কলিকাতা
শ্রাবণ ১৩২৮

কলিকাতা
শ্রাবণ ১৩২৮

নাম-হারা তুই পথিক-শিশু এলি অচিন দেশ পারায়ে।
কোন্ নামের আজ পরলি কাঁকনম বাঁধনহারায় কোন কারা এ॥
আবার মনের মতন করে
কোন নামে বল ডাকব তোরে!
পথ-ভোলা তুই এই সে ঘরে
ছিলি ওরে এলি ওরে
বারে বারে নাম হারায়ে॥
ওরে যাদু ওরে মাণিক, আঁধার ঘরের রতণমণি!
ক্ষুধিত ঘর ভরলি এনে ছোট্ট হাতের একটু ননি।
আজ যে শুধু নিবিড় সুখে
কান্না-সায়র উথলে বুকে,
নতুন নামে ডাকতে তোকে
ওরে ও কে কন্ঠ রুখে
উঠছে কেন মন ভারায়ে!
অস্ত হতে এলে পথিক উদয় পানে পা বাড়ায়ে॥
কলিকাতা
ফাল্গুন ১৩২৭

দৌলতপুর, কুমিল্লা
জ্যৈষ্ঠ ১৩২৮

কলিকাতা
চৈত্র ১৩২৭

দৌলতপুর, কুমিল্লা
বৈশাখ ১৩২৮

কলিকাতা
শ্রাবণ ১৩২৮

কলিকাতা
ফাল্গুন ১৩২৭

ঘোমটা-পরা কাদের ঘরের বৌ তুমি ভাই সন্ধ্যাতারা?
তোমার চোখে দৃষ্টি জাগে হারানো কোন মুখের পারা।
সাঁঝের প্রদীপ আঁচল ঝেঁপে
বঁধুর পথে চাইতে বেঁকে
চাউনিটি কার উঠছে কেঁপে
রোজ সাঁঝে ভাই এমনি ধারা।
কারা হারানো বধূ তুমি অস্তপথে মৌন মুখে
ঘনাও সাঁঝে ঘরের মায়া গৃহহীনের শূন্য বুকে।
এই যে নিতুই আসা-যাওয়া,
এমন করুণ মলিন চাওয়া,
কার তরে হায় আকাশ-বধু
তুমিও কি আজ প্রিয়-হারা।
কলিকাতা
কার্তিক ১৩২৭

বরিশাল
আশ্বিন ১৩২৭

হয়ত তোমার পাব দেখা,
যেখানে ঐ নত আকাশ চুমছে বনের সবুজ রেখা॥
ঐ সুদূরের গাঁয়ের মাঠে,
আলের পথে বিজন ঘাটে ;
হয়ত এসে মুচকি হেসে
ধরবে আমার হাতটি একা॥
ঐ নীলের ঐ গহন-পারে ঘোমটা-হারা তোমার চাওয়া,
আনলে খবর গোপন-দূতী দিক-পারের ঐ দখিনা হাওয়া।
বনের ফাঁকে দুষ্টু তুমি
আস্তে যাবে নয়্না চুমি,
সেই সে কথা লিখচে হোথা
দিগ্বলয়ের অরুণ-লেখা।
বরিশাল
আশ্বিন ১৩২৭

কোন মরমির মরম ব্যথা আমার বুকে বেদনা হানে,
জানি গো, সেও জানেই জানে।
আমি কাঁদি তাইতে যে তার ডাগর চোখে অশ্রু আনে,
বুঝেছি তা প্রাণের টানে॥
বাইরে বাঁধি মনকে যত
ততই বাড়ে মর্ম-ক্ষত,
মোর সে ক্ষত ব্যথার মতো
বাজে গিয়ে তারও প্রাণে
কে কয়ে যায় হিয়ার কানে॥
উদাস বায়ু ধানের খেতে ঘনায় যখন সাঁঝের মায়া,
দুই জনারই নয়ন-পাতায় অমনি নামে কাজল-ছায়া!
দুইটি হিয়াই কেমন কেমন
বদ্ধ ভ্রমর পদ্মে যেমন,
হায়, অসহায় মূকের বেদন
বাজল শুধু সাঁঝের গানে,
পুবের বায়ুর হুতাশ তানে॥
বরিশাল
আশ্বিন ১৩২৭

লক্ষ্মী আমার! তোমার পথে আজকে অভিসার।
অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার॥
দিনের পরে দিন গিয়েছে, হয়নি আমার ছুটি,
বুকের ভিতর মৌন-কাঁদন পড়ত বৃথাই লুটি।
আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া,
লাগল চোখে তোমার চাওয়া,
তাই তো প্রাণে বাঁধ টুটেছে রুদ্ধ কবিতার॥
তোমার তরে বুকের তলায়
অনেক দিনের অনেক কথা জমা,
কানের কাছে মুখটি থুয়ে
গোপন সে সব কইব প্রিয়তমা।
এবার শুধু কথায়-গানে রাত্রি হবে ভোর,
শুকতারাতে কাঁপবে তোমার নয়ন-পাতার লোর।
তোমায় সেধে ডাকবে বাঁশি,
মলিন মুখে ফুটবে হাসি,
হিম-মুকুরে উঠবে ভাসি করুণ ছবি তার।
দেওঘর
পৌষ ১৩২৭

আপন-পিয়াসী
আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘশ্যাম,
অশনি-আলোকে হেরি তারে থিরবিজুলি-উজল অভিরাম।
কলিকাতা
আষাঢ় ১৩৩১

করেছ পথের ভিখারণী মোরে কে গো সুন্দর সন্ন্যাসী?
কোন বিবাগীর মায়া-বনমাঝে বাজে ঘরছাড়া তব বাঁশি?
হুগলী
আষাঢ় ১৩৩১

আমার ঘরের পাশ দিয়ে সে চলত নিতুই সকাল-সাঁঝে।
আর এ পথে চলবে না সে সেই ব্যথা হায় বক্ষে বাজে॥
আমার দ্বারের কাছটিতে তার ফুটত লালী গালের টোলে,
টলত চরণ, চাউনি বিবশ কাঁপত নয়ন-পাতার কোলে –
কুঁড়ি যেমন প্রথম খোলো গো!
কেউ কখনও কইনি কথা,
কেবল নিবিড় নীরবতা
সুর বাজাত অনাহতা
গোপন মরম-বীণার মাঝে॥
মূক পথের আজ বুক ফেটে যায় স্মরি তারই পায়ের পরশ
বুক-খসা তার আঁচর-চুমু,
রঙিন ধুলো পাংশু হল, ঘাস শুকাল যেচে বাচাল
জোড়-পায়েলার রুমঝুমু!
আজও আমার কাটবে গো দিন রোজই যেমন কাটত বেলা,
একলা বসে শূন্য ঘরে – তেমনি ঘাটে ভাসবে ভেলা –
অবহেলা হেলাফেলায় গো!
শুধু সে আর তেমন করে
মন রবে না নেশায় ভরে
আসার আশায় সে কার তরে
সজাগ হয়ে সকল কাজে।
ডুকরে কাঁদে মন-কপোতী–
‘কোথায় সাথির কূজন বাজে?
সে পা-র ভাষা কোথায় রাজে?’
দেওঘর
মাঘ ১৩২৭

যাস কোথা সই একলা ও তুই অলস বৈশাখে?
জল নিতে যে যাবি ওলো কলস কই কাঁখে?
কলিকাতা
ফাল্গুন ১৩২৭

দেওঘর
পৌষ ১৩২৭

রেশমি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে মরমকথা
পথের মাঝে চমকে কে গো থমকে যায় ওই শরম-নতা॥
কাঁখচুমা তার কলসি-ঠোঁটে
উল্লাসে জল উলসি ওঠে,
অঙ্গে নিলাজ পুলক ছোটে
বায় যেন হায় নরম লতা॥
অ-চকিতে পথের মাঝে পথ-ভুলানো পরদেশী কে
হানলে দিঠি পিয়াস-জাগা পথবালা এই উর্বশীকে!
শূন্য তাহার কন্যা-হিয়া
ভরল বধূর বেদন নিয়া,
জাগিয়ে গেল পরদেশিয়া
বিধুর বধূর মধুর ব্যথা।
দৌলতপুর, কুমিল্লা
বৈশাখ ১৩২৮

দৌলতপুর, কুমিল্লা
জ্যৈষ্ঠ ১৩২৮

কুমিল্লা
আষাঢ় ১৩২৮