আল-কুরআনের শিক্ষা
- আল-কুরআনের শিক্ষা
- অনুবাদকের আরয
- আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষারত
- লেখকের আরয
- অপশক্তিধরদের আলোকিত চিন্তা চেতনা
- আল্লাহ্ কি হিংস্রতা এবং জুলম করেন?
- মানবাধিকার ও আমেরিকা
- ইসলাম ও কুফুরীর দ্বন্ধ
- ফোরকানুল হকের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা
- কোরআন সংরক্ষণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- কুরআন মাজীদের সাত ক়েরাত
- নে’মতের বহিঃপ্রকাশ
- কোরআন মাজীদের চেলেঞ্জ কি?
- ফোরকানুল হকের ফেতনা
- ফোরকানুল হকের শয়তানি
নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস
- নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস
- প্রথম সংস্করণের ভূমিকা।
- দ্বিতীয় সংস্করণের বিজ্ঞাপন।
- ভৌগলিক বৃত্তান্ত।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: প্রাচীনযুগ।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: মধ্যযুগ।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: নবযুগ।
- ধর্ম্মপ্রণালী।
- সামাজিক রীতিনীতি।
- জাপানের শিক্ষা-প্রণালী।
- জাপানের সাহিত্য ও সংবাদপত্র।
- জাপান সাম্রাজ্যের গঠনপ্রণালী ও রাজনীতি।
- জাপানের বাণিজ্য।
- জাপানের সমর বল।
- জাপানের নানাকথা।
- রুষ ও জাপান যুদ্ধের ইতিহাস।
ইস্তাহার
- ইস্তাহার
- মুখবন্ধ
- ইস্তাহার
- মশাল
- জনতা
- আদিম ও আগামী
- চোখ
- জেহাদ
- রাজনীতি
- সঙ্কট
- বন্যা
- জবানবন্দী
- নেতা
- শকুনির পাশা
- মহাজীবন
- যৌথ
- জালিয়াত
- সাংবাদিক
- কুতুব মিনার
- বাংলা দেশ
- হিপি
- চন্দ্রকাব্য
- পিঞ্জরে বন্দী
- বেনামী সার্কাস
- আরশি
- রঙের গোলাম
- শোষক মশক
- মুক্তির নিমন্ত্রণ
- বীরবরণ
- জলছবি
- বিকল্প
- মুক
- প্রতিবাদ
- প্রস্তরমূর্তি
- নিরুপায়
- বিনষ্ট
- প্রস্থান
- সংশোধন
- বিবৃতি
- সেই লোকটি
- পলাতক
- মাটি ও মানুষ
- মৃত্যু
- গরীয়সী
- প্রণাম
চোদ্দ শতকের বাঙালী
- চোদ্দ শতকের বাঙালী
- শতক বিহরণ
- বিপ্লববাদী সমাজের অভ্যুত্থান
- হিন্দু সভ্যতার শিকর আবিষ্কার
- কুলীনের মেয়ের মুক্তি
- হিন্দু বিবাহ-বিধান
- মুসলিম বিবাহ ও তিন তালাক
- বিয়ে বাড়ির আদব
- শতাব্দীর মর্মন্তুদ অগ্নিকাণ্ড
- কলকাতার দাঙ্গা
- শতাব্দীর আর্থিক চিত্র
- পশ্চিমবঙ্গের নবরূপ
- সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম
- বাঙালী জীবনচর্যার পরিবর্তন
- বাঙালী জীবনের অস্তাচল
- বাঙালী আরও হারিয়েছে তার স্বয়ম্ভরতা
- নারী নির্যাতনে দেশ গেল ভরে
- বাঙালীর দুর্গতি
- ঘটনাপঞ্জী
যুগবাণী
- যুগবাণী
- উৎসর্গ
- নবযুগ
- গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ!
- ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ
- ধর্মঘট
- লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য
- মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান
- ছুঁৎমার্গ
- উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন
- মুখবন্ধ
- রোজ কেয়ামত বা প্রলয় দিন
- বাঙালির ব্যবসাদারি
- আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন?
- কালা আদমিকে গুলি মারা
- শ্যাম রাখি না কুল রাখি
- লাট-প্রেমিক আলি ইমাম
- ভাব ও কাজ
- সত্য-শিক্ষা
- জাতীয় শিক্ষা
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
- জাগরণী
বিষের বাঁশী
- বিষের বাঁশী
- উৎসর্গ
- কৈফিয়ত
- আয় রে আবার আমার চির-তিক্ত প্রাণ!
- ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্ : আবির্ভাব
- ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্ : তিরোভাব
- সেবক
- জাগৃহি
- তূর্য-নিনাদ
- বোধন
- উদ্বোধন
- অভয়-মন্ত্র
- আত্মশক্তি
- মরণ-বরণ
- বন্দি-বন্দনা
- বন্দনা-গান
- মুক্তি-সেবকের গান
- শিকল-পরার গান
- মুক্ত-বন্দি
- যুগান্তরের গান
- চরকার গান
- জাতের বজ্জাতি
- সত্য-মন্ত্র
- বিজয়-গান
- পাগল পথিক
- ভূত-ভাগানোর গান
- বিদ্রোহীর বাণী
- অভিশাপ
- মুক্ত-পিঞ্জর
- ঝড়
ছায়ানট
- পলাতকা
- ছায়ানট
- বিজয়িনী
- কমল-কাঁটা
- চৈতি হাওয়া
- বেদনা-অভিমান
- নিশীথ-প্রীতম্
- অ-বেলায়
- হার-মানা-হার
- লক্ষ্মীছাড়া
- শেষের গান
- নিরুদ্দেশের যাত্রী
- চিরন্তনী প্রিয়া
- বেদনা-মণি
- পরশ পূজা
- অনাদৃতা
- শায়ক-বেঁধা পাখী
- হারামণি
- নীল পরী
- স্নেহ-ভীতু
- চিরশিশু
- মানস-বধূ
- দহনমালা
- বিদায়-বেলায়
- অকরুণ পিয়া
- ব্যথা-নিশীথ
- সন্ধ্যাতারা
- দূরের বন্ধু
- আশা
- মরমী
- মুক্তি-বার
- আপন-পিয়াসী
- বিবাগিনী
- প্রতিবেশিনী
- দুপুর-অভিসার
- ছলকুমারী
- পাপড়ি-খোলা
- বিধুরা পথিকপ্রিয়া
- মনের মানুষ
- প্রিয়ার রূপ
- বাদল-দিনে
- কার বাঁশি বাজিল?
- অ-কেজোর গান
- স্তব্ধ বাদল
- চাঁদমুকুর
- চির-চেনা
- পাহাড়ী গান
- অমর-কানন
- পূবের হাওয়া
- আলতা-স্মৃতি
- রৌদ্রদগ্ধের গান
ফণী-মনসা
- ফণী-মনসা
- সব্যসাচী
- দ্বীপান্তরের বন্দিনী
- প্রবর্তকের ঘুর-চাকায়
- আশীর্বাদ
- মুক্তিকাম
- সাবধানী ঘণ্টা
- বিদায়-মাভৈঃ
- বাংলার মহাত্মা
- হেমপ্রভা
- অশ্বিনীকুমার
- ইন্দু-প্রয়াণ
- দিল-দরদী
- সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ
- সত্য-কবি
- সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ-গীতি
- সুর-কুমার
- রক্ত-পতাকার গান
- অন্তর-ন্যাশন্যাল সঙ্গীত
- জাগর-তূর্য
- যুগের আলো
- পথের দিশা
- যা শত্রু পরে পরে
- হিন্দু-মুসলিম যুদ্ধ
বাঁধনহারা
- বাঁধনহারা
- উৎসর্গ
- পরিচ্ছেদ ক : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ ক : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ খ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ খ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ গ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ গ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র তিন
- পরিচ্ছেদ ঙ
- পরিচ্ছেদ চ
- পরিচ্ছেদ ছ
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র তিন
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র চার
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র পাঁচ
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র ছয়
বুলবুল
- বুলবুল
- উৎসর্গ
- ‘বুলবুলে’র কবি
- বাগিচায় বুলবুলি তুই
- আমারে চোখ-ইশারায়
- বসিয়া বিজনে কেন একা মনে
- ভুলি কেমনে আজও যে মনে
- কেন কাঁদে পরান
- মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে
- কে বিদেশি মন-উদাসী
- করুণ কেন অরুণ আঁখি
- এত জল ও-কাজল-চোখে
- আসে বসন্ত ফুলবনে
- দুরন্ত বায়ু পুরবৈয়াঁ
- চেয়ো না সুনয়না
- পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়
- সখী জাগো, রজনী পোহায়
- নিশি ভোর হল জাগিয়া
- এ বাসি বাসরে আসিলে
- বসিয়া নদীকূলে
- কেন দিলে এ কাঁটা
- সখী, বোলো-বঁধূয়ারে
- নহে নহে প্রিয়
- এ আঁখি-জল মোছ পিয়া
- কী হবে জানিয়া বলো
- পরদেশি বঁধুয়া
- কেন উচাটন মন
- আসিলে এ ভাঙা ঘরে
- আজি দোল পূর্ণিমাতে
- রুমুঝুমু রুমুঝুম্
- আজি এ কুসুম-হার
- গরজে গম্ভীর গগন কম্বু
- হাজার তারার হার হয়ে
- অধীর অম্বরে গুরু গরজন
- ঝরে ঝরঝর কোন গভীর
- হৃদয় যত নিষেধ হানে
- শুকাল মিলন-মালা
- স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়
- গহীন রাতে ঘুম
- কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ
- জাগিলে ‘পারুল’ কি গো
- চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে
- নমো হে নমো যন্ত্রপতি
- পুরবের তরুণ অরুণ
- কে শিব সুন্দর
- কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে
- কেন আন ফুল-ডোর
- কেমনে রাখি আঁখি-বারি
- কেন আসিলে যদি যাবে চলি
- সাজিয়াছ যোগী
- মুসাফির! মোছ এ আঁখি জল
- এ নহে বিলাস বন্ধু
চোখের চাতক
- চোখের চাতক
- আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী
- কাঁদিতে এসেছি আপনারে লয়ে
- ছাড়িতে পরান নাহি চায়
- কে তুমি দূরের সাথী
- আজি এ শ্রাবণ-নিশি
- আজি বাদল ঝরে
- মোর ঘুম ঘোরে এলে
- কেউ ভোলে না কেউ ভোলে
- যাও যাও তুমি ফিরে
- ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায়
- নিশীথ-স্বপন তোর ভুলে যা
- ঘোর তিমির ছাইল রবি শশী
- দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়
- এত কথা কি গো কহিতে জানে
- মন কেন উদাসে
- আমার গহীন জলের নদী
- তোমায় কূলে তুলে বন্ধু
- আমার সাম্পান যাত্রী না লয়
- ওরে মাঝি ভাই
- কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
- আঁধার রাতে কে গো একেলা
- কী হবে লাল পাল তুলে
ছাড়পত্র
- ছাড়পত্র
- ছাড়পত্র (কবিতা)
- আগামী
- রবীন্দ্রনাথের প্রতি
- চারাগাছ
- খবর
- ইউরোপের উদ্দেশে
- প্রস্তুত
- প্রার্থী
- একটি মোরগের কাহিনী
- সিঁড়ি
- কলম
- আগ্নেয়গিরি
- দুরাশার মৃত্যু
- ঠিকানা
- লেনিন
- অনুভব
- কাশ্মীর
- সিগারেট
- দেশলাই কাঠি
- বিবৃতি
- চিল
- চট্টগ্রাম : ১৯৪৩
- মধ্যবিত্ত '৪২
- সেপ্টেম্বর '৪৬
- ঐতিহাসিক
- শত্রু এক
- মজুরদের ঝড়
- ডাক
- বোধন
- রানার
- মৃত্যুজয়ী গান
- কনভয়
- ফসলের ডাক : ১৩৫১
- কৃষকের গান
- এই নবান্নে
- আঠারো বছর বয়স
- হে মহাজীবন
ঘুম নেই
- ঘুম নেই
- বিক্ষোভ
- ১লা মে-র কবিতা '৪৬
- পরিখা
- সব্যসাচী
- উদ্বীক্ষণ
- বিদ্রোহের গান
- অনন্যোপায়
- অভিবাদন
- জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী
- কবিতার খসড়া
- আমরা এসেছি
- একুশে নভেম্বর : ১৯৪৬
- দিন বদলের পালা
- মুক্ত বীরদের প্রতি
- প্রিয়তমাসু
- ছুরি
- সূচনা
- অদ্বৈধ
- দিক্প্রান্তে
- চিরদিনের
- নিভৃত
- বৈশম্পায়ন
- নিভৃত
- কবে
- অলক্ষ্যে
- মহাত্মাজীর প্রতি
- পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে
- পরিশিষ্ট
- মীমাংসা
- অবৈধ
- ১৯৪১ সাল
- রোম : ১৯৪৩
- জনরব
- রৌদ্রের গান
- দেওয়ালী
গীতিগুচ্ছ
- গীতিগুচ্ছ
- ওগো কবি তুমি আপন ভোলা
- এই নিবিড় বাদল দিনে
- গানের সাগর পাড়ি দিলাম
- হে মোর মরণ
- দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে
- শয়ন শিয়রে ভোরের পাখির রবে
- ও কে যায় চলে
- হে পাষাণ, আমি নির্ঝরিণী
- শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল
- কিছু দিয়ে যাও
- ক্লান্ত আমি কর ক্ষমা
- সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন
- কঙ্কণ-কিঙ্কিণী মঞ্জুল মঞ্জীর ধ্বনি
- মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে
- গুঞ্জরিয়া এল অলি
- কোন অভিশাপে নিয়ে এল
- ভুল হল বুঝি
- মুখ তুলে চায়
- ফোটে ফুল আসে যৌবন
সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা
- সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা
- ক্ষুধা
- দুর্বোধ্য
- ভদ্রলোক
- দরদী কিশোর
- কিশোরের স্বপ্ন
- ছন্দ ও আবৃত্তি
- বর্ষ-বাণী
- যেমন ক’রে তপন টানে জল
- জনগণ হও আজ উদ্বুদ্ধ
- আমরা জেগেছি
- শৃঙ্খল ভাঙা সুর
- ভবিষ্যতে
- সুচিকিৎসা
- পরিচয়
- আজিকার দিন কেটে যায়
- চৈত্রদিনের গান
- সুহৃদ্বরেষু
- পটভূমি
- ভারতীয় জীবনত্রাণ-সমাজের মহাপ্রয়াণে
- “নব জ্যামিতি”র ছড়া
- জবাব
- চরমপত্র
- মেজদাকে : মুক্তির অভিনন্দন
- পত্র
- মার্শাল তিতোর প্রতি
- ব্যর্থতা
- দেবদারু গাছে রোদের ঝলক
পলাশির অজানা কাহিনী
- পলাশির অজানা কাহিনী
- ভূমিকা
- প্রাক্-পলাশি বাংলার রূপরেখা
- সিরাজ চরিত-কথা
- ইউরোপীয় কোম্পানি ও এশীয় বণিক সম্প্রদায়
- সিরাজদ্দৌল্লা ও ইংরেজ কোম্পানির সংঘাত
- পলাশি বিপ্লবের অনিবার্যতা
- ষড়যন্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ
- চক্রান্তের মূল নায়করা
- পলাশি অভিমুখে : ইংরেজ পরিকল্পনা
- পলাশির পরিণাম : সুদূরপ্রসারী প্রভাব
- উপসংহার
- নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি
হযরত ওমর
- হযরত ওমর
- গুমরাহীর অন্ধকারায়
- ইসলামের আলোকধারায়
- খেলাফতের প্রতিষ্ঠায়
- বিজয়ীর বেশে ফিরে দেশে দেশে
- ইরাক-আরব বিজয়
- ইরাক-আযম বিজয়
- সিরিয়া বিজয়
- মিসর বিজয়
- ওমরের শাহাদাত
- রাজ্যজয় ও রাষ্ট্রগঠন
- প্রশাসনিক ও রাজস্ব-ব্যবস্থা
- সেনাবিভাগ
- শহর পত্তন ও পূর্তবিভাগ
- বিচার-বিভাগ
- জিম্মীদের অধিকার সংরক্ষণ ও দাসপ্রথা নিয়ন্ত্ৰণ
- শিক্ষাবিস্তার ও ধর্মপ্রচার
- রাষ্ট্রনায়ক : ব্যক্তিত্ব
- মানুষ ওমর
- ওমর-কাহিনীগুচ্ছ
- শেষ প্ৰসঙ্গ
ঐতিহাসিক সমগ্র
- ঐতিহাসিক সমগ্র
- ভারতের দ্বিতীয় প্রভাতে
- মহাভারতের শেষ মহাবীর
- পঞ্চনদের তীরে
- ভগবানের চাবুক
- আলেকজান্ডার দি গ্রেট
- দিগবিজয়ী নেপোলিয়ন
- রক্ত বাদল ঝরে
- হন্তারক নরদানব
- সিরাজের বিজয় অভিযান
- তিন সম্রাটের ত্র্যহস্পর্শযোগ
- সাতহাজারের আত্মদান
- আলেকজান্ডারের পলায়ন
- ওষ্ঠাধরে রাজদণ্ড
- মরা মানিক আর জ্যান্ত মানিক
- মুসলমানের জহরব্রত
- সূর্য দেবী, পর্মল দেবী
- মারাঠার লিওনিডাস
- ভারতের একমাত্র সুলতানা
- ব্যাঘ্রভূমির বঙ্গবীর
- উপন্যাসের চেয়ে আশ্চর্য
- মরণ বিজয়ীর দল
- ছত্রপতির ছত্রভঙ্গ
- জগন্নাথদেবের গুপ্তকথা
- নতুন বাংলার প্রথম কবি
- শিবদাস ভাদুড়ি
- ইতিহাসের রক্তাক্ত প্রান্তরে
- বীরাঙ্গনা, পরাক্রমে ভীমা-সমা
- বর্গি এল দেশে
- হে ইতিহাস গল্প বলো
- প্রথম বাঙালি সম্রাট
- অনামা বীরাঙ্গনা
- ইতিহাসের রক্তাক্ত দৃশ্য
- ছত্রপতির অ্যাডভেঞ্চার
- বাংলাদেশের বোম্বেটেরাজ
ক্রুসেড সিরিজ
- গাজী সালাহুদ্দীনের দুঃসাহসিক অভিযান
- গোপন বিদ্রোহী
- হেমসের যোদ্ধা
- পাপের ফল
- তুমুল লড়াই
- উমরু দরবেশ
- টার্গেট ফিলিস্তিন
- গাদ্দার
- সালাহুদ্দীন আয়ুবীর কমান্ডো অভিযান
- বিষাক্ত ছোবল
- খুনী চক্রের আস্তানায়
- পাল্টা ধাওয়া
- সুবাক দুর্গে আক্রমণ
- ইহুদী কন্যা
- ধাপ্পাবাজ
- ভয়ংকর ষড়যন্ত্র
- ভয়াল রজনী
- আবারও সংঘাত
- দূর্গপতন
- ফেরাউনের গুপ্তধন
- উপকূলে সংঘর্ষ
- সর্প কেল্লার খুনী
- চারদিকে চক্রান্ত
- সামনে বৈরুত
- দুর্গম পাহাড়
- ভণ্ডপীর
- ছোট বেগম
- রক্তস্রোত
- রিচার্ডের নৌবহর
- মহাসমর
বাবরনামা
- দ্বিতীয় অধ্যায়
- বাবরনামা
- ভূমিকা
- প্রথম অধ্যায়
- তৃতীয় অধ্যায়
- চতুর্থ অধ্যায়
- পঞ্চম অধ্যায়
- ষষ্ঠ অধ্যায়
- সপ্তম অধ্যায়
- অষ্টম অধ্যায়
- নবম অধ্যায়
- দশম অধ্যায়
- একাদশ অধ্যায়
- দ্বাদশ অধ্যায়
- ত্রয়োদশ অধ্যায়
- চতুর্দশ অধ্যায়
- পঞ্চদশ অধ্যায়
- ষোড়শ অধ্যায়
- সপ্তদশ অধ্যায়
- অষ্টাদশ অধ্যায়
- ঊনবিংশ অধ্যায়
- বিংশ অধ্যায়
- একবিংশ অধ্যায়
- দ্বাবিংশ অধ্যায়
- ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
ভাটির দেশ
- ভাটির দেশ
- প্রথম পর্ব
- ভাটির দেশ
- আমন্ত্রণ
- ক্যানিং
- লঞ্চে
- লুসিবাড়ি
- পতন
- স্যার ড্যানিয়েল
- স্নেল’স উইন্ডো
- ট্রাস্ট
- ফকির
- চিঠি
- ডিঙিতে
- নির্মল আর নীলিমার কথা
- নোঙর
- কুসুম
- কথা
- বনবিবির মহিমা
- স্পন্দন
- মরিচঝাঁপি
- ময়না
- কাঁকড়া
- ভ্রমণকাহিনি
- গর্জনতলা
- আলোড়ন
- হঠাৎ আলো
- শোনা
- তীরে ভেড়া
- ধাওয়া
- স্বপ্ন
- অনুসরণ
- দ্বিতীয় পর্ব
- পুনরাগমনায় চ
- বন্দরের কাল
- ভোজ
- আলাপ
- ঝড়
- আলোচনা
- অভ্যাস
- একটি সূর্যাস্ত
- রূপান্তর
- তীর্থদর্শন
- নিয়তি
- মেঘা
- স্মৃতি
- মধ্যস্থ
- ঘেরাটোপে
- কথা
- অপরাধ
- বিদায় লুসিবাড়ি
- ব্যাঘাত
- বাঁচা
- রবিবারের ডাকঘর
- একটি হত্যা
- জেরা
- মিস্টার স্লোয়েন
- ক্রেতি
- চিহ্ন
- আলো
- খোঁজ
- হতাহত
- উপহার
- মিঠে জল, নোনা জল
- দিগন্তে
- ক্ষয়ক্ষতি
- তরী থেকে তীরে
- ঢেউ
- পরদিন
- বাড়ি : একটি উপসংহার
- লেখকের কথা
- অনুবাদ প্রসঙ্গে
দ্বিতীয় পর্ব
- দ্বিতীয় পর্ব
- পুনরাগমনায় চ
- বন্দরের কাল
- ভোজ
- আলাপ
- ঝড়
- আলোচনা
- অভ্যাস
- একটি সূর্যাস্ত
- রূপান্তর
- তীর্থদর্শন
- নিয়তি
- মেঘা
- স্মৃতি
- মধ্যস্থ
- ঘেরাটোপে
- কথা
- অপরাধ
- বিদায় লুসিবাড়ি
- ব্যাঘাত
- বাঁচা
- রবিবারের ডাকঘর
- একটি হত্যা
- জেরা
- মিস্টার স্লোয়েন
- ক্রেতি
- চিহ্ন
- আলো
- খোঁজ
- হতাহত
- উপহার
- মিঠে জল, নোনা জল
- দিগন্তে
- ক্ষয়ক্ষতি
- তরী থেকে তীরে
- ঢেউ
- পরদিন
- বাড়ি : একটি উপসংহার
- লেখকের কথা
- অনুবাদ প্রসঙ্গে
অলৌকিক জলযান
- অলৌকিক জলযান
- এক
- দুই
- তিন
- চার
- পাঁচ
- ছয়
- সাত
- আট
- নয়
- দশ
- এগার
- বার
- তের
- চৌদ্দ
- পনের
- ষোল
- সতের
- আঠার
- উনিশ
- বিশ
- একুশ
- বাইশ
- তেইশ
- চব্বিশ
- পঁচিশ
- ছাব্বিশ
- সাতাশ
- আঠাশ
- ঊনত্রিশ
- ত্রিশ
- একত্রিশ
- বত্রিশ
- তেত্রিশ
- চৌত্রিশ
- পয়ত্রিশ
- ছত্রিশ
- সাইত্রিশ
- আটত্রিশ
- উনচল্লিশ
- চল্লিশ
- একচল্লিশ
- বিয়াল্লিশ
- তেতাল্লিশ
- চুয়াল্লিশ
- পঁয়তাল্লিশ
- ছিচল্লিশ
- সাতচল্লিশ
- আটচল্লিশ
- উনপঞ্চাশ
- পঞ্চাশ
- একান্ন
- বাহান্ন
- তিপ্পান্ন
- চুয়ান্ন
হরিদাসের গুপ্তকথা
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- তৃতীয় খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- হরিদাসের গুপ্তকথা
- ভূবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
- প্রকাশকের নিবেদন
- প্রথম খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- ষষ্ঠ কল্প
- সপ্তম কল্প
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- দশম কল্প
- একাদশ কল্প
- দ্বাদশ কল্প
- ত্রয়োদশ কল্প
- চতুর্দ্দশ কল্প
- পঞ্চদশ কল্প
- ষোড়শ কল্প
- সপ্তদশ কল্প
- অষ্টাদশ কল্প
- উনবিংশ কল্প
- বিংশ কল্প
- একবিংশ কল্প
- দ্বাবিংশ কল্প
- ত্রয়োবিংশ কল্প
- চতুর্ব্বিংশ কল্প
- পঞ্চবিংশ কল্প
- ষড়্বিংশ কল্প
- সপ্তবিংশ কল্প
- অষ্টাবিংশ কল্প
- ঊনত্রিংশ কল্প
- দ্বিতীয় খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- ষষ্ঠ কল্প
- সপ্তম কল্প
প্রথম খণ্ড
- প্রথম খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- দশম কল্প
- একাদশ কল্প
- দ্বাদশ কল্প
- ত্রয়োদশ কল্প
- চতুর্দ্দশ কল্প
- পঞ্চদশ কল্প
- ষোড়শ কল্প
- সপ্তদশ কল্প
- অষ্টাদশ কল্প
- উনবিংশ কল্প
- বিংশ কল্প
- একবিংশ কল্প
- দ্বাবিংশ কল্প
- ত্রয়োবিংশ কল্প
- চতুর্ব্বিংশ কল্প
- পঞ্চবিংশ কল্প
- ষড়্বিংশ কল্প
- সপ্তবিংশ কল্প
- অষ্টাবিংশ কল্প
- ঊনত্রিংশ কল্প
দশ
প্রায় পনের ষোল দিন হয়ে গেল আব্দুস সাত্তারের কোনো খোঁজ নেই। তাসনিম প্রতিদিন তার বাসায় ফোন করে। কিন্তু কাজের বুয়া জমিলা কিছু বলতে পারে না। আজ মাগরিবের নামাযের পর নসিম হেযাজীর “খুন রাঙা পথ” পড়ছিল।
কাজের বুয়া এসে বলল, আপা, আপনারে সাহেব বোলাইছেন।
তাসনিম বলল, তুমি যাও, আসছি। তারপর বইটা বন্ধ করে যাওয়ার সময় সায়মাকে আব্বর রুমের দিকে যেতে দেখে জিজ্ঞেস করল,কী রে, তোকেও ডেকেছে না কী?
তাসনিম বেডরুমে পড়ছিল, আর সায়মা রিডিংরুমে। কাজের বুয়ার মুখে আবু ডাকছে শুনে সায়মাও যাচ্ছিল। আপুর কথা শুনে বুঝতে পারল, তাকেও ডেকেছে। বলল, হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করল, কেন ডেকেছে কিছু বুঝতে পারলি?
তাসনিম যেতে যেতে বলল, দু’জনকে একসঙ্গে যখন ডেকেছে তখন নিশ্চয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে।
সায়মা বলল, আমারও তাই মনে হচ্ছে। তারপর আব্বর রুমে ঢুকে দেখল, আম্মুও আছে।
তাদের দেখে রোকন উদ্দিন সাহেব হাসিমুখে বললেন, আয় বস। বসার পর তাসনিমকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ভেবেছিলাম, তোকে ওমরের হাতে তুলে দেব। তোর মায়ের মুখে শুনলাম, তুই তাকে পছন্দ করিস না। তাই একটা ভালো ছেলের খোঁজে ছিলাম। আল্লাহ মিলিয়ে দিয়েছেন। ছেলের মা বাবা আমেরিকায়। সেটেল্ড। সেখানে তাদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা আছে। সবাই ওখানকার নাগরিক। তাদের একমাত্র ছেলে আবু সাঈদ ডাক্তারী পাশ করে ওখানকার হাসপাতালে জয়েন করেছে। ওরা সবাই ধার্মিক। এরকম ছেলের সঙ্গে বিয়ে হলে তুই সুখী হবি। এখানে তাদের বাড়ি মাগুরা। দিন দশেক হল মা-বাবা ছেলেকে নিয়ে দেশে এসেছেন, ধার্মিক বাংলাদেশী মেয়ে বৌ করে নিয়ে যাবেন বলে। আমার এক বন্ধুর বাড়ি মাগুরায় ওদের গ্রামে। সে সম্বন্ধটা এনেছে। ছেলে ও তার মা বাবা কাল সকালে তোকে দেখতে আসবেন। পছন্দ হলে দু’চার দিনের মধ্যে ছেলের বিয়ে দেবেন। মাসখানেক পর বৌ নিয়ে আমেরিকায় চলে যাবেন। কাল তোরা কোথাও যাবি না, বাসায় থাকবি।
মুমীনা বেগম বললেন, অন্যের কথায় বিশ্বাস করে কিছু করা উচিত নয়। বিশেষ করে বিয়ে শাদীর ব্যাপারে। তুমি ভালো করে খোঁজ খবর নিয়েছ?
তা আর নিই নি? আমার চাচাত ভাই আব্দুস সামাদকে তো তুমি চেন। বছর দুই হল সে আমেরিকা গেছে। ওদের কাছাকাছি থাকে। বন্ধু বলার পর তাকে ফোন করেছিলাম। যা বলল, বন্ধুর কথার সঙ্গে সব মিলে গেছে। আরো বলল, আজকালের যুগে এত ভালো ঘর ও ভালো ছেলে লাখে একটা আছে কিনা সন্দেহ। তুমি দেখো তাসনিমের মা, আমাদের তাসনিম সুখে থাকবে।
আব্বু থেমে যেতে তাসনিম বলল, কিন্তু আমি তো এখন বিয়ে করব না। আব্দুস সামাদ চাচা যখন ছেলে ও ছেলের মা বাবার সম্পর্কে ভালো সার্টিফিকেট দিয়েছেন তখন সায়মার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দাও। ওর তো দু’মাস পরে পরীক্ষা। পরীক্ষার পর স্বামীর কাছে চলে যাবে।
রোকন উদ্দিন সাহেব রেগে গিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, সায়মার ব্যাপারে তোকে চিন্তা করতে হবে না। তুই এখন বিয়ে করবি না কেন?
আমি যাকে ভালবাসি, তাকে ছাড়া বিয়ে করব না।
রোকন উদ্দিন সাহেব উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, তুই কী সেই রাজাকারের ছেলের কথা বলছিস?
হ্যাঁ আব্বু, তাকে যদি তোমাদের পছন্দ না হয়, চিরকুমারী থাকব।
রোকন উদ্দিন সাহেব স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আরো উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, শুনেছ তোমার বড় মেয়ের কথা? ও সেই রাজাকারের ছেলেকে ছাড়া বিয়ে করবে না? তারপর তাসনিমকে বললেন, আমাদের কোনো পুত্র সন্তান নেই। তাই তোদের সব আবদার পূরণ করি। তাই বলে রাজাকারের ছেলের হাতে তোকে দেব, এটা ভাবলি কী করে? দুনিয়া এদিক ওদিক হয়ে গেলেও তা সম্ভব নয়। তারপর স্বর নামিয়ে বললেন, তুই একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে হয়ে বাবার মান সম্মানের দিকে একটু খেয়াল করবি না? ওকে ভুলে যা মা, ভুলে যা। ওর হাতে কিছুতেই তোকে তুলে দিতে পারব না।
আব্বুকে নরম হতে দেখে তাসনিমের সাহস বেড়ে গেল। বলল, কেন পারবে আব্বু? রাজাকার ছিলেন তোমার বন্ধু। দোষ করলে তোমার বন্ধু করেছেন। তার ছেলে তো করে নি। তা ছাড়া আমরা যাদেরকে রাজাকার বলে জানি, তিনি। তা ছিলেন না। আমার এক বান্ধবী আছে, তার বাবাকেও গ্রামের লোক রাজাকার বলত। তিনি গ্রামে টিকতে না পেরে সবকিছু বিক্রি করে ঢাকায় এসে বসবাস করছেন। তার মুখে শুনেছি, তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিলেও নিজের ও আশপাশের গ্রামের লোকজনদের পাক বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। তবু তাকে সবাই রাজাকার বলত। জেনেছি, তোমার বন্ধুও তাই করেছেন। এরকম ধরনের রাজাকার অনেক আছেন। যারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন যে দল সরকার হয়েছে, সেসব দলে ভীড়ে বড়বড় পদে কাজ করেছেন এবং এখনও করছেন। একটা জিনিস ভাবছ না কেন? প্রত্যেক সরকারের কমবেশি জনগোষ্ঠী সমর্থক থাকে। যারা সব সময় সরকারের পক্ষে কাজ করে। পাকিস্তান সরকারেরও ছিল। তারা পাকিস্তান সরকারকে সাহায্য করলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন দেশের সরকারের আনুগত্য মেনে। নিয়েছে। একথা জানতে পেরে অথবা বুঝতে পেরে তকালীন প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক ক্ষমা পেয়েছে, যারা নাকি স্বাধীনতাি যুদ্ধের বিরোধী ভূমিকা করেছে এবং যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করতে সহায়তা করেছে এবং এখনও তারা স্বাধীনতা বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরাই সত্যিকার রাজাকার, এরাই দেশের চিরশত্রু। এদেরকে ধরে ফাঁসিতে ঝোলান উচিত। আর তাদেরকেও ফাঁসিতে ঝোলান উচিত, যারা মুসলমান হয়েও বারকোটি মুসলমানের দেশ থেকে ইসলাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তোমার বন্ধু মুক্তিযুদ্ধ করেন নি, এটাই তার অপরাধ; কিন্তু তিনি তো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেন নি। বরং যতটা সম্ভব লোকজনদের জান, মাল ও ইজ্জত বাঁচাবার চেষ্টা করেছেন। সেজন্য তার হাজার হাজার টাকা খরচও হয়েছে। সে সব খবর কেন নাও নি? তিনি কী তোমার শত্রু ছিলেন? জেনেছি, স্কুল জীবন থেকে তোমাদের মধ্যে গভীর বন্ধুতু ছিল। তোমার উচ্চ ডিগ্রী নেওয়ার পেছনে তার ও তার বাবার অবদান কম ছিল না। সে সব কথা ভুলে গিয়ে ও তার। কর্মকাণ্ডের খোঁজ খবর না নিয়ে কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন নি বলে এত বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করেছ। বন্ধুত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি সবকিছু জানিয়ে ক্ষমা চাইতে তোমার কাছে রাতের অন্ধকারে কয়েকবার এসেছিলেন; কিন্তু তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে অপমান করে প্রতিবারেই তাড়িয়ে দিয়েছ। এটা উচিত না অনুচিত হয়েছে, ভেবে দেখেছ কোনো দিন?
তুমি জান কিনা জানি না, হাদিসে আছে, আমাদের নবী (দঃ) বলিয়াছেন, “তিন দিনের অতিরিক্ত কোনো মুসলমানের পক্ষে তাহার ভ্রাতাকে পরিত্যাগ সে কোন বনের হরিণ ৭ করিয়া থাকা হালাল নহে। যে তিন দিবসের অতিরিক্ত তাহাকে পরিত্যাগ করিয়া থাকে অতঃপর তাহার মৃত্যু হয়, সে দোযখে যাইবে।1”
আল্লাহ কুরআনে বলিয়াছেন, “মুমিনগণ তো সকলেই (পরস্পর) ভাই, সুতরাং তোমাদের ভ্রাতৃদ্বয়ের মধ্যে সন্ধি করাইয়া দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর, যেন তোমাদের প্রতি দয়া বর্ষিত হয়।2”
সে হিসাবে আব্দুস সাত্তারের বাবা তোমার ভাই। তার উপর তিনি তোমার বন্ধু ছিলেন। বন্ধু আত্মীয়ের সমান। আত্মীয়তা ছিন্ন করাও কবিরা গুনাহ। হাদিসে আছে, নবী (দঃ) বলিয়াছেন, “বিদ্রোহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ব্যতীত আর অন্য কোনো গুনাহ নাই, যাহার জন্য আখিরাতে শান্তি অবধারিত থাকা সত্ত্বেও এই পৃথিবীতে তাহার শাস্তি হয়।3”
আমি তোমাদের মেয়ে। কথা না শুনলে আমাকে তোমরা যা ইচ্ছা তাই শাস্তি দিতে পার। তবু বলব, আব্দুস সাত্তারকে ভাল না বাসলেও তোমার ও তার আব্বার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কথা জানার পর যেমন করে হোক সেই সম্পর্ক জোড়া দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতাম এবং এখনও তাই করব। আমার শেষ কথা তোমরা শুনে নাও, একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে আমাকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আরা একটা কথা না বলে পারছি না, ছোটবেলায় আমরা যে আলুকে দেখেছি, বড় হয়ে সেই আন্ধুকে আবছা আবছা দেখতাম। মন্ত্রী হওয়ার পর তাও দেখতে পাচ্ছি না। তোমার মুখের উপর অনেক কিছু বলে খুব বড় বেয়াদবি করে ফেললাম। সেজন্য মাফ চাইছি। তারপর সেখানে থেকে নিজের রুমে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।
রোকন উদ্দিন সাহেব মেয়ের কথা শুনে এত অভিভূত হলেন যে, কোনো কথা বলতে পারলেন না। তাসনিমের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
সায়মা আবু আম্মুর দিকে ভয়ে ভয়ে একবার তাকিয়ে রিডিংরুমে এসে পড়তে বসল। কিন্তু পড়ায় মনোযোগ দিতে পারল না। ভোলা বইয়ের পাতার দিকে তাকিয়ে আপুর কথাগুলো চিন্তা করতে লাগল। একসময় ভাবল, আপু এত সাহস পেল কোথায়? মনে হয় প্রেমে পড়লে সাহস বেড়ে যায়। কথাটা ভেবে নিজে নিজে হেসে উঠল।
তাসনিমের কথা শুনে রোকন উদ্দিন সাহেবের রাগ পড়ে গেল। সেই সাথে কুরআন-হাদিসের বাণী শুনেও নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। কোনো কথা বলতে না পেরে তার দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। দুই মেয়েকে চলে যেতে দেখেও কিছু বললেন না।
মুমীনা বেগম বড় মেয়ের কথা শুনে খুব খুশী হয়েছেন। স্বামীর মনের অবস্থা অনুমান করতে পেরে বললেন, আমার তো মনে হচ্ছে, তাসনিম খুব ভালো কথা বলেছে। বিয়ের ব্যাপারে এখন আর ওকে কিছু বলল না। তোমার বন্ধু যে। ছেলেটার কথা বলেছেন, কাল তারা এলে সায়মাকে দেখাও, তারা যদি ওকে পছন্দ করে, তা হলে তাসনিম যা বলল, সেই ব্যবস্থা করাই আমি ভালো মনে করি।
রোকন উদ্দিন সাহেব দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, তাসনিম যে এত কুরআন-হাদিসের জ্ঞান রাখে, তা জানতাম না। ওর কথা শুনে মনে হচ্ছে, আব্দুল হামিদের সঙ্গে যা কিছু করেছি তা সত্যিই আমি ভুল করেছি। তাসনিম মস্তবড় গুনাহর থেকে বাঁচার পথ দেখাল। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি আব্দুল হামিদের। কাছে ক্ষমা চাইব।
মুমীনা বেগম খুব আনন্দিত হয়ে বললেন ও অনেক আগে থেকে। কুরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা ও ধর্মীয় নানারকম বইপত্র পড়ে, জানবে না কেন? ওতো বেশ কিছুদিন আগে থেকে বোরখা পরে বাইরে যায়।
যারা ধর্মীয় বইপত্র পড়ে, তারা বোরখা পরতে বাধ্য হবে। এখন ওসব কথা থাক। ভাবছি, ওরা কাল এলে সায়মাকেই দেখাব।
আমিও তো তাই বললাম। তবে তার আগে সায়মার মতামত নিতে হবে।
কেন? ও আবার কাউকে ভালবাসে নাকী?
তা জানি না। আজ খাওয়ার পর তাসনিমকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে। সে রকম কিছু হলে তাসনিম জানবেই।
খাওয়ার টেবিলে তাসনিম নেই দেখে রোকন উদ্দিন সাহেব বুঝতে পারলেন, রাগ করেছে। সায়মাকে বললেন, তাসনিমকে ডেকে নিয়ে আয়। না আসতে চাইলে বলবি, না এলে আমিও খাব না।
তাসনিম এশার নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সায়মা এসে জাগিয়ে বলল, আপু, ভাত খাবি চল।
তাসনিম বলল, খেতে ইচ্ছা করছে না। তোরা সবাই খেয়ে নে।
খাওয়ার টেবিল থেকে আলু তোকে ডাকতে পাঠাল।
গিয়ে বল, আমি খাব না।
তুই না খেলে আব্বুও খাবে না বলল।
তাসনিম জানে, সে না খেলে আব্বুও খায় না। তাই বলল, যাচ্ছি, তুই যা। তারপর উঠে বাথরুমে থেকে এসে খাওয়ার টেবিলে এল।
রোকন উদ্দিন সাহেব বললেন, কীরে মা, ছেলেকে বকা দিয়ে নিজেই রাগ করলি?
তাসনিম কিছু না বলে খেতে শুরু করল।
অল্প খেয়ে উঠতে দেখে রোকন উদ্দিন সাহেব বললেন, কিছুই খেলি না যে? বুড়ো ছেলের উপর এখনও রেগে রয়েছিস তা হলে?
তাসনিমের কান্না পাচ্ছিল আব্বুর কথা শুনে। তাই কিছু না বলে বেসিনে হাত মুখ ধুয়ে চলে যাচ্ছিল। আব্বুর গলা শুনতে পেল, একটু পরে আমার কাছে আসবি।
তাসনিম রুমে এসে চিন্তা করল, আব্বুর সুর অন্য রকম মনে হল। তা হলে আল্লাহ কী তার দোয়া কবুল করেছেন? আবার ভাবল, এটা একটা চাল নয় তো? যদি তাই হয়, তা হলে কি বলবে চিন্তা করতে লাগল।
এমন সময় সায়মা এসে বলল, তুই যখন আব্বকে ঐসব কথা বলছিলি তখন যেমন খুব ভয় পেয়েছিলাম, তেমনি তোর সাহস দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। আমি হলে তো লজ্জায় ও ভয়ে কোনো কথাই বলতে পারতাম না। তবে কথাগুলো বলে খুব ভালো করেছিস। মনে হচ্ছে আব্বুর মন চেঞ্জ হয়েছে।
কী করে বুঝলি?
আলুর কথা শুনে তুই কিছু বুঝতে পারিস নি?
আমাকে বোঝবার জন্য একটা চাল হতে পারে?
আমার কিন্তু তা মনে হচ্ছে না। সত্যিই আব্বুর মন চেঞ্জ হয়েছে।
তোর এরকম হওয়ার কারণ?
তুই চলে আসার পর আব্ব ও আর খেল না। মুখ হাত দুয়ে চলে গেল। আম্মু আমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি কাউকে পছন্দ করি কিনা?
তাসনিম কপাল কুঁচকে বলল, তুই কী বললি?
আমি আবার কী বলব? বললাম নেই।
আম্মু আর কিছু জিজ্ঞেস করে নি?
জিজ্ঞেস করে নি, তবে বলল, “তোর আপু যখন এখন বিয়ে করবে না বলছে তখন কাল যারা আসবেন, তাদেরকে তোকে দেখাব।”
তাসনিম চমকে উঠে বলল, সত্যি বলছিস?
সত্যি না মিথ্যে আব্ব তো তোকে তার রুমে যেতে বলেছে, গেলেই জানতে পারবি।
তুই আম্মুকে কিছু বলিস নি?
আপাততঃ এই বিপদ থেকে তুই রক্ষা পাবি ভেবে বলেছি, “আমার কোনো আপত্তি নেই।”
তাসনিম তাকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলল, তুই আমাকে এত ভালবাসিস? দোয়া করছি, “আল্লাহ তোকে সুখী করুক।” তারপর। তাকে ছেড়ে দিয়ে চোখ মুছে বলল, যাই, আব্ব কেন ডেকেছে শুনে আসি।
তাসনিমকে দেখে রোকন উদ্দিন সাহেব বললেন, আমার কাছে এসে বস। বসার পর তার মাথায় একটা হাত রেখে বললেন, এত কুরআন হাদিস জানিস, আর এটা জানিস না, মা-বাবার মনে কষ্ট দেওয়া বড় গুনাহ?
তাসনিম বলল, তা জানব না কেন? জানি বলেই তো এত কিছু বলে বোঝালাম। নচেৎ তোমাদেরকে না জানিয়ে এতদিনে আমরা বিয়ে করে ফেলতাম।
রোকন উদ্দিন সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, তখন যে সব কথা বললি, তা শুনে আমার ভুল ভেঙ্গে গেছে। আমি আব্দুল হামিদের সঙ্গে খুব শিঘ্রী দেখা করে মাফ চাইব।
তাসনিম আলুর দুটো হাত ধরে আপ্লুতকণ্ঠে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলল, আল্লাহ চাহে তো এবার আমরা আমাদের আব্বকে ছোটবেলার মতো দেখতে পাব। এমন সময় মাকে আসতে দেখে বলল, আম্মু, আব্ব কি বলল। শুনেছ?
মুমীনা বেগম হাসিমুখে বললেন, হ্যাঁ শুনেছি। তোর আব্ব আমাকে আগেই বলেছে। আব্দুস সাত্তারকে কালকেই নিয়ে আসবি। সেদিন কিছু না খেয়ে চলে গেছে।
এত তাড়াতাড়ি ও এত সহজে আব্বুর মন পাল্টে যাবে তাসনিম কল্পনাও করে নি। মনে মনে আবার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে গিয়ে তার চোখে পানি এসে গেল। সেই অবস্থায় আব্বুর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল।
রোকন উদ্দিন সাহেবের হাত তখনও তাসনিমের মাথায় ছিল। নাড়া দিয়ে। বললেন, হ্যাঁরে মা, তোর আম্মু ঠিক কতা বলেছে।
তাসনিম চোখ মুছে বলল, ও তো এখন ঢাকায় নেই। পনের ষোল দিন হল দেশের বাড়িতে গেছে। ওর আম্মুর খুব কঠিন অসুখ।
রোকন উদ্দিন সাহেব আতঙ্কিত স্বরে বলরেন, তাই নাকী? তা হলে তো দু’একদিনের মধ্যে আমাকে যেতে হবে। ওঁর কাছেও আমি অনেক ঋণী, মাফ চাইতে হবে।
স্বামী থেমে যেতে মুমীনা বেগম বললেন, আমিও তোমার সঙ্গে যাব। উনি আমাকে মায়ের পেটের বোনের মতো মনে করতেন। তুমি দু’একদিনের মধ্যে যাওয়ার ব্যবস্থা কর।
রোকন উদ্দিন সাহেব মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন, এর মধ্যে তুই কোনো খবর পাস নি?
না।
ঢাকার বাসায় ফোন করে জানিস নি?
ফোন করেছি, কিন্তু বাসায় কেউ নেই। শুধু কাজের বুয়া জমিলা আছে। সে কিছু বলতে পারে না।
ঠিক আছে, তুই এখন যা। ভেবে দেখি, কবে যাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।
তাসনিম ফিরে এসে সায়মাকে বসে থাকতে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল, তোর কথাই ঠিক। আব্ব পাল্টে গেছে। তারপর সব কথা বলল।
সায়মা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলল, আমার আপু আল্লাহর খাটি বান্দি। তাই, তিনি তার দোয়া কবুল করেছেন। কাল আমাকে দেখতে আসবে, তারা যদি পছন্দ করে ফেলে, তা হলে তো দু’চার দিনের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাবে। ছেলেটা কেমন হবে ভেবে খুব ভয় পাচ্ছি। তুই একটু দোয়া করে দে, যেন ছেলেটা ভালো হয়। তোর দোয়া নিশ্চয় আল্লাহ কবুল করবেন।
তাসনিম তাকে ছেড়ে দিয়ে বলল, তোর সবটাতে দুষ্টমী। ঠিক আছে, দোয়া করছি, শুধু ছেলেটা নয়, তার মা-বাবাও যেন ভালো হয়। তারপর হেসে ফেলে বলল, হলো তো?
এমন সময় ফোন বেজে উঠতে দু’জনেই ঘড়ি দেখল, এগারটা।
সায়মা বলল, নিশ্চয় আব্দুস সাত্তার ভাই? কোনো কারণে সময়ের আগেই ফোন করেছেন।
তাসনিম হেসে উঠে বলল, সাহেব না বলে ভাই বললি যে?
সায়মাও হেসে উঠে বলল, বলব না? কয়েকদিন পরে শুধু ভাই নয় দুলাভাই বলতে হবে তো? তাই এখন থেকে অভ্যাস করছি।
তাসনিম হাসি থামিয়ে ফোন ধরে সালাম দিয়ে বলল, তাসনিম বলছি?
আব্দুস সাত্তার সালামের উত্তর দিয়ে বলল, কেমন আছ?
আনন্দে তাসনিমের বুকের রক্ত ছলকে উঠল। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে সামলাবার চেষ্টা করল।
কী হল? কথা বলছ না কেন? এতদিন যোগাযোগ করি নি বলে খুব রাগ হয়েছে? না অভিমান হয়েছে? যাই হোক না কেন ক্ষমা চাইছি।
তাসনিম বলল, তোমার জান এত শক্ত কেন? আমার উপর ঝড় বইতে শুরু করেছে জেনেও এতদিন একটুও খোঁজ খবর নিলে না।
সে কথা পরে বলব, আগে বল, ঝড়ের বেগ কমেছে, না বেড়েছে?
তার আগে বল খালাআম্মা কেমন আছেন?
আম্মু একটু ভালো; কিন্তু দাদিআম্মা ভালো না। তিনি তার একমাত্র নাতির বৌ দেখে মরতে চান। তাই তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি। ঝড়ের খবর বল।
আজ মাগরিবের নামাযের পর দু’শ মাইল বেগে বয়ে গেছে।
আব্দুস সাত্তার হেসে উঠে বলল, বাজে কথা।
কী? আমি বাজে কথা বলছি?
আহা, চটছ কেন? বাজে কথা মানে ঝড়ের বেগ যা বললে তা ঠিক নয়। বিশ পঁচিশ মাইল হতে পারে, সেই কথা বোঝাতে চেয়েছি।
কী করে বুঝলে?
তোমার গলার স্বরই বলে দিচ্ছে।
তাই যদি হয়, কাল সকালে আসতে পারবে?
কেন পারব না? তা ছাড়া তোমাকে যখন নিয়ে যেতে এসেছি তখন পাঁচশ মাইল বেগে ঝড় বইলেও কাল তোমাদের বাসায় যেতে হবেই। কাল তোমাকে নিয়ে কাজী অফিসে কাবিন করব। পরশু দেশের বাড়ি রওয়ানা দেব। কাল আরো কিছু কাজ সারতে হবে।
তার কথা শুনে আনন্দে তাসনিমের বুকের রক্ত আবার ছলকে উঠল। সামলাবার জন্য বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
আব্দুস সাত্তার অধৈর্য গলায় বলল, চুপ করে আছ কেন? আমার সঙ্গে যাবে না?
তোমার কী মনে হয়?
একশ পার্সেন্ট সিওর, তুমি যাবে।
তা হলে জিজ্ঞেস করছ কেন?
বিয়ের ব্যাপারে ছেলেকে প্রথমে মেয়ের কাছে প্রস্তাব দিতে হয় বলে।
তার আগে তো মেয়ের গার্জেনদের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হয়?
কাল সকালে গিয়ে তোমার গার্জেনদের কাছে প্রস্তাব দেব। তোমার মতামত নিয়ে দিলে তো ওরা অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দেবেন?
গার্জেনরা যদি প্রস্তাব নাচক করে দেন?
তুমি আমার ফরে থাকলে নাচক করে দিলেও রাজি করার জন্য কূটনৈতিক চাল চালব। আশা করি, ইনশাআল্লাহ আমি কামিয়াব হব।
নিজের প্রতি এতই তোমার বিশ্বাস?
নিজের প্রতি যা আছে, আল্লাহর উপর তার চেয়ে লক্ষগুণ বেশি আছে।
ঝড়ের রেজাল্ট শুনবে না?
না বললে শুনব কী করে?
ঝড় বিশ পঁচিশ মাইল বেগে বইতে শুরু করলে, তোমার শেখান কথাগুলো বলতে ঝড় থেমে গিয়ে বৃষ্টি হয়েছে।
বুঝলাম না।
তা হলে তুমিও মাঝে মাঝে কম বোঝ?
তোমার ধারণা ভুল।
কেন? এক্ষুনি তো আমার কথা বুঝতে পার নি বললে?
আমার অনুমান সত্য কিনা জানার জন্য বলেছি।
তা হলে বল, কী বুঝেছ?
আমার শেখান কথাগুলো শুনে তোমার আব্ব মত পাল্টেছেন।
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাসনিম অনেকক্ষণ কথা বলতে পারল না।
কী হল? আমার অনুমান সত্য কিনা বললে না যে?
সত্য। কিন্তু খবু অবাক হচ্ছি, তুমি বুঝলে কী করে?
এতে অবাক হওয়ার কী আছে? ঝড় অর্থ দুর্যোগ, আর বৃষ্টি অর্থ শান্তি। আর বলা লাগবে?
না।
তা হলে এবার ঝড় বৃষ্টির ঘটনাটা বল।
তাসনিম আমেরিকার ছেলেটার কথা থেকে শুরু করে আব্বুর মত পাল্টান ও তারপর যা কিছু বলেছে বলে বলল, খালাআম্মার অসুখের খবর শুনে আব্বু তোমার আব্ব আম্মুর কাছে মাফ চাইতে দু’একদিনের মধ্যে দেশের বাড়িতে যাবে বলল। আর আম্মু কালকেই তোমাকে বাসায় নিয়ে আসতে বলল।
আব্দুস সাত্তার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলল, এতক্ষণ কথাটা না বলে যে অন্যায় করেছ, তার শাস্তির জন্য প্রস্তুত থেক।
শাস্তি দেওয়ার সময়টা না বললে প্রস্তুত থাকব কী করে? বাসর রাতে।
দুষ্ট।
কী? আমি দুষ্টু? নিজে অন্যায় করে আমাকে দুষ্ট বলা হচ্ছে?
শুধু দুষ্টু নয়, অসভ্যও।
অন্যায়টা বেশি হয়ে যাচ্ছে। মনে রেখ, শাস্তির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু।
শাস্তির ভয় অত দেখিও না। যে নাকি একটা মেয়েকে ভালবেসে দু’বছর মুখোমুখি হতে ভয় পায়, সে কত বড় বীরপুরুষ জানা হয়ে গেছে।
বীরপুরুষ কিনা বাসর রাতে টের পাবে।
আমিও টের পাওয়াব।
তুমি আবার কী টের পাওয়াবে?
বাসর রাতে দাদি আম্মার সেবা শুশ্রুষা করে কাটাব।
তা হলে আমাকে ভীতু বললে কেন? তুমিই তো আমার থেকে আরো বেশি ভীতু?
ঠিক আছে, কে ভীতু আরা কে বীরপুরুষ, বাসর রাতেই বোঝা যাবে।
এমন সময় সায়মা খপ করে তাসনিমের হাত থেকে রিসিভার কেড়ে নিয়ে বলল, এই যে মিস্টার হবু দুলাভাই, এই রুমে যে আপনার একজন ম্যাচিওর অবিবাহিতা হবু শালীও থাকে, তা জেনেও বাসর রাতের গোপন কথাবার্তা বলতে বিবেকে বাধছে না? না বাসর রাতের স্বপ্নে মশগুল হয়ে বাস্তব জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন?
স্বপ্নগুলো বাসর রাতের জন্য রিজার্ভ রেখে যা বলছি শুনুন, কাল সকাল আটটায় আসবেন। সবার সঙ্গে নাস্তা খাবেন। আলু আম্মু আসতে বলেছেন। এখন। সুবোধ ছেলের মতো ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়ুন। তারপর আব্দুস সাত্তারকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রিসিভার ক্যাডেলে রেখে তাসনিমকে জড়িয়ে ধরে বলল, “থ্রি চিয়ার্স ফর তাসনিম আপু, হীপ হপ হুর-রে।”
