গীতিগুচ্ছ - সুকান্ত ভট্টাচার্য

» মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে

১৪ মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে― কে তুমি আমারে ডাকিলে শ্রাবণ বাতাসে? তোমার আহ্বান ধ্বনি― পরশিয়া মোরে গরজিল দূর আকাশে। বেদনা বিভোল আমি ক্ষণেক দুয়ারে থামি বাহিরে ধূসর দিনে― ছুটে চলি পথে মদির-বিবশ নিশাসে। মেঘে মেঘে ছাওয়া মলিনContinue Reading

গীতিগুচ্ছ - সুকান্ত ভট্টাচার্য

» গুঞ্জরিয়া এল অলি

১৫ গুঞ্জরিয়া এল অলি; যেথা নিবেদন অঞ্জলি। পুষ্পিত কুসুমের দলে গুন্গুন্ গুঞ্জিয়া চলে দলে দলে যেথা ফোটা-কলি। আমার পরাণে ফুল ফুটিল যবে, তখন মেতেছি আমি কী উৎসবে। আজ মোর ঝরিবার পালা, সব মধু হয়ে গেছেContinue Reading

গীতিগুচ্ছ - সুকান্ত ভট্টাচার্য

» কোন অভিশাপে নিয়ে এল

১৬ কোন অভিশাপে নিয়ে এল এই বিরহ বিধুর-আষাঢ়। এখানে বুঝি বা শেষ হয়ে গেছে উচ্ছল ভালবাসার। বিরহী যক্ষ রামগিরি হতে পাঠাল বারতা জলদের স্রোতে প্রিয়ার কাছেতে জানাতে চাহিল সব শেষ সব আশার॥ আমার হৃদয়ে এলContinue Reading

গীতিগুচ্ছ - সুকান্ত ভট্টাচার্য

» ভুল হল বুঝি

১৭ ভুল হল বুঝি এই ধরণীতলে, তাই প্রাণে চিরকাল আগুন জ্বলে তাই আগুন জ্বলে। দিনের শেষে এক প্লাবন এসে জানি ঘিরিবে আমার মন কৌতূহলে, নব কৌতূহলে। আমার জীবনে ভুল ছিল না বুঝি, তাই বারে বারেContinue Reading

গীতিগুচ্ছ - সুকান্ত ভট্টাচার্য

» মুখ তুলে চায়

১৮ মুখ তুলে চায় সুবিপুল হিমালয়, আকাশের সাথে প্রণয়ের কথা কয়, আকাশ কহিছে ডেকে, কথা কও কোথা থেকে? তুমি যে ক্ষুদ্র মোর কাছে মনে হয়॥ হিমালয় তাই মূর্ছিত অভিমানে, সে কথা কেহ না জানে। ব্যর্থContinue Reading

গীতিগুচ্ছ - সুকান্ত ভট্টাচার্য

» ফোটে ফুল আসে যৌবন

১৯ ফোটে ফুল আসে যৌবন সুরভি বিলায় দোঁহে বসন্তে জাগে ফুলবন অকারণে যায় বহে॥ কোনো এককাল মিলনে, বিশ্বেরে অনুশীলনে কাটে জানি জানি অনুক্ষণ অতি অপরূপ মোহে॥ ফুল ঝরে আর যৌবন চলে যায়, বার বার তারাContinue Reading

» হরতাল

‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়। তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে।Continue Reading

» হরতাল (গল্প)

রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়Continue Reading

» লেজের কাহিনী

একটি মাছি একজন মানুষের কাছে উড়ে এসে বলল : তুমি সব জানোয়ারের মুরুব্বি, তুমি সব কিছুই করতে পার, কাজেই আমাকে একটি লেজ করে দাও। মানুষটি বললে : কি দরকার তোমার লেজের? মাছিটি বললে : আমিContinue Reading

» ষাঁড়-গাধা-ছাগলের কথা

একটি লোকের একটা ষাঁড়, একটা গাধা আর একটা ছাগল ছিল। লোকটি বেজায় অত্যাচার করত তাদের ওপর। ষাঁড়কে দিয়ে ঘানি টানাত, গাধা দিয়ে মাল বওয়াত আর ছাগলের সবটুকু দুধ দুয়ে নিয়ে বাচ্চাদের কেটে কেটে খেত, কিন্তুContinue Reading

» দেবতাদের ভয়

[পাত্র-পাত্রী : ইন্দ্র, ব্রহ্মা, নারদ, অগ্নি, বরুণ ও পবন ] ইন্দ্র : কি ব্যাপার? ব্রহ্মা : আমার এত কষ্টের ব্রহ্মাণ্ডটা বোধহয় ছারখার হয়ে গেল। হায়—হায়—হায়! নারদ : মানুষের হাত থেকে স্বর্গের আর নিস্তার নেই মহারাজ,Continue Reading

» রাখাল ছেলে

সূর্য যখন লাল টুকটুকে হয়ে দেখা দেয় ভোরবেলায়, রাখাল ছেলে তখন গরু নিয়ে যায় মাঠে। আর সাঁঝের বেলায় যখন সূর্য ডুবে যায় বনের পিছনে, তখন তাকে দেখ যায় ফেরার পথে। একই পথে তার নিত্য যাওয়া-আসা।Continue Reading

সুকান্তের পত্রগুচ্ছ

» সুকান্তের পত্রগুচ্ছ

সুকান্ত ভট্টাচার্য যে সকল পত্র লিখেছেন, তার মধ্যে বেশির ভাগই বন্ধু অরুণাচলকে লেখা। ‘পত্রগুচ্ছে’ অরুণাচল ও অন্যান্যদের লেখা তাঁর পত্রগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। সারস্বত লাইব্রেরী, ২০৬ বিধান সরণী, কলিকাতা-৬ থেকে প্রকাশিত ‘সুকান্ত সমগ্র’র ২৭১ থেকে ৩৪৩Continue Reading

সুকান্তের পত্রগুচ্ছ

» অরুণাচল বসুকে লেখা পত্র

বেলেঘাটা ৩৪ হরমোহন ঘোষ লেন, কলিকাতা। শ্রীরুদ্রশরণম্‌ পরম হাস্যাম্পদ, অরুণ,—আমার ওপর তোমার রাগ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক, আর আমিও তোমার রাগকে সমর্থন করি। কারণ, আমার প্রতিবাদ করবার কোনো উপায় নেই, বিশেষত তোমার স্বপক্ষে আছে যখন বিশ্বাসভঙ্গেরContinue Reading

সুকান্তের পত্রগুচ্ছ

» অন্যদেরকে লেখা পত্র

শ্রদ্ধাস্পদাসু, মা, আপনার ছোট্ট মৌচাকটি আমার হস্তগত হল। কিন্তু কৃপণতার জন্য দুঃখ পেলাম। আপনি আমায় যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি যেতে বলেছেন। আপনার আগ্রহ আমায় লজ্জা দিচ্ছে তাড়াতাড়ি যেতে পারছি না বলে। আপনার আগ্রহ উপেক্ষা করতে পারব বলেContinue Reading

» সুকান্তের অপ্রচলিত রচনা

: পরিচিতি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অগ্রন্থিত ও প্রচলিত রচনাসমূহের সঙ্কলন। ‘ক্ষুধা’ গল্পটি ২রা এপ্রিল ১৯৪৩-এর অরণি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অরুণাচলকে লেখা ২৭শে চৈত্র ১৩৪৯ তারিখের চিঠিতে এই গল্পটির উল্লেখ করেছেন সুকান্ত। ‘দুর্বোধ্য’ গল্পটি ২৮শে মে ১৯৪৩-এরContinue Reading

» ক্ষুধা

দুপুরের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হল; আর ভঙ্গ হল কালো মিত্তিরের বহু সাধনালব্ধ ঘুম। বাইরে মোক্ষদা মাসির ক্ষুরধার কণ্ঠস্বর এক মুহূর্তে সমস্ত বস্তিকে উচ্চকিত করে তুলল, কাউকে করল বিরক্ত আর কাউকে করল উৎকর্ণ; তবু সবাই বুঝল একটাContinue Reading

» দুর্বোধ্য

সহর ছাড়িয়ে যে-রাস্তাটা রেল-স্টেশনের দিকে চলে গেছে সেই রাস্তার ওপরে একটা তেঁতুল গাছের তলায় লোকটিকে প্রতিদিন একভাবে দেখা যায়—যেমন দেখা যেতে পাঁচ বছর আগেও। কোনো বিপর্যয়ই লোকটিকে স্থানচ্যুত করতে পারে নি যতদূর জানা যায়। এইContinue Reading

» ভদ্রলোক

“শিয়ালদা-জোড়া-মন্দির-শিয়ালদা” তীব্র কণ্ঠে বার কয়েক চিৎকার করেই সুরেন ঘণ্টি দিল ‘ঠন ঠন’ করে। বাইরে এবং ভেতরে, ঝুলন্ত এবং অনন্ত যাত্রী নিয়ে বাসখানা সুরেনের ‘যা-ও, ঠিক হ্যায়’ চিৎকার শুনেই অনিচ্ছুক ও অসুস্থ নারীর মতো গোঙাতে গোঙাতেContinue Reading

» দরদী কিশোর

দোতলার ঘরে পড়ার সময় শতদ্রু আজকাল অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। জানালা দিয়ে সে দেখতে পায় তাদের বাড়ির সামনের বস্তিটার জন্যে যে নতুন কণ্ট্রোলের দোকান হয়েছে, সেখানে নিদারুণ ভীড়, আর চালের জন্যে মারামারি কাটাকাটি। মাঝে মাঝে রক্তপাতContinue Reading