» » পাঁচ

সকৌতুক অনুভব করছিলাম, চাকরির অহিফেন এরই মধ্যে মগজে তার বিষক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। ছ’মাস আগেও এ অবস্থা ছিল কল্পনার অতীত। ভেবে হাসি পায়, বড়বাবু- সর্বস্ব কেরানীকুলকে কত না অবজ্ঞার চোখে দেখেছি। আর আজ আমার কিContinue Reading

» » চার

নিছক ধনাধিকারই ঐশ্বর্য নয়। ঐশ্বর্যের পরিচয় তার বহিঃপ্রকাশ। এক সিন্দুক কোহিনূর আর এক ডজন ময়ূর-সিংহাসন নিয়ে যদি আপনি হিমালয়ের কোনো নিভৃত গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন, পৃথিবীর ধনাঢ্যদের তালিকায় আপনার নাম অনুক্ত থেকে যাবে। কিন্তু রাতারাতিContinue Reading

» » তিন

আমাদের মোক্ষদা-মাসীকে নিশিতে পেয়েছিল; আমাকে পেল হাসিতে। মাসীকে দেখেছি, নিশির ডাকে ঘুরছেন ফিরছেন, কিন্তু চেতনা নিদ্রাচ্ছন্ন। আমিও তেমনি লিখছি, পড়ছি, কাজ করছি, কিন্তু সমস্ত মনটা মোহাচ্ছন্ন। সে শুধু উন্মুখ হয়ে আছে একটি অলক্ষ্য ‘সুরের পানে,Continue Reading

» » দুই

জি. বি. এস.-এর নাটকে যেমন প্রিফেস্, সরকারী চাকরীর তেমনি প্রোবেশন। মূল বস্তুর পুরোপুরি রসগ্রহণ করতে হলে উভয়ই অবশ্য লঙ্ঘনীয়। কিন্তু লঙ্ঘন-পথ কিঞ্চিৎ কণ্টকময়। সকলের কথা জানি না। প্রোবেশনার জীবনের ইতিহাস বিচিত্র হওয়াই স্বাভাবিক। নিজের সম্বন্ধেContinue Reading

» » এক

কর্ণজননী কুন্তীদেবী তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে সাগর-তরঙ্গে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। মহাভারতের এই করুণ কাহিনী আজও আমাদের অশ্রুসিক্ত করে তোলে। কিন্তু আমাদের মাতৃস্বরূপিণী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর যে শত শত সন্তান প্রসব করেই অকূল পাথারে ভাসিয়ে দেন, তাদের জন্যেContinue Reading

» » প্রথম পর্ব

‘লৌহকপাট’ সম্পর্কে একটা খবর হয়তো কিছু কিছু পাঠকের জানা নেই। দেশ পত্রিকার এককালের সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তাঁর ’হীরের নাকছাবি’ বইয়ে এটির উল্লেখ করেছেন। সাগরময় ঘোষের স্কুলের এক বন্ধু তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তার একটি পাণ্ডুলিপি এক সময়েContinue Reading

» অবতরণিকা

আজকের দিনে লেখক মাত্রেই সাহিত্যিক এবং পাঠক মাত্রেই সমালোচক। অতএব দুশ্চিন্তার কারণ নেই কোনো তরফেই। একদিকে রইল আমার লেখনী, আরেক দিকে রইল আপনার রসনা; আর উভয়ের মধ্যে রইল যথেচ্ছ উদগিরণের অবাধ অধিকার। আগের দিনে সাহিত্যেরContinue Reading

» গ্রন্থকারের নিবেদন

সেকালে সাহিত্যের রসবিচার ও মাননির্ণয় হত রাজদরবারে, একালে হয় পাঠক- দরবারে। সেদিন রাজা এবং অন্তরালবর্তিনী রানীর সামনে বসে সাহিত্যিক তাঁদের চিত্তবিনোদনের চেষ্টা করতেন, আজ তাঁর সামনে অগণিত রাজা-রানী। তাঁদের মনোরঞ্জন অসাধনীয়, অন্তত আমার কাছে। সেContinue Reading

» লৌহ কপাট

জরাসন্ধ ছদ্মনামের আড়ালে আসল মানুষটি হলেন চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯০২-১৯৮১)। অর্থনীতিতে এম.এ পাশ করে দার্জিলিং-এ ডেপুটি জেলার হিসেবে কর্মজীবন সুরু করেন। তিরিশ বছর নানা জায়গায় কাজ করার পর ১৯৬০ সালে আলীপুর সেণ্ট্রাল জেলের সুপারিন্টেনডেন্ট হিসেবে অবসরContinue Reading

কল্লোল যুগ

» সাত

ঘোর বর্ষায় পথ-ঘাট ডুবে গেলেও আড্ডা জমাতে আসতে হবে তোমাকে কল্লোল: আপিসে—তা তুমি ভবানীপুরেই থাকো বা বেলেঘাটায়ই থাকে। আর সোমনাথ আসত সেই কুমোরটুলি থেকে। সোমনাথের যেটা বাড়ি তার নিচেটা চালের আড়ত, সারবাঁধা চালের বস্তায় ভর্তি।Continue Reading

কল্লোল যুগ

» ছয়

‘আপনি যাবেন না?’ ‘তোমার কি মনে হয়?’ দুই চোখে কথা-ভরা হাসি নিয়ে তাকালেন দীনেশদা। উজ্জ্বল দৃষ্টির মধ্য দিয়ে এমন বন্ধুতাপূর্ণ হাসি—এ আর দেখিনি কোনোদিন। সে-হাসিতে কোমল স্নেহের স্পর্শ মাখানো। পুঁজিপাটা তাঁর কিছুই ছিল না—শুধু হৃদয়ভরাContinue Reading

অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র

» আমাজনের গহনে

ভূমিকা দুনিয়ায় কত জায়গাতেই তো যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সাধ থাকলেই সাধ্যে, কুলোয় না। তাই মনে মনে বেড়াতে যেতে পারি এমন সুযোগ একমাত্র যাতে পাওয়া যায় তেমন বই পেলে আর কোনো দুঃখ থাকে না। কিন্তুContinue Reading

অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র

» মুঙ্গু

ভূমিকা কোনো বাঙালি ছেলের পক্ষে আফ্রিকা যাওয়াই একটা বিরাট অ্যাডভেঞ্চার। তার ওপরে সেখানে গিয়ে যদি তাকে সব লোমহর্ষক ঘটনার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে হয়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! ডার-এস-সালাম পৌঁছনোর কিছুদিন পর থেকেই আমার জীবনে যেসবContinue Reading

অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র

» অ্যাডভেঞ্চার সমগ্ৰ

‘সন্দেশ’ ও ‘কিশোর ভারতী’ পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ছয়টি উপন্যাস ও দু’বড়গল্প নিয়ে সঙ্কলন করা হয়েছে ‘অজেয় রায়ে’র ‘অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র’; যদিও লেখকের আরও অনেক অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যা এই সঙ্কলনে স্থান লাভ করেনি।Continue Reading

কল্লোল যুগ

» পাঁচ

কশ্চিৎ কান্তা—বিরহগুরুণা—স্বাধিকারপ্রমত্তঃ শাপেনাস্তং—গমিতমহিমা—বৰ্ষভোগ্যেন ভর্ত্তুঃ— ললিতগম্ভীর সুমধুর কণ্ঠে একটু বা টেনে-টেনে আবৃত্তি করতে-করতে যে যুবকটি “কল্লোল”-আফিসে প্রবেশ করল প্রথম দর্শনেই তাকে ভালোবেসে ফেললাম। ভালোবাসতে বাধ্য হলাম বলা উচিত। এমন হৃদয়স্পর্শী তার ব্যক্তিত্ব। মাথাভরা দীর্ঘ উসকো-খুসকো চুল,Continue Reading

কল্লোল যুগ

» চার

কাঁচা মাটিতে নামের দাগ কতক্ষণ বেঁচে থাকবে? গোকুলের পকেট থেকে ভিজিটিং কার্ড বেরুল। কিন্তু তার পৃষ্ঠে ললাটে নিজেদের নাম লিখি কি দিয়ে? কলম? কারুরই কলম নেই। পেন্সিল? দাঁড়াও, বাড়ির ভিতর থেকে জোগাড় করছি একটা। পেন্সিলContinue Reading

ভাটির দেশ

» » অনুবাদ প্রসঙ্গে

তারপর, যেতে যেতে যেতে যেতে এক নদীর সঙ্গে দেখা। এক নয়, অনেক। শত শত শাখাপ্রশাখা নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে দখিন বাংলার সীমানা জুড়ে। ছোট বড় একশোরও বেশি দ্বীপ জড়িয়ে, ডাইনে ঘুরে বয়ে বেঁকে এই মোহনা সেইContinue Reading

ভাটির দেশ

» » লেখকের কথা

এই উপন্যাসের সব চরিত্রই কাল্পনিক। প্রধান দুই পটভূমি–লুসিবাড়ি এবং গর্জনতলারও বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। কাহিনিতে উল্লিখিত অন্য কয়েকটা স্থাননাম, যেমন ক্যানিং, গোসাবা, সাতজেলিয়া, মরিচঝাঁপি এবং এমিলিবাড়ি, অবশ্য লেখকের কল্পনাপ্রসূত নয়। উপন্যাসে যেমনভাবে  লেখা হয়েছে, সেইভাবেইContinue Reading

ভাটির দেশ

» » বাড়ি : একটি উপসংহার

মাসখানেক কেটে গেছে ঝড়ের পর। একদিন দুপুরে নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছে নীলিমা, এমন সময় হাসপাতাল থেকে একজন নার্স ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিল বাসন্তীর লঞ্চ থেকে ‘পিয়াদিদিকে’ নামতে দেখেছে ও, এই ট্রাস্টের অফিসের দিকেইContinue Reading

ভাটির দেশ

» » পরদিন

খুবই ধীর গতিতে চলছিল মেঘা। গর্জনতলার দিকে দু’ভাগ পথ এগোনোর পর দূরে একটা ডিঙি চোখে পড়ল–গত কয়েক ঘণ্টায় এই প্রথম। ঝকঝকে পরিষ্কার দিন; একটু ঠান্ডা আছে, তবে হাওয়া নেই। ঝড় কেটে যাওয়ার পর জল আস্তেContinue Reading