Category: সুকান্ত ভট্টাচার্য

  • মার্শাল তিতোর প্রতি

    মার্শাল তিতোর প্রতি

    মার্শাল তিতোর প্রতি1

    কমরেড, তুমি পাঠালে ঘোষণা দেশান্তরে,

    কুটিরে কুটিরে প্রতিধ্বনি,—

    তুলেছে মুক্তি দারুণ তুফান প্রাণের ঝড়ে

    তুমি শক্তির অটুট খনি।

    কমরেড, আজ কিষাণ শ্রমিক তোমার পাশে

    তুমি যে মুক্তি রটনা করো,

    তারাই সৈন্য: হাজারে হাজারে এগিয়ে আসে

    তোমার দু’পাশে সকলে জড়ো।

    হে বন্ধু আজ তুমি বিদ্যুৎ অন্ধকারে

    সে আলোয় দ্রুত পথকে চেনা:

    সহসা জনতা দৃপ্ত গেরিলা—অত্যাচারে,

    দৃঢ় শত্রুর মেটায় দেনা।

    তোমার মন্ত্র কোণে কোণে ফেরে সংগোপনে

    পথচারীদের ক্ষিপ্রগতি:

    মেতেছে জনতা মুক্তির দ্বার উদ্ঘাটনে:

    —ভীরু প্রস্তাবে অসম্মতি।

    ফসলের ক্ষেতে শত্রু রক্ত-সেচন করে,

    মৃত্যুর ঢেউ কারখানাতে—

    তবুও আকাশ ভরে আচমকা আর্তস্বরে:

    শত্রু নিহত স্তব্ধ রাতে।

    প্রবল পাহাড়ে গোপনে যুদ্ধ সঞ্চারিত

    দৃঢ় প্রতিজ্ঞা মুখর গানে,

    বিপ্লবী পথে মিলেছে এবার বন্ধু তিতো:

    মুক্তির ফৌজ আঘাত হানে।

    শত্রু শিবিরে লাগানো আগুনে বাঁধন পোড়ে

    —অগ্নি ইসারা জনান্তিকে!

    ধ্বংসস্তূপে আজ মুক্তির পতাকা ওড়ে

    ভাঙার বন্যা চতুর্দিকে।

    নামে বসন্ত, পাইন বনের শাখায় শাখায়

    গাঢ়-সংগীত তুষারপাতে,

    অযুত জীবন ঘনিষ্ঠ দেহে সামনে তাকায়:

    মারণ-অস্ত্র সবল হাতে।

    লক্ষ জনতা রক্তে শপথ রচনা করে—

    ‘আমরা নই তো মৃত্যুভীত,

    তৈরী আমরা; যুগোশ্লাভের প্রতিটি ঘরে

    তুমি আছ জানি বন্ধু তিতো।’

    তোমার সেনানী পথে প্রান্তরে দোসর খোঁজে:

    ‘কোথায় কে আছ মুক্তিকামী?’

    ক্ষিপ্ত করেছে তোমার সে ডাক আমাকেও যে

    তাইতো তোমার পেছনে আমি॥

  • ব্যর্থতা

    ব্যর্থতা

    ব্যর্থতা2

    আজকে হঠাৎ সাত সমুদ্র তেরো নদী

    পার হ’তে সাধ জাগে, মনে হয় তবু যদি

    পক্ষপাতের বালাই না নিয়ে পক্ষীরাজ,

    চাষার ছেলের হাতে এসে যেত হঠাৎ আজ।

    তা হলে না হয় আকাশবিহার হত সফল,

    টুকরো মেঘেরা যেতে-যেতে ছুঁয়ে যেত কপোল;

    জনারণ্যে কি রাজকন্যার নেইকো ঠাঁই?

    কাস্তেখানাকে বাগিয়ে আজকে ভাবছি তাই।

    অসি নাই থাক, হাতে তো আমার কাস্তে আছে,

    চাষার ছেলের অসিকে কি ভালবাসতে আছে?

    তাই আমি যেতে চাই সেখানেই যেখানে পীড়ন,

    যেখানে ঝলসে উঠবে কাস্তে দৃপ্ত-কিরণ।

    হে রাজকন্যা, দৈত্যপুরীতে বন্দী থেকে

    নিজেকে মুক্ত করতে আমায় নিয়েছ ডেকে

    হেমন্তে পাকা ফসল সামনে, তবু দিলে ডাক;

    তোমাকে মুক্ত করব, আজকে ধান কাটা থাক।

    রাজপুত্রের মতন যদিও নেই কৃপাণ,

    তবু মনে আশা, তাই কাস্তেতে দিচ্ছি শান,

    হে রাজকুমারী, আমাদের ঘরে আসতে তোমার

    মন চাইবে তো? হবে কষ্টের সমুদ্র পার?

    দৈত্যশালায় পাথরের ঘর, পালঙ্ক-খাট,

    আমাদের শুধু পর্ণ-কুটির, ফাঁকা ক্ষেত-মাঠ;

    সোনার শিকল নেই, আমাদের মুক্ত আকাশ,

    রাজার ঝিয়ারী! এখানে নিদ্রাহীন বারো মাস।

    এখানে দিন ও রাত্রি পরিশ্রমেই কাটে

    সূর্য এখানে দ্রুত ওঠে, নামে দেরীতে পাটে।

    হে রাজকন্যা, চলো যাই, আজ এলাম পাশে,

    পক্ষীরাজের অভাবে পা দেব কোমল ঘাসে।

    হে রাজকন্যা সাড়া দাও, কেন মৌন পাষান?

    আমার সঙ্গে ক্ষেতে গিয়ে তুমি তুলবে না ধান?

    হে রাজকন্যা, ঘুম ভাঙলো না? সোনার কাঠি

    কোথা থেকে পাব, আমরা নিঃস্ব, ক্ষেতেই খাটি।

    সোনার কাঠির সোনা নেই, আছে ধানের সোনা,

    তাতে কি হবে না? তবে তো বৃথাই অনুশোচনা॥

  • দেবদারু গাছে রোদের ঝলক

    দেবদারু গাছে রোদের ঝলক

    দেবদারু গাছে রোদের ঝলক3

    দেবদারু গাছে রোদের ঝলক, হেমন্তে ঝরে পাতা,

    সারাদিন ধ’রে মুরগীরা ডাকে, এই নিয়ে দিন গাঁথা

    রক্তের ঝড় বাইরে বইছে, ছোটে হিংসার ঢেউ,

    খবরে কাগজ জানায় সেকথা, চোখে দেখি নাকো কেউ॥