» » দ্বিতীয় অধ্যায় : মুর্শিদাবাদ নগরীর পত্তন

দ্বিতীয় অধ্যায় : মুর্শিদাবাদ নগরীর পত্তন

অষ্টাদশ শতকের একেবারে গোড়ার দিকের কথা।

দিল্লির তখ্‌তে তখন মুঘল সম্রাট ঔরংজেব। কিন্তু ১৬৮০ থেকেই তিনি দাক্ষিণাত্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত। কুড়ি বছর ধরে তিনি মূলত দাক্ষিণাত্যেই অবস্থান করছিলেন। রাজধানী দিল্লি থেকে তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে বিস্তৃত সাম্রাজ্যের বহু অংশেই অরাজকতা দেখা দিয়েছে, শান্তিশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এককালের পরাক্রান্ত সাম্রাজ্যের পতন প্রায় আসন্ন। কেন্দ্রের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যের বেশির ভাগ অঞ্চল থেকেই মুঘল সম্রাটের কাছে রাজস্ব পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে। সম্রাট ঔরংজেবের চরম দুরবস্থা। একদিকে বয়সের ভার, অন্যদিকে নিদারুণ অর্থকষ্ট ও যুদ্ধের ধকল— সব মিলে বৃদ্ধ সম্রাট শুধু ক্লান্ত নন, প্রায় বিধ্বস্তও।

অবশ্য তাঁর এই দুর্দশার জন্য ঔরংজেব প্রধানত নিজেই দায়ী। বছরের পর বছর দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধ করতে গিয়ে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সৈন্যবলের অপচয়, তার কোনও রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা ছিল না। অনেকটা জেদের বশেই তিনি এই অর্থহীন ও অন্তহীন সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন। গোঁড়া সুন্নি মুসলমান হয়ে তিনি দাক্ষিণাত্যের দুই স্বাধীন শিয়া রাজ্যের— বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা— অস্তিত্ব সহ্য করতে পারছিলেন না। এই দুই রাজ্যকে শায়েস্তা করতে তিনি কুড়ি বছর ধরে দাক্ষিণাত্যে পড়ে রইলেন। আর ওদিকে রাজধানী দিল্লির তথা সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছিল। ঔরংজেবের দাক্ষিণাত্য যুদ্ধ যে তাঁর অপরিণামদর্শিতার পরিচায়ক, এ-বিষয়ে প্রায় সব বিশিষ্ট ঐতিহাসিকই সহমত।[১]

মুঘল সাম্রাজ্যের ও সম্রাটের যখন এই দুরবস্থা তখন একমাত্র ভরসা ছিল সুবে বাংলা। সাম্রাজ্যের চারদিকে যখন অরাজকতা, অবক্ষয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, সম্রাটকে রাজস্ব পাঠাতে চরম অনীহা এবং কার্যত বন্ধ, তখন বাংলাই একমাত্র উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। বস্তুতপক্ষে, সপ্তদশ শতক ও অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে সুবে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ সুবা (প্রদেশ) হিসেবে গণ্য হত। বাংলার উর্বর জমি, বিভিন্ন রকমের ও অপর্যাপ্ত কৃষিজ পণ্য এবং সস্তা অথচ উৎকৃষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা—সব মিলে সুবে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি অত্যন্ত মূল্যবান স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবার সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই বাংলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। আর বাংলা যেহেতু সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, বাংলায় একমাত্র সোনা-রুপো ছাড়া অন্য কিছুর বিশেষ চাহিদা ছিল না। ফলে বাংলা থেকে যারা পণ্য রফতানি করত, তাদের সবাইকে— সে ইউরোপীয় বা এশীয় বণিক যেই হোক না কেন— এ সব পণ্য কেনার জন্য বাংলায় সোনা-রুপো বা নগদ টাকা পয়সা নিয়ে আসতে হত।[২]

বস্তুতপক্ষে, সপ্তদশ শতকে বাংলার প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্য কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিল। সমসাময়িক বিদেশি পর্যটক ও ফারসি ঐতিহাসিকরা এ নিয়ে অনেক মন্তব্য করেছেন। রিয়াজ-উস-সলাতিনের লেখক গোলাম হোসেন সলিম বাংলাকে জিন্নৎ-অল-বিলাদ বা ‘প্রদেশসমূহের মধ্যে স্বর্গ’ বলে অভিহিত করেছেন।[৩] মুঘল সম্রাট ঔরংজেব নাকি বাংলাকে বলতেন ‘জাতীয় স্বর্গ।’[৪] সব মুঘল ফরমান, পরওয়ানা বা সরকারি নথিপত্রে বাংলাকে ‘ভারতবর্ষের স্বর্গ’ বলে উল্লেখ করা হত। কাশিমবাজারের ফরাসি কুঠির প্রধান জাঁ ল’ (Jean Law) লিখেছেন ওটাই বাংলার যথার্থ অভিজ্ঞান।[৫] বাংলার সমৃদ্ধিতে আকৃষ্ট হয়ে এবং এখান থেকে ধনরত্ন আহরণ করার জন্য ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভিন্ন দেশ থেকে বহু লোকের সমাগম হত বাংলায়। ধনরত্নের লোভ ছেড়ে তারা সহজে বাংলা থেকে বিদায় নিতে পারত না। ১৬৬০-এর দশকে ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ে (Bernier) মন্তব্য করেছেন:[৬]

… the rich exuberance of the country… has given rise to a proverb… that the kingdom of Bengal has a hundred gates open for entrance, but not a single one for departure.

স্বাভাবিকভাবে, এই বাংলাই ছিল বাদশাহ ঔরংজেবের একমাত্র আশাভরসা— যেখান থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় হবে এবং তা দিয়ে দাক্ষিণাত্যে তাঁর যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দেবে। কিন্তু তাঁর সে প্রত্যাশা পুরোপুরি সফল হল না। শাহজাদা মহম্মদ আজিমুদ্দিন তখন বাংলার সুবাদার। তিনি বাংলায় আসেন ১৬৯০ সালে। তিনি ঔরংজেবের তখন জীবিত জ্যেষ্ঠপুত্র প্রথম বাহাদুর শাহের পুত্র— অর্থাৎ ঔরংজেবের পৌত্র। ইতিহাসে তিনি আজিম-উস-শান নামেই সমধিক পরিচিত। আজিম-উস-শান রাজস্ব আদায়ে তেমন তৎপর ছিলেন না। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল— বাংলা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ধন আহরণ করা— যা দিয়ে তিনি ঔরংজেবের আসন্ন মৃত্যুর পর দিল্লির মসনদ দখল করার লড়াইয়ে যোগ দিতে পারবেন।[৭] ফলে বাংলা থেকে রাজস্ব আদায় ও সম্রাটকে দাক্ষিণাত্যে অর্থজোগান দেবার ব্যাপারে আজিম-উস-শানের তেমন উৎসাহ ছিল না। তাই সম্রাট খোঁজ করছিলেন এমন একজন দক্ষ ও বিশ্বাসী ব্যক্তির যিনি বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারবেন এবং তাঁকে দাক্ষিণাত্যে নিয়মিত অর্থ পাঠাবেন। ভাগ্যক্রমে তিনি এমন একজনের সন্ধানও পেয়ে গেলেন, যাঁর তখন নাম ছিল মহম্মদ হাদি।

কে এই মহম্মদ হাদি?

ঔরংজেব যখন মহম্মদ হাদিকে বাংলার দেওয়ান পদে নিযুক্ত করেন, তখন তিনি হায়দরাবাদের দেওয়ান ও ইয়েলকোণ্ডালের ফৌজদার। এ কাজে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন ও সম্রাটের নজরে পড়েন। ঔরংজেব মহম্মদ হাদিকে বাংলার দেওয়ান পদে নিযুক্ত করে তাঁকে করতলব খাঁ উপাধি দিয়ে ১৭০০ সালের নভেম্বরে বাংলায় পাঠান। করতলব বাংলায় আসেন ওই বছরের ডিসেম্বরে। বাংলার দেওয়ান পদের সঙ্গে তিনি মখসুদাবাদের ফৌজদার পদেও নিযুক্ত হন।[৮]

এই করতলব খাঁ ওরফে মহম্মদ হাদি জন্মসূত্রে কী ছিলেন তা সঠিকভাবে জানা যায় না। স্যার যদুনাথ সরকার মনে করেন, তিনি জন্মলগ্নে ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং খুব সম্ভবত দক্ষিণ ভারতীয় ব্রাহ্মণ।[৯] তবে তিনি যে ব্রাহ্মণ ছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। ফারসি ইতিহাস মাসির-উল-উমারাতে তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন বলে উল্লেখ আছে।[১০] খুব অল্প বয়সেই তাঁকে কিনে নেন হাজি শফি ইস্পাহানি নামে এক পারসিক অভিজাত ব্যক্তি। হাজি সাহেব তাঁকে নিজের পুত্রের মতো বড় করে তোলেন এবং তাঁকে মহম্মদ হাদি নাম দেন। হাজি শফি বিভিন্ন সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত ছিলেন, যেমন দেওয়ান-ই-তান (তান মানে তলব বা মাইনে), বাংলার দেওয়ান ও দাক্ষিণাত্যের দেওয়ান ইত্যাদি।[১১]

হাজি শফি সম্ভবত ১৬৯০ সালে মুঘল রাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে পারস্য দেশে ফিরে যান। মহম্মদ হাদিও তাঁর মনিবের সঙ্গে ওদেশে চলে যান। কিন্তু হাজির মৃত্যুর পর তিনি আবার ভারতবর্ষে ফিরে আসেন এবং বেরার প্রদেশের দেওয়ান আবদুল্লা খুরাসানির অধীনে কার্যভার গ্রহণ করেন।[১২] যেহেতু হাজি শফি এবং আবদুল্লা খুরাসানি দু’জনেই দেওয়ান ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করে মহম্মদ হাদি কিছুদিনের মধ্যেই রাজস্ব ব্যাপারে অত্যন্ত অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন এবং হায়দরাবাদের দেওয়ান হিসেবে যথেষ্ট কৃতকার্য হন। তাই অতি সহজেই তিনি মুঘল সম্রাট ঔরংজেবের নজরে পড়েন এবং সম্রাট তাঁকে বাংলার দেওয়ান পদে নিযুক্ত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করলেন না।

বাংলার দেওয়ানপদে করতলব খাঁর নিযুক্তি তৎকালীন সুবাদার শাহজাদা আজিম-উসশানের মোটেই মনঃপূত হয়নি। এতদিন তিনি নিজেই বাংলার একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন— দেওয়ানির দেখাশোনাও তিনিই করতেন। এখন হঠাৎ করতলব খাঁ উড়ে এসে জুড়ে বসায় তিনি খুবই অসন্তুষ্ট কিন্তু যেহেতু করতলবকে স্বয়ং সম্রাট ঔরংজেব নিযুক্ত করে পাঠিয়েছেন, শাহজাদা আজিম মুঘল বাদশাহের পৌত্র হওয়া সত্ত্বেও করার কিছু ছিল না। এখানে মনে রাখা দরকার মুঘল শাসনব্যবস্থায় সুবাদার ও দেওয়ান দু’জনেই সম্রাটের দ্বারা নিযুক্ত হতেন এবং স্বাধীনভাবে নিজের নিজের শাসন পরিচালনা করতেন। সুবাদার ছিলেন সাধারণ শাসনব্যবস্থা ও সৈন্যবাহিনীর প্রধান, দেওয়ান ছিলেন রাজস্ববিভাগের দায়িত্বে। তাঁর প্রধান কর্তব্য ছিল রাজস্ব সংগ্রহ। তিনি কিন্তু সুবাদারের অধীন ছিলেন না, সোজা মুঘল সম্রাটের কাছেই ছিল তাঁর দায়বদ্ধতা। এহেন অবস্থায় দেওয়ান করতলব খাঁর আগমনে শাহজাদা আজিম খুবই মুশকিলে পড়ে যান কারণ রাজস্ব বিভাগের ওপর তার আর কোনও কর্তৃত্বই থাকল না। ফলে দিল্লির বাদশাহি মসনদের জন্য আসন্ন গৃহযুদ্ধে যোগ দেবার জন্য বাংলা থেকে প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার সংগ্রহ করার পথে করতলব খাঁ প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠবে— এটা শাহজাদা সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন। তাই প্রথম থেকেই তিনি করতলব খাঁর প্রতি বিরূপ ছিলেন।

করতলব বাংলায় এসেই সোজা রাজধানী জাহাঙ্গিরনগরে (ঢাকা) চলে গেলেন এবং সুবাদার আজিম-উস-শানের সঙ্গে দেখা করলেন। তারপরই তিনি দেওয়ানি কাজে মনোনিবেশ করলেন। প্রথমেই তিনি রাজস্ব বিভাগের সব কর্মচারীকে তাঁর অধীনে এবং সুবাদার শাহজাদা আজিমের আওতার বাইরে নিয়ে এলেন। তারপর তিনি রাজস্ব বিভাগে বিভিন্ন সংস্কার সাধন করেন, যাতে রাজস্ব বৃদ্ধি পায় এবং রাজস্বের অপচয় বন্ধ হয়। এ কাজে তিনি খুবই সাফল্য লাভ করেন যার ফলে প্রথম বছরেই তিনি মুঘল সম্রাট ঔরংজেবকে দাক্ষিণাত্যে এক কোটি টাকা পাঠাতে সমর্থ হন।[১৩]

এতে আজিম-উস-শান আরও ক্ষেপে গেলেন এবং করতলব খাঁকে একেবারে সরিয়ে দেবার জন্য মতলব ভাঁজতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নগদি সৈন্যদের (ভাড়াটে সৈন্য যারা নগদ টাকার বিনিময়ে সৈন্যবাহিনীতে কাজ করে) সর্দার আবদুল ওয়াহিদকে বশ করে করতলব খাঁকে হত্যা করার চক্রান্ত করেন। নগদি সৈন্যরা বেশ কিছুদিন তাদের বেতন পায়নি বলে ক্ষুব্ধ ছিল। রাজস্ব বিভাগ থেকেই এই বেতন দেওয়া হত। তাই এজন্য করতলব খাঁকেই দায়ী করা হল এবং চক্রান্তে ঠিক করা হল যে মাইনে আদায় করার ভান করে নগদি সৈন্যরা করতলব খাঁকে রাস্তায় ধরবে এবং হইচই লাগিয়ে দেবে। ওই গণ্ডগোলের মধ্যে সুযোগ বুঝে করতলবকে হত্যা করা হবে।[১৪]

করতলব খাঁ রোজই সকালে সুবাদারের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, কিন্তু তিনি খুব সতর্ক থাকতেন, কখনও একা যেতেন না— সব সময় সশস্ত্র হয়ে কিছু বিশ্বাসী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতেন। একদিন সকালবেলা তিনি যথারীতি সুবাদারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় হঠাৎ আবদুল ওয়াহিদের নেতৃত্বে নগদি সৈন্যরা করতলবকে ঘিরে ফেলে তাদের বেতন দাবি করতে লাগল এবং প্রচণ্ড গণ্ডগোল শুরু করে দিল। করতলব কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না, তিনি নগদি সৈন্যদের নিয়ে সোজা সুবাদারের কাছে চলে গেলেন। তিনি জানতেন এ চক্রান্ত সুবাদারেরই। তাই তিনি সোজা গিয়ে সুবাদারকে বললেন: ‘আপনিই আমাকে হত্যা করার জন্য এ চক্রান্ত করেছেন। মনে রাখবেন সম্রাট আলমগির খুব দূরে নন [তিনি সবই জানতে পারবেন]। এ রকম জঘন্য কাজ থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে সম্রাটের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পায়। সাবধান! আমার প্রাণহানি করলে আপনিও প্রাণে বাঁচবেন না।’[১৫]

শাহজাদা আজিম-উস-শান করতলবের সাহস দেখে ও ঔরংজেবের শাস্তির ভয়ে খুব ঘাবড়ে গেলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে একদিকে আবদুল ওয়াহিদ ও তাঁর সৈন্যদের ডেকে প্রচণ্ড ধমক দিলেন এবং তাদের কৃতকার্যের জন্য শাস্তি প্রদানের ভয় দেখালেন। অন্যদিকে ভালমানুষের মতো এ ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে তিনি কিছুই জানতেন না বলে করতলবের কাছে সাফাই গাইলেন এবং ভবিষ্যতে করতলবের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি দিলেন। করতলব ফিরে এসে সব নথিপত্র তলব করলেন এবং নগদি সৈন্যদের সব প্রাপ্য মিটিয়ে দিয়ে তাদের বরখাস্ত করে দিলেন। অন্যদিকে ওয়াকিয়ানবিশকে দিয়ে সব ঘটনার বিবরণ বাদশাহের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, নিজেও সমস্ত ঘটনার কথা লিখে সম্রাটকে জানান। সব খবর পেয়ে ঔরংজেব সঙ্গে সঙ্গে শাহজাদা আজিমকে কড়া ভাষায় লিখে পাঠান: ‘করতলব খাঁ সম্রাটের একজন পদস্থ কর্মচারী। ওর শরীরের বা সম্পত্তির যদি বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়, তা হলে মনে রাখবে আমি তার শোধ তোমার ওপরই তুলব।’[১৬]

আসলে করতলব খাঁর ওপর ঔরংজেবের ছিল অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। যেহেতু একমাত্র করতলবই তাঁকে নিয়মিত অর্থ জোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই তিনি তাঁর ওপর যথেষ্ট নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। এসব কারণে সুবাদার আজিম-উস-শান তাঁর পৌত্র হলেও, তিনি করতলবের ওপর আজিমের কোনও আঘাত বা বিদ্বেষ সহ্য করতে রাজি ছিলেন না। এ সত্যটা করতলব খাঁও উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাই সুবাদার আজিমকে উপেক্ষা করতে কোনওরকমের দ্বিধা বোধ করেননি। বাংলায় আসার অল্প কিছুদিন পরেই, বিশেষ করে তাঁর প্রতি আজিম-উস-শানের বিরূপতা দেখে, করতলব ঔরংজেবকে জানান, যে তিনি বাংলায় আসাতে কিছু লোক খুবই অসন্তুষ্ট এবং তারা নানাভাবে সম্রাটকে তাঁর প্রতি বিরূপ করে তোলার চেষ্টা করছে। সেজন্য তিনি ঔরংজেবকে অনুরোধ জানান তিনি যেন তাঁর জায়গায় অন্য লোক নিয়োগ করেন। বোঝাই যাচ্ছে, এ বিষয়ে সম্রাট কিছু না করলে তিনি পদত্যাগ করতে চান। ঔরংজেব সঙ্গে সঙ্গে লিখে পাঠালেন:[১৭]

আপনার বক্তব্য আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। দেওয়ান ও ফৌজদার হিসেবে আপনার পুরোপুরি ক্ষমতা— তাতে কারও হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আপনার বিরুদ্ধে কারও কোনও অভিযোগই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আপনার ওপর আমার যে আস্থা এবং বিশ্বাস সে বিষয়ে আপনি সন্দেহ করছেন কেন? কোনও শয়তানের অভিসন্ধিই সফল হবে না। আল্লা আমাদের এইসব শয়তানের হাত থেকে নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন।… আপনার প্রতি আমার আস্থার কথা মনে রাখবেন, আমার নির্দেশগুলি খেয়াল রাখবেন, মনে কোনও শঙ্কা রাখবেন না। আরও বেশি মন দিয়ে রাজস্ব আদায় করে যান।

ঔরংজেব সত্যিই করতলব খাঁর ওপর খুবই সন্তুষ্ট ছিলেন, বিশেষ করে তাঁর যোগ্যতা ও সততা দেখে ১৭০৪ সালে তিনি তাঁকে লেখেন: ‘একই ব্যক্তি হয়ে আপনি বাংলা ও বিহারের দেওয়ান, ওড়িষ্যার নাজিম ও দেওয়ান। আপনার পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও-সব অঞ্চলে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে এত কাজ করতে পারতাম না। একমাত্র আল্লার প্রসাদধন্য কোনও ব্যক্তিই এত যোগ্যতার অধিকারী হতে পারে।’[১৮]

সে যাই হোক, করতলব খাঁ কিন্তু আজিম-উস-শান সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হতে পারছিলেন না। তাঁর ভয় হল শাহজাদা সুযোগ পেলেই আবার তাঁর প্রাণহানির চেষ্টা করতে পারেন। তাই তিনি সুবাদার থেকে দূরে কোথাও তাঁর দেওয়ানি কার্যালয় সরিয়ে নিতে মনস্থ করলেন। এজন্য তিনি গঙ্গা (ভাগীরথী) তীরবর্তী মখসুদাবাদকে বেছে নিলেন। অনেক ভেবেচিন্তেই তিনি মখসুদাবাদকে দেওয়ানির পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান বলে সিদ্ধান্ত করেন।[১৯] ওটা বাংলার প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বলে ওখান থেকে বাংলার প্রায় সব অংশের ওপর সুষ্ঠুভাবে নজর রাখা যাবে। সেদিক থেকে ঢাকার চেয়ে মখসুদাবাদের অবস্থান অনেক বেশি উপযোগী। তা ছাড়া, করতলব যেহেতু মখসুদাবাদের ফৌজদারও ছিলেন, সেজন্য তিনি ঢাকার চেয়েও ওখানে অনেক বেশি নিরাপদ ছিলেন। ওখানে তিনিই কর্ণধার, মুঘল অমাত্যদের মধ্যে ঢাকাতে তার স্থান ছিল দ্বিতীয়, সুবাদারের ঠিক পরে। মখসুদাবাদে তিনিই প্রধান। এখানে দেওয়ানি কার্যালয় সরিয়ে নেবার স্বপক্ষে তিনি হয়তো এটাও ভেবেছিলেন যে ওখান থেকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলির ওপর নজরদারি করাও অনেকটা সুবিধেজনক হবে। এ সময় কোম্পানিগুলি গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছিল।[২০]

স্থানটি নির্বাচন করে সুবাদার শাহজাদা আজিম-উস-শানের অনুমতি না নিয়েই, দেওয়ানি কার্যালয়ের সব আমলা-কর্মচারীদের নিয়ে করতলব খাঁ মখসুদাবাদে চলে এলেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে তিনি ঢাকা থেকে বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ব্যাঙ্কারদের তাঁর সঙ্গে করে মখসুদাবাদ নিয়ে এলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন বাংলায় জগৎশেঠ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মানিকচাঁদও।[২১] ওখানে কাছারি ও অন্যান্য যাবতীয় বিভাগের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করে তিনি ওখান থেকেই দেওয়ানির কাজকর্ম পরিচালনা করতে শুরু করে দিলেন। এখানে লক্ষ করার বিষয়, তিনি সুবাদারকে না বলে, এমনকী তাঁর অনুমতি না নিয়েই, মখসুদাবাদে দেওয়ানি স্থানান্তরিত করতে পেরেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন তাঁর ওপর সম্রাট ঔরংজেবের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। শাহজাদা তাঁর বিরুদ্ধে সম্রাটের কাছে নালিশ করলেও কোনও ফল হবে না।

করতলব খাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করার কিছুদিন পরেই ঔরংজেব আজিম-উস-শানকে বাংলা ছেড়ে বিহারে চলে যাবার নির্দেশ দেন। পুত্র ফারুখশিয়রকে ঢাকায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রেখে শাহজাদা আজিম সপরিবারে পাটনায় আশ্রয় নেন এবং সেখানে থাকাই স্থির করেন। সম্রাটের অনুমতি নিয়ে তিনি নিজের নামানুসারে পাটনার নতুন নামকরণ করেন আজিমাবাদ। অনুমান, তিনি ঢাকা ছেড়ে পাটনা যান ১৭০৩ সালে।[২২] এর ফলে ঢাকায় সুবাদারের উপস্থিতি আর থাকল না, মখসুদাবাদই সুবার সব কাজকর্মের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠল। এ ভাবে মখসুদাবাদে প্রথমে দেওয়ানি কার্যালয় স্থাপিত হল এবং পরে এটাই সুবার প্রাদেশিক সরকারের কেন্দ্র হয়ে উঠল।

এখানে স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহল জাগতে পারে, করতলব খাঁ মখসুদাবাদে দেওয়ানি স্থানান্তরিত করার আগে জায়গাটা কেমন ছিল? গোলাম হোসেন সলিমের রিয়াজ-উস-সলাতিন থেকে জানা যায়, মখসুস খান নামে এক ব্যবসায়ী প্রথম জায়গাটির উন্নতিসাধন করেন। আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরিতে একজন মখসুস খানের নাম পাওয়া যায়, যিনি একজন মুঘল অমাত্য হিসেবে ষোড়শ শতকের শেষদিকে বাংলা ও বিহারে রাজকর্মে নিযুক্ত ছিলেন। মুখসুস খান ওখানে একটি সরাই নির্মাণ করেন এবং স্থানটি তাঁর নামানুসারে মখসুদাবাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।[২৩] ডাচ পর্যটক ভ্যালেন্টাইনের (Valentijn, ১৬৫৮-৬৪) ম্যাপে মখসুদাবাদকে গঙ্গার দুই শাখার মধ্যবর্তী একটি দ্বীপ হিসেবে দেখানো হয়েছে।[২৪] ঐতিহাসিক নিখিলনাথ রায় লিখেছেন যে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রবাদ আছে যে সুলতান হোসেন শাহের সময় মুখসূদন দাস নামে এক নানকপন্থী সন্ন্যাসী তাঁকে অসুখ থেকে সুস্থ করে তোলায় তিনি তাঁকে ওই স্থান দান করেন এবং ওই সন্ন্যাসীর নামানুসারে ওই স্থানটির নাম হয় মুখসুদাবাদ বা মখসুদাবাদ।[২৫] মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে কাশিমবাজারের মতো মখসুদাবাদও কাঁচা রেশম ও রেশমিবস্ত্রের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে এবং সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সেটা আরও বাড়তে থাকে। ফলে এখানে শাসনবিভাগের একটি কেন্দ্র স্থাপিত হয়, যেটার উল্লেখ পাওয়া যায় ইংরেজ কোম্পানির এজেন্ট স্ট্রেনশ্যাম মাস্টার (Streynsham Master) ও উইলিয়াম হেজেসের (William Hedges) লেখায়।[২৬]

মখসুদাবাদে দেওয়ানি স্থানান্তরিত করে করতলব খাঁ রাজস্ববিভাগের সংস্কার ও রাজস্ববৃদ্ধিতে মনোযোগ দেন। সব ঠিকঠাক করে বাংলার রাজস্ব নিয়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে সম্রাট ঔরংজেবের কাছে যাবেন স্থির করলেন। কিন্তু রাজস্বের হিসেব দাখিল করার জন্য প্রধান কানুনগো দর্পনারায়ণের সই দরকার ছিল। তিনি তাঁর প্রাপ্য তিনলক্ষ টাকা না দিলে সই করতে অস্বীকার করলেন। করতলব খাঁ এক লক্ষ টাকা দিতে রাজি হলেন। বাকিটা দাক্ষিণাত্য থেকে ফিরে এসে দেবার প্রতিশ্রুতি দিলেন কিন্তু দর্পনারায়ণ তাতে রাজি হলেন না। করতলব খাঁ অগত্যা দ্বিতীয় কানুনগো জয়নারায়ণকে দিয়ে সইসাবুদ করিয়ে দাক্ষিণাত্যের দিকে রওনা হলেন। বাদশাহি দরবারে পৌঁছে তিনি সম্রাট ঔরংজেব ও তাঁর মন্ত্রীদের প্রচুর পরিমাণ নগদ টাকা ও বাংলা থেকে আনা নানা দুর্লভ সামগ্রী উপহার দিলেন। আর রাজস্বের সব হিসাবপত্র বাদশাহের প্রধান দেওয়ানের কাছে পেশ করলেন।[২৭]

বাদশাহের দেওয়ান হিসাবপত্র পরীক্ষা করে অত্যন্ত প্রীত হলেন এবং করতলব খাঁর কাজকর্মের, বিশেষ করে রাজস্ব বৃদ্ধি করার জন্য, ভূয়সী প্রশংসা করেন। সম্রাট ঔরংজেব করতলব খাঁর ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বহুমূল্য পোশাক, পতাকা, নাগরা ও তরবারি উপহার দিলেন। সর্বোপরি তিনি তাঁকে মুর্শিদকুলি খান উপাধিতে ভূষিত করলেন এবং তাঁর উপাধি অনুসারে মখসুদাবাদের নাম মুর্শিদাবাদ করার অনুমতি দিলেন। মুর্শিদকুলি মুখসুদাবাদে এসে নতুন নাম মুর্শিদাবাদ চালু করলেন এবং সেখানে একটি বাদশাহি টাঁকশালও স্থাপন করেন।[২৮]

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মুর্শিদকুলি ঠিক কবে মখসুদাবাদ থেকে মুর্শিদাবাদ নাম চালু করলেন অর্থাৎ ঠিক কবে থেকে মুর্শিদাবাদের পত্তন হল? স্যার যদুনাথ সরকার এক জায়গায় বলছেন ১৭০২ সালের ২৩ ডিসেম্বর সম্রাটের কাছ থেকে করতলব খাঁ মুর্শিদকুলি উপাধি পান।[২৯] তা যদি হয়, তা হলে দাক্ষিণাত্য থেকে ফিরে এসে তিনি মখসুদাবাদের নতুন নাম মুর্শিদাবাদ চালু করেছিলেন ১৭০৩ সালের আগে নয় কারণ দাক্ষিণাত্য থেকে মখসুদাবাদ ফিরতে তো দু’-তিন মাস সময় অবশ্যই লেগেছিল। অন্যত্র স্যার যদুনাথ লিখেছেন (একই প্রবন্ধে) যে করতলব খাঁ মখসুদাবাদে তাঁর দেওয়ানি কার্যালয় স্থানান্তরিত করার অনেক বছর পরে মুঘল সম্রাটের অনুমতি নিয়ে তিনি মখসুদাবাদের নামকরণ করেন মুর্শিদাবাদ।[৩০] কিন্তু তিনি নির্দিষ্টভাবে কোন সালের কথা বলেননি। তারিখ-ই-বংগালা ও রিয়াজ-উস-সলাতিনের বিবরণ অনুযায়ী যে মুর্শিদাবাদের প্রতিষ্ঠা ১৭০৪ সালে। আধুনিক গবেষক আবদুল করিমও মনে করেন যে মুর্শিদাবাদের পত্তন হয় ১৭০৪ সালেই। মনে হয় এটাই ঠিক কারণ মুর্শিদকুলি যখন দাক্ষিণাত্য থেকে ফিরছেন তখন ইংরেজ কোম্পানির কটকের ভারতীয় প্রতিনিধি (ভকিল—vakil) তাঁর সঙ্গে কটকে দেখা করেন এবং সেটা ১৭০৪ সালের গোড়ার দিকেই। তা ছাড়া মুর্শিদাবাদের টাঁকশালে প্রথম যে মুদ্রা তৈরি হয় তাতেও ১৭০৪ সালই লেখা ছিল। সুতরাং সব দিক থেকে বিবেচনা করে মনে হয় মুর্শিদাবাদের পত্তন হয়েছিল ১৭০৪ সালেই।[৩১]

সূত্রনির্দেশ ও টীকা

  1. J. N. Sarkar, A Short History of Aurangzeb; Satish Chandra, Mughal India.
  2. বিস্তারিত বিবরণের জন্য, Sushil Chaudhury, From Prosperity to Decline— Eighteenth Century Bengal, পৃ. 2-৪।
  3. রিয়াজ-উস-সলাতিন, পৃ. ৪।
  4. S. C. Hill, Bengal in 1756-57, vol. III, p. 160.
  5. Bermier, Travels, p. 440.
  6. J. N. Sarkar (ed.), History of Bengal, vol. II, pp. 402-403.
  7. Abdul Karim, Murshid Quli Khan and His Times, p. 16; J. N. Sarkar (ed.), History of Bengal, vol. II, p. 400.
  8. J. N. Sarkar (ed.), History of Bengal, vol. II, p. 400.
  9. Maasir-ul-Umara, vol. III, p. 751.
  10. Maasir-i-Alamgiri, quoted in Abdul Karim, Murshid Quli, p. 15.
  11. রিয়াজ, পৃ. ২৫৪, টীকা, ৫৫; J.N. Sarkar (ed.), History of Bengal, vol. II, p. 400; Abdul Karim, Murshid Quli, pp. 15-16.
  12. Abdul Karim, Marshid Quali, pp. 16-14; রিয়াজ, পৃ. ২৪৮, History of Bengal, vol. II, p. 401.
  13. রিয়াজ, পৃ. ২৪৯; J. N. Sarkar (ed.), History of Bengal, vol. II, pp. 403-4; Abdul Karim, Murshid Quli, pp. 19-20.
  14. J. N. Sarkar (ed.), History of Bengal, vol. II, pp. 403-4; Abdul Karim, Murshid Quli. pp. 20; তারিখই-ই-বংগালা, পৃ. ২৮.
  15. রিয়াজ, পৃ. ২০৫।
  16. ইনায়েৎউল্লা, আহকাম-ই-আলমগিরি, পৃ. ২১৮, History of Bengal, vol. II, p. 401-তে উদ্ধৃত।
  17. আহকাম-ই-আলমগিরি, পৃ. ১৯৮, History of Bengal, vol. II, p. 402-তে উদ্ধৃত।
  18. Abdul Karim, Murshid Quli, p. 21; History of Bengal, vol. II, p. 404.
  19. K.M. Mohsin, A Bengal District in Transition: Murshidabad, 1765-93, pp. 5- 6; Abdul Karim, Murshid Quali, pp. 21; History of Bengal, vol II, p. 404; রিয়াজ, পৃ. ২৫১-৫২।
  20. K. M. Mohsin, Murshidabad, p. 6; Abdul Karim, Murshid Quli, p.98.
  21. তারিখ-ই-বংগালা, পৃ. ২৯; রিয়াজ, পৃ. ২৫০; Abdul Karim, Murshid Quli, p. 22.
  22. রিয়াজ, পৃ. ২৮; Mohsin, Murshidabad, p. 4.
  23. ঐ, পৃ. ৪।
  24. নিখিলনাথ রায়, মুর্শিদাবাদের ইতিহাস, পৃ. ৩৩৮-৩৯।
  25. Mohsin, Murshidabad, p. 4, f.n. 5.
  26. রিয়াজ, পৃ. ২৫২-৫৩; নিখিলনাথ রায়, মুর্শিদাবাদের ইতিহাস, পৃ. ৩৩৮।
  27. History of Bengal, vol. II, p. 404; Abdul Karim, Murshid Quli, pp. 22-23.
  28. History of Bengal, vol. II, p. 399.
  29. ঐ, পৃ. ৪০৪।
  30. Abdul Karim, Murshid Quli, p. 23 and f.n. 2 same page.