সাম্প্রতিক সংযোজন
সর্বহারা » কৃষাণের গান
ওঠ রে চাষি জগদ্বাসী ধর কষে লাঙল। আমরা মরতে আছি – ভালো করেই মরব এবার চল॥ মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্য-ভরা দেশ ওই বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ, ও ভাই লক্ষ হাতে টানছেContinue Reading
সর্বহারা » সর্বহারা
১ ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা চোরাবালির চর, ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস সেই চরে তোর ঘর? শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা, হাট তুলে দে সর্বহারা, মেঘ-জননীর অশ্র”ধারা ঝ’রছে মাথার’ পর, দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি দুলিয়ে তর”-কর॥ ২ কন্যারা তোরContinue Reading
সর্বহারা » মা (বিরজাসুন্দরী দেবী)-র শ্রীচরণারবিন্দে
মা (বিরজাসুন্দরী দেবী)-র শ্রীচরণারবিন্দে সর্বসহা সর্বহারা জননী আমার। তুমি কোনদিন কারো করনি বিচার, কারেও দাওনি দোষ। ব্যথা-বারিধির কূলে ব’সে কাঁদ’ মৌনা কন্যা ধরণীর একাকিনী! যেন কোন্ পথ-ভুলে-আসা ভিন্-গাঁ’র ভীর” মেয়ে! কেবলি জিজ্ঞাসা করিতেছে আপনারে, ‘Continue Reading
সর্বহারা » সর্বহারা
‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে, মুতাবিক ১৯২৬ খৃষ্টাব্দের অক্টোবরে। প্রকাশক ব্রজবিহারী বর্মণ রায়, বর্মণ পাবলিশিং হাউস, ১৯৩ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২+৬৪, মূল্য এক টাকা ছয় আনা। তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়— সর্বহারা, কৃষাণেরContinue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » আমি সৈনিক
এখন দেশে সেই সেবকের দরকার যে-সেবক সৈনিক হতে পারবে। সেবার ভার নেবে নারী কিংবা সেই পুরুষ, যে-পুরুষের মধ্যে নারীর-করুণা প্রবল। নারীর ভালোবাসা আর পুরুষের ভালোবাসা বিভিন্ন রকমের। নারীর ভালোবাসায় মমতা আর চোখের জলের করুণাই বেশি।Continue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?
‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ বনানী-কুন্তলা ষোড়শী বনের বুক চিরে বেরিয়ে এসে পথ-হারা পথিককে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ সেদিন দিশেহারা পথিকের মুখে উত্তর জোগায়নি। সুন্দরের আঘাতে পথিকের মুখে কথা ফোটেনি। পথিক সেদিন সত্যই পথContinue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » মেয়্ ভুখা হুঁ
পাগলি মেয়ের কী খেয়াল উঠল, হঠাৎ দুপুর রাতে ডুকরে কেঁদে উঠল, ‘মেয়্ ভুখা হুঁ!’ মঙ্গল-ঘট গেল ভেঙ্গে, পুরনারীর হাতে শাঁখ আর বাজে না, শাঁখাও গেল টুটে। ভীত শিশু মাকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করলে, ‘মা, ওContinue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » স্বাগত
‘খোশ-আমদেদ!’ স্বাগত হে দেশবন্ধু! হে বীরেন্দ্র! তোমাদের এই তিমির রাত্রির অবসানে আমরা আমাদের স্বাগত সম্ভাষণ জানাচ্ছি। তোমরা ফিরে এস এই বাংলার শ্মশানে। জ্বালিয়ে রেখেছি এই শ্মশান-চিতার হোম-শিখা ; এস ঋষি, হোতা হও। এস তবে, কপালেContinue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » মোরা সবাই স্বাধীন : মোরা সবাই রাজা
একবার শির উঁচু করে বলো দেখি বীর, ‘মোরা সবাই স্বাধীন, সবাই রাজা!’ দেখবে অমনি তোমার পূর্ব-পুরুষের রক্ত-মজ্জা-অস্থি দিয়ে গড়া রক্ত-দেউল তাসের ঘরের মতো টুটে পড়েছে, তোমার চোখের সাত-পুরু-করে বাঁধা পর্দা খুলে গেছে, তিমির রাত্রি দিক-চক্রবালেরContinue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » তুবড়ি বাঁশির ডাক
ঐ শোন– পুব সাগরের পার হতে কোন্ এল পরবাসী। শূন্যে বাজায় ঘন ঘন হাওয়ায় হাওয়ায় শনশন সাপ খেলাবার বাঁশি। বেরিয়ে এস, বেরিয়ে এস বিবর থেকে ‘অগ্নি-বরণ নাগ-নাগিনী’ তোমাদের নিযুত ফণা দুলিয়ে। ওই শোনো, সাপুড়ের তুবড়িContinue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল
এস ভাই, পথের সাথী বন্ধুরা আমার, এস আমাদের লক্ষ্মীছাড়ার দল! আজ শনি এসেছে তোমাদের পোড়া-কপালে বাসি ছাই-এর পাণ্ডুর টিকা পরিয়ে দিতে। এস আমার লক্ষ্মীছাড়া গৃহহারা ভাইরা! আজ ঝর-ঝর বারিধারার সুরে সুরে কান্না উঠেছে–‘হায় গৃহহীন, হায়Continue Reading
দুর্দিনের যাত্রী » দুর্দিনের যাত্রী
১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬শে শ্রাবণ মুতাবিক ১৯২২ খৃষ্টাব্দের ১১ই আগস্ট অর্ধসাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’র প্রথম সংখ্যা বের হয়। নজরুল ইসলাম ‘ধূমকেতু’তে যে-সকল সম্পাদকীয়, প্রবন্ধ লেখেন তারই কতকগুলি সংগ্র করে ৫৪ পৃষ্ঠার পুস্তিকা ‘দুর্দিনের যাত্রী’ প্রকাশিত হয়। প্রকাশক নজরুলContinue Reading
ঝিঙে ফুল » পিলে-পটকা
উটমুখো সে সুঁটকো হাশিম, পেট যেন ঠিক ভুঁটকো কাছিম! চুলগুলো সব বাবুই দড়ি – ঘুসকো জ্বরের কাবুয় পড়ি! তিন-কোনা ইয়া মস্ত মাথা, ফ্যাচকা-চোখো; হস্ত? হাঁ তা ঠিক গরিলা, লোবনে ঢ্যাঙা! নিটপিটে ঠ্যাং সজনে ঠ্যাঙা! গাইতি-দেঁতো,Continue Reading
ঝিঙে ফুল » ঠ্যাং-ফুলি
হো-হো-হো উররো হো-হো! হো-হো-হো উররো হো-হো উররো হো-হো বাস কী মজা! কে শুয়ে চুপ সে ভুঁয়ে, নারছে হাতে পাশ কী সোজা! হো-বাবা! ঠ্যাং ফুলো যে! হাসে জোর ব্যাংগুলো সে ড্যাং তুলো তার ঠ্যাংটি দেখে! ন্যাংContinue Reading
ঝিঙে ফুল » হোঁদলকুঁৎকুতের বিজ্ঞাপন
মিচকে-মারা কয় না কথা মনটি বড়ো খুঁতখুঁতে। ‘ছিঁচকাঁদুনে’ ভ্যাবিয়ে ওঠেন একটু ছুঁতেই না ছুঁতে। ড্যাবরা ছেলে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে থেকে গাল ফুলান, সন্দেশ এবং মিষ্টি খেতে – বাসরে বাস – এক জাম্বুবান! নিম্নমুখো-যষ্টি ছেলে দশটি ছেলেContinue Reading
ঝিঙে ফুল » লিচু চোর
বাবুদের তাল-পুকুরে হাবুদের ডাল-কুকুরে সে কি বাস করলে তাড়া, বলি থাম একটু দাড়া। পুকুরের ঐ কাছে না লিচুর এক গাছ আছে না হোথা না আস্তে গিয়ে য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে গাছে গো যেই চড়েছি ছোট একContinue Reading
ঝিঙে ফুল » প্রভাতী
ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠ রে! ওই ডাকে জুঁই-শাখে ফুল-খুকি ছোটরে! খুকুমণি ওঠ রে! রবি মামা দেয় হামা গায়ে রাঙা জামা ঐ, দারোয়ান গায় গান শোন ঐ, ‘রামা হৈ!’ ত্যাজি নীড় করে ভিড় ওড়েContinue Reading
ঝিঙে ফুল » চিঠি
[ছন্দ :- “এই পথটা কা-ট্ব পাথর ফেলে মা-র্ব”] ছোট্ট বোন্টি লক্ষ্মী ভো ‘জটায়ু পক্ষী’! য়্যাব্বড়ো তিন ছত্র পেয়েছি তোর পত্র। দিইনি চিঠি আগে, তাইতে কি বোন্ রাগে? হচ্ছে যে তোর কষ্ট বুঝতেছি খুব পষ্ট। তাইতেContinue Reading
ঝিঙে ফুল » খোকার গপ্প বলা
মা ডেকে কন, ‘খোকন-মণি! গপ্প তুমি জানো? কও তো দেখি বাপ!’ কাঁথার বাহির হয়ে তখন জোর দিয়ে এক লাফ বললে খোকন, ‘গপপ জানি, জানি আমি গানও!’ বলেই খুদে তানসেন সে তান জুড়ে জোর দিল –Continue Reading
ঝিঙে ফুল » খোকার বুদ্ধি
চুন করে মুখ প্রাচীর পরে বসে শ্রীযুত খোকা, কেননা তার মা বলেছেন সে এক নিরেট বোকা। ডানপিটে সে খোকা এখন মস্ত একটা বীর, হুংকারে তাঁর হাঁস মুরগির ছানার চক্ষুস্থির! সাত লাঠিতে ফড়িং মারেন এমনই পালোয়ান!Continue Reading



