পুরানো সেই দিনের কথা

» দ্বিতীয় অধ্যায়

পিতৃপুরুষের শিকড়ের সন্ধান আমার পিতৃপুরুষের আদি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ গ্রামে অবস্থিত। এই বংশের উৎপত্তি সম্বন্ধে আলোচনা করতে গিয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীতে দিল্লির একটি ঘটনা মনে পড়ে। ১৭৩৯ সালে দিল্লিতে ঘটনাটি ঘটে। ওই বছরContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» তৃতীয় অধ্যায়

রসুল্লাবাদ খাঁ বাড়ির কুশীলব ঊনবিংশ শতাব্দীতে রসুল্লাবাদ খাঁ বাড়ি তাদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য এলাকায় সুপরিচিত ছিল। তাদের তালুকদারি ছিল, চাষের অনেক জমি ছিল এবং একসময় সুদের ব্যবসা করে তারা প্রচুর অর্থ কামাই করেছিল। কিন্তু বিংশContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» চতুর্থ অধ্যায়

নবীনগরের প্রেক্ষাপট নবীনগর নামের উৎপত্তি এবং তাৎপর্য সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। এক ঘরানার ঐতিহাসিকেরা মনে করেন, নবীনগর শব্দটি নবীন গড়–এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। গড় শব্দের অর্থ হলো কেল্লা অথবা দুর্গ। নবীনগরে এ ধরনের কোনোContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» পঞ্চম অধ্যায়

: শৈশব ও কৈশোর : ১৯৪৪-১৯৫৯ জন্মদিন সরকারের নথি অনুসারে আমার জন্মদিন ২ আগস্ট, ১৯৪৪ সাল। আমার প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্রে এই জন্মতারিখ লিপিবদ্ধ আছে। এই হিসাবের ভিত্তিতেই আমি সরকারি চাকরিতে যোগ দিই এবং এর ভিত্তিতেContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» ষষ্ঠ অধ্যায়

কলেজজীবন : ১৯৫৯-১৯৬১ ঢাকা কলেজ প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিক পড়ার জন্য নবীনগরের বাইরে যেতে হয়। নবীনগরে তখন কোনো কলেজ ছিল না। এ সময়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে আমাকে সহায়তা করেন সনাতনদা। সনাতন সাহাContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» সপ্তম অধ্যায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল সার্ভিস ১৯৬১–১৯৬৭ সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কলেজ পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। প্রথম প্রশ্ন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয় নিয়ে পড়ব। আমার মুরব্বিরা উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখায় না পড়ে কলা শাখায় পড়ায়Continue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» অষ্টম অধ্যায়

একাডেমিতে শিক্ষানবিশকাল অক্টোবর ১৯৬৭-সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক সময় আমি সিভিল সার্ভিসে নিয়োগপত্র পাই। পত্রটি স্বাক্ষর করেন ১৯৫৪ ব্যাচের পূর্ব পাকিস্তানি সিএসপি কর্মকর্তা এম মাহবুবুজ্জামান। এ চিঠিতে আমাদের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে কীContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» নবম অধ্যায়

রাজশাহীতে শিক্ষানবিশকাল অক্টোবর ১৯৬৮ — নভেম্বর ১৯৬৯ সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণার্থীদের নানা বিষয়ে পড়ানো হতো। কিন্তু প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করা নয়; মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচিত কর্মকর্তাদের অফিসার হওয়ার উপযুক্ত করা। সিভিলContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» দশম অধ্যায়

হবিগঞ্জে মহকুমা প্রশাসক আমি হবিগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক হিসেবে ১৯৬৯ সালের ৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করি। হবিগঞ্জ তখন ছিল সিলেট জেলার একটি মহকুমা। বাংলাপিডিয়া থেকে দেখা যায়, সিলেট জেলার একটি মহকুমা হিসেবে ১৮৭৪ সালে হবিগঞ্জ মহকুমাContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» একাদশ অধ্যায়

মুক্ত হবিগঞ্জ ৭ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল ১৯৭১ ৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। রমনা রেসকোর্স ময়দানে সেদিন অপরাহ্নে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার ডাক দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে তদানীন্তন পূর্বContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» দ্বাদশ অধ্যায়

আগরতলায় মুক্তিযুদ্ধ ১ মে ১৯৭১ থেকে জুলাই প্রথম সপ্তাহ ১৯৭১ ১ মে ১৯৭১। এদিন সকালবেলা জিপে করে ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত চা বাগান থেকে আমরা আগরতলা সার্কিট হাউসে উপস্থিত হই। সেখানে কেয়ারটেকারকে আমাদের দুজনের জন্য কক্ষContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» ত্রয়োদশ অধ্যায়

কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধ মধ্য জুলাই ১৯৭১-ডিসেম্বর ১৯৭১ কলকাতায় একনাগাড়ে ছিলাম প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস। বদলি হয়ে জুলাইয়ের মাঝামাঝি যখন কলকাতায় এলাম, তখন অনেক মুক্তিযোদ্ধাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। অনেকেই আশা করেছিলেন যে বর্ষাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে দুটি কারণে টিকতেContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» চতুর্দশ অধ্যায়

স্বাধীন বাংলাদেশ ১ জানুয়ারি ১৯৭২-সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতার আনন্দ অনেক ম্লান হয়ে আসে যখন সংবাদ আসে যে বদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণের পূর্বমুহূর্তে বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীContinue Reading

পুরানো সেই দিনের কথা

» পঞ্চদশ অধ্যায়

উপসংহার আমার আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডে একটি সাদাসিধা বালকের বড় হওয়ার কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। বালকটির জন্ম হয়েছিল নবীনগর থানার জলাভূমিতে। বাইরের জগতের সঙ্গে এ ভূমির যোগাযোগ ছিল ক্ষীণ। কয়েকটি লঞ্চ সার্ভিস এই থানা সদরকে যুক্তContinue Reading

আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি – আকবর আলি খান

» আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি

আকবর আলি খান রচিত গ্রন্থটি লেখকের অর্থনৈতিক জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা আর নিবিড় গবেষণার নির্যাস। প্রবন্ধ গুলোর বিষয়বস্তু কৌতুহল উদ্দীপক যা পাঠকে আগ্রহী করবে। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে পৌষ ১৪১৯ (জানুয়ারি ২০১৩); প্রকাশক প্রথমা প্রকাশন, ১৯Continue Reading

আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি – আকবর আলি খান

» ভূমিকা

বিংশ শতাব্দী অর্থনীতির দিগ্বিজয়ের যুগ। ঊনবিংশ শতাব্দীতেও অর্থনীতি ছিল সমাজবিজ্ঞানের দুয়োরানি। তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উনবিংশ শতাব্দীর বুদ্ধিজীবী কার্লাইল অর্থনীতির নাম দিয়েছিলেন dismal science বা হতাশাগ্রস্ত বিজ্ঞান। রিকার্ডো ও ম্যালথুসের ভুবনে অর্থনীতির লৌহকঠিন নিগড়ে শৃঙ্খলিত জীবনযাত্রায় অগ্রগতিরContinue Reading

আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি – আকবর আলি খান

» ‘আজব’ ও ‘জবর-আজব’ অর্থনীতি

সত্তরের দশকে বাংলাদেশে মাত্র তিনজন অধ্যাপক ছিলেন যাঁরা প্রত্যেকে দুটি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। এঁরা সম্মানসূচক ডিগ্রিধারী ছিলেন না; এঁদের তিনজনই কষ্ট করে অভিসন্দর্ভ রচনা করে ডিগ্রি লাভ করেন। এঁদের মধ্যে মিলের চেয়ে বৈসাদৃশ্য ছিলContinue Reading

আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি – আকবর আলি খান

» মিত্রপক্ষের গুলি

অনভিপ্রেত পরিণামের অর্থনীতি ১. ভূমিকা সরকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে প্রখ্যাত রক্ষণশীল ব্রিটিশ দার্শনিক এডমুন্ড বার্ক লিখেছেন, ‘সরকার হচ্ছে মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষের প্রজ্ঞায় সৃষ্ট একটি উদ্ভাবন’ (a contrivance of human wisdom to provide forContinue Reading

আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি – আকবর আলি খান

» সুখের লাগিয়া

সুখ ও অর্থনীতি ১. ভূমিকা দেশটির নাম সুখস্থান। এ রাজ্যে ১০০ জন সুদর্শন যুবক বাস করে। এরা প্রত্যেকে বছরে ১ কোটি টাকা আয় করে। এদের ধনুর্ভঙ্গপণ যে এরা কেউ বিয়ে করবে না। তাই এদের কোনোContinue Reading

আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি – আকবর আলি খান

» ভেগোলজি ও অর্থনীতি

‘না মিথ্যা, না সত্য’ বুদ্ধিজীবীর মর্যাদা অর্জনের জন্য কোন ধরনের গুণাবলির প্রয়োজন, সে সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। পল জনসন (১৯৮৮) ১৩ জন বুদ্ধিজীবী নিয়ে Intellectuals নামে একটি বই লিখেছেন। এই বইয়ের নির্ঘষ্টে বুদ্ধিজীবীদের নিম্নোক্ত গুণাবলিContinue Reading