ভাটির দেশ

» » শোনা

ডলফিনগুলোর ধীর নিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দে একটু ঝিমুনি মতো এসে গিয়েছিল পিয়ার। হঠাৎ যেন স্বপ্নের মধ্যে থেকে ভেসে আসা প্রচণ্ড একটা গুমগুম আওয়াজে চটকাটা ভেঙে গেল। চোখ খুলে উঠে বসতে বসতেই আবার চারদিক চুপচাপ। প্রতিধ্বনির রেশটুকুওContinue Reading

ভাটির দেশ

» » আলোড়ন

হঠাৎ দপদপ করতে করতে নিভে গেল টেবিলের ওপরের আলোটা। তখনও মেসোর ঘরে বসে একমনে লেখাটা পড়ছিল কানাই। একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে খানিকক্ষণ বসে রইল চুপ করে। বাইরে জেনারেটারের ধকধক শব্দটা কমতে কমতে মিলিয়ে গেল। একটা নিঝুমContinue Reading

ভাটির দেশ

» » গর্জনতলা

শেষবার নদী পেরোনোর পর ফকিরের নৌকো এসে থামল অগভীর জলে, পাড় থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে। পিয়ার আন্দাজ একেবারে ঠিক প্রমাণিত হয়েছে, সন্দেহের কোনও অবকাশই নেই আর–সাউন্ডিং-এর ফলাফল অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে বাঁকের মুখে, নদীর কনুইয়েরContinue Reading

ভাটির দেশ

» » ভ্রমণকাহিনি

গেস্ট হাউসে ফিরে কানাই দেখল টিফিন ক্যারিয়ারে করে দুপুরের খাবার রেখে গেছে। ময়না। সাদামাটা খাবার ভাত, মুসুরির ডাল, একটা চচ্চড়ি আলু, মাছের কাটা আর কী একটা শাক দিয়ে। শাকটা ঠিক চিনতে পারল না কানাই। আরContinue Reading

ভাটির দেশ

» » কাঁকড়া

ঠিক দুপুর নাগাদ, জল বেশ খানিকটা বেড়ে ওঠার পর পরিষ্কারই বোঝা গেল আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে শুশুকগুলো। শেষের কয়েকবার মা আর ছানার জুড়িটাকেই শুধু দেখতে পেল পিয়া। জলের ওপর নানারকম সব কসরত দেখাল তারা।Continue Reading

ভাটির দেশ

» » ময়না

কানাই নীলিমার দরজায় গিয়ে আবার যখন কড়া নাড়ল তখন দুপুর গড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বিছানা থেকে উঠে মাসি জামাকাপড় পালটে নিয়েছে দেখে ভাল লাগল ওর। “আরে কানাই,” নীলিমা ডাকল হাসিমুখে, “আয় আয়, ভেতরে আয়।” সকালেরContinue Reading

ভাটির দেশ

» » হঠাৎ আলো

দুপুরের দিকে জল যখন বাড়তে শুরু করল, পিয়া লক্ষ করল আগের মতো অত ঘন ঘন আর দেখা যাচ্ছে না ডলফিনগুলোকে। ডেটাশিটটা এক ঝলক দেখে নিঃসন্দেহ হল ও জোয়ার আসার সাথে সাথে মনে হচ্ছে চারিদিকে ছড়িয়েContinue Reading

ভাটির দেশ

» » মরিচঝাঁপি

সবে ভোর হয়েছে। জানালায় পর্দা নেই, তাই নরম রোদে ধুয়ে যাচ্ছে ঘরটা। সাতসকালেই ঘুম ভেঙে গেল কানাইয়ের। মুখহাত ধুয়ে জামাকাপড় পালটে একটু বাদে নীচে নেমে এল ও। টোকা দিল নীলিমার দরজায়। “কে?” কেমন যেন কাঁপাContinue Reading

থানা থেকে আসছি

» তৃতীয় অঙ্ক

(ঐ একই ঘর। দ্বিতীয় অঙ্কের যেখানে শেষ, তৃতীয় অঙ্কের সেখানে আরম্ভ। তাপসের দিকে সকলে তাকাইয়া আছেন) তাপস॥ আপনি বোধহয় এতক্ষণে সবই জানতে পেরেছেন—না? তিনকড়ি॥ শুধু আমি নয় তাপসবাবু—এঁরা সবাই— (তাপস দরজা বন্ধ করিয়া দিয়া অগ্রসরContinue Reading

থানা থেকে আসছি

» দ্বিতীয় অঙ্ক

(প্রথম অঙ্কের শেষই দ্বিতীয় অঙ্কের আরম্ভ। ঘরের ভিতর শীলা ও অমিয়। দরজার নিকট তিনকড়িবাবু।) তিনকড়ি॥ (শীলা ও অমিয়র মুখের উপর অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া, দরজা খোলা রাখিয়া অমিয়র দিকে অগ্রসর হইয়া আসিতে আসিতে) — তারপর,Continue Reading

থানা থেকে আসছি

» প্রথম অঙ্ক

[চন্দ্রমাধব সেনের বাড়ি। সুসজ্জিত ড্রয়িং-রুম। পর্দা উঠিলে দেখা গেল সোফা, কাউচ ইত্যাদিতে বসিয়া চন্দ্রমাধব সেন, শ্রীমতী রমা, শীলা, তাপস ও অমিয় গল্প করিতেছেন। সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে। ঘড়িতে সাতটা বাজে] চন্দ্রমাধব॥ আচ্ছা শীলা বল তো, আজকেরContinue Reading

থানা থেকে আসছি

» থানা থেকে আসছি

B. Priestleyর “An Inspector Calls” নাটক-অনুপ্রাণিত “থানা থেকে আসছি” স্বনামধন্য নাট্যকার Mr. J. B. Priestleyর “An Inspector Calls” নাটকের অনুসরণে রচিত। ঋণ স্বীকার করবার অনুমতি দিয়ে Mr. J. B. Priestley আমাকে কৃতজ্ঞতার ঋণে ঋণী করেContinue Reading

নীলবসনা সুন্দরী

» » নীলবসনা সুন্দরী

‘নীল বসনা সুন্দরী’ পাঁচকড়ি দে’র একটি সাড়া জাগানো উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দে। ১৩১১ বঙ্গাব্দের ১৯শে মাঘ ’বঙ্গভূমি’ পত্রিকায় উপন্যাসটি সম্বন্ধে লেখা হয়েছে— “‘নীলবসনা সুন্দরী’ বঙ্গ সাহিত্যের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ ডিটেক্টিভ ঔপন্যাসিক শ্রীযুক্ত পাঁচকড়ি দে প্রণীত।Continue Reading

ভাটির দেশ

» » স্পন্দন

পূর্ণিমা আসতে এখনও ক’দিন বাকি। চাঁদের তিন ভাগ মাত্র দেখা যাচ্ছে। তাও এত উজ্জ্বল জ্যোৎস্না এসে পড়েছে জলের ওপর, মনে হচ্ছে নদীর ভেতর থেকে যেন আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা পড়েছে রাতের দিকটায়, কিন্তুContinue Reading

ভাটির দেশ

» » বনবিবির মহিমা

কুসুমের বাড়ি ছিল কাছেই একটা দ্বীপে। সাতজেলিয়ায়। ওর বাবা মারা গিয়েছিল জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে। ঘটনাটা ঘটেছিল বনবিভাগের নিষিদ্ধ এলাকায়, আর ওর বাবার কোনও পারমিটও ছিল না। তাই কোনও ক্ষতিপূরণ পায়নি কুসুমের মা। সংসার প্রায়Continue Reading