Author: কাজী নজরুল ইসলাম

  • তরুণের গান

    তরুণের গান

    তরুণের গান

    যে দুর্দিনের নেমেছে বাদল তাহারি বজ্র শিরে ধরি

    ঝড়ের বন্ধু, আঁধার নিশীথে ভাসায়েছি মোরা ভাঙা তরী॥

    মোদের পথের ইঙ্গিত ঝলে বাঁকা বিদ্যুতে কালো মেঘে,

    মরু-পথে জাগে নব অঙ্কুর মোদের চলার ছোঁয়া লেগে,

    মোদের মন্ত্রে গোরস্থানের আঁধার ওঠে গো প্রাণ জেগে,

    দীপ-শলাকার মত মোরা ফিরি ঘরে ঘরে আলো সঞ্চরি॥

    যে দুর্দিনের নেমেছে বাদল তাহারি বজ্র শিরে ধরি

    ঝড়ের বন্ধু, আঁধার নিশীথে ভাসায়েছি মোরা ভাঙা তরী॥

    নব জীবনের ফোরাত-কূলে গো কাঁদে কারবালা তৃষ্ণাতৃর,

    ঊর্ধ্বে শোষণ-সূর্য, নিম্নে তপ্ত বালুকা ব্যথা-মরুর।

    ঘিরিয়া য়ুরোপ-এজিদের সেনা এপার, ওপার, নিকট, দূর

    এরি মাঝে মোরা আব্বাস সম পানি আনি প্রাণ পণ করি॥

    যে দুর্দিনের নেমেছে বাদল তাহারি বজ্র শিরে ধরি

    ঝড়ের বন্ধু, আঁধার নিশীথে ভাসায়েছি মোরা ভাঙা তরী॥

    যখন জালিম ফেরাউন চাহে মুসা ও সত্যে মারিতে, ভাই,

    নীল দরিয়ায় মোরা তরঙ্গ, বন্যা আসিয়া তারে ডুবাই;

    আজও নমরুদ ইব্রাহিমেরে মারিতে চাহিছে সর্বদাই,

    আনন্দ-দূত মোরা সে আগুনে ফোটাই পুষ্প-মঞ্জরী॥

    যে দুর্দিনের নেমেছে বাদল তাহারি বজ্র শিরে ধরি

    ঝড়ের বন্ধু, আঁধার নিশীথে ভাসায়েছি মোরা ভাঙা তরী॥

    ভরসার গান শুনাই আমরা ভয়ের ভূতের এই দেশে,

    জরাজীর্ণেরে যৌবন দিয়া সাজাই নবীন বর-বেশে,

    মোদের আশার ঊষার রঙে গো রাতের অশ্রু যায় ভেসে,

    মশাল জ্বালিয়া আলোকিত করি ঝড়ের নিশীথ-শর্বরী॥

    যে দুর্দিনের নেমেছে বাদল তাহারি বজ্র শিরে ধরি

    ঝড়ের বন্ধু, আঁধার নিশীথে ভাসায়েছি মোরা ভাঙা তরী॥

    নূতন দিনের নব যাত্রীরা চলিবে বলিয়া এই পথে

    বিছাইয়া যাই আমাদের প্রাণ, সুখ, দুখ, সব আজি হতে।

    ভবিষ্যতের স্বাধীন পতাকা উড়িবে যে-দিন জয়-রথে

    আমরা হাসিব দূর তারা-লোকে, ওগো তোমাদের সুখ স্মরি॥

    যে দুর্দিনের নেমেছে বাদল তাহারি বজ্র শিরে ধরি

    ঝড়ের বন্ধু, আঁধার নিশীথে ভাসায়েছি মোরা ভাঙা তরী॥

  • চল চল চল

    চল চল চল

    চল চল চল

    মার্চের সুর

    কোরাস :

    চল্ চল্ চল্!

    ঊর্ধ্ব-গগনে বাজে মাদল,

    নিম্নে উতলা ধরণী-তল,

    অরুণ প্রাতের তরুণ দল,

    চল্ রে চল্ রে চল্।

    চল্ চল্ চল্॥

    উষার দুয়ারে হানি আঘাত,

    আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,

    আমরা টুটাব তিমির রাত,

    বাধার বিন্ধ্যাচল।

    নব নবীনের গাহিয়া গান,

    সজীব করিব মহাশ্মশান,

    আমরা দানিব নতুন প্রাণ,

    বাহুতে নবীন বল।

    চল রে নৌ-জোয়ান,

    শোন রে পাতিয়া কান–

    মৃত্যু-তোরণ-দুয়ারে-দুয়ারে

    জীবনের আহ্বান।

    ভাঙরে ভাঙ আগল,

    চল্ রে চল্ রে চল্।

    চল্ চল্ চল্॥

    কোরাস:

    ঊর্ধ্বে আদেশ হানিছে বাজ–

    শহীদি-ঈদের সেনারা সাজ,

    দিকে দিকে চলে কুচকাওয়াজ

    খোল রে নিদ-মহল!

    কবে সে খোয়ালি বাদশাহি

    সেই সে অতীতে আজো চাহি

    যাস মুসাফির গান গাহি

    ফেলিস অশ্রুজল।

    যাক রে তখ্‌ত্-তাউস

    জাগরে জাগ বেহুঁশ!

    ডুবিল রে দেখ কত পারস্য

    কত রোম গ্রীক রুশ,

    জাগিল তারা সকল,

    জেগে ওঠ হীনবল!

    আমরা গড়িব নূতন করিয়া

    ধুলায় তাজমহল!

    চল্ চল্ চল্॥

  • বাজল কি রে ভোরের সানাই

    বাজল কি রে ভোরের সানাই

    বাজল কি রে ভোরের সানাই

    বাজ্‌ল কি রে ভোরের সানাই
    নিঁদ্‌-মহলার আঁধার-পুরে
    শুন্‌ছি আজান গগন-তলে
    আঁধার-রাতের মিনার-চূড়ে॥
    সরাই-খানার্‌ যাত্রীরা কি
    ‘বন্ধু জাগো’ উঠ্‌ল হাঁকি’?
    নীড় ছেড়ে ঐ প্রভাত-পাখি
    গুলিস্তানে চল্‌ল উড়ে’॥
    তীর্থ-পথিক্‌ দেশ-বিদেশের
    আর্‌ফাতে আজ জুট্‌ল কি ফের,
    ‘লা শরীক আল্লহু’ মন্ত্রের
    নাম্‌ল কি বান পাহাড় ‘তূরে’॥
    আজকে আবার কা’বার পথে
    ভিড় জমেছে প্রভাত হ’তে,
    নামল কি ফের্ হাজার স্রোতে
    ‘হেরার’ জ্যোতি জগৎ জুড়ে॥
    আবার ‘খালেদ’ ‘তারেক’ ‘মুসা’
    আনল কি খুন-রঙিন ভূষা,
    আস্‌ল ছুটে’ হাসীন ঊষা
    নও-বেলালের শিঁরিন সুরে॥
  • রীফ-সর্দার

    রীফ-সর্দার

    রীফ-সর্দার

    তোমারে আমরা ভুলেছি আজ,

    হে নবযুগের নেপোলিয়ন,

    কোন সাগরের কোন সে পার

    নিবু-নিবু আজ তব জীবন।

    তোমার পরশে হল মলিন

    কোন সে দ্বীপের দীপালি-রাত,

    বন্দিছে পদ সিন্ধুজল,

    ঊর্ধ্বে শ্বসিছে ঝঞ্ঝাবাত।

    তব অপমানে, বন্দি-রাজ,

    লজ্জিত সারা নর-সমাজ,

    কৃতঘ্নতা ও অবিশ্বাস

    আজি বীরত্বে হানিছে লাজ।

    মোরা জানি আর জানি জগৎ

    শত্রু তোমারে করেনি জয়,

    পাপ অন্যায় কপট ছল

    হইয়াছে জয়ী, শত্রু নয়!

    সম্মুখে রাখি মায়া-মৃগ

    পশ্চাৎ হতে হানে শায়ক–

    বীর নহে তারা ঘৃণ্য ব্যাধ

    বর্বর তারা নর-ঘাতক।

    হে মরু-কেশরী আফ্রিকার!

    কেশরীর সাথে হয়নি রণ,

    তোমারে বন্দি করেছে আজ

    সভ্য ব্যাধের ফাঁদ গোপন।

    কামানের চাকা যথা অচল

    রৌপ্যের চাকি ঢালে সেথায়,

    এরাই য়ুরোপি বীরের জাত

    শুনে লজ্জাও লজ্জা পায়!

    তুমি দেখাইলে, আজও ধরায়

    শুধু খ্রিস্টের রাসভ নাই,

    আজও আসে হেথা বীর মানব,

    ইবনে-করিম কামাল-ভাই।

    আজও আসে হেথা ইবনে-সৌদ,

    আমানুল্লাহ্, পহ্‌লবী,

    আজও আসে হেথা আলতরাশ,

    আসে সনৌসী–লাখ রবি।

    তুমি দেখাইলে, পাহাড়ি গাঁয়

    থাকে নাকো শুধু পাহাড়ি মেষ,

    পাহাড়েও হাসে তরুলতা

    পাহাড়ের মতো অটল দেশ।

    থাকে নাকো সেথা শুধু পাথর,

    সেথা থাকে বীর-শ্রেষ্ঠ নর,

    সেথা বন্দরে বানিয়া নাই

    সেথা বন্দরে নাই বাঁদর!

    শির-দার তুমি ছিলে রীফের,

    পরনিকো শিরে শরিফি তাজ,

    মামুলি সেনার সাথে সমান

    করেছ সেনানী, কুচকাওয়াজ!

  • বাংলার ‘আজীজ’

    বাংলার ‘আজীজ’

    বাংলার ‘আজীজ’1

    পোহয়নি রাত, আজান তখনও দেয়নি মুয়াজ্জিন,

    মুসলমানের রাত্রি তখন আর-সকলের দিন।

    অঘোর ঘুমে ঘুমায় যখন বঙ্গ-মুসলমান,

    সবার আগে জাগলে তুমি গাইলে জাগার গান!

    ফজর বেলার নজর ওগো উঠলে মিনার পর,

    ঘুম-টুটানো আজান দিলে – ‘আল্লাহো আকবর!’

    কোরান শুধু পড়ল সবাই বুঝলে তুমি একা,

    লেখার যত ইসলামি জোশ তোমায় দিল দেখা।

    খাপে রেখে অসি যখন খাচ্ছিল সব মার,

    আলোয় তোমার উঠল নেচে দু-ধারী তল্‌য়ার!

    চমকে সবাই উঠল জেগে, ঝলসে গেল চোখ,

    নৌজোয়ানীর খুন-জোশিতে মস্ত্ হল সব লোক!

    আঁধার রাতের যাত্রী যত উঠল গেয়ে গান,

    তোমার চোখে দেখল তারা আলোর অভিযান।

    বেরিয়ে এল বিবর হতে সিংহশাবক দল,

    যাদের প্রাতাপ-দাপে আজি বাংলা টলমল!

    এলে নিশান-বরদার বীর, দুশমন পর্দার,

    লায়লা চিরে আনলে নাহার, রাতের তারা-হার!

    সাম্যবাদী! নর-নারীরে করতে অভেদ-জ্ঞান,

    বন্দিনিদের গোরস্থানে রচলে গুলিস্তান!

    শীতের জরা দূর হয়েছে ফুটছে বাহার-গুল,

    গুলশনে গুল ফুটল যখন – নাই তুমি বুলবুল!

    মশালবাহী বিশাল পুরুষ! কোথায় তুমি আজ?

    অন্ধকারে হাতড়ে মরে অন্ধ এ-সমাজ।

    নাইকো সতুন , পড়ছে খসে ইসলামের আজ ছাদ;

    অত্যাচারের বিরুদ্ধে আর ঘোষবে কে জেহাদ?

    যেমনি তুমি হালকা হলে আপনা করি দান,

    শুনলে হঠাৎ—আলোর পাখি—কাজ-হারানো গান!

    ফুরিয়েছে কাজ, জাকছে তবু হিন্দু-মুসলমান,

    সবার ‘আজীজ’, সবার প্রিয়, আবার গাহো গান!

    আবার এসো সবার মাঝে শক্তিরূপে বীর,

    হিন্দু-সবার গুরু ওগো, মুসলমানের পীর!

  • সুরের দুলাল

    সুরের দুলাল

    সুরের দুলাল

    পাকা ধানের গন্ধ-বিধুর হেমন্তের এই দিন-শেষে,

    সুরের দুলাল, আসলে ফিরে দিগ্‌বিজয়ীর বর-বেশে!

    আজও মালা হয়নি গাঁথা হয়নি আজও গান-রচন,

    কুহেলিকার পর্দা-ঢাকা আজও ফুলের সিংহাসন।

    অলস বেলায় হেলাফেলায় ঝিমায় রূপের রংমহল,

    হয়নিকো সাজ রূপকুমারীর, নিদ টুটেছে এই কেবল।

    আয়োজনের অনেক বাকি–শুননু হঠাৎ খোশখবর,

    ওরে অলস, রাখ আয়োজন, সুর-শাজাদা আসল ঘর।

    ওঠ রে সাকি, থাক না বাকি ভরতে রে তোর লাল গেলাস,

    শূন্য গেলাস ভরব–দিয়ে চোখের পানি মুখের হাস।

    দম্ভ ভরে আসল না যে ধ্বজায় বেঁধে ঝড়-তুফান,

    যাহার আসার খবর শুনে গর্জাল না তোপ-কামান,

    কুসুম দলি উড়িয়ে ধূলি আসল না যে রাজপথে–

    আয়োজনের আড়াল তারে করব গো আজ কোনোমতে।

    সে এল গো যে-পথ দিয়ে স্বর্গে বহে সুরধুনী,

    যে-পথ দিয়ে ফেরে ধেনু মাঠের বেণুর রব শুনি।

    যেমন সহজ পথ দিয়ে গো ফসল আসে আঙিনায়,

    যেমন বিনা সমারোহে সাঁঝের পাখি যায় কুলায়।

    সে এল যে আমন-ধানের নবান্ন উৎসব-দিনে,

    হিমেল হাওয়ায় অঘ্রানের এই সুঘ্রাণেরই পথ চিনে।

    আনেনি সে হরণ করে রত্ন-মানিক সাত-রাজার

    সে এনেছে রূপকুমারীর আঁখির প্রসাদ, কণ্ঠহার।

    সুরের সেতু বাঁধল সে গো, ঊর্ধ্বে তাহার শুনি স্তব,

    আসছে ভারত-তীর্থ লাগি শ্বেত-দ্বীপের ময়দানব।

    পশ্চিমে আজ ডঙ্কা বাজে পুবের দেশের বন্দীদের,

    বীণার গানে আমরা জয়ী, লাজ মুছেছি অদৃষ্টের।

    কণ্ঠ তোমার জাদু জানে, বন্ধু ওগো দোসর মোর!

    আসলে ভেসে গানের ভেলায় বৃন্দাবনের বংশী-চোর।

    তোমার গলার বিজয়-মালা বন্ধু একা নয় তোমার,

    ওই মালাতে রইল গাঁথা মোদের সবার পুরস্কার।

    কখন আঁখির অগোচরে বসলে জুড়ে হৃদয়-মন,

    সেই হৃদয়ের লহো প্রীতি, সজল আঁখির জল-লিখন।

  • নিশীথ অন্ধকারে

    নিশীথ অন্ধকারে

    নিশীথ অন্ধকারে

    (গান)

    এ কী বেদনার উঠিয়াছে ঢেউ দূর সিন্ধুর পারে,

    নিশীথ-অন্ধকারে।

    পুরবের রবি ডুবিল গভীর বাদল-অশ্রু-ধারে,

    নিশীথ-অন্ধকারে॥

    ঘিরিয়াছে দিক ঘন ঘোর মেঘে,

    পুবালি বাতাস বহিতেছে বেগে,

    বন্দিনি মাতা একাকিনী জেগে কাঁদিতেছে কারাগারে,

    শিয়রের দীপ যত সে জ্বালায় নিভে যায় বারে বারে।

    নিশীথ-অন্ধকারে॥

    মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ নীরব আজিকে মিনার-চূড়ে,

    বহে না শিরাজ-বাগের নহর, বুলবুল গেছে উড়ে।

    ছিল শুধু চাঁদ, গেছে তরবার,

    সে চাঁদও আঁধারে ডুবিল এবার,

    শিরতাজ-হারা কাঁদে মুসলিম অস্ত-তোরণ-দ্বারে।

    উঠিতেছে সুর বিদায়-বিধুর পারাবার-পরপারে।

    নিশীথ-অন্ধকারে॥

    ছিল না সে রাজা–কেঁপেছে বিশ্ব তবু গো প্রতাপে তার,

    শত্রু-দুর্গে বন্দি থাকিয়া খোলেনি সে তরবার।

    ছিল এ ভারত তারই পথ চাহি,

    বুকে বুকে ছিল তারই বাদশাহি,

    ছিল তার তরে ধুলার তখ্‌ত্ মানুষের দরবারে।

    আজি বরষায় তারই তরবার ঝলসিছে বারে বারে।

    নিশীথ-অন্ধকারে॥

  • শরৎচন্দ্র

    শরৎচন্দ্র

    শরৎচন্দ্র

    (চণ্ডবৃষ্টি-প্রপাত ছন্দ)

    নব ঋত্বিক নবযুগের!

    নমস্কার! নমস্কার!

    আলোকে তোমার পেনু আভাস

    নওরোজের নব উষার!

    তুমি গো বেদনা-সুন্দরের

    দর্‌দ্-ই-দিল্, নীল মানিক,

    তোমার তিক্ত কণ্ঠে গো

    ধ্বনিল সাম বেদনা-ঋক।

    হে উদীচী উষা চির-রাতের,

    নরলোকের হে নারায়ণ!

    মানুষ পারায়ে দেখিলে দিল্ –

    মন্দিরের দেব-আসন।

    শিল্পী ও কবি আজ দেদার

    ফুলবনের গাইছে গান,

    আশমানি-মউ স্বপনে গো

    সাথে তাদের করনি পান।

    নিঙারিয়া ধুলা মাটির রস

    পিইলে শিব নীল আসব,

    দুঃখ কাঁটায় ক্ষত হিয়ার

    তুমি তাপস শোনাও স্তব।

    স্বর্গভ্রষ্ট প্রাণধারায়

    তব জটায় দিলে গো ঠাঁই,

    মৃত সাগরের এই সে দেশ

    পেয়েছে প্রাণ আজিকে তাই।

    পায়ে দলি পাপ সংস্কার

    খুলিলে বীর স্বর্গদ্বার,

    শুনাইলে বাণী, ‘নহে মানব –

    গাহি গো গান মানবতার।

    মনুষ্যত্ব পাপী তাপীর

    হয় না লয়, রয় গোপন,

    প্রেমের জাদু-স্পর্শে সে

    লভে অমর নব জীবন!’

    নির্মমতায় নর-পশুর

    হায় গো যার চোখের জল

    বুকে জমে হল হিম-পাষাণ,

    হল হৃদয় নীল গরল;

    প্রখর তোমার তপ-প্রভায়

    বুকের হিম গিরি-তুষার –

    গলিয়া নামিল প্রাণের ঢল,

    হল নিখিল মুক্ত-দ্বার।

    শুভ্র হল গো পাপ-মলিন

    শুচি তোমার সমব্যথায়,

    পাঁকের ঊর্ধ্বে ফুটিল ফুল

    শঙ্কাহীন নগ্নতায়!