অলৌকিক জলযান

» সাতচল্লিশ

।। সাতচল্লিশ।। ভারী কঠিন সময়। কি যে দুর্যোগ আরম্ভ হয়ে গেল। মাস্তুলের দড়ি-দড়া বাতাসে উড়িয়ে নিচ্ছে। বৃষ্টিপাতে অন্ধকার আরও গভীর। পোর্ট-হোল খুলে কিছু দেখা যাচ্ছে না। কেবল বিদ্যুতের তরবারি আকাশ ফালা ফালা করে দিলে মনেContinue Reading

অলৌকিক জলযান

» আটচল্লিশ

।। আটচল্লিশ।। স্যালি হিগিনস নিচে আর অপেক্ষা করতে পারলেন না। ছোটবাবুকে সবাই মিলে ডাকাডাকি করছে। ছোটবাবু দরজা খুলছে না। দরজা ভাঙার আগে সবাই এই যেমন ডেবিড, এনজিন সারেঙ বন্ধু জব্বার বার বার বলেছে, ছোট দরজাContinue Reading

অলৌকিক জলযান

» উনপঞ্চাশ

।। উনপঞ্চাশ।। জাহাজ তখন সমুদ্রে ক্রমাগত ভেসে বেড়াচ্ছিল। জ্যোৎস্নার ভেতর জাহাজটাকে আর জাহাজ মনে হচ্ছে না। সত্যি যেন কিংবদন্তীর জাহাজ হয়ে গেছে। অশরীরী আত্মার মতো সে মহাশূন্যে যেন পাড়ি জমিয়েছে। —স্যার ওরা আপনার সঙ্গে কথাContinue Reading

অলৌকিক জলযান

» পঞ্চাশ

।। পঞ্চাশ॥ জাহাজ তেমনি সমুদ্রে ভাসমান। মাস্তুলে তেমনি জ্বলছে মশাল। ভারী নিভৃতে যেন জাহাজটা অজানা সমুদ্রে পালিয়ে আছে। পৃথিবীর সব সংযোগ হারিয়ে চুপচাপ নিশিদিন বেশ আছে সে—মনের সুখে সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছে। ক্রমে জ্যোৎস্না আরও মনোহারিণী।Continue Reading

অলৌকিক জলযান

» একান্ন

।। একান্ন।। সিউল-ব্যাংক এগিয়ে যাচ্ছে কি অতিকায় ক্রসটা কাছে ছুটে আসছে বোঝা যাচ্ছে না। সমুদ্র পার হয়ে দিগন্তের নিচ থেকে ক্রমে ওটা আকাশের বুকে বড় হয়ে যাচ্ছিল। যেন কেউ ওটা ঠেলে আকাশের গায়ে তুলে দিচ্ছে।Continue Reading

অলৌকিক জলযান

» বাহান্ন

॥ বাহান্ন।। হিগিনস বোট থেকে চিৎকার করে বললেন, নো নো। সব কেবিনে লম্ফ জ্বালতে হবে না। এখানে একটা লম্ফ দিয়ে যাও। গ্যালিতে রাখো একটা আর একটা বোট-ডেকে ঝুলিয়ে রাখো। বনি নেমে যাবার সময় হঠাৎ দেখলContinue Reading

অলৌকিক জলযান

» তিপ্পান্ন

।। তিপ্পান্ন।। বনি অঘোরে ঘুমোচ্ছিল। হিগিনস ভাঙা যীশুর মূর্তি টেবিলে জোড়া লাগাচ্ছেন। সারেঙ পোর্ট- হোলে দাঁড়িয়ে আছেন। ফ্যাকাশে চাঁদ সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে এবং অজস্র চাঁদ এভাবে যেন হাজার লক্ষ চাঁদের প্রতিবিম্ব ভাসছে সমুদ্রে। তারপর অন্ধকার।Continue Reading

অলৌকিক জলযান

» চুয়ান্ন

।। চুয়ান্ন।। পালে বাতাস লেগেছে। ছোটবাবু শেষবারের মতো দুর থেকে হাত তুলে হাঁকল, গুডবাই ক্যাপ্টেন স্যালি হিগিনস, গুডবাই। আর সে তখনই দেখতে পেল এলবা উড়ে আসছে সাঁ-সাঁ করে। সোজা বোটের মাথায় বসে গেল। সে ফেরContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» ঈশ্বরের বাগান

পৃথিবীপৃষ্ঠের পাঁচ ভাগের চার ভাগই জল। অলৌকিক জলযানে চড়ে সেই জল, সমুদ্র পেরিয়ে আমাদের ছোটবাবু অবশেষে ভিড়ল সেই একাংশ ভূমিতে, যেন ঈশ্বরের বাগানে। শৈশবে সোনা, কৈশোরে বিলু, জাহাজী জীবনে সে সোনাবাবু, যৌবনে থিতু হয়ে গেলContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» এক

পাগল হাঁকছে দু-ঘরের মাঝে অথৈ সমুদ্দুর। পাগল হাঁকছে—ছবি গণ্ডারের এক ঝুলে থাকে সদর দেউড়িতে। এইসব হাঁকডাক যেন কোন এক অদৃশ্য গোপন অভ্যন্তর থেকে ভেসে আসছিল। সদর দেউড়িতে এসে এমন সব শব্দে থমকে দাঁড়াতেই সে দেখল,Continue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» দুই

রাতেই অতীশ ভেবেছিল, স্ত্রীকে চিঠি লিখবে। ওর ধারণা ছিল, নির্মলা তার এটাচিতে খাম রেখে দিয়েছে। কারণ কোথাও গেলে নির্মলার এটা স্বভাব। পৌঁছেই একটা চিঠি। সময়মত চিঠি না পেলে নির্মলা ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু এটাচিটাContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» তিন

রাজবাড়িতে কে জাগে। ছেদিলাল জাগে। সবার আগে ছেদিলাল সদর দিয়ে ঢোকে। আর বলে, কোন জাগে? ছেদিলাল জাগে। তার সঙ্গে বিবি থাকে। লেড়কি থাকে। আর সে মরদ ছেদিলাল। কখনও কখনও সে বলে, হামি জমাদার ছেদিলাল আছে।Continue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» চার

রাতে চন্দ্রনাথ ভাল ঘুমাতে পারেন নি। এমনিতেই সকালে ওঠার অভ্যাস। ঘুম না হলে আরও সকালে উঠে বসে থাকেন। অন্ধকার থাকে উঠোনে। গাছপালাগুলো নিঝুম। উত্তরের আকাশে বারান্দা থেকে বড় নক্ষত্রটা দেখতে পান। আজ দেখলেন বড় নক্ষত্রটাContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» পাঁচ

ফেরার পথে অতীশ বলল, ভাল ধূপকাঠি দরকার। ধূপকাঠি কিনব কুম্ভবাবু। কারখানা থেকে গাড়ি বের হতেই অতীশ কথাটা বলল। দু-পাশের বস্তি তখনও শেষ হয়নি। কালীমাতা হোমিওপ্যাথ ডিসপেনসারির সামনে গাড়ি। রাস্তার কলে বালতির লাইন। পাশে বড় বড়Continue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» ছয়

সুরেন জানালায় উঁকি দিয়ে অবাক হয়ে গেছে। আটটা বেজে গেছে কখন, এখনও ঘুমাচ্ছে। সাদা চাদরে ঢাকা শরীর। চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন তিনি। ফুল স্পিডে পাখা চলছে। সাদা সাদা ছাই উড়ছে ঘর ভর্তি। রোদ এসে পড়েছেContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» সাত

সকাল থেকেই সুরেনের মেজাজ বিগড়ে গেছে। সকালেই সে মেজ মেয়েটাকে সেই খারাপ লোকটার ঘরে যেতে দিল। লোকটা লম্বা ঢ্যাঙা। চুপচাপ জানালায় বসে থাকে। বিড়ি খায়। রেলে কাজ করে। মেসবাড়ির একটা আলগা ঘরে থাকে। জানালার একটাContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» আট

অতীশ অফিসে আজ ভাল করে কাজে মনোযোগ দিতে পারল না। ভারি অসম্মান এবং অপমানে সে কেমন প্রায় চুপচাপই ছিল। বিল ভাউচার এলে সই করে দিয়েছিল। পার্টির কাছে তাগাদার একটা লিস্ট পড়ে আছে। সে আজ টাকারContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» নয়

চার্চের ঠিক সামনে সেই পাগল। গায়ে কিম্ভুতকিমাকার পোশাক। ছেঁড়া তালিমারা উচ্ছিষ্ট জামা পাতলুনে ঢাকা শরীর। নোংরা। গালে দাড়ি। চোখ কোটরাগত। বগলে বোঁচকা। হাতে দম মাধা দমের লাঠি। ন্যাকড়া জড়ানো পালক বাঁধা। একটা লম্বা দাঁত ঠোঁটেরContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» দশ

প্রথমেই মনে হল একটা চৌকো মত মুখ তার চোখের সামনে ঘুরে গেল। তারপর বাঘের মত একটা ডোরা কাটা মুখ। অতীশ চোখ রগড়াল। জিভ ভারি হয়ে আসছে। মাথা বেশ ঝিমঝিম করছে। হাসিরাণীর ভ্রু প্লাক করা। নাকেContinue Reading

ঈশ্বরের বাগান

» এগার

এই পাগল কতকালের চেনা। গাছের নিচে বসে ফকিরচাঁদ হরিশের দিকে তাকিয়ে থাকল। বুড়ো অথর্ব ফকিরচাঁদকে হরিশ এই সেদিন সারা দিনমান জ্বালিয়েছে। কথা নেই বার্তা নেই ঊর্ধ্ববাহু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। ফকিরচাঁদ অভিশাপ দিয়েছে, হরিশ তোর মরণContinue Reading