তৃষ্ণা » সাত
সংক্ষিপ্ত ব্লাউজের নিচে আড়াল-রাখা একজোড়া উদ্ধত যৌবন, নিচে তার ঘরে নাচের মহড়া দিচ্ছে। এখান থেকে তার ঘুঙুরের শব্দ শুনতে পাচ্ছে শওকত। মার্থা বললো, দেরি করছো কেন, ওঠো। তাড়াতাড়ি বাড়িটা দেখে আসি গিয়ে। আমাকে আবার দুটোরContinue Reading
সংক্ষিপ্ত ব্লাউজের নিচে আড়াল-রাখা একজোড়া উদ্ধত যৌবন, নিচে তার ঘরে নাচের মহড়া দিচ্ছে। এখান থেকে তার ঘুঙুরের শব্দ শুনতে পাচ্ছে শওকত। মার্থা বললো, দেরি করছো কেন, ওঠো। তাড়াতাড়ি বাড়িটা দেখে আসি গিয়ে। আমাকে আবার দুটোরContinue Reading
বাড়ি দেখে দুজনেই পছন্দ হলো। হোক না কবুতরের খোঁপের মত ছোট-ছোট দুটো কামরা। তবু ভাড়া কম। মাসে পঁচাত্তর টাকা। দু-মাসের আগাম দিতে হবে, দেড়শ! সে টাকা দিয়ে বাড়ির ভেতরটা মেরামত আর চুনকাম করে দেবে বাড়িওয়ালা।Continue Reading
পর পর কয়েকদিন বুড়ো আহমদ হোসেনের আখড়ার কাছে এসে ফিরে গেলো শওকত। সারাপথ মনটাকে ধরে রাখলেও বুড়ো আহমদ হোসেনের নজরের সীমানার আসার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত সত্তা যেন বিদ্রোহ করে উঠে ওর। মার্থা বলে। তোমার কীContinue Reading
কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের বিভিন্ন সময়ে লেখা ২১ টি গল্প নিয়ে সাজানো গল্পসমগ্র; মাত্র একুশটি গল্প লিখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। প্রত্যেকটা গল্পেই যিনি রেখেছেন দক্ষতার ছাপ। কোনো গল্পে বলেছেন অতীতের স্মৃতি আবার কোনো গল্পে বলেছেনContinue Reading
দীর্ঘ দশ বছর পর অকস্মাৎ আজ যদি তাদের একজনের সঙ্গে দেখা না হত, তাহলে হয়ত এ গল্পের জন্ম হতো না কোনদিন। দশ বছর আগে, ফার্নিচারের দোকানে কিছুদিনের জন্য চাকরি নিতে হয়েছিল আমার। দোকানটা ছিল আকারেContinue Reading
কিছুদিন আগে সংবাদ সংগ্রহের জন্যে মুক্তিযোদ্ধাদের একটা অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে গিয়েছিলাম। ক্যাম্প-কমান্ডার ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। সেই ব্যস্ততার মুহূর্তে আমার দিকে একটা খাতা এগিয়ে দিয়ে বললেন, আপনি বসুন। এই খাতাটা পড়ুন বসে বসে। আমি কয়েকটা কাজ সেরেContinue Reading
হজে গেলে কিতা অয় বাবাজান? প্রশ্নটা আকস্মিক, তাই মেয়ের দিকে একবার মুখ তুলে তাকাল করমআলী। কিন্তু কিছুই বলল না সে, নীরবে ধানের চারাগুলি পরিষ্কার করতে লাগল দু-হাতে। হজে গেলে কিতা অয় বাবাজান? আবার প্রশ্ন। জবাবContinue Reading
অফিস থেকে বেরুতেই ফুটপাতে দেখা হয়ে গেলো মেয়েটির সাথে। একটুও চমকালো না আলম। যদিও ক্লান্ত চোখ দুটি ওর বিস্ময়ের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। আরে আলম না। তুমি এখানে? মেয়েটিও ভুল করেনি, ঠিক চিনতে পেরেছে তাকে। অনেকContinue Reading
আর কিছু নয়, গফরগাঁ থাইকা পীর সাইবেরে নিয়া আস তোমরা। অনেক ভেবেচিন্তে বললেন রহমি সর্দার। তাই করেন, হুজুর, তাই করেন। একবাক্যে সায় দিল চাষীরা। গফরগাঁ থেকে জবরদস্ত পীর মনোয়ার হাজীকেই নিয়ে আসবে ওরা। দেশজোড়া নামContinue Reading
সকাল থেকেই মেঘ করছিলো সারা আকাশটা। দুপুর গড়াতেই বৃষ্টি নামলো জোরে। বাইরে শুধু বৃষ্টির একটানা রিমঝিম রিমঝিম শব্দ। মাঝে মাঝে দমকা বাতাসে সে বৃষ্টির বেগ বাড়ছিলো। আবার কমছিলো। রাস্তায় পায়ে চলা পথিকের সাড়াশব্দ ছিলো না।Continue Reading
ভোরের ট্রেনে গাঁয়ে ফিরে এলেন শনু পণ্ডিত। ন্যুব্জ দেহ, রুক্ষ চুল, মুখময় বার্ধক্যের জ্যামিতিক রেখা। অনেক আশা ভরসা নিয়েই গিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, কিছু টাকা পয়সা সাহায্য পেলে আবার নতুন করে দাঁড় করাবেন স্কুলটাকে। আবার শুরুContinue Reading
লাশটাকে ধরাধরি করে উঠোন থেকে ঘরে নিয়ে এলো ওরা। তারপর আস্তে শুইয়ে দিলো মেঝের উপর। বাইরে তখন সন্ধ্যার আস্তরণে কালো রাত নেমে এসেছে ঘন হয়ে। শিয়রে দুটো মোমবাতি জ্বেলে দিয়ে চক্রাকারে বসলো ওরা, লাশটাকেContinue Reading
টুনুর স্বামীকে দেখে এমনভাবে চমকাতে হবে তা কে জানতো। তবু চমকেছিলাম, ভীষণভাবেই চমকে উঠেছিলাম হয়তো। কাল রাতে যখন ট্রেন থেকে নেমেছিলাম তখন বাইরে শীত পড়ছিলো ভীষণ। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। বাতাসের বরফ ঝরছিল যেন। কোটেরContinue Reading
না, আর সইতে পারে না সালেহা। জীবনটা একেবারে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে তার কাছে। বিয়ে হয়েছে আজ চার বছর। চারটে বছর মানুষের জীবনে নেহায়েৎ কম নয়। এ চারটে বছর কেমন করে তাকে কাটাতে হয়েছে তা সেইContinue Reading
জীবনকে অস্বীকার করিস না মনো! অস্বীকার করিসনে তোর আপন সত্তাকে, অনেক কিছু তোর করবার আছে এ জীবনে। অনেক চেষ্টা করেছে মনোয়ারা, কিন্তু কিছুতেই ভুলতে পারেনি জামানের এ কথা কয়টি। সংসারের নিত্য নৈমিত্তিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে,Continue Reading
অসংখ্য বই পুস্তকে সাজানো ট্রলির বাবার লাইব্রেরি। দেখে অবাক হল আসলাম। সত্যি, বাসায় এতবড় একখানা লাইব্রেরি আছে, ট্রলি তো এ কথা ভুলেও কোনদিন বলেনি তাকে। একটু হাসলেন ট্রলির বাবা। বলেন, দৈনিক কমপক্ষে ঘণ্টা আটেক এখানেইContinue Reading
কালবৈশাখী দূরন্ত ঝড়ে নড়বড়ে চালাঘরটা ধসে পড়লো মাটিতে। বিন্তি জানতো না সে খবর। মিয়া বাড়িতে ধান ভানতে গিয়েছিল সে। ফিরে আসতেই রাস্তায় মনার মা বললো, তখনই কইছিলাম বৌ ঘরডারে একটু মেরামত কর। তা তো কইরলাContinue Reading
লোকটাকে এর আগেও ক’দিন দেখেছে মন্তু। হ্যাংলা রোগাটে দেহ। তেলবিহীন উস্কোখুস্কো চুল। লম্বা নাক, খাদে ঢোকা ক্ষুদে ক্ষুদে দু’টি চোখ; সেক্রেটারিয়েট থেকে বেরিয়ে ক্লান্ত দেহটা টেনে টেনে নবাবপুরের দিকে এগোয়। কদাচিৎ বাসে চড়ে। বাস স্টান্ডেরContinue Reading
দূর থেকেই দেখলেন আমজাদ সাহেব। লাল কালো হরফে লেখা অক্ষরগুলো সকালের সোনালি রোদে কেমন চিকচিক করছে। সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক। বাজারে এক মেছুনীর সাথে ঝগড়া করে মেজাজটা এমনিতেই বিগড়ে ছিলো আমজাদ সাহেবের। তার ওপর সদ্য চুনকামContinue Reading
মাঝে মাঝে ভাবি কতগুলো কুষ্ঠ রোগীকে নিয়ে একটা ছবি বানাবো। যাদের সারা দেহে পচন ধরেছে— তবু তারা চিৎকার করে বলছে না না। আমাদের কিছু হয়নি তো! তাদের হাত পা’গুলো সব গলে গলে খসে পড়ছে। তবুContinue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬