুগত সৈন্যদের জড়ো করে ফেলতে পারবেন। তাই কমিটি ক্লাইভকে নির্দেশ দিল, যদি ক্লাইভ মনে করেন যে যুদ্ধে ইংরেজদের সাফল্যের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে তা হলে তাড়াতাড়ি নবাবের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে। অবশ্য কমিটির কোনও সংশয়ই ছিল না যে, নবাবকে যদি তাড়াতাড়ি আক্রমণ করা যায় তা হলে সাফল্য আসবেই।[২০]

সূত্রনির্দেশ ও টীকা

  1. ক্লাইভকে ওয়াটসের চিঠি, ৩ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p. 397.
  2. Select Committee Proceedings, 11 June 1757, Orme Mss., India V, ff. 123-23; O. V. 170, ff.256-57. জোরটা আমার দেওয়া।
  3. ক্লাইভকে ওয়াটস, ৬ জুন ১৭৫৭, Hill II, p. 400; 7 June 1757, Hil, II, p. 400.
  4. Watts’, Memoirs, P. 107; Hill, II, p. 400; ক্লাইভকে ওয়াটস, ১১ জুন ১৭৫৭, Hill, II, pp. 401, 403.
  5. ক্লাইভকে ওয়াটস, ৯ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p. 403; Watts’, Memoirs, p. 98.
  6. Scrafton, Reflections, pp. 88-89; ক্লাইভকে ওয়াটস ৮, ৯, ও ১১ জুন ১৭৫৭, Hill, II, PP. 401, 403.
  7. Srcafton, Reflections, pp. 91-92; Watts’, Memoirs, p. 98.
  8. Law’s Memoir, Hill, III, p. 212.
  9. Watts’, Memoirs, pp. 104-105.
  10. শেখ আমিরুল্লাকে ক্লাইভের চিঠি, ১১ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p. 404.
  11. ক্লাইভকে শেখ আমিরুল্লা, ১২ জুন ১৭৫৭, Hill, II, 405.
  12. আলিনগরের সন্ধিতে এমন কোনও শর্ত ছিল না। ইংরেজদের প্রতি তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ব্যক্ত করার জন্য সিরাজ ব্যক্তিগত চিঠিতে (যেমন ওয়াটসনকে ৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭, Hill, II, p. 220; ক্লাইভকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭, Hill, II, p. 222) ওটা লেখেন। ওয়াটস পরিষ্কার জানিয়েছেন নবাব ফরাসিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকলেও তাতে তিনি চুক্তির শর্ত, কোনও ক্রমেই ভঙ্গ করেননি (ক্লাইভকে ওয়াটস, ২৬ এপ্রিল ১৭৫৭, Hill, II, pp. 362-63)। ইংরেজরাও নবাবের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু তারা তা আদৌ মেনে চলেননি (নবাবকে ওয়াটসন, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭, Hill, II, p. 221)।
  13. নবাবকে ক্লাইভের চিঠি, ১৩ জুন ১৭৫৭, Hill, II, pp. 405-07. জোরটা আমার দেওয়া।
  14. নবাব ওয়াটসনকে, ১৩ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p.410; ক্লাইভকে নবাব, ১৫ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p. 411.
  15. Watts’ Memoirs, p. 108; Scrafton, Reflections, p. 92.
  16. সিলেক্ট কমিটিকে ক্লাইভের চিঠি, ১৯ জুন ১৭৫৭, Hill, II, pp.417-18.
  17. ঐ, পৃ. ৪১৮।
  18. মীরজাফরকে ক্লাইভ, ১৯ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p. 419. জোরটা আমি দিয়েছি।
  19. সিলেক্ট কমিটিকে ক্লাইভ, ২১ জুন ১৭৫৭, Hill, II, p. 414.
  20. Select Committee Proceedings, 27 June 1757, Hill, II, p. 431.