রাজ্যে যাদের সূর্য অস্ত যায় না কখনও, শুনিস হায়, মেরে মেরে যারা ভাবিছে অমর, মরিবে না কভু মৃত্যু-ঘায়, তাদের সন্ধ্যা ওই ঘনায়! চেয়ে দেখ ওই ধূম্র-চূড় অসন্তোষের মেঘ-গরুড় সূর্য তাদের গ্রাসিল প্রায়! ডুবেছে যে পথেContinue Reading

নিদ্রা-দেবীর মিনার-চুড়ে মুয়াজ্জিনের শুনছি আরাব,– পান করে নে প্রাণ-পেয়ালায় যুগের আলোর রৌদ্র-শারাব! উষায় যারা চমকে গেল তরুণ রবির রক্ত-রাগে, যুগের আলো! তাদের বলো, প্রথম উদয় এমনি লাগে! সাতরঙা ওই ইন্দ্রধনুর লাল রংটাই দেখল যারা, তাদের গাঁয়ে মেঘ নামায়েContinue Reading

−ওরে ও শীর্ণা নদী, দু-তীরে নিরাশা-বালুচর লয়ে জাগিবি কি নিরবধি? নব-যৌবনজলতরঙ্গ-জোয়ারে কি দুলিবি না? নাচিবে জোয়ারে পদ্মা গঙ্গা, তুই রবি চির-ক্ষীণা? ভরা ভাদরের বরিষন এসে বারে বারে তোর কূলে জানাবে রে তোরে সজল মিনতি, তুইContinue Reading

এই যৌবনজলতরঙ্গ রোধিবি কি দিয়া বালির বাঁধ? কে রোধিবি এই জোয়ারের টান গগনে যখন উঠেছে চাঁদ? যে সিন্ধু-জলে ডাকিয়াছে বান–তাহারি তরে এ চন্দ্রোদয়, বাঁধ বেঁধে থির আছে নালা ডোবা, চাঁদের উদয় তাদের নয়! যে বানContinue Reading

ওড়াও ওড়াও লাল নিশান!…. দুলাও মোদের রক্ত-পতাকা ভরিয়া বাতাস জুড়ি বিমান! ওড়াও ওড়াও লাল নিশান॥ শীতের শ্বাসেরে বিদ্রুপ করি ফোটে কুসুম, নব-বসন্ত-সূর্য উঠিছে টুটিয়া ঘুম, অতীতের ওই দশ-সহস্র বছরের হানো মৃত্যু-বাণ ওড়াও ওড়াও লাল নিশান॥Continue Reading

রক্তাম্বর পরো মা এবার জ্বলে পুড়ে যাক শ্বেত বসন দেখি ওই করে সাজে মা কেমন বাজে তরবারি ঝনন ঝন। সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলো মা গো, জ্বালো সেথা জ্বালো কাল-চিতা তোমার খড়্গ-রক্ত হউক স্রষ্টার বুকে লালContinue Reading

[গ্রিসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা-তুর্ক-গভর্নমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছিলেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ হাজার স্বেচ্ছাসৈনিক প্রেরণের প্রস্তাব শুনিয়া লিখিত।] ওরে আয়! ঐ মহাসিন্ধুর পার হতে ঘন রণভেরি শোনা যায় – ওরে আয়! ঐContinue Reading

সই পাতালো কি শরতে আজিকে স্নিগ্ধ আকাশ ধরণী? নীলিমা বাহিয়া সওগাত নিয়া নামিছে মেঘের তরণী! অলকার পানে বলাকা ছুটিছে মেঘ-দূত-মন মোহিয়া চঞ্চুতে রাঙা কলমির কুঁড়ি–মরতের ভেট বহিয়া। সখীর গাঁয়ের সেঁউতি-বোঁটার ফিরোজায় রেঙে পেশোয়াজ আশমানি আরContinue Reading

সাম্যের গান গাই যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই। এ প্রশ্ন অতি সোজা, এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা? অদ্ভুত দর্শন– এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন! প্রজা হয় শুধুContinue Reading

তোমারে আমরা ভুলেছি আজ, হে নবযুগের নেপোলিয়ন, কোন সাগরের কোন সে পার নিবু-নিবু আজ তব জীবন। তোমার পরশে হল মলিন কোন সে দ্বীপের দীপালি-রাত, বন্দিছে পদ সিন্ধুজল, ঊর্ধ্বে শ্বসিছে ঝঞ্ঝাবাত। তব অপমানে, বন্দি-রাজ, লজ্জিত সারাContinue Reading

আমি নিজেই নিজের ব্যথা করি সৃজন। শেষে সে-ই আমারে কাঁদায়, যারে করি আপ্‌নারই জন॥ দূর হতে মোর বাঁশির সুরে পথিক-বালার নয়ন ঝুরে তার ব্যথায়-ভরাট ভালোবাসায় হৃদয় পুরে গো! তারে যেমনি টানি পরান-পুটে অমনি সে হায়Continue Reading

বাবুদের তাল-পুকুরে হাবুদের ডাল-কুকুরে সে কি বাস করলে তাড়া, বলি থাম একটু দাড়া। পুকুরের ঐ কাছে না লিচুর এক গাছ আছে না হোথা না আস্তে গিয়ে য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে গাছে গো যেই চড়েছি ছোট একContinue Reading

(চণ্ডবৃষ্টি-প্রপাত ছন্দ) নব ঋত্বিক নবযুগের! নমস্কার! নমস্কার! আলোকে তোমার পেনু আভাস নওরোজের নব উষার! তুমি গো বেদনা-সুন্দরের দর্‌দ্-ই-দিল্, নীল মানিক, তোমার তিক্ত কণ্ঠে গো ধ্বনিল সাম বেদনা-ঋক। হে উদীচী উষা চির-রাতের, নরলোকের হে নারায়ণ! মানুষContinue Reading

নার্গিস-বাগমে   বাহার কী আগমে ভরা দিল দাগমে– কাঁহা মেরি পিয়ারা, আও আও পিয়ারা। দুরু দুরু   ছাতিয়া ক্যায়সে এ রাতিয়া কাটুঁ বিনু সাথিয়া ঘাবরায়ে জিয়ারা, তড়পত জিয়ারা॥ দরদে দিল জোর, রঙিলা কওসর শরাবন তহুরা লাও সাকি লাও ভর, পিয়ালা তুContinue Reading

শাতিল-আরব! শাতিল আরব!! পূত যুগে যুগে তোমার তীর। শহিদের লোহু, দিলিরের খুন ঢেলেছে যেখানে আরব-বীর। যুঝেছে এখানে তুর্ক-সেনানী, য়ুনানি মিসরি আরবি কেনানি;– লুটেছে এখানে মুক্ত আজাদ বেদুইনদের চাঙ্গা-শির! নাঙ্গা-শির – শমশের হাতে, আঁশু-আঁখে হেথা মূর্তিContinue Reading

রে নীড়-হারা, কচি বুকে শায়ক-বেঁধা পাখী! কেমন করে কোথায় তোরে আড়াল দিয়ে রাখি? কোথায় রে তোর কোথায় ব্যথা বাজে? চোখের জলে অন্ধ আঁখি কিছুই দেখি না যে? ওরে মাণিক! এ অভিমান আমায় নাহি সাজে— তোরContinue Reading

ভুলি নাই পুনঃ তাই আসিয়াছি ফিরে ওগো বন্ধু, ওগো প্রিয়, তব সেই তীরে! কূল-হারা কূলে তব নিমেষের লাগি খেলিতে আসিয়া হায় যে কবি বিবাগী সকলই হারায়ে গেল তব বালুচরে,– ঝিনুক কুড়াতে এসে–গেল আঁখি ভরে তবContinue Reading

আজ চোখের জলে প্রার্থনা মোর শেষ বরষের শেষে    এমনি কাটে আসছে-জনম তোমায় ভালোবেসে।          এমনি আদর, এমনি হেলা          মান-অভিমান এমনি খেলা,          এমনি ব্যথার বিদায়-বেলা                এমনি চুমু হেসে, যেন খণ্ডমিলন পূর্ণ করেContinue Reading

আমার বিদায়-রথের চাকার ধ্বনি ঐ গো এবার কানে আসে। পুবের হাওয়া তাই কেঁদে যায় ঝাউয়ের বনে দিঘল শ্বাসে॥ ব্যথায় বিবশ গুলঞ্চ ফুল মালঞ্চে আজ তাই শোকাকুল, মাটির মায়ের কোলের মায়া ওগো আমার প্রাণ উদাসে॥ অঙ্গContinue Reading

মরণ-রথের চাকার ধ্বনি ঐ রে আমার কানে আসে। পুবের হাওয়া তাই নেমেছে পারুল বনে দীঘল শ্বাসে॥ ব্যথার কুসুম গুলঞ্চ ফুল মালঞ্চে আজ তাই শোকাকুল, গোরস্থানের মাটির বাসে তাই আমার আজ প্রাণ উদাসে॥ অঙ্গ আসে অবশContinue Reading