সূর্য দীঘল বাড়ী

» দশ পরিচ্ছেদ

এমন দিন পড়েছে, এক মুহূর্তের জন্যেও সূর্যের মুখ দেখা যায় না। সারাদিন টিপিরটিপির বৃষ্টি পড়ে। হাসু ঘরের বার হয় না। শরীরটাও ভালো নেই। শরীরের সমস্ত গিঁঠে গিঁঠে বিশেষ করে ঘাড়ে টনটনে ব্যথা হয়েছে। হাসু মা-কেContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» এগার পরিচ্ছেদ

কুউ—কুরু—ত—কু—উ– মোরগের ডাক শুনে জয়গুন আর বিছানায় পড়ে থাকে না। তাড়াতাড়ি উঠে আগে ফজরের নামাজ পড়ে, তারপর মায়মুনকে ডাকে—গা তোল, মায়মুন। আত-মোখ ধুইয়া জলদি কইর‍্যা চুলা জ্বাল। —মিয়াভাই আহে নাই, মা? –উহুঁ। জয়গুন আর কিছুContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» বার পরিচ্ছেদ

বিকেল বেলা ঘুরে ঘুরে জয়গুন অনেক গন্ধভাদাল পাতা যোগাড় করে আনে। শহরের গিন্নিরা এ জংলী শাকের বড়া খেতে ভালবাসে। পাতাগুলো শুকিয়ে ওঠে বলে রাত্রিবেলা ওগুলো সাজিয়ে ঘরের চালার ওপরে রেখে দেয়া হয়। রাত্রির শিশির-ভেজা হয়েContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» তের পরিচ্ছেদ

মেয়ে লোকটি কে? কাসুর মনে বারবার এই প্রশ্নটাই আনাগোনা করতে থাকে। তাকে কোলে নিয়ে কত আদর করলো! আখ খেতে দিলো। দরদর করে পানি পড়ছিল তার চোখ বেয়ে! কে সে? একবার তার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হয়েছিল।Continue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» চৌদ্দ পরিচ্ছেদ

৯ই অগ্রহায়ণ। আজ মায়মুনের বিয়ে। লতিফ মিয়ার বাড়ী গিয়ে এই শুভ দিনটি জেনে এসেছিল শফির মা। লতিফ মিয়া তার পকেট পঞ্জিকা বের করে। একটা পাতার ওপর নজর দিয়ে সে আপন মনেই বলে—চন্দ্র রাজ্জা বুধ মন্ত্রী।Continue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» পনের পরিচ্ছেদ

আজকাল করিম বক্‌শ কাসুকে কড়া নজরে পাহারা দেয়। যত দিন মাঠ-ভরা পানি ছিল ততদিন কালাপানির বন্দীর মত ছিল কাসু। কিন্তু মাঠে পথ পড়ার সাথে সাথে করিম বক্‌শ চিন্তিত হয়। তার মনে আশকা জাগে—কাসু হয়তো একদিনContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» ষোল পরিচ্ছেদ

মায়মুন শ্বশুর বাড়ী থেকে চলে এসেছে। জয়গুন রাগে ফেটে পড়ে। কঠিন স্বরে জেরা করতে আরম্ভ করে—না কইয়া পলাইয়া আলি ক্যাঁ? এহন মাইনষে হুনলে ঝাটা মারব মোখে। —পলাইয়া আহি নাই মা। খেদাইয়া দিছে। —খেদাইয়া দিছে! —হ,Continue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» সতের পরিচ্ছেদ

জয়গুন আহার-নিদ্রা ভুলে দিনের পর দিন ছেলের শয্যা-পার্শ্বে কাটিয়ে দেয়। মায়মুনও থাকে মা-র কাছে। প্রত্যেক দিন খাবার সময়ে করিম বক্‌শের ইঙ্গিতে আঞ্জুমন জয়গুনের হাত ধরে টানাটানি করে খাওয়ার জন্যে। বলে—এই রহম পেডে পাথর বাইন্দা থাইক্যContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» আঠার পরিচ্ছেদ

–কারা ওইখানে? কেডা, কেডারে? শফির মা চেঁচিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।–খবরদার, ফলগাছে কোপ দিলে আজগাই ঠাডা পড়ব মাতায়, কইয়া রাখলাম। কে একজন বলে—আমরা কিনছি এই গাছ। জিগাও গিয়া হাসুর মা-রে। শফির মা রাগে গরগর করতেContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» ঊনিশ পরিচ্ছেদ

সূর্য-দীঘল বাড়ীর ভূত ক্ষেপেছে। রাতে জয়গুনের ঘরের বেড়া ও চালের ওপর ঢিল পড়তে শুরু করে। হাসু, কাসু ও মায়মুন চিৎকার করে ওঠে, শেষে গলা দিয়ে চিৎকারও বের হয় না। ভয়ে তারা মা-কে জড়িয়ে ধরে। ওদিকেContinue Reading

সূর্য দীঘল বাড়ী

» শব্দ-পরিচিতি

সঙ্কেত অ-ক্রি – অসমাপিকা ক্রিয়া অব্য – অব্যয় আ. – আরবি ইং – ইংরেজি উ. – উর্দু ক্রি – ক্রিয়া ক্রিবিণ – ক্রিয়া-বিশেষণ তা. – তামিল তু. – তুর্কীয় ভাষা দ্র – দ্রষ্টব্য দেশী –Continue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» পদ্মার পলিদ্বীপ

পদ্মার পলিদ্বীপ কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস এবং চতুর্থ প্রকাশিত গ্রন্থ। ‘মুক্তধারা’ গ্রন্থটি প্রকাশ করে ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে। এই সংস্করণে প্রদত্ত ছোট্ট ভূমিকা থেকে জানা যায় লেখক এটি লিখতে শুরু করেছিলেন ১৯৬০ সালে, আর লেখাContinue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» উৎসর্গ ও অভিমত

উৎসর্গ বড় ভাই মোহাম্মদ ইসমাইল-এর স্মৃতির উদ্দেশে অভিমত …একখানা উচ্চাঙ্গের উপন্যাস। ইহার অনেক জায়গা একাধিকবার পড়িয়াছি। বিষয়বস্তুর অভিনবত্ব ছাড়িয়াই দিলাম।…এত ব্যাপক, বিস্তৃত, জটিল অথচ সুসংহত এবং স্বচ্ছন্দ কাহিনী কমই পড়িয়াছি।…এই উপন্যাসে নানা কাহিনীর সুষম সমাবেশContinue Reading

ফেরারি

» ফেরারী

লিফটের সামনে বিরাট লাইন। পাশাপাশি দুটো লিফট, কিন্তু একটার বুকে আউট অফ অর্ডার-এর লকেট ঝোলানো। ফলে লাইন লম্বা হয়েছে। স্বপ্নেন্দু রুমালে মুখ মুছতে মুছতে গেট পেরিয়ে থমকে দাঁড়াল। যাঃ শালা! এখন ঘড়িতে এগারোটা বাজতে দশ।Continue Reading

কালোচিতার ফটোগ্রাফ

» কালোচিতার ফটোগ্রাফ

এ যেন স্বর্গের সিঁড়ি, উঠছে তো উঠছেই, শেষ আর হয় না। এই পাহাড়ি শহরটার নিচ থেকে ওপরে শর্টকাট পথ তৈরি করতে এমন বেশ কয়েকটা সিঁড়ি ছড়িয়ে আছে এখানে ওখানে। বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে বড় প্যাকেটেContinue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» এক

পুর্বের আকাশ ফরসা হয়ে এসেছে। টুকরো টুকরো মেঘের ওপর লাল হলুদের পোঁচ। দপদপ করে জ্বলছে শুকতারা। ঐদিকে তাকিয়ে ফজল বলে, ‘ধলপহর দিছেরে নূরু, পোয়াত্যা তারা ওঠেছে। আরো জলদি করণ লাগব।’ দুজনেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সূর্যContinue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» দুই

খুনের চর। দশ বছর আগে একবার জেগেছিল এ চর। তখন নাম ছিল লটাবনিয়া। এ চরের দখল নিয়ে মারামারি হয়েছিল দুই দলে। দুই দলের দুই প্রধান ছিল এরফান মাতব্বর আর চেরাগ আলী সরদার। দুই দলের পাঁচজনContinue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» তিন

মান্দ্রা আর শিলপারনে ‘খবরিয়া’ পাঠিয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দিয়ে ফজল বাড়ি ফিরে আসে। এসেই সে নূরুর খোঁজ করে। তার মনটা চাতকের মতো তৃষ্ণার্ত হয়ে রয়েছে। নূরু ফিরে এলে শোনা যাবে মোল্লাবাড়ির খবরাখবর। ওকে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেসContinue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» চার

উত্তরে মূলভাওড়, দক্ষিণে হোগলাচর, পুবে মিত্রের চর আর পশ্চিমে ডাইনগাঁও–এই চৌহদ্দির মধ্যে ছোট বড় অনেকগুলো চর। চারদিকে জলবেষ্টিত পলিদ্বীপ। এগুলোর উত্তর আর দক্ষিণদিক দিয়ে দ্বীপবতী পদ্মার দুটি প্রধান স্রোত পুব দিকে বয়ে চলেছে। উত্তর দিকেরContinue Reading

পদ্মার পলিদ্বীপ

» পাঁচ

আশ্বিন মাসের শেষ পক্ষ। চরটার কোনো কোনো অংশ ভাটার সময় জেগে ওঠে। জোয়ারের সময় সবটাই ডুবে যায় আবার। এ পানির মধ্যে বাঁশের খুঁটি ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি ঝুপড়ি। টুঙ্গির মতো অস্থায়ী ঐ ঝুপড়িগুলোরইContinue Reading