চিত্তনামা : কাজী নজরুল ইসলাম

» রাজ-ভিখারী

কোন্ ঘর-ছাড়া বিবাগির বাঁশি শুনে উঠেছিলে জাগি ওগো চির-বৈরাগী! দাঁড়ালে ধূলায় তব কাঞ্চন-কমল-কানন ত্যাগি– ওগো চির-বৈরাগী! ছিলে ঘুম-ঘোরে রাজার দুলাল, জানিতে না কে সে পথের কাঙাল ফেরে পথে পথে ক্ষুধাতুর-সাথে ক্ষুধার অন্ন মাগি, তুমি সুধারContinue Reading

চিত্তনামা : কাজী নজরুল ইসলাম

» ইন্দ্র-পতন

তখনও অস্ত যায়নি সূর্য, সহসা হইল শুরু অম্বরে ঘন ডম্বরু-ধ্বনি গুরুগুরুগুরু গুরু। আকাশে আকাশে বাজিছে এ কোন্ ইন্দ্রের আগমনি? শুনি, অম্বুদ-কম্বু-নিনাদে ঘন বৃংহিত-ধ্বনি। বাজে চিক্কুর-হ্রেষা-হর্ষণ মেঘ-মন্দুরা-মাঝে, সাজিল প্রথম আষাঢ় আজিকে প্রলংকর সাজে! ঘনায় অশ্রু-বাষ্প-কুহেলি ঈশান-দিগঙ্গনে,Continue Reading

চিত্তনামা : কাজী নজরুল ইসলাম

» সান্ত্বনা

চিত্ত-কুঁড়ি-হাসনাহেনা মৃত্যু-সাঁঝে ফুটল গো! জীবন-বেড়ার আড়াল ছাপি বুকের সুবাস টুটল গো! এই তো কারার প্রাকার টুটে বন্দি এল বাইরে ছুটে, তাই তো নিখিল আকুল-হৃদয় শ্মশান-মাঝে জুটল গো! ভবন-ভাঙা আলোর শিখায় ভুবন রেঙে উঠল গো। ২Continue Reading

চিত্তনামা : কাজী নজরুল ইসলাম

» অকাল-সন্ধ্যা

[জয়জয়ন্তী কীর্তন] খোলো মা দুয়ার খোলো প্রভাতেই সন্ধ্যা হল দুপুরেই ডুবল দিবাকর গো। সমর শয়ান ওই সুত তোর বিশ্বজয়ী কাঁদনের উঠছে তুফান ঝড় গো॥ সবারে বিলিয়ে সুধা, সে নিল মৃত্যু-ক্ষুধা, কুসুম ফেলে নিল খঞ্জর গো!Continue Reading

চিত্তনামা : কাজী নজরুল ইসলাম

» অর্ঘ্য

হায় চির-ভোলা! হিমালয় হতে অমৃত আনিতে গিয়া ফিরিয়া এলে যে নীলকণ্ঠের মৃত্যু-গরল পিয়া! কেন এত ভালো বেসেছিলে তুমি এই ধরণির ধূলি? দেবতারা তাই দামামা বাজায়ে স্বর্গে লইল তুলি! হুগলি ৩রা আষাঢ়, ১৩৩২Continue Reading

চিত্তনামা : কাজী নজরুল ইসলাম

» চিত্তনামা

‘চিত্তনামা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ২রা আষাঢ় ১৩৩২ বঙ্গাব্দ (১৬ জুন ১৯২৫ খৃষ্টাব্দ) মঙ্গলবার, দার্জিলিঙে পরলোকগমন করেন। দেশবন্ধুর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল-সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপতন, রাজভিখারী নামে কয়েকটি কবিতা লিখেছিলেনContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» রৌদ্রদগ্ধের গান

এবার আমার জ্যোতির্গেহে তিমির প্রদীপ জ্বালো। আনো অগ্নিবিহীন দীপ্তিশিখার তৃপ্তি অতল কালো। তিমির প্রদীপ জ্বালো॥ নয়ন আমার তামস-তন্দ্রালসে ঢুলে পড়ুক ঘুমের সবুজ রসে, রৌদ্র-কুহুর দীপক-পাখা পড়ুক টুটুক খসে, আমার নিদাঘদাহে অমামেঘের নীল অমিয়া ঢালো। তিমিরContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» আলতা-স্মৃতি

ঐ রাঙা পায়ে রাঙা আলতা প্রথম যেদিন পরেছিলে, সেদিন তুমি আমায় কি গো ভুলেও মনে করেছিলে – আলতা যেদিন পরেছিলে? জানি, তোমার নারীর মনে নিত্য-নূতন পাওয়ার পিয়াস হঠাৎ কেন জাগল সেদিন, কণ্ঠ ফেটে কাঁদল তিয়াস!Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» পূবের হাওয়া

(ঝড় : পূর্ব-তরঙ্গ) আমি ঝড় পশ্চিমের প্রলয়-পথিক– অসহ যৌবন-দাহে লেলিহান-শিখ দারুণ দাবাগ্নি-সম নৃত্য-ছায়ানটে মাতিয়া ছুটিতেছিনু, চলার দাপটে ব্রহ্মাণ্ড ভণ্ডুল করি। অগ্রে সহচরী ঘূর্ণা-হাতছানি দিয়া চলে ঘূর্ণি-পরী গ্রীষ্মের গজল গেয়ে পিলু-বারোয়াঁয় উশীরের তার-বাঁধা প্রান্তর-বীণায়। করতালি-ঠেকা দেয়Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» অমর-কানন

অমর কানন মোদের অমর-কানন! বন কে বলে রে ভাই, আমাদের তপোবন, আমাদের তপোবন॥ এর দক্ষিণে ‘শালী’ নদী কুলুকুলু বয়, তার কূলে কূলে শালবীথি ফুলে ফুলময়, হেথা ভেসে আসে জলে-ভেজা দখিনা মলয়, হেথা  মহুয়ার মউ খেয়ে মনContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» পাহাড়ী গান

মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, মোরা ঝরনার মতো চঞ্চল। মোরা বিধাতার মতো নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মতো সচ্ছল॥ মোরা আকাশের মতো বাধাহীন, মোরা মরু-সঞ্চর বেদুইন, মোরা জানি নাকো রাজা রাজ-আইন, মোরা পরি না শাসন-উদুখল! মোরা বন্ধনহীন জন্মস্বাধীন,Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» চির-চেনা

নামহারা ওই গাঙের পারে বনের কিনারে বেতস-বেণুর বনে কে ওই বাজায় বীণা রে॥ লতায়-পাতায় সুনীল রাগে সে-সুর সোহাগ-পুলক লাগে, সে সুর ঘুমায় দিগঙ্গনার শয়নলীনা রে। আমি কাঁদি, এ সুর আমার চিরচেনা রে॥ ফাগুন-মাঠে শিস দিয়েContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» চাঁদমুকুর

চাঁদ হেরিতেছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে। ছুটে তরঙ্গ বাসনাভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে॥ হেরিছে রজনি রজনি জাগিয়া চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া, কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া কুমুদীরে কাঁদাইতে॥ না জানি সজনি কত সে রজনি কেঁদেছে চকোরীContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» স্তব্ধ বাদল

ঐ নীল-গগনের নয়ন-পাতায় নামল কাজল-কালো মায়া। বনের ফাঁকে চমকে বেড়ায় তারই সজল আলোছায়া॥ ঐ তমাল তালের বুকের কাছে ব্যথিত কে দাঁড়িয়ে আছে দাঁড়িয়ে আছে। ভেজা পাতায় ওই কাঁপে তার আদুল ঢলঢল কায়া॥ যার শীতল হাতেরContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» অ-কেজোর গান

ঐ ঘাসের ফুলে মটরশুটির ক্ষেতে আমার এ-মন-মৌমাছি ভাই উঠেছে আজ মেতে॥ ঐ   রোদ-সোহাগী পউষ-প্রাতে অথির প্রজাপতির সাথে বেড়াই কুঁড়ির পাতে পাতে পুষ্পল মৌ খেতে। আমি আমন ধানের বিদায়-কাঁদন শুনি মাঠে রেতে॥ আজ কাশ-বনে কেContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» কার বাঁশি বাজিল?

কার বাঁশি বাজিল নদীপারে আজি লো? নীপে নীপে শিহরণ কম্পন রাজিল – কার বাঁশি বাজিল? বনে বনে দূরে দূরে ছল করে সুরে সুরে এত করে ঝুরে ঝুরে কে আমায় যাচিল? পুলকে এ-তনুমন ঘন ঘন নাচিল।Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» বাদল-দিনে

১ আদর-গর-গর বাদর দর-দর এ-তনু ডর-ডর কাঁপিছে থর-থর। নয়ন ঢল-ঢল সজল ছল-ছল, কাজল কালো জল ঝরে লো ঝরঝর। ২ ব্যাকুল বন-রাজি শ্বসিছে ক্ষণে ক্ষণে, সজনি! মন আজি গুমরে মনে মনে। বিদরে হিয়া মম বিদেশে প্রিয়তম,Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» প্রিয়ার রূপ

অধর নিসপিস নধর কিসমিস রাতুল তুলতুল কপোল; ঝরল ফুল-কুল, করল গুল ভুল বাতুল বুলবুল চপল॥ নাসায় তিলফুল হাসায় বিলকুল, নয়ান ছলছল উদাস, দৃষ্টি চোর-চোর মিষ্টি ঘোর-ঘোর, বয়ান ঢলঢল হুতাশ। অলক দুলদুল পলক ঢুল ঢুল, নোলকContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» মনের মানুষ

ফিরনু যেদিন দ্বারে দ্বারে কেউ কি এসেছিল? মুখের পানে চেয়ে এমন কেউ কি হেসেছিল? অনেক তো সে ছিল বাঁশি, অনেক হাসি, অনেক ফাঁসি, কই কেউ কি ডেকেছিল আমায়, কেউ কি যেচেছিল? ওগো এমন করে নয়ন-জলেContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» বিধুরা পথিকপ্রিয়া

আজ নলিন-নয়ান মলিন কেন বলো সখী বলো বলো। পড়ল মনে কোন্ পথিকের বিদায় চাওয়া ছলছল? বলো সখী বলো বলো মেঘের পানে চেয়ে চেয়ে বুক ভিজালে চোখের জলে, ওই সুদূরের পথ বেয়ে কি দূরের পথিক গেছেContinue Reading