Category: কাজী নজরুল ইসলাম

  • আজি বাদল ঝরে

    আজি বাদল ঝরে

    ভৈরবী-আশাবরি–আদ্ধা কাওয়ালি

    আজি
    বাদল ঝরে
    মোর
    একেলা ঘরে
    হায়
    কী মনে পড়ে
    মন
    এমন করে॥
    হায়
    এমন দিনে
    কে
    নীড়হারা পাখি
    যাও
    কাঁদিয়া কোথায়
    কোন্
    সাথিরে ডাকি।
    তোর
    ভেঙেছে পাখা
    কোন্
    আকুল ঝড়ে॥
    আয়
    ঝড়ের পাখি
    আয়
    এ একা বুকে,
    আয়
    দিব রে আশয়
    মোর
    গহন-দুখে,
    আয়
    রচিব কুলায়
    আজ
    নূতন করে॥
    এই
    ঝড়ের রাতি
    নাই
    সাথের সাথী,
    মেঘ-
    মেদুর-গগন
    বায়
    নিবেছে বাতি,
    মোর
    এ ভীরু প্রণয়
    হায়
    কাঁপিয়া মরে॥
    এই
    বাদল-ঝড়ে
    হায়
    পথিক-কবি
    ওই
    পথের পরে
    আর
    কতকাল রবি,
    ফুল
    দলিবি কত
    হায়
    অভিমান-ভরে॥
  • মোর ঘুম ঘোরে এলে

    মোর ঘুম ঘোরে এলে

    ভৈরবী-গজল–দাদরা

    মোর
    ঘুমঘোরে এলে মনোহর
    নমো নম, নমো নম, নমো নম।
    শ্রাবণ-মেঘে নাচে নটবর
    ঝমঝম ঝমঝম ঝমঝম॥
    শিয়রে বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
    মোর
    বিকশিল আবেশে তনু
    নীপসম নিরুপম মনোরম॥
    মোর
    ফুলবনে ছিল যত ফুল
    ভরি ডালি দিনু ঢালি দেবতা মোর!
    হায়
    নিলে না সে ফুল ছি ছি বেভুল
    নিলে তুলি খোঁপা খুলি কুসুম-ডোর।
    স্বপনে   কী যে কয়েছি তাই গিয়াছ চলি
    জাগিয়া কেঁদে ডাকি দেবতায়–
    প্রিয়তম প্রিয়তম প্রিয়তম॥
  • কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

    কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

    মান্দ–কাহারবা

    কেউ
    ভোলে না কেউ ভোলে
    অতীত দিনের স্মৃতি।
    কেউ
    দুখ লয়ে কাঁদে,
    কেউ   ভুলিতে গায় গীতি॥
    কেউ
    শীতল জলদে
    হেরে   অশনির জ্বালা,
    কেউ
    মঞ্জুরিয়া তোলে
    তার   শুষ্ক কুঞ্জ-বীথি॥
    হেরে
    কমল-মৃণালে
    কেউ   কাঁটা কেহ কমল।
    কেউ
    ফুল দলি চলে
    কেউ   মালা গাঁথে নিতি॥
    কেউ
    জ্বালে না আর আলো
    তার   চির-দুখের রাতে,
    কেউ
    দ্বার খুলি জাগে
    চায়   নব চাঁদের তিথি॥
  • যাও যাও তুমি ফিরে

    যাও যাও তুমি ফিরে

    ভৈরবী–দাদরা

    যাও
    যাও তুমি ফিরে
    এই   মুছিনু আঁখি।
    কে
    বাঁধিবে তোমারে
    হায়   বনের পাখি॥
    মোর
    এত প্রেম আশা
    মোর
    এত ভালোবাসা
    আজ
    সকলই দুরাশা
    আর   কী দিয়ে রাখি॥
    এই
    অভিমান-জ্বালা
    মোর
    একেলারই কালা,
    ম্লান
    মিলনেরই মালা
    দাও   ধুলাতে ঢাকি॥
    তোমার
    বেঁধেছিল নয়ন
    শুধু   এ রূপের জালে,
    তাই
    দু-দিন কাঁদিয়া
    হায়   সে বাঁধন ছাড়ালে।
    মোর
    বাঁধিয়াছে হিয়া
    তায়   ছাড়াব কী দিয়া,
    সখা
    হিয়া তো নয়ন নহে
    সে   ছাড়ে না কাঁদিয়া
    দু-দিন কাঁদিয়া।
    আজ
    যে ফুল প্রভাতে
    হায়
    ফুটিল শাখাতে,
    তায়
    দেখিল না রাতে
    সে   ঝরিল না কি॥
    হায়
    রে কবি প্রবাসী
    নাই
    হেথা সুখ-হাসি
    ফুল
    ঝরে হলে বাসি
    রয়   কাঁটার ফাঁকি॥
  • ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায়

    ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায়

    ১০

    পিলু–কাহারবা

    ফাগুন-রাতের
    ফুলের নেশায়
    আগুন-জ্বালায়
    জ্বলিতে আসে।
    যে দীপশিখায়
    পুড়িয়া মরে
    পতঙ্গ ঘোরে
    তাহারি পাশে॥
    অথই দুখের
    পাথার-জলে
    সুখের রাঙা
    কমল-দোলে,
    কূলের পথিক
    হারায় দিশা
    দিবস নিশা
    তাহারি বাসে॥
    সুখের আশায়
    মেশায় ওরা
    বুকের সুধায়
    চোখের সলিল।
    মণির মোহে
    জীবন দহে
    বিষের ফণীর
    গরল-শ্বাসে॥
    বুকের পিয়ায়
    পেয়ে হিয়ায়
    কাঁদে পথের
    পিয়ার লাগি,
    নিতুই নতুন
    স্বরগ মাগি
    নিতুই নয়ন-
    জলে ভাসে॥
  • নিশীথ-স্বপন তোর ভুলে যা

    নিশীথ-স্বপন তোর ভুলে যা

    ১১

    ভৈরবী–দাদরা

    নিশীথ-স্বপন তোর

    ভুলে যা এ নিশি-শেষে

    বাদল-অবসানে

    আকাশ উঠেছে হেসে॥

    চখার পাশে আসে

    বিরহ-রাতের চখি।

    আঁধার লুকাল ঐ

    দূর বনে এলোকেশে॥

    শরম-রাঙা গালে

    জাগিল কুমারী উষা,

    তরুণ অরুণ ঐ

    এল রাঙা বর-বেশে॥

  • ঘোর তিমির ছাইল রবি শশী

    ঘোর তিমির ছাইল রবি শশী

    ১২

    বাগেশ্রী–কাওয়ালি

    ঘোর তিমির ছাইল

    রবি শশী গ্রহ তারা।

    কাঁপে তরাসে ভীতা ধরণী

    অসীম আঁধারে হারা॥

    প্রলয়েশ মহাকাল

    এলায়েছে জটাজাল,

    নাচিছে ঝড়ের বেগে

    সুরধুনী-জলধারা॥

    চমকি চমকি ওঠে

    চপলা চপল-ফণা,

    লুকাইল শিশুশশী,

    মুরছিতা দিগঙ্গনা।

    চাতকী চাতক-বুকে

    বিভল কাঁদিয়া সারা॥

  • দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়

    দারুণ পিপাসায় মায়া-মরীচিকায়

    ১৩

    জয়জয়ন্তী–একতালা

    দারুণ পিপাসায়
    মায়া-মরীচিকায়
    চাহিতে এলি জল
    বনের হরিণী।
    দগ্ধ মরুতল
    কে তোরে দেবে জল
    ঝরিবে আঁখি-নীর
    তোরই নিশিদিনি॥
    নিবায়ে গৃহদীপ
    আপন নিশাসে
    আলেয়ার পিছে
    এলি সুখ-আশে,
    সে সুখ অবসান
    সমুখেতে শ্মশান
    পিছনে অন্ধকার
    চির-নিশীথিনী॥
    কেন তুই বনফুল
    বিলাস-কাননে
    করিয়া পথ ভুল
    এলি অকারণে।
    ছিঁড়ে সাঁঝে তোরে
    মালা গাঁথি ভোরে
    দলিল বিলাসী
    পথ-ধূলি সনে॥
    সন্ধ্যা-গোধূলির
    রাঙা রূপে ভুলে
    আসিলি এ কোথায়
    তমসার কূলে।
    শ্রাবণ-মেঘ হায়
    ভাবিয়া কুয়াশায়
    হারালি পথ তোর
    রে হতভাগিনি॥
  • এত কথা কি গো কহিতে জানে

    এত কথা কি গো কহিতে জানে

    ১৪

    খাম্বাজ-দেশ–দাদরা

    এত কথা কি গো কহিতে জানে

    চঞ্চল ওই আঁখি।

    নীরব ভাষায় কী যে কহে যায়

    মনের বনের পাখি–

    চঞ্চল ওই আঁখি॥

    মুদিত কমলে ভ্রমরেরই প্রায়

    বন্দি হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়,

    চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়

    সুনীল আকাশে ডাকি–

    চঞ্চল ওই আঁখি॥

    বুঝিতে পারি না ও আঁখির ভাষা

    জলে ডুবে তবু মিটে না পিয়াসা,

    আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা

    অভিমান মাখামাখি॥

    মানস-সায়রে মরালেরই প্রায়

    গহন সলিলে ভেসে ভেসে চায়।

    আমার হিয়ার নিভৃত ব্যথায়

    সাধ যায় ধরে রাখি।

    চঞ্চল ওই আঁখি॥

  • মন কেন উদাসে

    মন কেন উদাসে

    ১৫

    (শুদ্ধ) সারং–একতালা

       মন কেন উদাসে।
    (এই)   ফাগুন-বাতাসে॥
     যাহারে না পাইনু কভু এ জীবনে,
     সে কেন গো কাঁদাতে আসে নিতি স্মরণে।
    কুসুমের গন্ধে গো
    তারই সুবাস ভাসে॥
    কেন এ সমীরে
     সে
    আসে ফিরে ফিরে,
    নয়ন-নদীতীরে
    কেন জল উছাসে॥
  • আমার গহীন জলের নদী

    আমার গহীন জলের নদী

    ১৬

    ভাটিয়ালী–কাহারবা

    আমার
    গহীন জলের নদী।
    আমি
    তোমার জলে রইলাম ভেসে জনম অবধি॥
    তোমার বানে ভেসে গেল আমার বাঁধা ঘর
    চরে এসে বসলাম রে ভাই ভাসালে সে চর।
    এখন
    সব হারায়ে তোমার জলে রে
    আমি ভাসি নিরবধি॥
    আমার
    ঘর ভাঙিল ঘর পাব ভাই
    ভাঙলে কেন মন,
    হারালে আর পাওয়া না যায়
    মনের রতন।
    জোয়ার মন ফেরে না আর রে
    ও সে ভাটিতে হারায় যদি॥
    তুমি
    ভাঙো যখন কূল রে নদী
    ভাঙো একই ধার,
    আর
    মন যখন ভাঙো রে নদী
    দুই কূল ভাঙো তার।
    চর পড়ে না মনের কূলে রে
    একবার সে ভাঙে যদি॥
  • তোমায় কূলে তুলে বন্ধু

    তোমায় কূলে তুলে বন্ধু

    ১৭

    ভাটিয়ালি–কার্ফা

    তোমায় কূলে তুলে বন্ধু
    আমি নামলাম জলে।
    আমি
    কাঁটা হয়ে রই নাই বন্ধু
    তোমার পথের তলে॥
    আমি
    তোমায় ফুল দিয়েছি কন্যা
    তোমার বন্ধুর লাগি
    যদি
    আমার শ্বাসে শুকায় সে ফুল
    তাই হলাম বিবাগি।
    তুমি
    বুকের তলায় আছ আমার গো
    পরে শুকাইনি কো গলে॥
    যে দেশ তোমার ঘর রে বন্ধু
    সে দেশ হতে এসে
    আমার
    দুখের তরি দিছি ছেড়ে
    চলতেছে সে ভেসে,
    এখন
    যে পথে নাই তুমি বন্ধু গো
    তরী সেই পথে মোর চলে॥
  • আমার সাম্পান যাত্রী না লয়

    আমার সাম্পান যাত্রী না লয়

    ১৮

    ভাটিয়ালি–কার্ফা

    আমার সাম্পান যাত্রী না লয়
    ভাঙা আমার তরী।
    আমি
    আপনারে লয়ে রে ভাই
    এপার ওপার করি॥
    আমায়
    দেউলিয়া করেছে রে ভাই যে নদীর জল
    আমি
    ডুবে দেখতে এসেছি ভাই সেই জলেরই তল।
    আমি
    ভাসতে আসি, আসিনিকো কামাতে ভাই কড়ি॥
    আমি
    এই জলেরই আয়নাতে ভাই দেখেছিলাম তায়
    এখন
    আয়না আছে পড়ে রে ভাই
    আয়নার মানুষ নাই।
    চোখের জলে নদীর জলে রে
    আমি তারেই খুঁজে মরি॥
    আমি
    তারই-র আশায় সাম্পান লয়ে ঘটে বসে থাকি,
    আমার
    তারই-র নাম ভাই জপমালা, তারেই কেঁদে ডাকি।
    আমার
    নয়ন-তারা লইয়া গেছে রে
    নয়ন নদীর জলে ভরি॥
    নদীর জলও শুকায় রে ভাই, সে জল আসে ফিরে,
    আর
    মানুষ গেলে ফিরে না কি দিলে মাথার কিরে।
    আমি
    ভালোবেসে গেলাম ভেসে গো
    আমি হলাম দেশান্তরী॥
  • ওরে মাঝি ভাই

    ওরে মাঝি ভাই

    ১৯

    ভাটিয়ালি–কাহারবা

    ওরে মাঝি ভাই।
    তুই
    কী দুখ পেয়ে কূল হারালি
    অকূল দরিয়ায়॥
    তোর
    ঘরের রশি ছিঁড়ে রে গেল–
    ঘাটের কড়ি নাই,
    তুই
    মাঝদরিয়ায় ভেসে চলিস
    ভাসিয়ে তরি তাই।
    ও ভাই
    দরিয়ায় আসে জোয়ার-ভাটি রে
    তোর ওই চক্ষের পানি চাই॥
    তোর
    চোখের জল ভাই ছাপাতে চাস
    নদীর জলে এসে,
    শেষে
    নদীই এল চক্ষে রে তোর
    তুই চলিলি ভেসে।
    তুই
    কলস দেখে নামলি জলে রে
    এখন   ডুবে দেখিস কলস নাই॥
    তুই
    কূলে যাহার কূল না পেলি,
    তারে অগাধ জলে
    মিছে
    খুঁজে মরিস ওরে পাগল
    তরী বাওয়ার ছলে।
    ও ভাই
    দু-ধারে এর চোরা বালু রে
    তোর হেথায় মনের মানুষ নাই॥
  • কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া

    কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া

    ২০

    কীর্তন

    কেন
    প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
    কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া গো॥
    আমি
    যত ভুলি ভুলি করি
    তত আঁকড়িয়া ধরি
    তত মরি সাধিয়া
    সাধিয়া সাধিয়া সাধিয়া গো॥
    শ্যামের সে রূপ ভোলা কি যায়
    নিখিল শ্যামল যার শোভায়।
    আকাশ সাগরে বনে কান্তারে
    লতায় পাতায় সে রূপ ভায়॥
    আমার
    বঁধূর রূপের ছায়া বুকে ধরি
    আকাশ-আরশি নীল গো,
    বহে
    ভুবন প্লাবিয়া কালারে ভাবিয়া
    কালো সাগর-সলিল গো॥
    আমার
    শ্যামেরে কাজল পরাইতে মেঘ
    ঝুরে ঝুরে ঘুরে গগনে।
    আমার
    শ্যামের মুকুট-চূড়া হয়ে শিখী
    নেচে ফেরে বন-ভবনে
    সখী গো–
    সখী
    নিখিল তারে ধেয়ায় গো।
    এই
    রাধিকার পারা কোটি শশী তারা
    তার   নীল বুকে লুটায় গো।
    যদি
    ফুল হয়ে ফুটি তরু-শাখে
    সে যে
    পল্লব হয়ে ঘিরে থাকে।
    যদি
    একাকিনী চলি বনতলে
    সে যে
    ছায়া হয়ে পিছে পিছে চলে।
    যদি
    একা ঘরে মোর দীপ জ্বালি
    আসে
    আঁধারের রূপে বনমালী।–
    সখী গো–
    আমার
    কলঙ্কী চাঁদ।
    তার
    কলঙ্ক চেয়ে জ্যোৎস্না বেশি,
    কলঙ্ক তার দেখে কে।
    লোকে
    আমার চাঁদে কলঙ্কী কয়
    জ্যোৎস্না তাহারই মেখে।
    আমি
    তারির লাগি
    কুমুদিনী হয়ে জলে ডুবে রই   তারির লাগি
    আমি
    চকোরিণী হয়ে নিশীথ জাগি   তারির লাগি।
    আমার
    প্রাণের সাগরে জোয়ার জাগে   চাঁদের লাগি।
    রাতে
    রবির কিরণ শরণ মাগে   চাঁদের লাগি।
    আমার
    কলঙ্কী চাঁদ।
    আমি
    যেদিকে তাকাই হেরি ও-রূপ কেবল,
    সে যে
    আমারই মাঝারে রহে করি নানা ছল।
    সে যে
    বেণি হয়ে দুলে পিঠে চপল চতুর।
    সে যে
    আঁখির তারায় হাসে কপট নিঠুর।
    সখী গো–
    সখী
    আঁখি মোর বিবাদী হল
    সেও কালার রূপে গলে।
    আমার
    বুকের কথা চোখে এল
    চোখের জল সই সেও কালো।
    সখী লো মোর মরণ ভালো!
    সে যে
    আঁখিপাতা হয়ে থাকে ঘিরিয়া আঁখি
    বনে
    বনে ডাকে তারই আঁখি কোয়েলা পাখি।
    কাঁদে
    ফাল্গুনে গুণ গুণ ফুল-ভোমরা,
    বন-
    হরিণীর চোখে তারই কাজল পরা।
    তারে কেমনে ভুলিব।
    বল সখী তারে কেমনে ভুলিব।
    আমার
    অঙ্গ জড়ায়ে দুলে সে রঙ্গে
    শাড়ি সে নীলাম্বরী গো।
    আমি
    কুল ছাড়িয়াছি, আজ দেখি সখী
    দুকুল লইয়া মরি গো,
    আমি
    বসন-ভূষণ তারই-র সখা
    কেমনে তায় ভুলিব।
    থাকে
    কবরী-বন্ধে কালো ডোর হয়ে
    কালফণী কালো কেশে গো।
    থাকে
    কপালের টিপে, চোখের কাজলে,
    কপোলের তিলে মিশে গো।
    আমার
    একুল ওকুল দুকুল গেল।
    আমার
    কুলে সই পড়িল কালি
    সেও কালার রূপে এল।
    আমার
    কপালের কলঙ্ক-তিলক
    সেও কালার রূপে এল।
    রাখি
    কী দিয়া মন বাঁধিয়া,
    আমার
    সকলই ভাসিল সখী
    কালো যমুনারই জলে
    সকলই ভাসিল–
    রাখি
    কী দিয়া মন বাঁধিয়া
    বাঁধিয়া বাঁধিয়া বাঁধিয়া গো॥
  • আঁধার রাতে কে গো একেলা

    আঁধার রাতে কে গো একেলা

    ২১

    দেশ-পিলু–দাদরা

    আঁধার রাতে
    কে গো একেলা
    নয়ন-সলিলে
    ভাসালে ভেলা।
    কাঁদিয়া কারে
    খোঁজো ওপারে
    আজও যে তোমার
    প্রভাতবেলা॥
    কী দুখে আজি
    যোগিনী সাজি
    আপনারে লয়ে
    এ হেলাফেলা॥
    সোনার কাঁকন
    ও দুটি করে
    হেরো গো জড়ায়ে
    মিনতি করে।
    খুলিয়া ধুলায়
    ফেলো না গো তায়
    সাধিছে নূপুর
    চরণ ধরে।
    হেরো গো তীরে
    কাঁদিয়া ফিরে
    আজি ও রূপের
    রঙের মেলা॥
  • কী হবে লাল পাল তুলে

    কী হবে লাল পাল তুলে

    ২২

    ভাটিয়ালি–কার্ফা

    কী হবে লাল পাল তুলে ভাই
    সাম্পানের উপর।
    তোর
    পালে যত লাগবে হাওয়া রে
    ও ভাই
     ঘর হবে তোর ততই পর॥
    তোর
    কী দুঃখ হায় ভুলতে চাস ভাই,
    ছেঁড়া পাল রাঙিয়ে,
    এবার
    পরান ভরে কেঁদে নে তুই
    অগাধ জলে নেয়ে॥
    তোর কাঁদনে উঠে আসুক রে
    নদীর থেকে বালুর চর॥
    তুই
    কীসের আশায় দিবি রে ভাই
    কূলের পানে পাড়ি,
    তোর
    দিয়া সেথা না জ্বলে ভাই
    আঁধার যে ঘরবাড়ি॥
    তুই
    জীবনকূলে পেলিনে তায় রে
    এবার মরণজলে তালাশ কর॥