Author: কাজী নজরুল ইসলাম

  • শরাবন তহুরা

    শরাবন তহুরা

    শরাবন তহুরা

    নার্গিস-বাগমে   বাহার কী আগমে ভরা দিল দাগমে–

    কাঁহা মেরি পিয়ারা, আও আও পিয়ারা।

    দুরু দুরু   ছাতিয়া ক্যায়সে এ রাতিয়া কাটুঁ বিনু সাথিয়া

    ঘাবরায়ে জিয়ারা, তড়পত জিয়ারা॥

    দরদে দিল জোর, রঙিলা কওসর

    শরাবন তহুরা লাও সাকি লাও ভর,

    পিয়ালা তু ধর দে,   মস্তানা কর দে,   সব দিল ভর দে

    দরদ মে ইয়ারা–সঙ্গ দিল ইয়ারা॥

    জিগর কা খুন নেহি, ডরো মত সাকিয়া,

    আঙ্গুরী-লোহুয়ো,—ক্যাঁও ভিঙ্গা আঁখিয়া?

    গিয়া পিয়া আতা নেহি মত কহো সহেলি,

    ছোড়ো হাত – পিয়ালা য়ো ভর দে তু পহেলি!

    মত্ মাচা গওগা,   বসন্তমে বাহ্‌বা   ম্যায় সে ক্যা তৌবা?

    আহা গোলনিয়ারা সখি গোলনিয়ারা–

    শরাব কা নূর সে   রৌশন কর দে   দুনিয়া আঁধিয়ারা

    দুনিয়া আঁধিয়ারা দুনিয়া আঁধিয়ারা।

  • পথিক বঁধু

    পথিক বঁধু

    পথিক বঁধু

    আজ   নলিন-নয়ান মলিন কেন বলো সখী বলো বলো!

    পড়ল মনে কোন্ পথিকের বিদায়-চাওয়া ছলছল?

    বলো সখী বলো বলো!!

    মেঘের পানে চেয়ে চেয়ে বুক ভিজালে চোখের জলে,

    ওই সুদূরের পথ বেয়ে কি চেনা-পথিক গেছে চলে

    ফিরে আবার আসব বলে গো?

    স্বর শুনে কার চমকে ওঠ (আহা),

    ওগো ওযে বিহগ-বেহাগ, নির্ঝরিণীর কলকল।

    ও নয় গো তার পায়ের ভাষা (আহা)

    শীতের শেষের শুকনো পাতার ঝরে পড়ার বিদায়-ধ্বনি ও;

    কোন্ কালোরে কোন্ ভালোরে

    বাসলে ভালো (আহা)

    পরদেশি কোন্ শ্যামল বঁধুর শুনচ বাঁশি সারাক্ষণই গো?

    চুমচো কারে? ও নয় তোমার পথিক-বধুঁর চপল হাসি হা-হা,

    তরুণ ঝাউয়ের কচি পাতায় করুণ অরুণ কিরণ ও যে (আ-হা)!

    দূরের পথিক ফিরে নাকো আর (আহা আ-হা)

    ও সে সবুজ দেশের অবুঝ পাখি

    কখন এসে যাচবে বাঁধন, চলো সখী ঘরকে চলো!

    ও কী? চোখে নামল কেন মেঘের ছায়া ঢল ঢল॥

  • স্নেহ-পরশ

    স্নেহ-পরশ

    স্নেহ-পরশ

    আমি
    এদেশ হতে বিদায় যেদিন নেব প্রিয়তম,
    কাঁদবে এ বুক সঙ্গীহারা কপোতিনী সম –
    তখন মুকুরপাশে একলা গেহে
    আমারই এই সকল দেহে
    চুমব আমি চুমব নিজেই অসীম স্নেহে গো!
    আহা
    পরশ তোমার জাগছে যে গো এই সে দেহে মম,
    কম সরস-হরষ সম।
    তখন তুমি নাইবা – প্রিয় – নাইবা রলে কাছে,
    জানব আমার এই সে দেহে এই সে দেহে গো
    তোমার বাহুর বুকের শরম-ছোঁয়ার আকুল কাঁপন আছে–
    মদির অধীর পুলক নাচে!
    তখন নাইবা আমার রইল মনে
    কোন্‌খানে মোর দেহের বনে
    জড়িয়েছিলে লতার মতন আলিঙ্গনে গো!
    আমি
    চুমোয় চুমোয় ডুবাব এই সকল দেহ মম –
    ওগো শ্রাবণ-প্লাবন সম।
  • বিরহ-বিধুরা

    বিরহ-বিধুরা

    বিরহ-বিধুরা

    কার তরে? ছাই এ পোড়ামুখ আয়নাতে আর দেখব না;

    সুর্মা-রেখার কাজল-হরফ নয়নাতে আর লেখব না!

    লাল-রঙিলা করব না কর মেহেদি-হেনার ছাপ ঘষে;

    গুলফ চুমি কাঁদবে গো কেশ চিরুণ-চুমার আপশোশে!

    কপোল-শয়ান অলক-শিশুর উদাস ঘুম আর ভাঙবে না;

    চুমহারা ঠোঁট পানের পিকের হিঙুল রঙে রাঙবে না!

    কার তরে ফুলশয্যা বাসর, সজ্জা নিজেই লজ্জা পায়;

    পীতম আমার দূর প্রবাসে, দেখবে কে সাজ-সজ্জা হায়!

    চাঁচর চুলে ধূম্র ওড়ে, অঙ্গ রাঙায় আগুন-রাগ,

    যেমনি ফোটে মন-নিকষে পিয়ার ফাগুন-স্মৃতির দাগ।

    সবাই বলে, চিনির চেয়েও শিরিন জীবন,–হায় কপাল!

    পীতম-হারা নিম-তেতো প্রাণ কেঁদেই কাটায় সাঁঝ সকাল।

    যেথায় থাকো খোশহালে রও, বন্ধু আমার–শোকের বল!

    তুমি তোমার সুখ নিয়ে রও,–থাকুক আমার চোখের জল!

  • প্রণয় নিবেদন

    প্রণয় নিবেদন

    প্রণয় নিবেদন

    লো কিশোরী কুমারী!
    পিয়াসি মন তোমার ঠোঁটের একটি গোপন চুমারই॥
    অফুট তোমার অধর ফুলে
    কাঁপন যখন নাচন তুলে
    একটু চাওয়ায় একটু ছুঁলে গো!
    তখন
    এ-মন যেমন কেমন-কেমন কোন্ তিয়াসে কোঙারি? –
    ওই
    শরম-নরম গরম ঠোঁটের অধীর মদির ছোঁয়ারই।
    বুকের আঁচল মুখের আঁচল বসন-শাসন টুটে ওই
    শঙ্কা-আকুল কী কী আশা ভালোবাসা ফুটে সই?
    নয়ন-পাতার শয়ন-ঘেঁসা
    ফুটচে যে ওই রঙিন নেশা
    ভাসা-ভাসা বেদনমেশা গো!
    ওই
    বেদন-বুকে যে সুখ চোঁয়ায় ভাগ দিয়ো তার কোঙারই!
    আমার
    কুমার হিয়া মুক্তি মাগে অধর ছোঁয়ায় তোমারই॥
  • ফুল-কুঁড়ি

    ফুল-কুঁড়ি

    ফুল-কুঁড়ি

    আর পারিনে সাধতে লো সই এক ফোঁটা এই ছুঁড়িকে।

    ফুটবে না যে ফোটাবে কে বলল সে ফুল-কুঁড়িকে।

    ঘোমটা-চাঁপা পারুল-কলি,

    বৃথাই তারে সাধল অলি

    পাশ দিয়ে হায় শ্বাস ফেলে যায় হুতাশ বাতাস ঢলি।

    আ মলো ছিঃ! ওর হল কী?

    সুতোর গুঁতো শ্রান্ত-শিথিল টানতে ও মন-ঘুড়িকে।

    আর শুনেছিস সই?

    ও লো হিমের চুমু হার মেনেছে এইটুকু আইবুড়িকে!!

    সন্ধে সকাল ছুঁয়ে কপাল রবির যাওয়া-আসাই সার,

    ব্যর্থ হল পথিক-কবির গভীর ভালোবাসার হার।

    জল ঢেলে যায় জংলা বধু,

    মৌমাছি দেয় কমলা মধু,

    শরম-চাদর খুলবে না সে আদর শুধু শুধু।

    কে জানে বোন পথভোলা কোন্

    তরুণ-চোখের করুণ-চাওয়ায় চোখ ঠেরেছে ছুঁড়িকে–

    বসে আছে লো

    এই লজ্জাবতীর বধির বুকের সিংহ-আসন জুড়ি কে?

  • প্রণয়-ছল

    প্রণয়-ছল

    প্রণয়-ছল

    কত
    ছল করে সে বারেবারে দেখতে আসে আমায়।
    কত
    বিনা-কাজের কাজের ছলে চরণ দুটি আমার দোরেই থামায়॥
    জানলা আড়ে চিকের পাশে
    দাঁড়ায় এসে কিসের আশে,
    আমায় দেখেই সলাজ ত্রাসে,
    গাল দুটিকে ঘামায়॥
    অনামিকায় জড়িয়ে আঁচল
    দুরু দুরু বুকে
    সবাই যখন ঘুমে মগন তখন আমায় চুপে চুপে
    দেখতে এসেই মল বাজিয়ে দৌড়ে পলায়
    রঙ খেলিয়ে চিবুক গালের কূপে।
    দোর দিয়ে মোর জলকে চলে
    কাঁকন মারে কলস-গলে
    অমনি চোখোচোখি হলে
    চমকে ভুঁয়ে নখটি ফোটায়, চোখ দুটিকে নামায়॥
    সইরা হাসে দেখে ছুঁড়ির দোর দিয়ে মোর
    নিতুই নিতুই কাজ-অকাজে হাঁটা।
    করবে কী ও? রোজ যে হারায় আমার পথেই
    শিথিল বেণির দুষ্টু মাথার কাঁটা!
    একে ওকে ডাকার ভানে
    আনমনা মোর মনটি টানে,
    চলতে চাদর পরশ হানে
    আমারও কী নিতুই পথে তারই বুকের জামায়॥
    পিঠ ফিরিয়ে আমার পানে দাঁড়ায় দূরে
    উদাসনয়ান যখন এলোকেশে,
    জানি, তখন মনে মনে আমার কথাই
    ভাবতেছে সে, মরেছে সে আমায় ভালোবেসে।
    বই হাতে সে ঘরের কোণে
    জানি আমার বাঁশিই শোনে,
    ডাকলে রোষে আমার পানে
    নয়না হেনেই রক্তকমল-কুঁড়ির সম চিবুকটি তার নামায়॥
  • বরষায়

    বরষায়

    বরষায়

    আদর গর-গর

    বাদর দর-দর

    এ-তনু ডর-ডর

    কাঁপিছে থর-থর॥

    নয়ন ঢল-ঢল

    [সজল ছল-ছল]

    কাজল-কালো-জল

    ঝরে লো ঝর ঝর॥

    ব্যাকুল বনরাজি   শ্বসিছে ক্ষণে ক্ষণে

    সজনী! মন আজি   গুমরে মনে মনে।

    বিদরে হিয়া মম

    বিদেশে প্রিয়তম

    এ-জনু পাখিসম

    বরিষা জর-জর॥

    [বিজুরি হানে ছুরি   চমকি রহি রহি

    বিধুরা একা ঝুরি   বেদনা কারে কহি।]

    সুরভি কেয়া-ফুলে

    এ হৃদি বেয়াকুলে

    কাঁদিছে দুলে দুলে

    বনানী মর মর॥

    নদীর কলকল   ঝাউ-এর ঝলমল

    দামিনী জ্বল জ্বল   কামিনী টলমল।

    আজি লো বনে বনে

    শুধানু জনে জনে

    কাঁদিল বায়ুসনে

    তটিনী তরতর॥

    আদুরি দাদুরি লো   কহো লো কহো দেখি

    এমন বাদরি লো   ডুবিয়া মরিব কি?

    একাকী এলোকেশে

    কাঁদিব ভালোবেসে?

    মরিব লেখা-শেষে

    সজনি সরো সরো।

  • শেষের ডাক

    শেষের ডাক

    শেষের ডাক

    মরণ-রথের চাকার ধ্বনি ঐ রে আমার কানে আসে।

    পুবের হাওয়া তাই নেমেছে পারুল বনে দীঘল শ্বাসে॥

    ব্যথার কুসুম গুলঞ্চ ফুল

    মালঞ্চে আজ তাই শোকাকুল,

    গোরস্থানের মাটির বাসে তাই আমার আজ প্রাণ উদাসে॥

    অঙ্গ আসে অবশ হয়ে নেতিয়ে-পড়া অলস ঘুমে

    সাগর-পারের বিদেশিনীর হিম-ছোঁওয়া যার নয়ন চুমে।

    হৃদয়-কাঁদা নিদয় কথা

    আকাশ-ভেজা বিদায়-ব্যথা

    লুটায় গো মোর ভুবন ভরি বাঁধন ছেঁড়ার কাঁদন ত্রাসে॥

    মোর কাফনের কর্পূর-বাস ভরপুর আজ দিগবলয়ে,

    বনের শাখা লুটিয়ে কাঁদে হরিণটি তার হারার ভয়ে।

    ফিরে-পাওয়া লক্ষ্মী বৃথাই

    নয়ন-জলে বক্ষ তিতায়

    ওগো   এ কোন্ জাদুর মায়ায় আমার দু-চোখ শুধু জলে ভাসে॥

    আজ   আকাশ-সীমায় শব্দ শুনি অচিন কাদের আসা যাওয়ার,

    তাই মনে হয় এই যেন শেষ আমার সকল দাবি দাওয়ার।

    আজ কেহ নাই পথের সাথি,

    সামনে শুধু নিবিড় রাতি

    আমায়   দূরের মানুষ ডাক দিয়েছে রাখবে কে আর বাঁধন পাশে॥

  • বিজয়িনী

    বিজয়িনী

    বিজয়িনী

    হে মোর রাণী! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে।
    আমার
    বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ-তলে এসে।
    আমার
    সমর-জয়ী অমর তরবারী
    ক্লান্তি আনে দিনে দিনে, হয়ে ওঠে ভারী,
    এখন
    এ ভার আমার তোমায় দিয়ে হারি,
    এই
    হার-মানা-হার পরাই তোমার কেশে॥
    ওগো দেবী!
    আমায় দেখে কখন তুমি ফেললে চোখের জল,
    আজ
    বিশ্বজয়ীর বিপুল দেউল তাইতে টলমল!
    আজ
    বিদ্রোহীর এই রক্ত-রথের চূড়ে,
    বিজয়িনী! নীলাম্বরীর আঁচল তোমার উড়ে,
    যত
    তূণ আমার আজ তোমার মালায় পূরে,
    আমি
    বিজয়ী আজ নয়ন-জলে ভেসে॥
  • ঝিঙে ফুল

    ঝিঙে ফুল

    ঝিঙে ফুল

    ‘ঝিঙে ফুল’ ১৩৩৩ সালের আশ্বিন মাসে গ্রন্থাকারে বাজারে বের হয় বলে সাপ্তাহিক ‘গণবাণী’ পত্রিকার বিজ্ঞাপন দৃষ্টে অনুমিত হয়। পক্ষান্তরে বেঙ্গল লাইব্রেরির তালিকা অনুসরণ করে আলী আহমদ দেখিয়েছেন যে, ‘ঝিঙে ফুল’ ১৯২৬ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল (মুতাবিক চৈত্র বা বৈশাখ) মাসে প্রকাশিত হয়। প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরী, ৬১ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রিট, কলিকাতা। মুদ্রাকর কান্তিক প্রেস, ২২ সুকিয়া ষ্ট্রিট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২ + ৪২, মূল্য বারো আনা।

    ১৩২৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে ‘মা’, কার্তিকে ‘খোকার বুদ্ধি’, এবং মাঘে ‘খোকার গল্প বলা’, ও ‘চিঠি’ বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

    ‘হোঁদল কুৎকুতের বিজ্ঞাপন’ ১৩২৭ জ্যৈষ্ঠের ‘অঙ্কুর’ পত্রিকায় বের হয়।

    উৎসর্গ

    বীর বাদলকে

  • ঝিঙে ফুল (ছড়া)

    ঝিঙে ফুল (ছড়া)

    ঝিঙে ফুল (ছড়া)

    ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল।

    সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল –

    ঝিঙে ফুল।

    গুল্মে পর্ণে

    লতিকার কর্ণে

    ঢলঢল স্বর্ণে

    ঝলমল দোলো দুল–

    ঝিঙে ফুল॥

    পাতার দেশের পাখি বাঁধা হিয়া বোঁটাতে,

    গান তব শুনি সাঁঝে তব ফুটে ওঠাতে।

    পউষের বেলাশেষ

    পরি জাফরানি বেশ

    মরা মাচানের দেশ

    করে তোলো মশগুল–

    ঝিঙে ফুল॥

    শ্যামলী মায়ের কোলে সোনামুখ খুকু রে,

    আলুথালু ঘুমু যাও রোদে-গলা দুকুরে।

    প্রজাপতি ডেকে যায়–

    ‘বোঁটা ছিঁড়ে চলে আয়!’

    আশমানে তারা চায়–

    ‘চলে আয় এ অকূল!’

    ঝিঙে ফুল॥

    তুমি বলো–‘আমি হায়

    ভালোবাসি মাটি-মায়,

    চাই না ও অলকায়–

    ভালো এই পথ-ভুল!’

    ঝিঙে ফুল॥

  • খুকি ও কাঠবেড়ালি

    খুকি ও কাঠবেড়ালি

    খুকি ও কাঠবেড়ালি

    কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?

    গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ?

    বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও—

    ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,

    খাও একা পাও যেথায় যেটুক!

    বাতাবি-নেবু সকলগুলো

    একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!

    তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?

    ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!

    কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল?

    দেখবি তবে? রাঙাদাকে ডাকবো? দেবে ঢিল!

    পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা!

    তাই তো তোর নাকটি বোঁচা!

    হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস

    একলাই খাও হাপুস হুপুস!

    পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে!

    হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে!

    ইস! খেয়ো না মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও!

    আমিও খুবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও!

    কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি’ হবে? বৌদি হবে? হুঁ!

    রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঃ!

    এ রাম! তুমি ন্যাংটা পুঁটো?

    ফ্রকটা নেবে? জামা দুটো?

    আর খেয়ো না পেয়ার তবে,

    বাতাবি-নেবুও ছাড়তে হবে!

    দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছ ছুট? অ’মা দেখে যাও!-

    কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!!

  • খোকার খুশি

    খোকার খুশি

    খোকার খুশি

    কী যে ছাই ধানাই-পানাই –

    সারাদিন বাজছে সানাই,

    এদিকে কারুর গা নাই

    আজই না মামার বিয়ে!

    বিবাহ! বাস, কী মজা!

    সারাদিন মণ্ডা গজা

    গপাগপ খাও না সোজা

    দেয়ালে ঠেসান দিয়ে।

    তবু বর হচ্ছিনে ভাই,

    বরের কী মুশকিলটাই –

    সারাদিন উপোস মশাই

    শুধু খাও হরিমটর!

    শোনো ভাই, মোদের যবে

    বিবাহ করতে হবে–

    ‘বিয়ে দাও’ বলব, ‘তবে

    কিছুতেই হচ্ছিনে বর!’

    সত্যি, কও না মামা,

    আমাদের অমনি জামা

    অমনি মাথায় ধামা

    দেবে না বিয়ে দিয়ে?

    মামিমা আসলে এ ঘর

    মোদেরও করবে আদর?

    বাস, কী মজার খবর!

    আমি রোজ করব বিয়ে॥

  • খাঁদু-দাদু

    খাঁদু-দাদু

    খাঁদু-দাদু

    অ মা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং?
    খ্যাঁদা নাকে নাচছে ন্যাদা – নাক ডেঙাডেং ড্যাং!
    ওঁর
    নাকটাকে কে করল খ্যাঁদা র‍্যাঁদা বুলিয়ে?
    চামচিকে-ছা বসে যেন ন্যাজুড় ঝুলিয়ে!
    বুড়ো গোরুর টিকে যেন শুয়ে কোলা ব্যাং!
    অ মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ড্যাং!
    ওঁর
    খ্যাঁদা নাকের ছেঁদা দিয়ে টুকি কে দেয় ‘টু’!
    ছোড়দি বলে সর্দি ওটা, এ রাম! ওয়াক! থুঃ!
    কাছিম যেন উপুড় হয়ে ছড়িয়ে আছেন ঠ্যাং!
    অ মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ড্যাং!
    দাদু বুঝি চিনাম্যান মা, নাম বুঝি চাং চু,
    তাই বুঝি ওঁর মুখটা অমন চ্যাপটা সুধাংশু!
    জাপান দেশের নোটিশ উনি নাকে এঁটেছেন!
    অ মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ডেং!
    দাদুর নাকি ছিল না মা অমন বাদুড়-নাক,
    ঘুম দিলে ওই চ্যাপটা নাকেই বাজত সাতটা শাঁখ।
    দিদিমা তাই থ্যাবড়া মেরে ধ্যাবড়া করেছেন!
    অ মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ডেং!
    লম্ফানন্দে লাফ দিয়ে মা চলতে বেজির ছা
    দাড়ির জালে পড়ে জাদুর আটকে গেছে গা,
    বিল্লি-বাচ্চা দিল্লি যেতে নাসিক এসেছেন!
    অ মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ডেং!
    দিদিমা কি দাদুর নাকে টাঙতে ‘আলমানাক’
    গজাল ঠুকে দেছেন ভেঙে বাঁকা নাকের কাঁখ?
    মুচি এসে দাদুর আমার নাক করেছে ‘ট্যান’!
    অ মা! আমি হেসে মরি, নাক ডেঙাডেং ড্যাং!
    বাঁশির মতন নাসিকা মা মেলে নাসিকে,
    সেথায় নিয়ে চলো দাদু দেখন-হাসিকে।
    সেথায় গিয়ে করুন দাদু গরুড় দেবের ধ্যান,
    খাঁদু-দাদু নাকু হবেন, নাক ডেঙাডেং ড্যাং।
  • দিদির বে-তে খোকা

    দিদির বে-তে খোকা

    দিদির বে-তে খোকা

    ‘সাত ভাই চম্পা জাগো’–

    পারুলদি ডাকল, না গো?

    একী ভাই, কাঁদচ?–মা গো

    কী যে কয়–আরে দুত্তুর!

    পারায়ে সপ্ত-সাগর

    এসেছে সেই চেনা-বর?

    কাহিনির দেশেতে ঘর

    তোর সেই রাজপুত্তুর?

    মনে হয়, মণ্ডা মেঠাই

    খেয়ে জোর আয়েশ মিটাই!–

    ভালো ছাই লগাছে না ভাই,

    যাবি তুই একেলাটি!

    দিদি, তুই সেথায় গিয়ে

    যদি ভাই যাস ঘুমিয়ে,

    জাগাব পরশ দিয়ে

    রেখে যাস সোনার কাঠি।

  • মা

    মা

    মা

    যেখানেতে দেখি যাহা

    মা-এর মতন আহা

    একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,

    মায়ের মতন এত

    আদর সোহাগ সে তো

    আর কোনোখানে কেহ পাইবে না ভাই।

    হেরিলে মায়ের মুখ

    দূরে যায় সব দুখ,

    মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,

    মায়ের শীতল কোলে

    সকল যাতনা ভোলে

    কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।

    কত করি উৎপাত

    আবদার দিন রাত,

    সব সন হাসি মুখে, ওরে সে যে মা!

    আমাদের মুখ চেয়ে

    নিজে রন নাহি খেয়ে,

    শত দোষে দোষী তবু মা তো ত্যজে না।

    ছিনু খোকা এতটুকু,

    একটুতে ছোটো বুক

    যখন ভাঙিয়া যেত, মা-ই সে তখন

    বুকে করে নিশিদিন

    আরাম-বিরামহীন

    দোলা দিয়ে শুধাতেন, ‘কী হল খোকন?’

    আহা সে কতই রাতি

    শিয়রে জ্বালায়ে বাতি

    একটু অসুখ হলে জাগেন মাতা,

    সবকিছু ভুলে গিয়ে

    কেবল আমারে নিয়ে

    কত আকুলতা যেন জগন্মাতা।

    যখন জনম নিনু

    কত অসহায় ছিনু,

    কাঁদা ছাড়া নাহি জানিতাম কোনো কিছু,

    ওঠা বসা দূরে যাক –

    মুখে নাহি ছিল বাক,

    চাহনি ফিরিত শুধু মা-র পিছু পিছু!

    তখন সে মা আমার

    চুমু খেয়ে বারবার

    চাপিতেন বুকে, শুধু একটি চাওয়ায়

    বুঝিয়া নিতেন যত

    আমার কী ব্যথা হত,

    বলো কে এমন স্নেহে বুকটি ছাওয়ায়!

    তারপর কত দুখে

    আমারে ধরিয়া বুকে

    করিয়া তুলেছে মাতা দেখো কত বড়ো,

    কত না সুন্দর

    এ দেহ এ অন্তর

    সব মোরা ভাই বোন হেথা যত পড়।

    পাঠশালা হতে যবে

    ঘরে ফিরি যাব সবে,

    কত না আদরে কোলে তুলি নেবে মাতা,

    খাবার ধরিয়া মুখে

    শুধাবেন কত সুখে

    ‘কত আজ লেখা হল, পড়া কত পাতা?’

    পড়ে লেখা ভালো হলে

    দেখেছ সে কত ছলে

    ঘরে ঘরে মা আমার কত নাম করে!

    বলে, ‘মোর খোকামণি।

    হিরা-মানিকের খনি,

    এমনটি নাই কারও!’ শুনে বুক ভরে!

    গা-টি গরম হলে

    মা সে চোখের জলে

    ভেসে বলে, ‘ওরে জাদু কী হয়েচে বল!’

    কত দেবতার ‘থানে’

    পিরে মা মানত মানে –

    মাতা ছাড়া নাই কারও চোকে এত জল।

    যখন ঘুমায় থাকি

    জাগে রে কাহার আঁখি

    আমার শিয়রে, আহা কীসে হবে ঘুম!

    তাই কত ছড়া গানে

    ঘুম-পাড়ানিরে আনে,

    বলে, ‘ঘুম! দিয়ে যা রে খুকু-চোখে চুম!’

    দিবানিশি ভাবনা

    কীসে ক্লেশ পাব না,

    কীসে সে মানুষ হব, বড়ো হব কীসে;

    বুক ভরে ওঠে মার

    ছেলেরই গরবে তাঁর,

    সব দুখ সুখ হয় মায়ের আশিসে।

    আয় তবে ভাই বোন,

    আয় সবে আয় শোন

    গাই গান, পদধূলি শিরে লয়ে মা-র;

    মার বড়ো কেউ নাই –

    কেউ নাই কেউ নাই!

    নত করি বল সবে ‘মা আমার! মা আমার!’

  • খোকার বুদ্ধি

    খোকার বুদ্ধি

    খোকার বুদ্ধি

    চুন করে মুখ প্রাচীর পরে বসে শ্রীযুত খোকা,

    কেননা তার মা বলেছেন সে এক নিরেট বোকা।

    ডানপিটে সে খোকা এখন মস্ত একটা বীর,

    হুংকারে তাঁর হাঁস মুরগির ছানার চক্ষুস্থির!

    সাত লাঠিতে ফড়িং মারেন এমনই পালোয়ান!

    দাঁত দিয়ে সে ছিঁড়লে সেদিন আস্ত আলোয়ান!

    ন্যাংটা-পুঁটো দিগম্বরের দলে তিনিই রাজা,

    তাঁরে কিনা বোকা বলা? কী এর উচিত সাজা?

    ভাবতে ভাবতে খোকার হঠাৎ চিন্তা গেল থেমে,

    দে দৌড় চোঁ-চাঁ আঁধমহলে পাঁচিল হতে নেমে!

    বুকের ভেতর ছপাই নপাই ধুকপুকুনির চোটে,

    বাইরে কিন্তু চতুর খোকা ঘাবড়ালেন না মোটে।

    হাঁপিয়ে এসে মায়ের কাছে বললে, “ওগো মা!

    আমি নাকি বোক-চন্দর? বুদ্ধি দেখে যা!

    ওই না একটা মটকু বানর দিব্যি মাচায় বসে

    লাউ খাচ্ছে? কেউ দেখেনি, দেখি আমিই তো সে।

    দিদিদেরও চোখ ছিল তো, কেউ কি দেখেছেন?

    তবে আমায় বোকা কও যে! এ্যাঁ-এ্যাঁ, হাস ক্যান্?

    কী কও? ‘একী বুদ্ধি হল?’ দেখবে তবে? হাঁ,

    বুদ্ধি আমার … ভোলা! তু-উ-উ! লৌ-হা হা-হা-হা!”

  • খোকার গপ্‌প বলা

    খোকার গপ্‌প বলা

    খোকার গপ্‌প বলা

    মা ডেকে কন, ‘খোকন-মণি! গপ্‌প তুমি জানো?

    কও তো দেখি বাপ!’

    কাঁথার বাহির হয়ে তখন জোর দিয়ে এক লাফ

    বললে খোকন, ‘গপপ জানি, জানি আমি গানও!’

    বলেই খুদে তানসেন সে তান জুড়ে জোর দিল –

    ‘একদা এক হাড়ের গলায় বাঘ ফুটিয়াছিল!’

    মা সে হেসে তখন

    বলেন, ‘উহুঁ, গান না, তুমি গপ্‌প বলো খোকন!’

    ন্যাংটা শ্রীযুত খোকা তখন জোর গম্ভীর চালে

    সটান কেদারাতে শুয়ে বলেন, “সত্যিকালে

    এক যে ছিল রাজা আর মা এক যে ছিল রানি,

    হাঁ মা আমি জানি,

    মায়ে পোয়ে থাকত তারা,

    ঠিক যেন ওই গোঁদলপাড়ার জুজুবুড়ির পারা!

    একদিন না রাজা –

    ফড়িং শিকার করতে গেলেন খেয়ে পাঁপড়ভাজা!

    রানি গেলেন তুলতে কলমি শাক

    বাজিয়ে বগল টাক ডুমাডুম টাক!

    রাজা শেষে ফিরে এলেন ঘরে

    হাতির মতন একটা বেড়াল-বাচ্চা শিকার করে।

    এসে রাজা দেখেন কিনা বাপ!

    রাজবাড়িতে আগড় দেওয়া, রানি কোথায় গাপ!

    দুটোয় গিয়ে এলেন রাজা সতরোটার সে সময়!

    বলো তো মা-মণি তুমি, খিদে কি তায় কম হয়?

    টাটি-দেওয়া রাজবাড়িতে ওগো,

    পান্তাভাত কে বেড়ে দেবে?

    খিদের জ্বালায় ভোগো!

    ভুলুর মতন দাঁত খিঁচিয়ে বলেন তখন রাজা,

    নাদনা দিয়ে জরুর রানির ভাঙা চাই-ই মাজা।

    এমন সময় দেখেন রাজা আসচে রানি দৌড়ে

    সারকুঁড় হতে ক্যাঁকড়া ধরে রাম-ছাগলে চড়ে!

    দেখেই রাজা দাদার মতন খিচমিচিয়ে উঠে–”

    ‘হাঁরে পুঁটে!’

    বলেই খোকার শ্রীযুত দাদা সটান

    দুইটি কানে ধরে খোকার চড় কসালেন পটাম্।

    বলেন, ‘হাঁদা! ক্যাবলাকান্ত! চাষাড়ে।

    গপ্‌প করতে ঠাঁই পাওনি চণ্ডুখুড়ি আষাঢ়ে?

    দেব নাকি ঠ্যাংটা ধরে আছাড়ে?

    কাঁদেন আবার! মারব এমন থাপড়,

    যে কেঁদে তোমার পেটটি হবে কামার শালার হাপর!’

    চড় চাপড় আর কিলে,

    ভ্যাবাচ্যাকা খোকামণির চমকে গেল পিলে!

    সেদিনকারের গপ্‌প বলার হয়ে গেল রফা,

    খানিক কিন্তু ভেড়ার ভ্যাঁ ডাক শুনেছিলুম তোফা!

  • চিঠি

    চিঠি

    চিঠি

    [ছন্দ :- “এই পথটা কা-ট্‌ব

    পাথর ফেলে মা-র্‌ব”]

    ছোট্ট বোন্‌টি লক্ষ্মী

    ভো ‘জটায়ু পক্ষী’!

    য়্যাব্বড়ো তিন ছত্র

    পেয়েছি তোর পত্র।

    দিইনি চিঠি আগে,

    তাইতে কি বোন্ রাগে?

    হচ্ছে যে তোর কষ্ট

    বুঝতেছি খুব পষ্ট।

    তাইতে সদ্য সদ্য

    লিখতেছি এই পদ্য।

    দেখলি কী তোর ভাগ্যি!

    থামবে এবার রাগ কি?

    এবার হতে দিব্যি

    এমনি করে লিখবি!

    বুঝলি কী রে দুষ্টু

    কী যে হলুম তুষ্টু

    পেয়ে তোর ওই পত্র –

    যদিও তিন ছত্র!

    যদিও তোর অক্ষর

    হাত পা যেন যক্ষর,

    পেটটা কারুর চিপসে,

    পিঠটে কারুর ঢিপসে,

    ঠ্যাংটা কারুর লম্বা,

    কেউ বা দেখতে রম্ভা!

    কেউ যেন ঠিক থাম্বা,

    কেউ বা ডাকেন হাম্বা!

    থুতনো কারুর উচ্চে,

    কেউ বা ঝুলেন পুচ্ছে!

    এক একটা যা বানান

    হাঁ করে কী জানান!

    কারুর গা ঠিক উচ্ছের,

    লিখলি এমনি গুচ্ছের!

    না বোন, লক্ষ্মী, বুঝছ?

    করব না আর কুচ্ছো!

    নইলে দিয়ে লম্ফ

    আনবি ভূমিকম্প!

    কে বলে যে তুচ্ছ!

    ওই যে আঙুর গুচ্ছ!

    শিখিয়ে দিল কোন্ ঝি

    নামটি যে তোর জন্টি?

    লিখবে এবার লক্ষ্মী

    নাম ‘জটায়ু পক্ষী!’

    শিগগির আমি যাচ্চি,

    তুই বুলি আর আচ্ছি

    রাখবি শিখে সব গান

    নয় ঠেঙিয়ে – অজ্ঞান!

    এখনও কি আচ্ছু

    খাচ্ছে জ্বরে খাপচু?

    ভাঙেনি বউদির ঠ্যাংটা।

    রাখালু কি ন্যাংটা?

    বলিস তাকে, রাখালী!

    সুখে রাখুন মা কালী!

    বৌদিরে কোস দোত্তি

    ধরবে এবার সত্যি।

    গপাস করে গিলবে

    য়্যাব্বড়ো দাঁত হিলবে!

    মা মাসিমায় পেন্নাম

    এখান হতেই করলাম!

    স্নেহাশিস এক বস্তা,

    পাঠাই, তোরা লস তা!

    সাঙ্গ পদ্য সবিটা?

    ইতি। তোদের কবি-দা।