আল-কুরআনের শিক্ষা
- আল-কুরআনের শিক্ষা
- অনুবাদকের আরয
- আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষারত
- লেখকের আরয
- অপশক্তিধরদের আলোকিত চিন্তা চেতনা
- আল্লাহ্ কি হিংস্রতা এবং জুলম করেন?
- মানবাধিকার ও আমেরিকা
- ইসলাম ও কুফুরীর দ্বন্ধ
- ফোরকানুল হকের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা
- কোরআন সংরক্ষণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- কুরআন মাজীদের সাত ক়েরাত
- নে’মতের বহিঃপ্রকাশ
- কোরআন মাজীদের চেলেঞ্জ কি?
- ফোরকানুল হকের ফেতনা
- ফোরকানুল হকের শয়তানি
নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস
- নব্য জাপান ও রুষ জাপান যুদ্ধের ইতিহাস
- প্রথম সংস্করণের ভূমিকা।
- দ্বিতীয় সংস্করণের বিজ্ঞাপন।
- ভৌগলিক বৃত্তান্ত।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: প্রাচীনযুগ।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: মধ্যযুগ।
- ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত: নবযুগ।
- ধর্ম্মপ্রণালী।
- সামাজিক রীতিনীতি।
- জাপানের শিক্ষা-প্রণালী।
- জাপানের সাহিত্য ও সংবাদপত্র।
- জাপান সাম্রাজ্যের গঠনপ্রণালী ও রাজনীতি।
- জাপানের বাণিজ্য।
- জাপানের সমর বল।
- জাপানের নানাকথা।
- রুষ ও জাপান যুদ্ধের ইতিহাস।
ইস্তাহার
- ইস্তাহার
- মুখবন্ধ
- ইস্তাহার
- মশাল
- জনতা
- আদিম ও আগামী
- চোখ
- জেহাদ
- রাজনীতি
- সঙ্কট
- বন্যা
- জবানবন্দী
- নেতা
- শকুনির পাশা
- মহাজীবন
- যৌথ
- জালিয়াত
- সাংবাদিক
- কুতুব মিনার
- বাংলা দেশ
- হিপি
- চন্দ্রকাব্য
- পিঞ্জরে বন্দী
- বেনামী সার্কাস
- আরশি
- রঙের গোলাম
- শোষক মশক
- মুক্তির নিমন্ত্রণ
- বীরবরণ
- জলছবি
- বিকল্প
- মুক
- প্রতিবাদ
- প্রস্তরমূর্তি
- নিরুপায়
- বিনষ্ট
- প্রস্থান
- সংশোধন
- বিবৃতি
- সেই লোকটি
- পলাতক
- মাটি ও মানুষ
- মৃত্যু
- গরীয়সী
- প্রণাম
চোদ্দ শতকের বাঙালী
- চোদ্দ শতকের বাঙালী
- শতক বিহরণ
- বিপ্লববাদী সমাজের অভ্যুত্থান
- হিন্দু সভ্যতার শিকর আবিষ্কার
- কুলীনের মেয়ের মুক্তি
- হিন্দু বিবাহ-বিধান
- মুসলিম বিবাহ ও তিন তালাক
- বিয়ে বাড়ির আদব
- শতাব্দীর মর্মন্তুদ অগ্নিকাণ্ড
- কলকাতার দাঙ্গা
- শতাব্দীর আর্থিক চিত্র
- পশ্চিমবঙ্গের নবরূপ
- সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম
- বাঙালী জীবনচর্যার পরিবর্তন
- বাঙালী জীবনের অস্তাচল
- বাঙালী আরও হারিয়েছে তার স্বয়ম্ভরতা
- নারী নির্যাতনে দেশ গেল ভরে
- বাঙালীর দুর্গতি
- ঘটনাপঞ্জী
যুগবাণী
- যুগবাণী
- উৎসর্গ
- নবযুগ
- গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ!
- ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ
- ধর্মঘট
- লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য
- মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান
- ছুঁৎমার্গ
- উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন
- মুখবন্ধ
- রোজ কেয়ামত বা প্রলয় দিন
- বাঙালির ব্যবসাদারি
- আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন?
- কালা আদমিকে গুলি মারা
- শ্যাম রাখি না কুল রাখি
- লাট-প্রেমিক আলি ইমাম
- ভাব ও কাজ
- সত্য-শিক্ষা
- জাতীয় শিক্ষা
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
- জাগরণী
বিষের বাঁশী
- বিষের বাঁশী
- উৎসর্গ
- কৈফিয়ত
- আয় রে আবার আমার চির-তিক্ত প্রাণ!
- ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্ : আবির্ভাব
- ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্ : তিরোভাব
- সেবক
- জাগৃহি
- তূর্য-নিনাদ
- বোধন
- উদ্বোধন
- অভয়-মন্ত্র
- আত্মশক্তি
- মরণ-বরণ
- বন্দি-বন্দনা
- বন্দনা-গান
- মুক্তি-সেবকের গান
- শিকল-পরার গান
- মুক্ত-বন্দি
- যুগান্তরের গান
- চরকার গান
- জাতের বজ্জাতি
- সত্য-মন্ত্র
- বিজয়-গান
- পাগল পথিক
- ভূত-ভাগানোর গান
- বিদ্রোহীর বাণী
- অভিশাপ
- মুক্ত-পিঞ্জর
- ঝড়
ছায়ানট
- পলাতকা
- ছায়ানট
- বিজয়িনী
- কমল-কাঁটা
- চৈতি হাওয়া
- বেদনা-অভিমান
- নিশীথ-প্রীতম্
- অ-বেলায়
- হার-মানা-হার
- লক্ষ্মীছাড়া
- শেষের গান
- নিরুদ্দেশের যাত্রী
- চিরন্তনী প্রিয়া
- বেদনা-মণি
- পরশ পূজা
- অনাদৃতা
- শায়ক-বেঁধা পাখী
- হারামণি
- নীল পরী
- স্নেহ-ভীতু
- চিরশিশু
- মানস-বধূ
- দহনমালা
- বিদায়-বেলায়
- অকরুণ পিয়া
- ব্যথা-নিশীথ
- সন্ধ্যাতারা
- দূরের বন্ধু
- আশা
- মরমী
- মুক্তি-বার
- আপন-পিয়াসী
- বিবাগিনী
- প্রতিবেশিনী
- দুপুর-অভিসার
- ছলকুমারী
- পাপড়ি-খোলা
- বিধুরা পথিকপ্রিয়া
- মনের মানুষ
- প্রিয়ার রূপ
- বাদল-দিনে
- কার বাঁশি বাজিল?
- অ-কেজোর গান
- স্তব্ধ বাদল
- চাঁদমুকুর
- চির-চেনা
- পাহাড়ী গান
- অমর-কানন
- পূবের হাওয়া
- আলতা-স্মৃতি
- রৌদ্রদগ্ধের গান
ফণী-মনসা
- ফণী-মনসা
- সব্যসাচী
- দ্বীপান্তরের বন্দিনী
- প্রবর্তকের ঘুর-চাকায়
- আশীর্বাদ
- মুক্তিকাম
- সাবধানী ঘণ্টা
- বিদায়-মাভৈঃ
- বাংলার মহাত্মা
- হেমপ্রভা
- অশ্বিনীকুমার
- ইন্দু-প্রয়াণ
- দিল-দরদী
- সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ
- সত্য-কবি
- সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ-গীতি
- সুর-কুমার
- রক্ত-পতাকার গান
- অন্তর-ন্যাশন্যাল সঙ্গীত
- জাগর-তূর্য
- যুগের আলো
- পথের দিশা
- যা শত্রু পরে পরে
- হিন্দু-মুসলিম যুদ্ধ
বাঁধনহারা
- বাঁধনহারা
- উৎসর্গ
- পরিচ্ছেদ ক : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ ক : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ খ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ খ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ গ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ গ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র তিন
- পরিচ্ছেদ ঙ
- পরিচ্ছেদ চ
- পরিচ্ছেদ ছ
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র এক
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র দুই
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র তিন
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র চার
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র পাঁচ
- পরিচ্ছেদ জ : পত্র ছয়
বুলবুল
- বুলবুল
- উৎসর্গ
- ‘বুলবুলে’র কবি
- বাগিচায় বুলবুলি তুই
- আমারে চোখ-ইশারায়
- বসিয়া বিজনে কেন একা মনে
- ভুলি কেমনে আজও যে মনে
- কেন কাঁদে পরান
- মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে
- কে বিদেশি মন-উদাসী
- করুণ কেন অরুণ আঁখি
- এত জল ও-কাজল-চোখে
- আসে বসন্ত ফুলবনে
- দুরন্ত বায়ু পুরবৈয়াঁ
- চেয়ো না সুনয়না
- পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়
- সখী জাগো, রজনী পোহায়
- নিশি ভোর হল জাগিয়া
- এ বাসি বাসরে আসিলে
- বসিয়া নদীকূলে
- কেন দিলে এ কাঁটা
- সখী, বোলো-বঁধূয়ারে
- নহে নহে প্রিয়
- এ আঁখি-জল মোছ পিয়া
- কী হবে জানিয়া বলো
- পরদেশি বঁধুয়া
- কেন উচাটন মন
- আসিলে এ ভাঙা ঘরে
- আজি দোল পূর্ণিমাতে
- রুমুঝুমু রুমুঝুম্
- আজি এ কুসুম-হার
- গরজে গম্ভীর গগন কম্বু
- হাজার তারার হার হয়ে
- অধীর অম্বরে গুরু গরজন
- ঝরে ঝরঝর কোন গভীর
- হৃদয় যত নিষেধ হানে
- শুকাল মিলন-মালা
- স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়
- গহীন রাতে ঘুম
- কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ
- জাগিলে ‘পারুল’ কি গো
- চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে
- নমো হে নমো যন্ত্রপতি
- পুরবের তরুণ অরুণ
- কে শিব সুন্দর
- কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে
- কেন আন ফুল-ডোর
- কেমনে রাখি আঁখি-বারি
- কেন আসিলে যদি যাবে চলি
- সাজিয়াছ যোগী
- মুসাফির! মোছ এ আঁখি জল
- এ নহে বিলাস বন্ধু
চোখের চাতক
- চোখের চাতক
- আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী
- কাঁদিতে এসেছি আপনারে লয়ে
- ছাড়িতে পরান নাহি চায়
- কে তুমি দূরের সাথী
- আজি এ শ্রাবণ-নিশি
- আজি বাদল ঝরে
- মোর ঘুম ঘোরে এলে
- কেউ ভোলে না কেউ ভোলে
- যাও যাও তুমি ফিরে
- ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায়
- নিশীথ-স্বপন তোর ভুলে যা
- ঘোর তিমির ছাইল রবি শশী
- দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়
- এত কথা কি গো কহিতে জানে
- মন কেন উদাসে
- আমার গহীন জলের নদী
- তোমায় কূলে তুলে বন্ধু
- আমার সাম্পান যাত্রী না লয়
- ওরে মাঝি ভাই
- কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
- আঁধার রাতে কে গো একেলা
- কী হবে লাল পাল তুলে
ছাড়পত্র
- ছাড়পত্র
- ছাড়পত্র (কবিতা)
- আগামী
- রবীন্দ্রনাথের প্রতি
- চারাগাছ
- খবর
- ইউরোপের উদ্দেশে
- প্রস্তুত
- প্রার্থী
- একটি মোরগের কাহিনী
- সিঁড়ি
- কলম
- আগ্নেয়গিরি
- দুরাশার মৃত্যু
- ঠিকানা
- লেনিন
- অনুভব
- কাশ্মীর
- সিগারেট
- দেশলাই কাঠি
- বিবৃতি
- চিল
- চট্টগ্রাম : ১৯৪৩
- মধ্যবিত্ত '৪২
- সেপ্টেম্বর '৪৬
- ঐতিহাসিক
- শত্রু এক
- মজুরদের ঝড়
- ডাক
- বোধন
- রানার
- মৃত্যুজয়ী গান
- কনভয়
- ফসলের ডাক : ১৩৫১
- কৃষকের গান
- এই নবান্নে
- আঠারো বছর বয়স
- হে মহাজীবন
ঘুম নেই
- ঘুম নেই
- বিক্ষোভ
- ১লা মে-র কবিতা '৪৬
- পরিখা
- সব্যসাচী
- উদ্বীক্ষণ
- বিদ্রোহের গান
- অনন্যোপায়
- অভিবাদন
- জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী
- কবিতার খসড়া
- আমরা এসেছি
- একুশে নভেম্বর : ১৯৪৬
- দিন বদলের পালা
- মুক্ত বীরদের প্রতি
- প্রিয়তমাসু
- ছুরি
- সূচনা
- অদ্বৈধ
- দিক্প্রান্তে
- চিরদিনের
- নিভৃত
- বৈশম্পায়ন
- নিভৃত
- কবে
- অলক্ষ্যে
- মহাত্মাজীর প্রতি
- পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে
- পরিশিষ্ট
- মীমাংসা
- অবৈধ
- ১৯৪১ সাল
- রোম : ১৯৪৩
- জনরব
- রৌদ্রের গান
- দেওয়ালী
গীতিগুচ্ছ
- গীতিগুচ্ছ
- ওগো কবি তুমি আপন ভোলা
- এই নিবিড় বাদল দিনে
- গানের সাগর পাড়ি দিলাম
- হে মোর মরণ
- দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে
- শয়ন শিয়রে ভোরের পাখির রবে
- ও কে যায় চলে
- হে পাষাণ, আমি নির্ঝরিণী
- শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল
- কিছু দিয়ে যাও
- ক্লান্ত আমি কর ক্ষমা
- সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন
- কঙ্কণ-কিঙ্কিণী মঞ্জুল মঞ্জীর ধ্বনি
- মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে
- গুঞ্জরিয়া এল অলি
- কোন অভিশাপে নিয়ে এল
- ভুল হল বুঝি
- মুখ তুলে চায়
- ফোটে ফুল আসে যৌবন
সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা
- সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা
- ক্ষুধা
- দুর্বোধ্য
- ভদ্রলোক
- দরদী কিশোর
- কিশোরের স্বপ্ন
- ছন্দ ও আবৃত্তি
- বর্ষ-বাণী
- যেমন ক’রে তপন টানে জল
- জনগণ হও আজ উদ্বুদ্ধ
- আমরা জেগেছি
- শৃঙ্খল ভাঙা সুর
- ভবিষ্যতে
- সুচিকিৎসা
- পরিচয়
- আজিকার দিন কেটে যায়
- চৈত্রদিনের গান
- সুহৃদ্বরেষু
- পটভূমি
- ভারতীয় জীবনত্রাণ-সমাজের মহাপ্রয়াণে
- “নব জ্যামিতি”র ছড়া
- জবাব
- চরমপত্র
- মেজদাকে : মুক্তির অভিনন্দন
- পত্র
- মার্শাল তিতোর প্রতি
- ব্যর্থতা
- দেবদারু গাছে রোদের ঝলক
পলাশির অজানা কাহিনী
- পলাশির অজানা কাহিনী
- ভূমিকা
- প্রাক্-পলাশি বাংলার রূপরেখা
- সিরাজ চরিত-কথা
- ইউরোপীয় কোম্পানি ও এশীয় বণিক সম্প্রদায়
- সিরাজদ্দৌল্লা ও ইংরেজ কোম্পানির সংঘাত
- পলাশি বিপ্লবের অনিবার্যতা
- ষড়যন্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ
- চক্রান্তের মূল নায়করা
- পলাশি অভিমুখে : ইংরেজ পরিকল্পনা
- পলাশির পরিণাম : সুদূরপ্রসারী প্রভাব
- উপসংহার
- নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি
হযরত ওমর
- হযরত ওমর
- গুমরাহীর অন্ধকারায়
- ইসলামের আলোকধারায়
- খেলাফতের প্রতিষ্ঠায়
- বিজয়ীর বেশে ফিরে দেশে দেশে
- ইরাক-আরব বিজয়
- ইরাক-আযম বিজয়
- সিরিয়া বিজয়
- মিসর বিজয়
- ওমরের শাহাদাত
- রাজ্যজয় ও রাষ্ট্রগঠন
- প্রশাসনিক ও রাজস্ব-ব্যবস্থা
- সেনাবিভাগ
- শহর পত্তন ও পূর্তবিভাগ
- বিচার-বিভাগ
- জিম্মীদের অধিকার সংরক্ষণ ও দাসপ্রথা নিয়ন্ত্ৰণ
- শিক্ষাবিস্তার ও ধর্মপ্রচার
- রাষ্ট্রনায়ক : ব্যক্তিত্ব
- মানুষ ওমর
- ওমর-কাহিনীগুচ্ছ
- শেষ প্ৰসঙ্গ
ঐতিহাসিক সমগ্র
- ঐতিহাসিক সমগ্র
- ভারতের দ্বিতীয় প্রভাতে
- মহাভারতের শেষ মহাবীর
- পঞ্চনদের তীরে
- ভগবানের চাবুক
- আলেকজান্ডার দি গ্রেট
- দিগবিজয়ী নেপোলিয়ন
- রক্ত বাদল ঝরে
- হন্তারক নরদানব
- সিরাজের বিজয় অভিযান
- তিন সম্রাটের ত্র্যহস্পর্শযোগ
- সাতহাজারের আত্মদান
- আলেকজান্ডারের পলায়ন
- ওষ্ঠাধরে রাজদণ্ড
- মরা মানিক আর জ্যান্ত মানিক
- মুসলমানের জহরব্রত
- সূর্য দেবী, পর্মল দেবী
- মারাঠার লিওনিডাস
- ভারতের একমাত্র সুলতানা
- ব্যাঘ্রভূমির বঙ্গবীর
- উপন্যাসের চেয়ে আশ্চর্য
- মরণ বিজয়ীর দল
- ছত্রপতির ছত্রভঙ্গ
- জগন্নাথদেবের গুপ্তকথা
- নতুন বাংলার প্রথম কবি
- শিবদাস ভাদুড়ি
- ইতিহাসের রক্তাক্ত প্রান্তরে
- বীরাঙ্গনা, পরাক্রমে ভীমা-সমা
- বর্গি এল দেশে
- হে ইতিহাস গল্প বলো
- প্রথম বাঙালি সম্রাট
- অনামা বীরাঙ্গনা
- ইতিহাসের রক্তাক্ত দৃশ্য
- ছত্রপতির অ্যাডভেঞ্চার
- বাংলাদেশের বোম্বেটেরাজ
ক্রুসেড সিরিজ
- গাজী সালাহুদ্দীনের দুঃসাহসিক অভিযান
- গোপন বিদ্রোহী
- হেমসের যোদ্ধা
- পাপের ফল
- তুমুল লড়াই
- উমরু দরবেশ
- টার্গেট ফিলিস্তিন
- গাদ্দার
- সালাহুদ্দীন আয়ুবীর কমান্ডো অভিযান
- বিষাক্ত ছোবল
- খুনী চক্রের আস্তানায়
- পাল্টা ধাওয়া
- সুবাক দুর্গে আক্রমণ
- ইহুদী কন্যা
- ধাপ্পাবাজ
- ভয়ংকর ষড়যন্ত্র
- ভয়াল রজনী
- আবারও সংঘাত
- দূর্গপতন
- ফেরাউনের গুপ্তধন
- উপকূলে সংঘর্ষ
- সর্প কেল্লার খুনী
- চারদিকে চক্রান্ত
- সামনে বৈরুত
- দুর্গম পাহাড়
- ভণ্ডপীর
- ছোট বেগম
- রক্তস্রোত
- রিচার্ডের নৌবহর
- মহাসমর
বাবরনামা
- দ্বিতীয় অধ্যায়
- বাবরনামা
- ভূমিকা
- প্রথম অধ্যায়
- তৃতীয় অধ্যায়
- চতুর্থ অধ্যায়
- পঞ্চম অধ্যায়
- ষষ্ঠ অধ্যায়
- সপ্তম অধ্যায়
- অষ্টম অধ্যায়
- নবম অধ্যায়
- দশম অধ্যায়
- একাদশ অধ্যায়
- দ্বাদশ অধ্যায়
- ত্রয়োদশ অধ্যায়
- চতুর্দশ অধ্যায়
- পঞ্চদশ অধ্যায়
- ষোড়শ অধ্যায়
- সপ্তদশ অধ্যায়
- অষ্টাদশ অধ্যায়
- ঊনবিংশ অধ্যায়
- বিংশ অধ্যায়
- একবিংশ অধ্যায়
- দ্বাবিংশ অধ্যায়
- ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
ভাটির দেশ
- ভাটির দেশ
- প্রথম পর্ব
- ভাটির দেশ
- আমন্ত্রণ
- ক্যানিং
- লঞ্চে
- লুসিবাড়ি
- পতন
- স্যার ড্যানিয়েল
- স্নেল’স উইন্ডো
- ট্রাস্ট
- ফকির
- চিঠি
- ডিঙিতে
- নির্মল আর নীলিমার কথা
- নোঙর
- কুসুম
- কথা
- বনবিবির মহিমা
- স্পন্দন
- মরিচঝাঁপি
- ময়না
- কাঁকড়া
- ভ্রমণকাহিনি
- গর্জনতলা
- আলোড়ন
- হঠাৎ আলো
- শোনা
- তীরে ভেড়া
- ধাওয়া
- স্বপ্ন
- অনুসরণ
- দ্বিতীয় পর্ব
- পুনরাগমনায় চ
- বন্দরের কাল
- ভোজ
- আলাপ
- ঝড়
- আলোচনা
- অভ্যাস
- একটি সূর্যাস্ত
- রূপান্তর
- তীর্থদর্শন
- নিয়তি
- মেঘা
- স্মৃতি
- মধ্যস্থ
- ঘেরাটোপে
- কথা
- অপরাধ
- বিদায় লুসিবাড়ি
- ব্যাঘাত
- বাঁচা
- রবিবারের ডাকঘর
- একটি হত্যা
- জেরা
- মিস্টার স্লোয়েন
- ক্রেতি
- চিহ্ন
- আলো
- খোঁজ
- হতাহত
- উপহার
- মিঠে জল, নোনা জল
- দিগন্তে
- ক্ষয়ক্ষতি
- তরী থেকে তীরে
- ঢেউ
- পরদিন
- বাড়ি : একটি উপসংহার
- লেখকের কথা
- অনুবাদ প্রসঙ্গে
দ্বিতীয় পর্ব
- দ্বিতীয় পর্ব
- পুনরাগমনায় চ
- বন্দরের কাল
- ভোজ
- আলাপ
- ঝড়
- আলোচনা
- অভ্যাস
- একটি সূর্যাস্ত
- রূপান্তর
- তীর্থদর্শন
- নিয়তি
- মেঘা
- স্মৃতি
- মধ্যস্থ
- ঘেরাটোপে
- কথা
- অপরাধ
- বিদায় লুসিবাড়ি
- ব্যাঘাত
- বাঁচা
- রবিবারের ডাকঘর
- একটি হত্যা
- জেরা
- মিস্টার স্লোয়েন
- ক্রেতি
- চিহ্ন
- আলো
- খোঁজ
- হতাহত
- উপহার
- মিঠে জল, নোনা জল
- দিগন্তে
- ক্ষয়ক্ষতি
- তরী থেকে তীরে
- ঢেউ
- পরদিন
- বাড়ি : একটি উপসংহার
- লেখকের কথা
- অনুবাদ প্রসঙ্গে
অলৌকিক জলযান
- অলৌকিক জলযান
- এক
- দুই
- তিন
- চার
- পাঁচ
- ছয়
- সাত
- আট
- নয়
- দশ
- এগার
- বার
- তের
- চৌদ্দ
- পনের
- ষোল
- সতের
- আঠার
- উনিশ
- বিশ
- একুশ
- বাইশ
- তেইশ
- চব্বিশ
- পঁচিশ
- ছাব্বিশ
- সাতাশ
- আঠাশ
- ঊনত্রিশ
- ত্রিশ
- একত্রিশ
- বত্রিশ
- তেত্রিশ
- চৌত্রিশ
- পয়ত্রিশ
- ছত্রিশ
- সাইত্রিশ
- আটত্রিশ
- উনচল্লিশ
- চল্লিশ
- একচল্লিশ
- বিয়াল্লিশ
- তেতাল্লিশ
- চুয়াল্লিশ
- পঁয়তাল্লিশ
- ছিচল্লিশ
- সাতচল্লিশ
- আটচল্লিশ
- উনপঞ্চাশ
- পঞ্চাশ
- একান্ন
- বাহান্ন
- তিপ্পান্ন
- চুয়ান্ন
হরিদাসের গুপ্তকথা
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- তৃতীয় খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- হরিদাসের গুপ্তকথা
- ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
- প্রকাশকের নিবেদন
- প্রথম খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- ষষ্ঠ কল্প
- সপ্তম কল্প
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- দশম কল্প
- একাদশ কল্প
- দ্বাদশ কল্প
- ত্রয়োদশ কল্প
- চতুর্দ্দশ কল্প
- পঞ্চদশ কল্প
- ষোড়শ কল্প
- সপ্তদশ কল্প
- অষ্টাদশ কল্প
- ঊনবিংশ কল্প
- বিংশ কল্প
- একবিংশ কল্প
- দ্বাবিংশ কল্প
- ত্রয়োবিংশ কল্প
- চতুর্ব্বিংশ কল্প
- পঞ্চবিংশ কল্প
- ষড়্বিংশ কল্প
- সপ্তবিংশ কল্প
- অষ্টাবিংশ কল্প
- ঊনত্রিংশ কল্প
- দ্বিতীয় খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- ষষ্ঠ কল্প
- সপ্তম কল্প
প্রথম খণ্ড
- প্রথম খণ্ড
- প্রথম কল্প
- দ্বিতীয় কল্প
- তৃতীয় কল্প
- চতুর্থ কল্প
- পঞ্চম কল্প
- অষ্টম কল্প
- নবম কল্প
- দশম কল্প
- একাদশ কল্প
- দ্বাদশ কল্প
- ত্রয়োদশ কল্প
- চতুর্দ্দশ কল্প
- পঞ্চদশ কল্প
- ষোড়শ কল্প
- সপ্তদশ কল্প
- অষ্টাদশ কল্প
- ঊনবিংশ কল্প
- বিংশ কল্প
- একবিংশ কল্প
- দ্বাবিংশ কল্প
- ত্রয়োবিংশ কল্প
- চতুর্ব্বিংশ কল্প
- পঞ্চবিংশ কল্প
- ষড়্বিংশ কল্প
- সপ্তবিংশ কল্প
- অষ্টাবিংশ কল্প
- ঊনত্রিংশ কল্প
নবম পরিচ্ছেদ
সিপাহীরা পালে পালে বিদ্রোহী ধরিয়া আনিতে লাগিল। যাহারা লাঠি চালাইয়াছিল, তাহারা নির্ব্বিঘ্নে স্বস্থানে অবস্থানপূর্ব্বক তামাসা দেখিতে লাগিল। যাহারা ধৃত হইল, তাহারা প্রায় নির্দ্দোষী। লোক ধরিয়া আনিতে হইবে, কাজেই সিপাহীরা যাহাকে পাইল, তাহাকে ধরিয়া আনিল। দোষীরা সাবধান ছিল, তাহাদিগকে পাওয়া গেল না। নির্দ্দোষীরা সতর্ক থাকা আবশ্যক বিবেচনা করে নাই—তাহারা ধৃত হইতে লাগিল। কেহ হাঁ করিয়া সিপাহী দেখিতেছিল, অতি সাহসী বলিয়া সে ধৃত হইল। কেহু সিপাহী দেখিয়া ভয়ে পলাইল, যে পলায়, সে দোষী বলিয়া ধৃত হইল। কেহ সিপাহীর প্রশ্নে চোট পাট উত্তর দিল; সে চতুর, কাজেই, “বদ্মাষ” বলিয়া ধৃত হইল। কেহ কোন উত্তর দিতে পারিল না,—অপরাধীই নিরুত্তর হয়, এই বলিয়া সেও ধৃত হইল। কেহ দুৰ্ব্বল, তাহাকে ধৃত করার কোন কষ্ট নাই, সিপাহীরা অনুগ্রহ করিয়া তাহাকে ধৃত করিলেন; কেহ বলবান্, কাজেই দাঙ্গাবাজ, সেও ধৃত হইল। কেহ দরিদ্র, দরিদ্রেরাই বদমাষ হইয়া থাকে, এজন্য সে ধৃত হইল; কেহ ধনী, ধনীরা টাকা দিয়া লোক নিযুক্ত করিয়া এই দাঙ্গা উপস্থিত করিয়াছে সন্দেহ নাই, তাহারাও ধৃত হইল। এইরূপে অনেক লোকে ধৃত হইল। এক জন মাত্র স্ত্রীলোককে ধরিবার আদেশ ছিল যে গাছে চড়িয়া “মার! মার!” শব্দে হুকুম দিয়াছিল, তাহাকে। একের স্থানে শত জনে শত জন স্ত্রীলোককে ধরিয়া আনিল। কেহ শুনিয়াছিল সে বিধবা, অতএব সে বিধবা দেখিয়াই ধরিল, কেহ শুনিয়াছিল সে সুন্দরী, সে সুন্দরী দেখিয়াই ধৃত করিল। কেহ শুনিয়াছিল, সে যুবতী; এজন্য অনেক যুবতী এককালে বন্ধন ও পূজা প্রাপ্ত হইল। কেহ কেহ শুনিয়াছিল যে, বৃক্ষবিহারিণী মুক্তকুন্তলা ছিল; অতএব স্ত্রীলোকের এলোচুল দেখিলেই তাহাদের হুজুরে আনিয়া সিপাহীরা হাজির করিতে লাগিল।
এইরূপে ফৌজদারী কারাগার স্ত্রীপুরুষে পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল— আর ধরে না। তখন সে দিনের মত কারাগার বন্ধ হইল। সে দিন কয়েদীরা বন্ধ রহিল— তাহাদের নিস্বতে পর দিন যাহা হয় হুকুম হইবে। সীতারামও এই সঙ্গে আবদ্ধ রহিলেন।
সীতারামকে অনেকেই চিনিত। ইচ্ছা করিলে তিনি ফৌজদারের সঙ্গে সাক্ষাতের উপায় করিতে পারিতেন, অথবা যাহাতে সামান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে একত্রে গাদাগাদি করিয়া থাকিতে না হয়, সে বন্দোবস্ত করিয়া লইতে পারিতেন। তিনি সে চেষ্টা কিছুই করিলেন না। তাঁহাকে চিনে, এমন লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইলে, ইঙ্গিতে তাঁহাকে চিনিতে নিষেধ করিলেন। তিনি মনে মনে এই ভাবিতেছিলেন, “আমি যদি ইহাদিগকে ছাড়িয়া যাই, তবে ইহাদিগের মুক্তির কোন উপায় হইবে না।”
রাত্রি উপস্থিত। কারাগারের একটি মাত্র দ্বার, প্রহরীরা সেই দ্বার বাহির হইতে রুদ্ধ করিয়া প্রহরায় নিযুক্ত রহিল।
কেহ কিছু খাইতে পায় নাই। সন্ধ্যার পর যে যেখানে পাইল, কাপড় পাতিয়া শুইতে লাগিল। সীতারাম তখন সকলের কাছে কাছে গিয়া বলিতে লাগিলেন, “তোমরা কেহ ঘুমাইও না, ঘুমাইলে রক্ষা নাই।”
সকলে সভয়ে শুনিল। কথাটা কেহ বুঝিতে পারিল না। কাহারও কিছু জিজ্ঞাসা করিতে সাহস হইল না। কিন্তু কেহ ঘুমাইল না। পেটে ক্ষুধা—মনে ভয়; নিদ্রার সম্ভাবনা বড় অল্প। একবার প্রহর বাজিয়া গেল—ঝিঝিট-খাম্বাঙ্গে নবতওয়ালা একটু মধুরালাপ করিয়া, আহারাদির অন্বেষণে নবতখানা হইতে নামিল। তখন সীতারাম এক স্থানে, কতকগুলি কয়েদীর খেদোক্তি শুনিতেছিলেন। তাহাদের কথা সমাপ্ত হইলে সীতারাম বলিলেন, “ভাই, অত কাঁদা কাটার দরকার কি? আমরা মনে করিলেই ত বাহির হইয়া যাইতে পারি।”
এক জন বলিল, “কেমন করিয়া যাইব?”
সীতারাম বলিলেন, “কেন? দ্বার ভাঙ্গিব।”
আর ব্যক্তি বলিল, “তুমি কি পাগল?”
সীতারাম বলিলেন, “কেন বাপু! এখানে আমরা কত লোক আছি মনে কর?”
একজন বলিল, “তা জন শ পাঁচ ছয় হইবে। তাতে কি হলো?”
সীতারাম বলিলেন, “পাঁচ শ লোকে একটা দরওয়াজা ভাঙ্গিতে পারি না?”
সকলে হাসিতে লাগিল। একজন বলিল, “দরওয়াজা যে লোহার?”
সীতা। মানুষ কি মিছরির? না কাদার?
আর এক জন বলিল, “লোহার কপাট কি হাত দিয়া ভাঙ্গিব? না দাঁত দিয়া কাঁটিব? না নখ দিয়া ছিঁড়িব?”
সকলে হাসিল।
সীতারাম বলিলেন, “কেন, পাঁচ শ লোকের লাথিতে এক জোড়া কপাট কি ভাঙ্গে না? হোক না কেন লোহা—এক হয়ে কাজ করিলে, লোহার কথা দূরে থাক, পাহাড়ও ভাঙ্গা যায়, সমুদ্রও বাধা যায়। কাঠবিড়ালীতে সমুদ্র বাঁধার কথা শুন নাই?”
তখন এক জন বলিল, “লোকটা বলিতেছে মন্দ নয়। তা ভাই, না হয় যেন লোহার কপাটও ভাঙ্গিলাম—বাহিরে যে সিপাহী?”
সীতারাম। তাহারা কয় জন?
সে ব্যক্তি বলিল, “দুই জন চারি জন থাকিতে পারে।”
সীতারাম। এই পাঁচ শ লোকে আর দুই চারি জন সিপাহী মারিতে পারিব না?
অপর এক জন কহিলেন, “তাদের যে হাতিয়ার আছে? আমরা আঁচড়ে কামড়ে কি করিব?”
সীতারাম বলিলেন, “তখন আমি তোমাদিগকে হাতিয়ার দিব।”
“তুমি হাতিয়ার কোথা পাইবে?”
“আমি সীতারাম রায়।”
শুনিয়া, যাহারা সীতারামের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক করিতেছিল, তাহারা একটু কুণ্ঠিত হইয়া সরিয়া বসিল। এক জন বলিল, “বুঝিলাম, আমাদের উদ্ধারের জন্যই আপনি ইহার ভিতর প্রবেশ করিয়াছেন। আপনি যাহা বলিবেন, আমি তাহাই করিব।”
যে কয় জনের সঙ্গে সীতারাম কথোপকথন করিতেছিলেন, সকলেরই এই মত হইল। সীতারাম তখন আর এক স্থানে গিয়া বসিলেন, সেই রকম করিয়া তাহাদের সঙ্গে কথা কহিলেন, সেই রকম করিয়া তাহাদিগকে বশীভূত করিলেন; তাহারাও যথাসাধ্য সাহায্যে উদ্যত, এবং উত্তেজিত হইল। এইরূপে সীতারাম ক্রমে ক্রমে, অসাধারণ বুদ্ধি, অসাধারণ কৌশল, অসাধারণ বাগ্মিতার গুণে সেই বহুসংখ্যক বন্দিবৃন্দকে একমত, উৎসাহিত এবং প্রাণপাতে পর্য্যন্ত সম্মত করিলেন।
তখন সীতারাম সেই সমস্ত বন্দিবর্গকে দাঁড়াইতে বলিলেন। তাহারা দাঁড়াইল। তখন সীতারাম তাহাদিগকে শ্রেণীবদ্ধ করিয়া সাজাইতে লাগিলেন। দ্বারের সম্মুখে প্রথম সারি, তার পর আর এক সারি— এইরূপ বরাবর। প্রতি শ্রেণীমধ্যস্থ ব্যক্তিদিগকে তিন তিন জন করিয়া আবার বিভাগ করিলেন। আবার সেই তিন জনকে এমত করিয়া দাঁড় করাইলেন যে, দুই জনের মধ্য দিয়া এক জন মনুষ্য যাইতে পারে— তাহাতে এইরূপ ফল দাঁড়াইল যে, অনায়াসে পলক মধ্যে কোন তিন ব্যক্তির পিছনের সারি হইতে তিন জন আগু হইয়া পলক মধ্যে তাহাদের স্থান লইতে পারে—ঠেলাঠেলি হয় না।
এই সকল বন্দোবস্ত করিতে করিতে আবার প্রহর বাজিল। “দগড়া নগড়া গড়াগড়ি” বলিয়া দামামা কি বলিতে লাগিল। তার সঙ্গে মধুর বেহাগ রাগিণী যামিনীকে গভীরা, মূর্ত্তিমতী, ভয়ঙ্করী করিয়া তুলিল। তখন সীতারাম বুঝিলেন, উত্তম সময়, পাহারার সিপাহী ভিন্ন অন্য সিপাহী সকল ঘুমাইয়াছে—কর্ত্তৃপক্ষেরা নিদ্রিত। তখন সীতারাম দ্বারের সমীপস্থ তিন জনকে বলিলেন, “তোমরা তিন জন প্রথমে দ্বারে লাথি মার। গায়ে যত জোর আছে, তত জোরে তিন বার মাত্র লাথি মারিবে। তার পর পিছে সরিয়া দাঁড়াইবে। কিন্তু দেখিও, তিনখানা পা, যেন একেবারেই কপাটের উপর পড়ে; অগ্রপশ্চাৎ হইলে সকল বৃথা। একেবারে তিন জন লাথি মারিবার স্থান এ কপাটে আছে—তাই মাপ করিয়া তিন তিন জন করিয়া সাজাইয়াছি। মুখে বলিও—লছমী-নারায়েণকি জয়!
বন্দীরা বুঝিল। “লছমী-নারায়েণকি জয়!” বলিয়া, তিন জনে ঠিক এক তালে, প্রাণপণ শক্তিতে, সেই লোহার কপাটে পদাঘাত করিল।
বাহিরে চারি জন সিপাহী পাহারায় ঢুলিতেছিল, বজ্রের মত শব্দ সহসা তাহাদের কর্ণে প্রবেশ করাতে তাহারা চমকিয়া উঠিল। কোথায় কিসের শব্দ তাহা বুঝিতে না পারিয়া, এদিক্ ওদিক্ চাহিতে লাগিল। এ দিকে প্রথম তিন জন সরিয়া পিছনে গিয়াছে; আর তিন জন আসিয়া পলক মধ্যে তাহাদের স্থান লইয়া সেই এক তালে তিন বার কপাটে পদাঘাত করিল। লোহার কপাটের তাহাতে কি হইবে? কিন্তু বড় ঝঞ্ঝনা বাজিতে লাগিল। এক জন সিপাহী বলিল, “কিয়া রে?”
কিন্তু ভিতর হইতে “লছমী-নারায়েণকি জয়!” ভিন্ন অন্য কোন উত্তর হইল না। দ্বিতীয় সিপাহী বলিল, “শালা লোগ কেওয়াড়ি তোড়নে মাঙ্গ্তা হৈ।”
তৃতীয় সিপাহী। আরে তোড়্নে দেও। বাঙ্গালী লোহেকি কেওয়াড়ি তোড়েগা!
চতুর্থ সিপাহী। কেওয়াড়ি খোলকে দো চার থাপ্পড় লাগা দেঙ্গে?
প্রথম সিপাহী। আরে যানে দেও। আপহিসে বহু লোগ ঠণ্ডা হো যায়েগা।
এ সকল কথা বন্দীরাও বড় শুনিতে পাইল না। কেন না, এখন, বড় ঝড়ের সময়ে যেমন বজ্রাঘাত থামে না, তাহার যেমন উপর্য্যুপরি শব্দ থামে না, সেইরূপ শব্দে এখন লোহার কপাটের উপর পদাঘাত বৃষ্টি হইতেছিল—আর কিছুই শোনা যায় না। কয়েদীরা মাতিয়া উঠিয়াছিল—কিন্তু সীতারাম তাহাদিগকে ধৈর্য্যবিশিষ্ট করিয়া, যাহার যে নিদ্দিষ্ট স্থান, তাহাকে সেইখানে স্থির রাখিতে লাগিলেন। ফাটকের ভিতর কিছুমাত্র গোলযোগ বা বিশৃঙ্খলা ছিল না।
সিপাহীরা প্রথমে রঙ্গ দেখিতেছিল। মনে করিতেছিল যে, কয়েদীরা কৌতুক করিতেছে, এখনই নিবৃত্ত হইবে। ক্রমে দেখিল যে, সে গতিক নহে—ক্রমে কয়েদীদিগের বল বাড়িতে লাগিল। তখন তাহারা কয়েদীদিগকে শাসিত করা নিতান্তই প্রয়োজন বোধ করিল। তিন জনে পরামর্শ এই করিল যে, তাহারা কপাট খুলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিয়া, কয়েদীদিগকে ভাল রকম প্রহার করিয়া নিরস্ত করিবে। তিন জনের মত হইল, কিন্তু এক জনের হইল না। আলিয়ার খাঁ সকলের প্রাচীন—দাড়ি একেবারে শণের মত। সে বলিল, “বাবা! যদি সত্য সত্যই কয়েদী ক্ষেপিয়া থাকে, তবে আমরা চারি জনে কি তাহাদের থামাইতে পারিব? বরং দ্বার খোলা পাইলে, তাহারা আমাদের চারি জনকে পিষিয়া ফেলিয়া পিল পিল করিয়া পলাইয়া যাইবে। তখন আমরা কি করিব? বরং জমাদ্দারকে খবর দেওয়া যাক্।
দ্বিতীয় সিপাহী। কেন জমাদ্দারকে খবর দিবারই তবে প্রয়োজন কি? সত্য সত্য উহারা কপাট ভাঙ্গিতে পারিবে, সে শঙ্কা ত আর করিতেছি না। তবে বড় দিক করিতেছে—তার জন্য জমাদ্দারকে দিক করিয়া কি হইবে? আজ থাক, কাল প্রাতে উহাদিগের উচিত সাজা হইবে।
কিছুক্ষণ সিপাহীরা এই মতাবলম্বী হইয়া নিরস্ত হইল। কয়েদীদিগের দ্বার ভঙ্গের উদ্যম দেখিয়া নানাবিধ হাস্য পরিহাস করিতে লাগিল। বলিতে লাগিল, “বাঙ্গালী লোহার কপাট ভাঙ্গিবে, আর বানরে সঙ্গীত গায়িবে, সমান কথা।”
লোহা সহজে ভাঙ্গে না বটে, কিন্তু দেয়াল ফাটিতে পারে। লোহার চৌকাট দেয়ালের ভিতর গাঁথা ছিল। দুই চারি দণ্ড পরে আলিয়ার খাঁ জ্যোৎস্নার আলোকে সভয়ে দেখিল, অবিরত সবল পদাঘাতের তাড়নে দেয়াল ফাটিয়া উঠিয়াছে। তখন সে বলিল, “আর দেখ কি? জমাদ্দারজিকে সম্বাদ দাও। এইবার কপাট পড়িবে।”
এক জন সিপাহী জমাদ্দারকে খবর দিতে শীঘ্র গেল। আর তিন জন হাঁ করিয়া কপাট পানে চাহিয়া রহিল।
দেখিল, ক্রমে দেয়াল বেশী বেশী ফাটিতে লাগিল। তার পর, দেয়ালটা ফাঁপিয়া উঠিল—ভিতরে চৌকাট ঢক্ ঢক্ করিয়া নড়িতে লাগিল—ঝন্ ঝন্ শব্দ বড় বাড়িয়া উঠিল। লাথির জোর আরও বাড়িতে লাগিল—বজ্রাঘাতের উপর বজ্রাঘাতের মত শব্দ হইতে লাগিল—শেষ, চতুর্দ্দিক্ প্রতিধ্বনিত করিয়া সেই লোহার কপাট, চৌকাট সমেত, দেয়াল ভাঙ্গিয়া মাটিতে পড়িয়া গেল। লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর জয় শব্দে গগন বিদীর্ণ হইল।
নির্ব্বোধ হিন্দুস্থানীরা, হাঁ করিয়া দাঁড়াইয়া দেখিতেছিল, সরিয়া দাঁড়াইতে ভুলিয়া গিয়াছিল। যখন কপাট পড়িতেছে দেখিল, তখন দৌড়াইয়া পলাইতে লাগিল। দুই জন বাচিল, কিন্তু এক জনের পায়ের উপর কপাট পড়ায় সে ভগ্নপদ হইয়া ভূতলে পড়িয়া গেল। এ দিকে কপাট পড়িবামাত্র ভিতর হইতে, বাঁধ ভাঙ্গিলে জলপ্রবাহের মত বন্দি-স্রোত পতিত কপাটের উপর দিয়া হরিধ্বনি করিতে করিতে পতিত প্রহরীকে পদতলে পিষিয়া, গভীর গর্জ্জনে ছুটিল। সর্ব্বাগ্রে সীতারাম বাহির হইয়া আহত প্রহরীর ঢাল সড়কী তরবারি কাড়িয়া লইয়া আর দুই জনকে যমদূতের ন্যায় আক্রমণ করিলেন। তাঁহার তখনকার ভীষণ মূৰ্ত্তি দেখিয়া ও তাঁহার দারুণ প্রহারে আহত হইয়া প্রহরিদ্বয় উর্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করিল। জমাদ্দার সাহেব তখনও আসিয়া পৌঁছেন নাই।
বন্দিগণ হরিধ্বনি করিতে করিতে ছুটিতে লাগিল—সীতারাম অসি হস্তে স্থির হইয়া এক স্থানে দাঁড়াইয়া তাহাদিগের পৃষ্ঠ রক্ষা করিতে লাগিলেন। সকলেই বাহির হইয়া গেলে, সীতারাম আবার একবার কারাগারের ভিতর প্রবেশ করিলেন। তাঁহার স্মরণ হইল যে, এক কোণে এক জন বন্দীকে মুড়ি দিয়া পড়িয়া থাকিতে দেখিয়াছিলেন। সে একবারও উঠে নাই বা কোন সাড়া দেয় নাই। সীতারাম মনে করিয়াছিলেন, সে পীড়িত। এখন তাঁহার মনে হইল, সে হয় ত বিনা সাহায্যে উঠিতে পারে নাই বা বাহির হইতে পারে নাই। সে বাহির হইয়াছে কি না, দেখিবার জন্য সীতারাম কারাগৃহ মধ্যে পুনঃপ্রবেশ করিলেন। দেখিলেন, সে তেমনি ভাবে সেই কোণে সর্ব্বাঙ্গ আবৃত করিয়া শুইয়া আছে।
সীতারাম ডাকিয়া বলিলেন, “ওগো! সবাই বাহির হইল, তুমি শুইয়া কেন?
যে শুইয়াছিল, সে বলিল, “কি করিব?”
এ ত স্ত্রীলোকের গলা। চেনা গলা বলিয়াই সীতারামের বোধ হইল। তিনি আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞাসা কারলেন, “তুমি কে গো?”
সে বলিল, “আমি শ্রী।”
