সাম্যবাদী » মানুষ
গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান্ । নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। – ‘পূজারি দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজারContinue Reading
গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান্ । নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। – ‘পূজারি দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজারContinue Reading
সাম্যের গান গাই!– যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই। এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনিকো কে আছে পুরুষ-নারী? আমরা ত ছার;–পাপে পঙ্কিল পাপীদের কাণ্ডারি! তেত্রিশ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ সে টলমল, দেবতার পাপ-পথContinue Reading
কে তোমায় বলে ডাকাত বন্ধু, কে তোমায় চোর বলে? চারিদিকে বাজে ডাকাতি ডঙ্কা, চোরেরই রাজ্য চলে! চোর-ডাকাতের করিছে বিচার কোন সে ধর্মরাজ? জিজ্ঞাসা করো, বিশ্ব জুড়িয়া কে নহে দস্যু আজ? বিচারক! তব ধর্মদণ্ড ধরো, ছোটোদেরContinue Reading
কে তোমায় বলে বারাঙ্গনা মা, কে দেয় থুতু ও-গায়ে? হয়ত তোমায় স্তন্য দিয়াছে সীতা-সম সতী মায়ে। না-ই হলে সতী, তবু তো তোমরা মাতা-ভগিনীরই জাতি; তোমাদের ছেলে আমাদেরই মতো, তারা আমাদের জ্ঞাতি; আমাদেরই মতো খ্যাতি যশContinue Reading
মিথ্যা বলেছ বলিয়া তোমায় কে দিল মনস্তাপ? সত্যের তরে মিথ্যা যে বলে স্পর্শে না তারে পাপ। গোটা সত্যটা শুধু তো সত্যকথা বলাতেই নাই, মিথ্যা কয়েও সত্যনিষ্ঠ হতে পারি আমরাই! সত্যবাক সে বড়ো কিছু নয়, কজনContinue Reading
সাম্যের গান গাই– আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই! বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি, অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী। নরককুন্ডContinue Reading
সাম্যের গান গাই যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই। এ প্রশ্ন অতি সোজা, এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা? অদ্ভুত দর্শন– এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন! প্রজা হয় শুধুContinue Reading
গাহি সাম্যের গান– বুকে বুকে হেথা তাজা সুখ ফোটে, মুখে মুখে তাজা-প্রাণ! বন্ধু, এখানে রাজা-প্রজা নাই, নাই দরিদ্র-ধনী, হেথা পায় নাকো কেহ খুদ-ঘাঁটা, কেহ দুধ-সর-ননী। অশ্ব-চরণে মোটর-চাকায় প্রণমে না হেথা কেহ, ঘৃণা জাগে নাকো সাদাদেরContinue Reading
দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে, বাবু সাব এসে চড়িলContinue Reading
‘পূবের হাওয়া’ প্রকাশের কালক্রমে কাজী নজরুল ইসলামের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশকাল আশ্বিন ১৩৩২ বঙ্গাব্দ (অক্টোবর ১৯২৫)। প্রকাশক মজিবল হক, বি,কম্, ভোলা বরিশাল। মুদ্রাকর মজিবল হক, বি,কম্। ওরিয়েণ্টাল প্রিণ্টার্স লিমিটেড, ২৬/৯/১এ, হ্যারিসন রোড, কলিকাতা। পৃষ্ঠা: ২+৫০।Continue Reading
স্মরণে আজ নতুন করে পড়ল মনে মনের মতনে এই শাঙন সাঁঝের ভেজা হাওয়ায়, বারির পতনে। কার কথা আজ তড়িৎ-শিখায় জাগিয়ে গেল আগুন লিখায়, ভোলা যে মোর দায় হল হায় বুকের রতনে। এই শাঙন সাঁঝের ভেজাContinue Reading
লক্ষ্মী আমার! তোমার পথে আজকে অভিসার, অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার। দিনের পর দিন গিয়েছে হয়নি আমার ছুটি, বুকের ভিতর ব্যর্থ কাঁদন পড়ত বৃথাই লুটি বসে ঢুলত আঁখি দুটি! আহা আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া লাগলContinue Reading
বাদলা-কালো স্নিগ্ধা আমার কান্ত এল রিমঝিমিয়ে, বৃষ্টিতে তার বাজল নুপূর পায়জোরেরই শিঞ্জিনী যে। ফুটল উষার মুখটি অরুণ, ছাইল বাদল তাম্বু ধরায়; জমল আসর বর্ষা-বাসর, লাও সাকি লাও ভর-পিয়ালায়। ভিজল কুঁড়ির বক্ষ-পরাগ হিম-শিশিরের আমেজ পেয়ে হমদম!Continue Reading
মূক করে ওই মুখর মুখে লুকিয়ে রেখো না, ওগো কুঁড়ি, ফোটার আগেই শুকিয়ে থেকো না! নলিন নয়ান ফুলের বয়ান মলিন এদিনে রাখতে পারে কোন সে কাফের আশেক বেদীনে? রুচির চারু পারুল বনে কাঁদচ একা জুঁই, বনেরContinue Reading
মহান তুমি প্রিয় এই কথাটির গৌরবে মোর চিত্ত ভরে দিয়ো॥ অনেক আশায় বসে আছি যাত্রা-শেষের পর তোমায় নিয়েই পথের পারে বাঁধব আমার ঘর– হে চির-সুন্দর! পথ শেষ সেই তোমায় যেন করতে পারি ক্ষমা, হে মোরContinue Reading
নিরুদ্দেশের পথে যেদিন প্রথম আমার যাত্রা হল শুরু নিবিড় সে কোন্ বেদনাতে ভয়-আতুর এ বুক কাঁপল দুরু দুরু। মিটল না ভাই চেনার দেনা, অমনি মুহুর্মুহু ঘর-ছাড়া ডাক করলে শুরু অথির বিদায়-কুহু – উহু উহু উহু!Continue Reading
নাম-হারা তুই পথিক শিশু এলি অচিন দেশ পারায়ে। কোন নামের আজ পরলি কাঁকন? বাঁধনহারার কোন্ কারা এ? আবার মনের মতন করে কোন নামে বল ডাকব তোরে? পথভোলা তুই এই সে ঘরে >ছিলি ওরে, এলি ওরেContinue Reading
আয় লো সই খেলব খেলা ফাগের ফাজিল পিচকিরিতে। আজ শ্যামে জোর করব ঘায়েল হোরির সুরের গিটকিরিতে। বসন ভূষণ ফেল লো খুলে, দে দোল দে দোদুল দুলে, কর লালে লাল কালার কালো আবির হাসির টিটকিরিতে॥Continue Reading
আরে আরে সখী বারবার ছি ছি ঠারত চঞ্চল আঁখিয়া সাঁবলিয়া। দুরু দুরু গুরু গুরু কাঁপত হিয়া উরু হাথসে গির যায় কুঙ্কুম-থালিয়া॥ আর না হোরি খেলব গোরি আবির ফাগ দে পানি মে ডার হা প্যারি–Continue Reading
গুলশন কো চুম চুম কহতে বুলবুল, রুখসারা সে বে-দরদি বোরকা খুল! হাঁসতি হ্যায় বোস্তাঁ, মস্ত্ হো যা দোস্তাঁ, শিরি শিরাজি সে যা বেহোশ জাঁ। সব কুছ আজ রঙিন হ্যায় সব কুছ মশগুল, হাঁস্তি হ্যায় গুল হো কর দোজখ বিলকুল হা রে আশেক মাশুক কি চমনোঁ মে ফুলতাContinue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬