ছায়ানট প্রচ্ছদ

» পাপড়ি-খোলা

রেশমি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে মরমকথা পথের মাঝে চমকে কে গো থমকে যায় ওই শরম-নতা॥ কাঁখচুমা তার কলসি-ঠোঁটে উল্লাসে জল উলসি ওঠে, অঙ্গে নিলাজ পুলক ছোটে বায় যেন হায় নরম লতা॥ অ-চকিতে পথের মাঝে পথ-ভুলানো পরদেশীContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» ছলকুমারী

কত ছল করে সে বারে বারে দেখতে আসে আমায়। কত বিনা-কাজের কাজের ছলে চরণ দুটি আমার দোরেই থামায়॥ জানলা-আড়ে চিকের পাশে দাঁড়ায় এসে কীসের আশে, আমায় দেখেই সলাজ ত্রাসে অনামিকায় জড়িয়ে আঁচল গাল দুটিকে ঘামায়॥Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» দুপুর-অভিসার

যাস কোথা সই একলা ও তুই অলস বৈশাখে? জল নিতে যে যাবি ওলো কলস কই কাঁখে? সাঁঝ ভেবে তুই ভর-দুপুরেই দু-কূল নাচায়ে পুকুরপানে ঝুমুর ঝুমুর নূপুর বাজায়ে যাসনে একা হাবা ছুঁড়ি, অফুট জবা চাঁপা-কুঁড়ি তুই!Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» প্রতিবেশিনী

আমার ঘরের পাশ দিয়ে সে চলত নিতুই সকাল-সাঁঝে। আর এ পথে চলবে না সে সেই ব্যথা হায় বক্ষে বাজে॥ আমার দ্বারের কাছটিতে তার ফুটত লালী গালের টোলে, টলত চরণ, চাউনি বিবশ কাঁপত নয়ন-পাতার কোলে –Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» বিবাগিনী

করেছ পথের ভিখারণী মোরে কে গো সুন্দর সন্ন্যাসী? কোন বিবাগীর মায়া-বনমাঝে বাজে ঘরছাড়া তব বাঁশি? ওগো সুন্দর সন্ন্যাসী॥ তব প্রেমরাঙা ভাঙা জোছনা হেরো শিশির-অশ্রু-লোচনা, ঐ চলিয়াছে কাঁদি বরষার নদী গৈরিকরাঙা-বসনা। ওগো প্রেম-মহাযোগী, তব প্রেম লাগিContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» আপন-পিয়াসী

আপন-পিয়াসী আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়, আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি আমারি তিয়াসী বাসনায়॥ আমারই মনের তৃষিত আকাশে কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে, কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে নিশীথেContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» মুক্তি-বার

লক্ষ্মী আমার! তোমার পথে আজকে অভিসার। অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার॥ দিনের পরে দিন গিয়েছে, হয়নি আমার ছুটি, বুকের ভিতর মৌন-কাঁদন পড়ত বৃথাই লুটি। আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া, লাগল চোখে তোমার চাওয়া, তাই তো প্রাণেContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» মরমী

কোন মরমির মরম ব্যথা আমার বুকে বেদনা হানে, জানি গো, সেও জানেই জানে। আমি কাঁদি তাইতে যে তার ডাগর চোখে অশ্রু আনে, বুঝেছি তা প্রাণের টানে॥ বাইরে বাঁধি মনকে যত ততই বাড়ে মর্ম-ক্ষত, মোর সেContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» আশা

হয়ত তোমার পাব দেখা, যেখানে ঐ নত আকাশ চুমছে বনের সবুজ রেখা॥ ঐ সুদূরের গাঁয়ের মাঠে, আলের পথে বিজন ঘাটে ; হয়ত এসে মুচকি হেসে ধরবে আমার হাতটি একা॥ ঐ নীলের ঐ গহন-পারে ঘোমটা-হারা তোমারContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» দূরের বন্ধু

বন্ধু আমার! থেকে থেকে কোন সুদূরের বিজন পুরে ডাক দিয়ে যাও ব্যথার সুরে? আমার অনেক দুখের পথের বাসা বারে বারে ঝড়ে উড়ে, ঘর-ছাড়া তাই বেড়াই ঘুরে॥ তোমার বাঁশীর উদাস কাঁদন শিথিল করে সকল বাঁধন কাজContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» সন্ধ্যাতারা

ঘোমটা-পরা কাদের ঘরের বৌ তুমি ভাই সন্ধ্যাতারা? তোমার চোখে দৃষ্টি জাগে হারানো কোন মুখের পারা। সাঁঝের প্রদীপ আঁচল ঝেঁপে বঁধুর পথে চাইতে বেঁকে চাউনিটি কার উঠছে কেঁপে রোজ সাঁঝে ভাই এমনি ধারা। কারা হারানো বধূContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» ব্যথা-নিশীথ

এই নীরব নিশীথ রাতে শুধু জল আসে আঁখি-পাতে। কেন কি কথা স্মরণে রাজে? বুকে কার হতাদর বাজে? কোন ক্রন্দন হিয়া-মাঝে ওঠে গুমরি ব্যর্থতাতে আর জল ভরে আঁখি-পাতে। মম ব্যর্থ জীবন-বেদনা এই নিশীথে লুকাতে নারি, তাইContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» অকরুণ পিয়া

আমার পিয়াল বনের শ্যামল পিয়ার ওই বাজে গো বিদায়বাঁশি, পথ-ঘুরানো সুর হেনে সে আবার হাসে নিদয় হাসি॥ পথিক বলে পথের গেহ বিলিয়েছিল একটু স্নেহ, তাই দেখে তার ঈর্ষাভরা কান্নাতে চোখ গেল ভাসি॥ তখন মোদের কিশোরContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» বিদায়-বেলায়

তুমি অমন করে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না, জল ছলছল চোখে চেয়ো না। ঐ কাতর-কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না, শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না॥ হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারাContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» দহনমালা

হায় অভাগি! আমায় দেবে তোমার মোহন মালা? বদল দিয়ে মালা, নেবে আমার দহন-জ্বালা? কোন ঘরে আজ প্রদীপ জ্বেলে ঘরছাড়াকে সাধতে এলে গগনঘন শান্তি মেলে, হায়! দু-হাত পুরে আনলে ও কি সোহাগ-ক্ষীরের থালা আহা দুখের বরণContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» মানস-বধূ

যেমন ছাঁচি পানের কচি পাতা প্রজাপতির ডানার ছোঁয়ায়, ঠোঁট দুটি তার কাঁপন-আকুল একটি চুমায় অমনি নোয়ায়॥ জল-ছলছল উড়ু-উড়ু চঞ্চল তার আঁখির তারা, কখন বুঝি দেবে ফাঁকি সুদূর পথিক-পাখির পারা, নিবিড় নয়ন-পাতার কোলে, গভীর ব্যথার ছায়াContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» চিরশিশু

নাম-হারা তুই পথিক-শিশু এলি অচিন দেশ পারায়ে। কোন্‌ নামের আজ পরলি কাঁকনম বাঁধনহারায় কোন কারা এ॥ আবার মনের মতন করে কোন নামে বল ডাকব তোরে! পথ-ভোলা তুই এই সে ঘরে ছিলি ওরে এলি ওরে বারেContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» পলাতকা

কোন্‌ সুদূরের চেনা বাঁশীর ডাক শুনেছিস্‌ ওরে চখা? ওরে আমার পলাতকা! তোর পড়লো মনে কোন্‌ হারা-ঘর, স্বপন-পারের কোন অলকা? ওরে আমার পলাতকা! তোর   জল ভরেচে চপল চোখে, বল   কোন হারা-মা ডাকলো তোকে রে?Continue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» স্নেহ-ভীতু

ওরে এ কোন্ স্নেহ-সুরধুনী নামল আমার সাহারায়? বক্ষে কাঁদার বান ডেকেছে, আজ হিয়া কূল না হারায়! কণ্ঠে চেপে শুষ্ক তৃষা মরুর সে পথ তপ্ত সিসা, চলতে একা পাইনি দিশা ভাই; বন্ধ নিশাস–একটু বাতাস! এক ফোঁটাContinue Reading

ছায়ানট প্রচ্ছদ

» নীল পরী

ঐ সর্ষে ফুলে লুটাল কার হলুদ-রাঙা উত্তরী। উত্তরী-বায় গো– ঐ আকাশ-গাঙে পাল তুলে যায় নীল সে পরীর দূর তরী॥ তার অবুঝ বীণার সবুজ সুরে মাঠের নাটে পুলক পুরে, ঐ গহন বনের পথটি ঘুরে আসছে দূরে কচিপাতাContinue Reading