১
২
৩
৪

১
২
৩
৪


[গান]

[গান]1
এসো অষ্টমী-পূর্ণচন্দ্র! এসো পূর্ণিমা-পূর্ণচাঁদ!
ভেদ করি পুন বন্ধ কারার অন্ধকারের পাষাণফাঁদ!
এসো অনাগত নব-প্রলয়ের মহাসেনাপতি মহামহিম!
এসো অক্ষত মোহান্ধ-ধৃতরাষ্ট্র-মুক্ত লৌহ ভীম!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
ছয়বার জয় করি কারা-ব্যূহ রাজ-রাহুগ্রাসমুক্ত চাঁদ!
আসিলে চরণে দুলায়ে সাগর নয়-বছরের মুক্ত বাঁধ।
নবগ্রহ ছিঁড়ি ফণি-মনসার মুকুটে তোমার গাঁথিলে হার,
উদিলে দশম মহাজ্যোতিষ্ক ভেদিয়া গভীর অন্ধকার!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
স্বাগত শুদ্ধ রুদ্ধপ্রতাপ, প্রবুদ্ধ নব মহাবলী!
দনুজদমন দধীচি-অস্থি, বহ্নিগর্ভ দম্ভোলি!
স্বাগত সিংহবাহিনী-কুমার! স্বাগত হে দেবসেনাপতি!
অনাগত রণ-কুরুক্ষেত্রে সারথি পার্থ মহারথী!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
নৃশংস রাজ-কংসবংশে হানিতে তোমার ধ্বংস-মার
এসো অষ্টমী-পূর্ণচন্দ্র, ভাঙিয়া পাষাণ-দৈত্যাগার!
এসো অশান্তি-অগ্নিকাণ্ডে শান্তিসেনার কাণ্ডারি!
নারায়ণী-সেনা-সেনাধিপ, এসো প্রতাপের হারা-তরবারি!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
ওগো অতীতের আজও-ধূমায়িত আগ্নেয়গিরি ধূম্রশিখ!
না-আসা-দিনের অতিথি তরুণ তব পানে চেয়ে নির্নিমিখ।
জয় বাংলার পূর্ণচন্দ্র, জয় জয় আদি-অন্তরীণ,
জয় যুগে-যুগে-আসা-সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি-অন্তহীন!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
স্বর্গ হইতে জননী তোমার পেতেছেন নামি মাটিতে কোল,
শ্যামল শস্যে হরিৎ ধান্যে বিছানো তাঁহারই শ্যাম আঁচল।
তাঁহারই স্নেহের করুণ গন্ধ নবান্নে ভরি উঠিছে ওই,
নদীস্রোত-স্বরে কাঁদিছেন মাতা, ‘কই রে আমার দুলাল কই?’
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
মোছো আঁখি-জল, এসো বীর! আজ খুঁজে নিতে হবে আপন মা-য়,
হারানো মায়ের স্মৃতি-ছাই আছে এই মাটিতেই মিশিয়া, হায়!
তেত্রিশ কোটি ছেলের রক্তে মিশেছে মায়ের ভস্ম-শেষ,
ইহাদেরই মাঝে কাঁদিছেন মাতা, তাই আমাদের মা স্বদেশ।
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
এসো বীর! এসো যুগ-সেনাপতি! সেনাদল তব চায় হুকুম,
হাঁকিছে প্রলয়, কাঁপিছে ধরণি, উদ্গারে গিরি অগ্নিধূম।
পরাধীন এই তেত্রিশ কোটি বন্দির আঁখি-জলে হে বীর,
বন্দিনী মাতা যাচিছে শক্তি তোমার অভয় তরবারির।
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
গলশৃঙ্খল টুটেনি আজিও, করিতে পারি না প্রণাম পা-য়
রুদ্ধ কণ্ঠে ফরিয়াদ শুধু গুমরিয়া মরে গুরু ব্যথায়!
জননীর যবে মিলিবে আদেশ, মুক্ত সেনানী দিবে হুকুম,
শত্রুখড়্গ-ছিন্নমুণ্ড দানিবে ও-পায়ে প্রণাম-চুম।
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!

[গান]


ল্যাবেন্ডিশ2 বাহিনীর বিজাতীয় সংগীত

[ব্যঙ্গ-অনুকৃতি]
তোমারই জেলে পালিছ ঠেলে, তুমি ধন্য ধন্য হে।
আমার এ গান তোমারই ধ্যান, তুমি ধন্য ধন্য হে॥
রেখেছ সান্ত্রি পাহারা দোরে
আঁধার-কক্ষে জামাই-আদরে
বেঁধেছ শিকল-প্রণয়-ডোরে
তুমি ধন্য ধন্য হে॥
আ-কাঁড়া চালের অন্ন-লবণ
করেছ আমার রসনা-লোভন,
বুড়ো ডাঁটা-ঘাঁটা লাপসি শোভন,
তুমি ধন্য ধন্য হে॥
ধরো ধরো খুড়ো চপেটা মুষ্টি,
খেয়ে গয়া পাবে সোজা স-গুষ্টি,
ওল-ছোলা দেহ ধবল-কুষ্টি
তুমি ধন্য ধন্য হে॥

বল রে বন্য হিংস্র বীর,
দুঃশাসনের চাই রুধির।
চাই রুধির, রক্ত চাই,
ঘোষো দিকে দিকে এই কথাই
দুঃশাসনের রক্ত চাই!
দুঃশাসনের রক্ত চাই!!
অত্যাচারী সে দুঃশাসন
চাই খুন তার চাই শাসন,
হাঁটু গেড়ে তার বুকে বসি
ঘাড় ভেঙে তার খুন শোষি।
আয় ভীম আয় হিংস্র বীর,
কর আ-কণ্ঠ পান রুধির।
ওরে এ যে সেই দুঃশাসন
দিল শত বীরে নির্বাসন,
কচি শিশু বেঁধে বেত্রাঘাত
করেছে রে এই ক্রূর স্যাঙাত।
মা বোনেদের হরেছে লাজ
দিনের আলোকে এই পিশাচ।
বুক ফেটে চোখে জল আসে,
তারে ক্ষমা করা? ভীরুতা সে!
হিংসাশী মোরা মাংসাশী,
ভণ্ডামি ভালোবাসাবাসি!
শত্রুরে পেলে নিকটে ভাই
কাঁচা কলিজাটা চিবিয়ে খাই!
মারি লাথি তার মড়া মুখে,
তাতা-থই নাচি ভীম সুখে।
নহি মোরা ভীরু সংসারী,
বাঁধি না আমার ঘরবাড়ি।
দিয়াছি তোদের ঘরের সুখ,
আঘাতের তরে মোদের বুক।
যাহাদের তরে মোরা চাঁড়াল
তাহারাই আজি পাড়িছে গাল!
তাহাদের তরে সন্ধ্যা-দীপ,
আমাদের আন্দামান দ্বীপ
তাহাদের তরে প্রিয়ার বুক
আমাদের তরে ভীম চাবুক।
তাহাদের ভালোবাসাবাসি
আমাদের তরে নীল ফাঁসি।
বরিছে তাদেরে বাজিয়া শাঁখ,
মোদের মরণে নিনাদে ঢাক।
জীবনের ভোগ শুধু ওদের,
তরুণ বয়সে মরা মোদের।
কার তরে ওরে কার তরে
সৈনিক মোরা পচি মরে?
কার তরে পশু সেজেছি আজ,
অকাতরে বুক পেতে নিই বাজ।
ধর্মাধর্ম কেন যে নাই
আমাদের, তাহা কে বোঝে ভাই?
কেন বিদ্রোহী সব-কিছুর?
সব মায়া কেন করেছি দূর?
কারে কস মন সে ব্যথা তোর?
যার তরে চুরি সে বলে চোর।
যার তরে মাখি গায়ে কাদা,
সেই হয় এসে পথে বাধা।
ভয় নাই গৃহী! কোরো না ভয়,
সুখ আমাদের লক্ষ্য নয়।
বিরূপাক্ষ যে মোরা ধাতার,
আমাদের তরে ক্লেশ-পাথার।
কাড়ি না তোদের অন্ন-গ্রাস
তোমাদের ঘরে হানি না ত্রাস,
জালিমের মোরা ফেলাই লাশ,
রাজা-রাজড়ার সর্বনাশ!
ধর্মচিন্তা মোদের নয়,
আমাদের নাই মৃত্যুভয়!
মৃত্যুকে ভয় করে যারা,
ধর্মধ্বজ হোক তারা।
শুধু মানবের শুভ লাগি
সৈনিক যত দুখভাগী।
ধার্মিক! দোষ নিয়ো না তার,
তোমাদের তরে মুক্ত দেশ
মোদের প্রাপ্য তোদের শ্লেষ।
জানি জানি ওই রণাঙ্গণ
হবে যবে মোর মৃৎ-কাফন6
ফেলিবে কি ছোটো একটি শ্বাস?
তিক্ত হবে কি মুখের গ্রাস?
কিছুকাল পরে হাড্ডি মোর
পিষে যাবে ভাই জুতিতে তোর!
এই যারা আজ ধর্মহীন
চিনে শুধু খুন আর সঙিন;
তাহাদেরে মনে পড়িবে কার
ঘরে পড়ে যারা খেয়েছে মার?
ঘরে বসে নিস স্বর্গ-লোক,
মেরে মরে তারে দিস দোজখ7।
ভয়ে-ভীরু ওরে ধর্মবীর!
আমরা হিংস্র চাই রুধির!
শয়তান মোরা? আচ্ছা, তাই।
আমাদের পথে এসো না ভাই।
মোদের রক্ত-রুধির-রথ,
মোদের জাহান্নামের পথ,
ছেড়ে দাও ভাই জ্ঞান-প্রবীণ,
আমরা কাফের ধর্মহীন!
এর চেয়ে বেশি কী দেবে গাল?
আমরা পিশাচ খুন-মাতাল।
চালাও তোমার ধর্ম-রথ,
মোদের কাঁটার রক্ত-পথ,
আমরা বলিব সর্বদাই –
দুঃশাসনের রক্ত চাই!
দুঃশাসনের রক্ত চাই!!
চাই না ধর্ম, চাই না কাম,
চাই না মোক্ষ, সব হারাম
আমাদের কাছে; শুধু হালাল8
দুশমন-খুন লাল-সে-লাল॥

(১)
শহিদের ইদ এসেছে আজ
শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ,
আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ;
জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে
আল্লার রাহে তাহারে দে,
চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।
(২)
চাহি নাকো গাভি দুম্বা উট
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানি, চাই না দান।
রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি? কে আছ মুসলমান?
(৩)
ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,
আপনারে আর দিসনে লাজ, –
গোরু ঘুষ দিয়ে চাস সওয়াব?
যদিই রে তুই গোরুর সাথ
পার হয়ে যাস পুলসেরাত,
কী দিবি মোহাম্মদে (দঃ) জওয়াব!
(৪)
শুধাবেন যবে – ওরে কাফের,
কী করেছ তুমি ইসলামের?
ইসলামে দিয়ে জাহান্নম
আপনি এসেছ বেহেশ্ত পর –
পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর!
দেখাসনে মুখ, লাগে শরম।
(৫)
গোরুরে করিলে সেরাত পার,
সন্তানে দিলে নরক-নার!
মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখ।
কোরবানি দিলি গোরু-ছাগল,
তাদেরই জীবন হল সফল
পেয়েছে তাহারা বেহেশ্ত-লোক!
(৬)
শুধু আপনারে বাঁচায় যে,
মুসলিম নহে, ভণ্ড সে!
ইসলাম বলে – বাঁচো সবাই!
দাও কোরবানি জান ও মাল,
বেহেশ্ত তোমার করো হালাল।
স্বার্থপরের বেহেশ্ত নাই।
(৭)
ইসলামে তুমি দিয়ে কবর
মুসলিম বলে কর ফখর!
মোনাফেক তুমি সেরা বে-দীন!
ইসলামে যারা করে জবেহ্,
তুমি তাহাদেরই হও তাঁবে।
তুমি জুতো-বওয়া তারই অধীন।
(৮)
নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং,
ইয়া উয়া পরে সেজেছ সং,
ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম!
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা করো জড়ো,
ত্যাগের বেলাতে জড়সড়ো!
তোর নামাজের কী আছে দাম?
(৯)
খেয়ে খেয়ে গোশ্ত রুটি তো খুব
হয়েছ খোদার খাসি বেকুব,
নিজেদের দাও কোরবানি।
বেঁচে যাবে তুমি, বাঁচিবে দ্বীন,
দাস ইসলাম হবে স্বাধীন,
গাহিছে কামাল এই গানই!
(১০)
বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে
জান্নাত পানে আছ চেয়ে
ভাবিছ সেরাত হবেই পার।
কেন না, দিয়েছ সাত জনের
তরে এক গোরু! আর কী ঢের!
সাতটি টাকায় গোনাহ্ কাবার!
(১১)
জান না কি তুমি, রে বে-ইমান
আল্লা সর্বশক্তিমান
দেখিছেন তোর সব কিছু?
জাব্বা-জোব্বা দিয়ে ধোঁকা
দিবি আল্লারে, ওরে বোকা!
কেয়ামতে হবে মাথা নিচু!
(১২)
ডুবে ইসলাম, আসে আঁধার!
ইব্রাহিমের মতো আবার
কোরবানি দাও প্রিয় বিভব!
‘জবীহুল্লাহ্’ ছেলেরা হোক,
যাক সব কিছু – সত্য রোক!
মা হাজেরা হোক মায়েরা সব।
(১৩)
খাবে দেখেছিলেন ইব্রাহিম –
‘দাও কোরবানি মহামহিম!’
তোরা যে দেখিস দিবালোকে
কী যে দুর্গতি ইসলামের!
পরীক্ষা নেন খোদা তোদের
হবিবের সাথে বাজি রেখে!
(১৪)
যত দিন তোরা নিজেরা মেষ,
ভীরু দুর্বল, অধীন দেশ, –
আল্লার রাহে ততটা দিন
দিয়ো নাকো পশু কোরবানি,
বিফল হবে রে সবখানি!
(তুই) পশু চেয়ে যে রে অধম হীন!
(১৫)
মনের পশুরে কর জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
কশাই-এর আবার কোরবানি! –
আমাদের নয়, তাদের ইদ,
বীর-সুত যারা হল শহিদ,
অমর যাদের বীরবাণী।
(১৬)
পশু কোরবানি দিস তখন
আজাদ মুক্ত হবি যখন
জুলুম-মুক্ত হবে রে দীন। –
কোরবানির আজ এই যে খুন
শিখা হয়ে যেন জ্বালে আগুন,
জালিমের যেন রাখে না চিন॥
আমিন রাব্বিল আলমিন!!
আমিন রাব্বিল আলমিন!!

‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। এতে মোট ৮টি গল্প রয়েছে। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে। প্রকাশক ওরিয়েণ্টল প্রিণ্টার্স এণ্ড পাবলিশার্স লিমিটেড; ২৬/৯/১-এ, হ্যারিসন রোড, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪+১৬০; মূল্য দেড় টাকা। প্রকাশকের পক্ষে কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ‘নিবেদন’-এ বলেন—
“রণকোলাহলের মত্ততার মাঝে জন্মেছিল তরুণ কবির ভাবরাজ্যের দ্যোতনা-করা এই উচ্ছ্বাস। মেসোপটেমিয়ার ধূলি ঝেড়ে আমার ন্যায় অযোগ্য ব্যক্তিকেই একে কোল দিতে হয়েছিল। আমার অযোগ্যতাই এতদিন কবির হৃদয়োচ্ছ্বাসকে চেপে রেখে সহৃদয় পাঠকবর্গের সহিত তার পরিচয়ের ব্যাঘাত জন্মিয়েছে। এতে কবি এবং তার পাঠকবর্গের প্রতি অন্যায়-অত্যাচারের জন্য আমি দায়ী। অদ্য প্রায়শ্চিত্ত করলাম।”
কলিকাতা,
বড়দিন, ১৯২৪।
‘রিক্তের বেদন’ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসের ‘নূর’ পত্রিকায়।
‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৬ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠের ‘সওগাত’ পত্রিকায়। এই গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত রচনা।
‘মেহের নেগার’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৬ বঙ্গাব্দের মাঘের ‘নূর’ পত্রিকায়।
‘সাঁঝের তারা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৭ বঙ্গাব্দের মাঘের ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা’য়।
‘রাক্ষুসী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২৭ বঙ্গাব্দের মাঘের ‘সওগাত’ পত্রিকায়।
‘সালেক’ ১৩২৭ বঙ্গাব্দের আষাঢ়ের ‘বকুল’ পত্রিকায় ‘সালিক’ শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘স্বামীহারা’ ১৩২৬ বঙ্গাব্দের ভাদ্রের ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘দুরন্ত পথিক’ দৈনিক ‘নবযুগ’ হতে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের আশ্বিনের ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় সঙ্কলিত হয়েছিল।

রণ কোলাহলের মত্ততার মাঝে জন্মেছিল, তরুণ কবির ভাবরাজ্যের দ্যোতনা-ভরা এই উদ্ভাস। মেসোপটেমিয়ার ধূলি ঝেড়ে আমার ন্যায় অযোগ্য ব্যক্তিকেই একে কোল দিতে হয়েছিল। আমার অযোগ্যতাই এতদিন কবির হৃদয়োচ্ছ্বাসকে চেপে রেখে সহৃদয় পাঠকবর্গের সহিত তার পরিচয়ের ব্যঘাত জন্মিয়েছে। এতে কবি ও তার পাঠকবর্গের প্রতি অন্যায়-অত্যাচারের জন্য আমি দায়ী। অদ্য প্রায়শ্চিত্ত করলাম।