Category: কাজী নজরুল ইসলাম

  • নহে নহে প্রিয়

    নহে নহে প্রিয়

    ২০

    দুর্গা কাওয়ালী

    নহে নহে প্রিয়, এ নয় আঁখি-জল।

    মলিন হয়েছে ঘুমে চোখের কাজল॥

    হেরিয়া নিশি-প্রভাতে

    শিশির কমল-পাতে,

    ভাব বুঝি বেদনাতে

    কেঁদেছে কমল॥

    মরুতে চরণ ফেলে

    কেন বন-মৃগ এলে,

    সলিল চাহিতে পেলে

    মরীচিকা-ছল॥

    এ শুধু শীতের মেঘে

    কপট কুয়াশা লেগে

    ছলনা উঠেছে জেগে —

    এ নহে বাদল॥

    কেন কবি খালি খালি

    হলি রে চোখের বালি,

    কাঁদাতে গিয়া কাঁদালি

    নিজেরে কেবল॥

  • এ আঁখি-জল মোছ পিয়া

    এ আঁখি-জল মোছ পিয়া

    ২১

    ভৈরবী—কাওয়ালি

    এ আঁখি-জল মোছো পিয়া

    ভোলো ভোলো আমারে।

    মনে কে গো রাখে তারে

    ঝরে যে ফুল আঁধারে॥

    ফোটা ফুলে ভরি ডালা

    গাঁথো বালা মালিকা,

    দলিত এ ফুল লয়ে

    দেবে গো বলো কারে॥

    স্বপনের স্মৃতি প্রিয়

    জাগরণে ভুলিয়ো,

    ভুলে যেয়ো দিবালোকে

    রাতের আলেয়ারে॥

    ঝুরিয়া গেল যে মেঘ

    রাতে তব আঙিনায়,

    বৃথা তারে খোঁজো প্রাতে

    দূর-গগন-পারে॥

    ঘুমায়েছ সুখে তুমি

    সে কেঁদেছে জাগিয়া,

    তুমি জাগিলে গো যবে

    সে ঘুমায়ে ওপারে॥

    আগুনে মিটালি তৃষা

    কবি কোন্ অভিমানে,

    উদিল নীরদ যবে

    দূর বন-কিনারে॥

  • কী হবে জানিয়া বলো

    কী হবে জানিয়া বলো

    ২২

    ভৈরবী—পোস্তা

    কী হবে জানিয়া বলো

    কেন জল নয়নে।

    তুমি তো ঘুমায়ে আছ

    সুখে ফুল-শয়নে॥

    তুমি বুঝিবে বালা

    কুসুমে কীটের জ্বালা,

    কারো গলে দোলে মালা

    কেহ ঝরে পবনে॥

    আকাশের আঁখি ভরি

    কে জানে কেমন করি

    শিশির পড়ে গো ঝরি

    ঝরে বারি শাওনে॥

    নিশীথে পাপিয়া পাখি

    এমনই তো ওঠে ডাকি,

    তেমনই ঝুরিছে আঁখি

    বুঝি বা অকারণে॥

    কে শুধায়, আঁধার চরে

    চখা কেন কেঁদে মরে,

    এমনই চাতক-তরে

    মেঘ ঝুরে-গগনে॥

    কারে মন দিলি কবি,

    এ যে রে পাষাণ-ছবি,

    এ শুধু রূপের রবি

    নিশীথের স্বপনে॥

  • পরদেশি বঁধুয়া

    পরদেশি বঁধুয়া

    ২৩

    বিহারী—ঠুংরি

    পরদেশি বঁধুয়া,

    এলে কি এতদিনে।

    আসিলে এতদিনে

    কেমনে পথ চিনে॥

    তোমারে খুঁজিয়া

    কত রবি শশী

    অন্ধ হইল প্রিয়,

    নিভিল তিমিরে,

    তব আশে আকাশ

    তারা-দীপ জ্বালি

    জাগিয়াছে নিশি

    ঝুরিয়া শিশিরে!

    শুকায়েছে স্বরগ,

    দেবতা, তোমা বিনে॥

    কত জনম ধরি

    ছিলে বলো পাশরি,

    এতদিনে বাঁশরি

    বাজিল কি বিপিনে॥

    নিতি ফুল-সনে

    ফুটিয়া কাননে

    ঝরিয়াছি সাঝেঁ

    নিরাশ হুতাশে,

    নব নব গানে

    বেদনা নিবেদন

    করিয়াছি কবি,

    প্রিয়, তব পাশে!

    এলে আজি উদাসী

    নিখিল-মন জিনে॥

  • কেন উচাটন মন

    কেন উচাটন মন

    ২৪

    বেহাগ-খাম্বাজ—দাদরা

    কেন উচাটন মন

    পরান এমন করে

    কেন কাঁদে গো বধূ

    বঁধুর বুকে বাসরে॥

    কেন মিলন-রাতে

    সলিল আঁখি-পাতে,

    কেন ফাগুন-প্রাতে

    সহসা বাদল ঝরে॥

    ডাকিলে অনুরাগে

    কেন বিদায় মাগে,

    (কেন) মরিতে সাধ জাগে

    পিয়ার বুকের পরে॥

    ডাকিয়া ফুলবনে

    থাকে সে আনমনে,

    কাঁদায়ে নিরজনে

    কাঁদে সে কীসের তরে॥

    কবি, তোরে কে কবে

    সাধিল বেণুর রবে,

    ধরিতে গেলি যবে

    বিঁধিল কুসুম-শরে॥

  • আসিলে এ ভাঙা ঘরে

    আসিলে এ ভাঙা ঘরে

    ২৫

    পিলু-ভৈরবী—কাহারবা

    আসিলে এ ভাঙা ঘরে

    কে মোর রাঙা অতিথি।

    হরষে বরিষে বারি

    শাওন-গগন তিতি॥

    বকুল-বনের সাকি

    নটিন পুবালি হাওয়া

    বিলায় সুরভি-সুরা,

    মাতায় কানন-বীথি॥

    বনের বেশর গাঁথে

    কদম-কেশর ঝুরি,

    শিশির-চুনির হারে

    উজল উশীর-সিঁথি॥

    তিতির শিখীর সাথে

    নোটন-কপোতী নাচে,

    ঝিঁঝির ঝিয়ারি গাহে

    ঝুমুর কাজরি-গীতি॥

    হিঙুল হিজল-তলে,

    ডাহুক পিছল-আঁখি,

    বধূর তমাল-চোখে

    ঘনায় নিশীথ-ভীতি॥

    তিমির-ময়ূর আজি

    তারার পেখম খোলে,

    জড়ায় গগন-গলে

    চাঁদের ষোড়শী তিথি॥

    মিলন-মালায় বাজে

    গোপন মৃণাল-কাঁটা,

    নয়ন-জলে কি কবি

    আঁকিস তাহারই স্মৃতি॥

  • আজি দোল পূর্ণিমাতে

    আজি দোল পূর্ণিমাতে

    ২৬

    কালাংড়া-বসন্ত-হিন্দোল—দাদরা

    আজি দোল পূর্ণিমাতে দুলবি তোরা আয়।

    দখিনার দোল লেগেছে দোলন-চাঁপায়॥

    দোলে আজ দোল-ফাগুনে

    ফুল-বাণ আঁখির তূণে,

    দুলে আজ বিধুর হিয়া মধুর ব্যথায়॥

    দুলে আজ শিথিল বেণি, দুলে বধূর মেখলা,

    দুলে গো মালার পলা জড়াতে বঁধুর গলা।

    মাধবীর দোলন-লতায়

    দোয়েলা দোল খেয়ে যায়,

    দুলে যায় হলদে পাখি সোঁদাল-শাখায়॥

    বিরহ-শীর্ণা নদীর আজিকে আঁখির কূলে

    ভরে জল কানায় কানায় জোয়ারে উঠল দুলে।

    দুলে বসন্ত-রানি

    কুসুমিতা বনানী

    পলাশ রঙন দোলে নোটন-খোঁপায়॥

    দোলে হিন্দোল-দোলায় ধরণি শ্যাম-পিয়ারি,

    দুলিছে গ্রহ তারা আলোক-গোপ-ঝিয়ারি।

    নীলিমার কোলে বসি

    দুলে কলঙ্কী-শশী,

    দোলে ফুল-উর্বশী ফুল-দোলনায়॥

  • রুমুঝুমু রুমুঝুম্

    রুমুঝুমু রুমুঝুম্

    ২৭

    পিলু—দাদরা

    রুমুঝুমু রুমুঝুম্

    কে এল নূপুর-পায়।

    ফুটিল শাখে মুকুল

    ও রাঙা চরণ-ঘায়॥

    সে নাচে তটিনী-জল

    টলমল টলমল,

    বনের বেণী উতল

    ফুলদল মুরছায়॥

    বিজরি জরির আঁচল

    ঝলমল ঝলমল,

    নামিল নভে বাদল

    ছলছল বেদনায়॥

    দুলিছে মেখলা-হার

    শ্যামলী মেঘমালায়,

    উড়িছে অলক কার

    অলকার ঝরোকায়॥

    তালীবন থই তাথৈ

    করতালি হানে ঐ

    কবি, তোর তমালী কই—

    শ্বসিছে পুবালি-বায়॥

  • আজি এ কুসুম-হার

    আজি এ কুসুম-হার

    ২৮

    সিন্ধু কাফি-খাম্বাজ—যৎ

     
    আজি এ কুসুম-হার
    সহি কেমনে
     
    ঝরিল যে ধুলায়
    চির অবহেলায়
     
    কেন এ অবেলায়
    পড়ে তারে মনে॥
     
    তব তরে মালা
    গেঁথেছি নিরালা
     
    সে ভরেছে ডালা
    নিতি নব ফুলে।
    (আজি)
    তুমি এলে যবে
    বিপুল গরবে
     
    সে শুধু নীরবে
    মিলাইল বনে॥
     
    আঁখি-জলে ভাসি
    গাহিত উদাসী
     
    আমি শুধু হাসি
    আসিয়াছি ফিরে।
    (আজি)
    সুখ-মধুমাসে
    তুমি যবে পাশে
     
    সে কেন গো আসে
    কাঁদাতে স্বপনে॥
     
    কার সুখ লাগি
    রে কবি বিবাগি,
     
    সকল তেয়াগি
    সাজিলি ভিখারী!
    (তুই)
    কার আঁখি-জলে
    বেঁচে রবি বলে
     
    ফুলমালা দলে
    লুকালি গহনে॥
  • গরজে গম্ভীর গগন কম্বু

    গরজে গম্ভীর গগন কম্বু

    ২৯

    মালকৌষ—গীতঙ্গী

    গরজে গম্ভীর গগন কম্বু।

    নাচিছে সুন্দর নাচে স্বয়ম্ভু॥

    সে নাচ-হিল্লোলে জটা-আবর্তনে

    সাগর ছুটে আসে গগন-প্রাঙ্গণে।

    আকাশে শূল হানি

    শোনাও নব বাণী,

    তরাসে কাঁপে প্রাণী

    প্রসীদ শম্ভু॥

    ললাট-শশী টলি জটায় পড়ে ঢলি,

    সে-শশী-চমকে গো বিজুলি ওঠে ঝলি।

    ঝাঁপে নীলাঞ্চলে মুখ দিগঙ্গনা,

    মুরছে ভয়-ভীতা নিশি নিরঞ্জনা।

    আঁধারে পথহারা

    চাতকী কেঁদে সারা,

    যাচিছে বারিধারা

    ধরা নিরম্বু॥

  • হাজার তারার হার হয়ে

    হাজার তারার হার হয়ে

    ৩০

    ছায়ানট—কাওয়ালি

    হাজার তারার হার হয়ে গো

    দুলি আকাশ-বীণার গলে।

    তমাল-ডালে ঝুলাই ঝুলাই

    নাচাই শিখী কদম-তলে॥

    ‘বউ কথা কও’ বলে পাখি

    করে যখন ডাকাডাকি,

    ব্যথার বুকে চরণ রাখি

    নামি বধূর নয়ন-জলে॥

    ভয়ঙ্করের কঠিন আঁখি

    আঁখির জলে করুণ করি,

    নিঙারি নিঙারি চলি

    আকাশ-বধূর নীলাম্বরী॥

    লুটাই নদীর বালুতটে,

    সাধ করে যাই বধূর ঘটে,

    সিনান-ঘাটের শিলাপটে

    ঝরি চরণ-ছোঁয়ার ছলে॥

  • অধীর অম্বরে গুরু গরজন

    অধীর অম্বরে গুরু গরজন

    ৩১

    হাম্বীর—কাওয়ালি

    অধীর অম্বরে গুরু গরজন মৃদঙ বাজে।

    রুমু রুমু ঝুম মঞ্জীর-মালা চরণে আজ উতলা যে॥

    এলোচুলে দুলে দুলে বন-পথে চল আলি

    মরা গাঙে বালুচরে কাঁদে যথা বন-মরালী।

    উগারি গাগরি ঝারি

    দে লো দে করুণা ডারি,

    ঘুঙট উতারি বারি,

    ছিটা লো গুমোট সাঁঝে॥

    তালীবন হানে তালি, ময়ূরী ইশারা হানে,

    আসন পেতেছে ধরা মাঠে মাঠে চারা-ধানে।

    মুকুলে ঝরিয়া পড়ি আকুতি জানায় যূথী,

    ডাকিছে বিরস শাখে তাপিতা চন্দনা তুতি।

    কাজল-আঁখি রসিলি

    চাহে খুলি ঝিলিমিলি,

    চল লো চল সহেলি,

    নিয়ে মেঘ-নটরাজে॥

  • ঝরে ঝরঝর কোন গভীর

    ঝরে ঝরঝর কোন গভীর

    ৩২

    দেশ-সুরাট — একতালা

    ঝরে
    ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে।
    আজি
    রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে॥
    ঘনিয়া ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে,
    ডাহুকিরে খুঁজি ডাহুক কাঁদে আঁধার গহনে॥
    কেয়া-বনে দেয়া তূণীর বাঁধিয়া
    গগনে গগনে ফেরে গো কাঁদিয়া।
    বেতস-বিতানে নীপ-তরুতলে
    শিখী নাচ ভোলে পুছ-পাখা টলে।
    মালতী-লতায় এলাইয়া বেণী কাঁদে বিষাদিনী রে,
    কাজল-আঁখি কে নয়ন মোছে তমাল-কাননে॥
  • হৃদয় যত নিষেধ হানে

    হৃদয় যত নিষেধ হানে

    ৩৩

    জয়জয়ন্তী—একতালা

    হৃদয় যত নিষেধ হানে নয়ন ততই কাঁদে।

    দূরে যত পলাতে চাই নিকট ততই বাঁধে॥

    স্বপন-শেষে বিদায়-বেলায়

    অলক কাহার জড়ায় গো পায়,

    বিধুর কপোল স্মরণ আনায়

    ভোরের করুণ চাঁদে॥

    বাহির আমার পিছল হল কাহার চোখের জলে।

    স্মরণ ততই বারণ জানায় চরণ যত চলে॥

    পার হতে চাই মরণ-নদী

    দাঁড়ায় কে গো দুয়ার রোধি,

    আমায় ওগো বে-দরদি,

    ফেলিলে কোন্ ফাঁদে॥

  • শুকাল মিলন-মালা

    শুকাল মিলন-মালা

    ৩৪

    কালাংড়া-ভৈরোঁ—আদ্ধা কাওয়ালি

    শুকাল মিলন-মালা আমি তবে যাই।

    কী যেন এ নদী-কূলে খুঁজিনু বৃথাই॥

    রহিল আমার ব্যথা

    দলিত কুসুমে গাঁথা,

    ঝুরে বলে ঝরা পাতা —

    নাই কেহ নাই॥

    যে-বিরহে গ্রহতারা সৃজিল আলোক,

    সে-বিরহে এ-জীবন জ্বলি পুণ্য হোক।

    চক্রবাক চক্রবাকী

    করে যেমন ডাকাডাকি,

    তেমনই এ-কূলে থাকি

    ও-কূলে তাকাই॥

  • স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়

    স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়

    ৩৫

    দরবারি কানাড়া—যৎ

    স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়, তোমায় আমি চিনি যেন।

    তোমার চাঁদে চিনি আমি, তুমি আমার তারায় চেন॥

    নতুন পরিচয়ের লাগি

    তারায় তারায় থাকি জাগি,

    বারে বারে মিলন মাগি

    বারে বারে হারাই হেন॥

    নতুন চোখের প্রদীপ জ্বালি চেয়ে আছি নিরিবিলি,

    খোলো প্রিয় তোমার ধরার বাতায়নের ঝিলি-মিলি।

    নিবাও নিবু-নিবু বাতি,

    ডাকে নতুন তারার সাথি,

    ওগো আমার দিবস রাতি

    কাঁদে বিদায়-কাঁদন কেন॥

  • গহীন রাতে ঘুম

    গহীন রাতে ঘুম

    ৩৬

    পিলু—কাহারবা

    গহীন রাতে

    ঘুম কে এলে ভাঙাতে।

    ফুল-হার পরায়ে গলে

    দিলে জল নয়ন-পাতে॥

    যে জ্বালা পেনু জীবনে

    ভুলেছি রাতে স্বপনে,

    কে তুমি এসে গোপনে

    ছুঁইলে সে বেদনাতে॥

    যবে কেঁদেছি একাকী

    কেন মুছালে না আঁখি,

    নিশি আর নাহি বাকি

    বাসি ফুল ঝরিবে প্রাতে॥

    কেন এ কুহেলি ঠেলে

    দখিনা বাতাস এলে,

    কবি তুই হৃদয় মেলে

    ছিলি কি এরই আশাতে॥

  • কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ

    কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ

    ৩৭

    সিন্ধু—কাওয়ালি

    কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ আসিলে এ ধরাতল।

    কে মথিল তব তরে কোন্ সে ব্যথার সিন্ধু-জল॥

    দুয়ার-ভাঙা জাগল জোয়ার বেদনার ওই দরিয়ায়।

    আজ ভারতী অশ্রুমতী মধ্যে দুলে টলমল॥

    কখন তোমার বাজল বেণু প্রাণের বংশীবটছায়।

    মরা গাঙে ভাঙা ঘাটে ঘট ভরে গোপিনী দল॥

    বিদ্যুতের বাঁকা হাসি হাসিয়া কালো মেঘে,

    আসিলে কে অভিমানী বহায়ে মরুতে ঢল॥

    লয়ে হাতে জিয়ন-কাঠি আসিলে কে রূপ-কুমার

    উঠল জেগে রূপ-কুমারী আঁধারে ওই ঝলমল॥

    আকাশে চকোরী কাঁদে, তড়াগে চাহে কুমুদ,

    ঝরুক আঁখির শেফালিকা ছুঁয়ে তব পদতল॥

  • জাগিলে ‘পারুল’ কি গো

    জাগিলে ‘পারুল’ কি গো

    ৩৮

    ভীমপলশ্রী — দাদরা

    জাগিলে ‘পারুল’ কি গো ‘সাত ভাই চম্পা’ ডাকে।

    উদিলে চন্দ্র-লেখা বাদলের মেঘের ফাঁকে॥

    চলিলে সাগর ঘুরে

    অলকার মায়ার পুরে,

    ফোটে ফুল নিত্য যথায়

    জীবনের ফুল্ল-শাখে॥

    আঁধারের বাতায়নে চাহে সাজ লক্ষ তারা,

    জাগিছে বন্দিনীরা, টুটে ওই বন্ধ কারা।

    থেকো না স্বর্গে ভুলে

    এ পারের মর্ত্য কূলে,

    ভিড়াও সোনার তরি

    আবার এই নদীর বাঁকে॥

  • চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে

    চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে

    ৩৯

    খাম্বাজ — আড়-খেমটা

    চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে

    মথিয়া চলি গো প্রাণ।

    মর্ত্যের মাটি মহীয়ান করি

    স্বর্গেরে করি ম্লান॥

    চিতার বিভূতি মাখিয়া গায়

    লজ্জা হানি গো অন্নদায়,

    বাঁধিয়াছি বিদ্যুল্লতায়,

    দেবরাজ হতমান।

    পাতাল ফুঁড়িয়া করি গো মাতাল

    রসাতল-অভিযান॥