বুলবুল » উৎসর্গ
সুর-শিল্পী, বন্ধু দিলীপকুমার রায় করকমলেষু আমার শুধু এ বাণী হে বন্ধু, আমার শুধু এ গান। তুমি তারে দিলে রূপ-রঙ্গিমা, তুমি তারে দিলে প্রাণ। আমার ব্যথায় বেঁধেছিল নীড় যে গানের বুল্বুলি, আপনি আসিয়া আদরে তাহারে বক্ষেContinue Reading
সুর-শিল্পী, বন্ধু দিলীপকুমার রায় করকমলেষু আমার শুধু এ বাণী হে বন্ধু, আমার শুধু এ গান। তুমি তারে দিলে রূপ-রঙ্গিমা, তুমি তারে দিলে প্রাণ। আমার ব্যথায় বেঁধেছিল নীড় যে গানের বুল্বুলি, আপনি আসিয়া আদরে তাহারে বক্ষেContinue Reading
১ ভৈরবী—কাহারবা বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিসনে আজি দোল। আজও তার ফুলকলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল॥ আজও হায় রিক্ত শাখায় উত্তরী-বায় ঝুরছে নিশিদিন, আসেনি দখ্নে হাওয়া গজল্-গাওয়া মৌমাছি বিভোল॥ করে সে ফুলকুমারী ঘোমটা চিরি আসবে বাহিরে,Continue Reading
২ জৌনপুরী-আশাবরী—কাহারবা আমারে চোখ-ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদী। খুলে দাও রং-মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি॥ গোপনে চৈতি হাওয়ায় গুল-বাগিচায় পাঠালে লিপি, দেখে তাই ডাকছে ডালে কূ কূ বলে কোয়েলা ননদী॥ পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখেContinue Reading
৩ ইমন-মিশ্র গজল—কাহারবা বসিয়া বিজনে কেন একা মনে পানিয়া ভরণে চল লো গোরী। চল জলে চল কাঁদে বনতল, ডাকে ছলছল জল-লহরী॥ দিবা চলে যায় বলাকা-পাখায়, বিহগের বুকে বিহগী লুকায়! কেঁদে চখাচখি মাগিছে বিদায় বারোয়াঁর সুরেContinue Reading
৪ পিলু—কাহারবা-দাদরা ভুলি কেমনে আজও যে মনে বেদনা-সনে রহিল আঁকা। আজও সজনি দিন রজনি সে বিনে গণি তেমনই ফাঁকা॥ আগে মন করলে চুরি, মর্মে শেষে হানলে ছুরি, এত শঠতা এত যে ব্যথাContinue Reading
৫ মিশ্র বেহাগ-খাম্বাজ — দাদরা কেন কাঁদে পরান কী বেদনায় কারে কহি সদা কাঁপে ভীরু হিয়া রহি রহি॥ সে থাকে নীল নভে আমি নয়ন-জল-সায়রে, সাতাশ তারার সতিন-সাথে সে যে ঘুরে মরে, কেমনে ধরি সে চাঁদেContinue Reading
৬ সিন্ধু-ভৈরবী—কাহারবা মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে গোপন পায়ে কে ওই আসে। আকাশ-ছাওয়া চোখের চাওয়া উতল হাওয়া কেশের বাসে॥ উষার রাগে সাঁঝের ফাগে যুগল তাহার কপোল রাঙে, কমল দুলে সূরয শশী নিশীথ-চুলে আঁধার-রাশে॥ চরণ-ছোঁয়ায় পাতার ঠোঁটেContinue Reading
৭ ভৈরবী-আশাবরী — কাহারবা কে বিদেশি মন-উদাসী বাঁশির বাঁশি বাজাও বনে। সুর-সোহাগে তন্দ্রা লাগে কুসুম-বাগের গুল্-বদনে॥ ঝিমিয়ে আসে ভোমরা-পাখা, যূথীর চোখে আবেশ মাখা, কাতর ঘুমে চাঁদিমা রাকা (ভোর গগনের দর-দালানে) দর-দালানে ভোর গগনে॥ লজ্জাবতীর লুলিতContinue Reading
৮ সিন্ধু—কাওয়ালি করুণ কেন অরুণ আঁখি দাও গো সাকি দাও শারাব। হায় সাকি এ আঙ্গুরি খুন, নয় ও হিয়ার খুন-খারাব॥ দুর্দিনের এই দারুণ দিনে শরণ নিলাম পানশালায়, হায় শাহারার প্রখর তাপে পরান কাঁপে দিল্-কাবাব॥ আরContinue Reading
৯ মান্দ্—কাওয়ালি এত জল ও-কাজল-চোখে পাষাণী, আনলে বল কে। টলমল জল-মোতির মালা দুলিছে ঝালর-পলকে॥ দিল কি পুব্-হাওয়াতে দোল, বুকে কি বিঁধিল কেয়া? কাঁদিয়া কুটিলে গগন এলায়ে ঝামর-অলকে॥ চলিতে পৈচি কি হাতের বাধিল বৈঁচি-কাঁটাতে? ছাড়াতে কাঁচুলিরContinue Reading
১০ ভীমপলশ্রী—দাদরা আসে বসন্ত ফুলবনে সাজে বনভূমি সুন্দরী। চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি॥ ফুলরেণু-মাখা দখিনা বায় বাতাস করিছে বনবালায়, বনকরবী-নিকুঞ্জছায় মুকুলিকা ওঠে মুঞ্জরি॥ কুহু আজি ডাকে মুহুমুহু, ‘পিউ কাঁহা’ কাঁদে উহু উহু পাখায় পাখায়Continue Reading
১১ কাফি-সিন্ধু — কাহারবা দুরন্ত বায়ু পুরবৈয়াঁ বহে অধীর আনন্দে। তরঙ্গে দুলে আজি নাইয়া রণ-তুরঙ্গ-ছন্দে॥ অশান্ত অম্বর-মাঝে মৃদঙ্গ গুরুগুরু বাজে, আতঙ্কে থরথর অঙ্গ মন অনন্তে বন্দে॥ ভুজঙ্গী দামিনীর দাহে দিগন্ত শিহরিয়া চাহে, বিষণ্ণ-ভয়-ভীতা যামিনী খোঁজেContinue Reading
১২ বাগেশ্রী-পিলু—কাহারবা চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না এ নয়ন পানে। জানিতে নাইকো বাকি সই ও আঁখি কী জাদু জানে॥ একে ওই চাউনি বাঁকা সুরমা-আঁকা, তায় ডাগর আঁখি। বধিতে তায় কেন সাধ যে মরেছে ওইContinue Reading
১৩ পিলু — দাদারা পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়। শীতল হিমেল বায়ে ফুল ঝরে যায়॥ সেদিনও সকাল বেলা খেলেছি কুসুম-খেলা, আজি যে কাঁদি একেলা এ ভাঙা মেলায়, কেন এলে অবেলায়॥ ক্লান্ত দিবস দূরে কাঁদিছে পিলুর সুরে,Continue Reading
১৪ ভৈরবী—যৎ সখী জাগো, রজনী পোহায়। মলিন কামিনী-ফুল যামিনী-গলায়॥ চলিছে বধূ সিনানে বসন না বশ মানে, শিথিল আঁচল টানে পথের কাঁটায়॥Continue Reading
১৫ ভৈরবী — কাহারবা নিশি ভোর হল জাগিয়া পরান-পিয়া। কাঁদে ‘পিউ কাঁহা’ পাপিয়া পরান-পিয়া॥ ভুলি বুলবুলি-সোহাগে কত গুলবদনী জাগে, রাতি গুলশনে যাপিয়া পরান-পিয়া॥ জেগে রয় জাগার সাথী দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি, কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া॥Continue Reading
১৬ বৃন্দাবনী সারঙ—মিশ্র দাদরা এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে। কেন পুন বাঁশি বাজালে কাফি-ললিতে॥ নিশীথ গভীরে কেন আঁখি-নীরে এলে ফিরে ফিরে গোপনকথা বলিতে॥ দলিত কুসুম-দলে রচিয়াছি শয়ন অন্ধ তিমির রাতি, নিবু-নিবু নয়ন! মরণ-বেলায়Continue Reading
১৭ কালাংড়া — কাওয়ালি বসিয়া নদীকূলে এলোচুলে কে উদাসিনী। কে এলে পথ ভুলে এ অকূলে বন-হরিণী॥ কলসে জল ভরিয়া চায় করুণায় কুলবধূরা কেঁদে যায় ফুলে ফুলে পদমূলে সাঁঝ-তটিনী॥ নিশিদিন চাহি তোমারে ওপারে বাজিছে বাঁশি, এপারেContinue Reading
১৮ বেহাগ—দাদরা কেন দিলে এ কাঁটা যদি গো কুসুম দিলে ফুটিত না কি কমল ও কাঁটা না বিঁধিলে॥ কেন এ আঁখি-কূলে বিধুর অশ্রু দুলে, কেন দিলে এ হৃদি যদি না হৃদয় মিলে॥ শীতল মেঘ-নীরে ডাকিয়াContinue Reading
১৯ বিহারী খাম্বাজ মিশ্র—দাদরা সখী, বোলো-বঁধূয়ারে নিরজনে দেখা হলে রাতে ফুলবনে॥ কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালি, কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি জেনেছে ফুলমালি গোপনে॥ কাঁটার আড়ালে গোলাবের বাগে ফুটায়েছে কুসুম কপট সোহাগে,Continue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬