» » চতুর্থ অধ্যায় : বণিকরাজা

বাংলা তথা মুর্শিদাবাদের আরেক বণিকরাজা ছিলেন আর্মানি বণিক খোজা ওয়াজিদ। সপ্তদশ শতক থেকেই আর্মানিরা বাংলায় বিদেশি বণিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম। তারা যে-সব পণ্য নিয়ে বাণিজ্য করত, তার মধ্যে অন্যতম বস্ত্র ও কাঁচা রেশম। তাই কাশিমবাজার-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি অন্তত মধ্য-সপ্তদশ শতক থেকেই। মুর্শিদাবাদের সৈয়দাবাদে এদের প্রধান ঘাঁটি ছিল কারণ এরাও জানত যে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সাফল্যের জন্য মুর্শিদাবাদ দরবারের আনুকূল্য একান্তভাবে প্রয়োজন। সৈয়দাবাদে প্রথম আর্মানি গির্জা স্থাপিত হয় ১৬৬৫ সালে— তার ধ্বংসাবশেষের পাশে ১৭৫৮ সালে তাদের নতুন গির্জা তৈরি হয়।[১]

বাংলায় আর্মানি বণিকদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খোজা ওয়াজিদ। বাংলার বাণিজ্যিক রাজধানী হুগলি ছিল ওয়াজিদের প্রধান কর্মস্থল, সেখান থেকেই তিনি তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যের সাম্রাজ্য চালাতেন। একদিকে ফরাসি ও ডাচ কোম্পানি, অন্য দিকে উমিচাঁদের মাধ্যমে তিনি ইংরেজ কোম্পানিকে তাদের রফতানি পণ্য সরবরাহ করতেন তাঁর জীবনের একমাত্র ধ্যানধারণা ছিল তাঁর বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য—যে কোনও মূল্যেই তিনি সেটার শ্রীবৃদ্ধি করতে প্রস্তুত ছিলেন। মুর্শিদাবাদের নবাব আলিবর্দির দাক্ষিণ্যেই তিনি বিহার অর্থনীতির অনেকটাই কুক্ষিগত করতে সমর্থ হন—বিহারে দু’টি প্রধান রফতানি পণ্য, সোরা ও আফিং-এর একচেটিয়া ব্যবসা তিনি নিজের করায়ত্ত করেন ১৭৪০-র শেষ দিক থেকে।[২] ১৭৫৩ সালে তিনি আলিবর্দির কাছ থেকে বিহারে সোরার একচেটিয়া ব্যবসা করার ইজারা পান।[৩] তার আগের বছর তিনি নবাবকে ২৫ বা ৩০ হাজার টাকা দিয়ে লবণের ব্যবসার ইজারাও নেন।[৪]

অন্য বণিকরাজাদের মতো খোজা ওয়াজিদের ব্যবসা-বাণিজ্য শুধু দেশের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না—তিনি সমুদ্র বাণিজ্যেও লিপ্ত ছিলেন। মনে হয় অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তিনি বর্হিবাণিজ্যে অংশ নিতে শুরু করেন ১৭৪০-র দশকের মাঝামাঝি থেকে। ডাচ কোম্পানির রেকর্ডস থেকে (যদিও সেগুলি অসম্পূর্ণ, মাঝেমধ্যেই ফাঁক আছে) জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে ওয়াজিদের অন্তত ৬টি বাণিজ্যতরী ছিল।[৫] এগুলির মাধ্যমে তিনি তখনকার বাংলার সবচেয়ে বড় বন্দর হুগলির সমুদ্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর জাহাজগুলি হুগলি থেকে বিভিন্ন পণ্যসম্ভার নিয়ে জেড্ডা (Jedda), মোখা (Mokha), বসরা (Basra), সুরাট, মসুলিপট্টনম প্রভৃতি বন্দরে বাণিজ্য করতে যেত। জাহাজগুলির নাম—‘সালামত রেসান’, ‘মোবারক’, ‘গেনজামের(?)’, ‘মদিনা বক্স’, ‘সালামত মঞ্জিল’ ও ‘মুবারক মঞ্জিল’। ডাচ কোম্পানির প্রধান ইয়ান কারসেবুম ও ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিলের লেখা থেকে জানা যায় যে সুরাটে ওয়াজিদের একটি বাণিজ্য কুঠিও ছিল।[৬]

মুর্শিদাবাদ দরবারে ওয়াজিদের যে প্রবল প্রভাব ও প্রতিপত্তি, তা শুধু জগৎশেঠদেরই ছিল। নবাব সিরাজদ্দৌল্লার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ, নবাব তাঁকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি, বিশেষ করে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে, দৌত্যে নিযুক্ত করতেন। ইংরেজরাও তাঁর সঙ্গে নবাবের ঘনিষ্ঠতার কথা ভাল করে জানত। তারা তাঁকে মুর্শিদাবাদ দরবারের একজন অমাত্য বা দরবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশীল ব্যক্তি বলেই মনে করত।[৭] রবার্ট ওরম তাঁকে বাংলার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[৮] আর কাশিমবাজার ইংরেজ কুঠির উইলিয়াম ওয়াটস ও ম্যাথু কোলেট (Mathew Collet) লিখেছেন যে তিনি সুবে বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সওদাগর এবং নবাবের ওপর তাঁর প্রচণ্ড প্রভাব ছিল।[৯] ফারসি ঐতিহাসিক ইউসুফ আলি খানও জানাচ্ছেন যে, ওয়াজিদ নবাব আলিবর্দির এক ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় বন্ধু। ব্যবসা-বাণিজ্য করে তিনি প্রচুর ধনোপার্জন করেন এবং লোকে তাঁকে ‘ফখর-উৎ-তুজ্জার’ (সওদাগরদের গর্ব—pride of merchants) নামে জানত।[১০]

বাংলা তথা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ওয়াজিদ যে ১৭৪০-র শেষদিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন তা ডাচ রেকর্ডস থেকে স্পষ্ট। ১৭৫০ সালে বাংলায় ডাচ কোম্পানির ডাইরেক্টর ইয়ান হাউখেনস তাঁর ‘মেমোরি’তে লিখেছেন যে ডাচদের উচিত ওয়াজিদের সঙ্গে হৃদ্যতা রেখে চলা কারণ মুর্শিদাবাদ দরবারে তিনি খুবই ‘সম্মানিত ব্যক্তি’।[১১] পঞ্চাশের দশকে যে তিনি নবাবের দরবারে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি, তা বাংলায় ডাচ কোম্পানির অধ্যক্ষ ইয়ান কারসেবুমের ১৭৫৫-র লেখা থেকে পরিষ্কার। কারসেবুম লিখেছেন:[১২]

While mentioning those persons whose friendship would be very useful to your Honour I cannot neglect Coja Mahmet Wazit, recently honoured with the title of Faqqur Tousjaar meaning supporter of the treasure because he is truly the maintainer of the riches of the rulers. He gives them a lot willingly rather than under compulsion.

বলা বাহুল্য, পঞ্চাশের দশকের প্রথম কয়েকবছর, পলাশির যুদ্ধ পর্যন্ত, ওয়াজিদ মুর্শিদাবাদ দরবারের স্থায়ী সদস্য ছিলেন এবং স্বভাবতই বেশিরভাগ সময় কাটাতেন মুর্শিদাবাদেই। আলিবর্দির মৃত্যুর পর সিরাজদ্দৌল্লা নবাব হবেন এটা ধরে নিয়ে তিনি ১৭৫২ সাল থেকেই সিরাজের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন। ধুরন্ধর এই আর্মানি বণিক খুব ভাল করে বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধির জন্য নবাব ও দরবারের আনুকূল্য অত্যন্ত জরুরি। সে জন্য তিনি প্রথমে নবাব আলিবর্দির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করেছিলেন, পরে সিরাজদ্দৌল্লার সঙ্গেও। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সিরাজের ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ পরামর্শদাতাদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। মুর্শিদাবাদ দরবারে তাঁর প্রভাব যে কতটা প্রবল তার প্রমাণ সিরাজদ্দৌল্লা মসনদে বসার পর তাঁকেই ইংরেজদের সঙ্গে আপস-মীমাংসার দৌত্যে নিযুক্ত করেন। জাঁ ল’-ও মন্তব্য করেছেন যে ওয়াজিদ ইউরোপীয়দের সঙ্গে নবাবের কূটনৈতিক আলাপ আলোচনার দায়িত্বে ছিলেন।[১৩]

ওয়াজিদ ইংরেজদের চেয়ে ফরাসি ও ডাচদের প্রতি বেশি অনুকূলভাবাপন্ন ছিলেন। ক্লাইভ তাঁকে ফরাসিদের ‘এজেন্ট’ বলে মনে করতেন।[১৪] আসলে ফরাসি ও ডাচদের প্রতি তাঁর যে মনোভাব তা ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পরিপন্থী ছিল না। জাঁ ল’-র মন্তব্যই সঠিক যে ওয়াজিদ সবার সঙ্গেই ভাল সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করতেন।[১৫] এর কারণ, তাঁর কাছে তাঁর নিজের ব্যবসার স্বার্থই ছিল সবচেয়ে বড়। তিনি ভাল করেই বুঝেছিলেন যে ইংরেজদের বিতাড়িত করে তাঁর কোনও স্বার্থসিদ্ধিই হবে না। তাঁর সেরা ও লবণের একচেটিয়া ব্যবসা বা আফিংয়ের বাণিজ্য কিংবা তাঁর সমুদ্র-বাণিজ্য, ইংরেজদের তাড়িয়ে দিলে এসবের কোনওটাতেও বিশেষ কিছু লাভ হবে না।

ওয়াজিদ যেহেতু মুর্শিদাবাদ দরবারের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্যতম, তাই পলাশির ষড়যন্ত্রে তাঁর একটা ভূমিকা অবশ্যই ছিল। তবে তিনি ছিলেন সিরাজদ্দৌল্লার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত, এবং অনেকটা ইংরেজ-বিরোধী ও ফরাসিদের সমর্থক। তাই প্রথম দিকে তিনি পলাশি চক্রান্তের সঙ্গে একেবারেই যুক্ত ছিলেন না। ষড়যন্ত্রে তিনি সামিল হন একেবারে শেষ মুহূর্তে। কিন্তু কেন? মনে হয় ইংরেজদের হুগলি আক্রমণের (জানুয়ারি ১৭৫৭) পর তিনি তাঁর বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা সম্বন্ধে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাই তিনি সিরাজকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফরাসিদের সঙ্গে আঁতাত করার জন্য পরামর্শ দেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ মার্চ ইংরেজদের হাতে ফরাসি চন্দননগরের পতনের পর ওয়াটস লেখেন যে ফরাসিদের পরাজয়ের পর সিরাজদ্দৌল্লা ওয়াজিদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন কারণ ওয়াজিদ নবাবকে বুঝিয়েছিলেন যে ফরাসিরা ইংরেজদের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ইংরেজরা তাদের বিরুদ্ধে কখনওই সফল হতে পারবে না।[১৬] এটা থেকে স্পষ্ট যে নবাবের সঙ্গে ফরাসিদের সম্ভাব্য আঁতাতকেই ওয়াজিদ তাঁর নিজের বাঁচার একমাত্র উপায় বলে ভেবেছিলেন। সেটা তো হল না কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সবার শেষেই পলাশির ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছিলেন। ১৭৫৭ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনিই ছিলেন ষড়যন্ত্র সফল করার পক্ষে প্রধান অন্তরায়। তাই ওয়াটস ৩ মে ক্লাইভকে লেখেন:[১৭]

আমি শুনলাম যে খোজা ওয়াজিদের গোমস্তা শিববাবু আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।….তাঁর মনিব [ওয়াজিদ] ফরাসিদের মঙ্গলার্থে আত্মোৎসর্গ করেছেন এবং প্রথম থেকেই তিনি দরবারে তাদের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং তিনি সেখানে তাদের ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ফরাসিদের ক্ষমতা ও সামরিক শক্তি সম্বন্ধে নানারকম অতিরঞ্জিত গল্প বাজারে চালু করেছেন…সংক্ষেপে বলতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শত্রুতা করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন। নবাবের সঙ্গে আমাদের যে ঝামেলা চলছে তার জন্য তিনিই অনেকাংশে দায়ী। তিনি নবাবকে সবসময় আমাদের বিরুদ্ধে উস্কে দেন এবং আমাদের সম্বন্ধে প্রায়ই নবাবের মনে ভীতি ও আশঙ্কা ধরিয়ে দেন…শিববাবু এবং তাঁর মনিব আমার আর স্ক্র্যাফ্‌টনের প্রতি অত্যন্ত বিরূপ এবং পারলে আমাদের খতম করে দেন।

সুচতুর ও পাকা হিসেবি ওয়াজিদ শেষ মুহূর্তে ষড়যন্ত্রে সামিল হন যখন তিনি বুঝলেন যে নবাবের পরিত্রাণের আর কোনও সম্ভাবনাই নেই। তিনি জানতেন তার বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য রক্ষা করার জন্য রাজনৈতিক আনুকূল্যের খুবই প্রয়োজন। ততদিনে মুর্শিদাবাদ থেকে জাঁ ল’র বিতাড়নের (১৬ এপ্রিল ১৭৫৭) ফলে নবাবের পক্ষে ফরাসিদের হস্তক্ষেপের সব সম্ভাবনাই নষ্ট হয়ে যায়। আবার সিরাজদ্দৌল্লাকে দেওয়া তাঁর পরামর্শ—নবাব ফরাসিদের সঙ্গে আঁতাত করুন—ব্যর্থ হওয়ায় সিরাজ তাঁর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং নবাব তাঁকে পরিত্যাগ করেন। মে মাসের প্রথমদিকে দরবারে তাঁর অবস্থা এমনই শোচনীয় হয়ে পড়ে এবং তিনি নিরাপত্তার এমনই অভাব বোধ করতে থাকেন যে সম্ভবত তিনি ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠিতে আশ্রয় নেন। ওয়াটস ক্লাইভকে ৯ থেকে ১৩ মে’র মধ্যে কোনও এক সময় লেখেন: ‘খোজা ওয়াজিদ এখন নবাবের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত। উমিচাঁদকে দিয়ে আমার কাছে খবর পাঠিয়েছেন আমি যেন তাঁকে আমাদের কুঠিতে [কাশিমবাজারে] লুকিয়ে আশ্রয় দিই।’[১৮]

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে ওয়াজিদ নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যের সাম্রাজ্য বাঁচাতে অনন্যোপায় হয়েই একেবারে শেষ মুহূর্তে পলাশির যড়যন্ত্রে যোগ দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁর এবং তাঁর মতো অন্য দু’জন বণিকরাজারও কপাল খারাপ— পলাশি কিছুটা আগে-পরে বাংলা তথা মুর্শিদাবাদের এই তিন বণিকরাজারই পতন ডেকে আনে। ১৭৫৮ সালেই ওয়াজিদের পতন সম্পূর্ণ হয়ে যায়—তিনি ঘোষণা করেন যে ইংরেজরা তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করেছে এবং তাঁকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াজিদের পতন পলাশিতে ইংরেজ বিজয়ের প্রত্যক্ষ ফল, এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

অবশ্য জাঁ ল’ বলছেন যে ওয়াজিদ তাঁর কূটনীতি ও হঠকারিতার শিকার হয়েছেন।[১৯] এটা সঠিক বলে মানা যায় না। যদি কোনও একটা বিশেষ কারণকে ওয়াজিদের পতনের মুখ্য কারণ হিসেবে ধরতে হয়, তবে তা হল তাঁর প্রতি ক্লাইভের প্রচণ্ড রোষ। ক্লাইভ তাঁকে ‘ভিলেন’ বলে মনে করতেন কারণ তিনি সন্দেহ করতেন, ওয়াজিদ ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফরাসিদের সাহায্য করছিলেন। তা ছাড়াও ক্লাইভের ঘোরতর সন্দেহ ছিল যে পলাশির পর ১৭৫৭-তে ফরাসিদের বাংলায় হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনার সঙ্গে ওয়াজিদও যুক্ত ছিলেন। ক্লাইভ ওয়াটসকে লেখেন: ‘কাগজপত্রের মধ্যে ওয়াজিদের একটা চিঠি পাওয়া গেছে যাতে ওসব [ফরাসিদের পরিকল্পনা] ব্যাপারের উল্লেখ আছে। আমি চাই যে আপনি ওই ভিলেনের সর্বনাশের ব্যবস্থা করুন—ও কিন্তু মনেপ্রাণে ফরাসি।’[২০] ইংরেজদের পক্ষে ওয়াজিদের সর্বনাশ সম্পূর্ণ করার সুযোগ এল ১৭৫৯-এ।

ওয়াজিদ বুঝতে পেরেছিলেন, ইংরেজরা যতদিন বাংলায় ক্ষমতার শীর্ষে থাকবে, ততদিন তাঁর ধ্বংসোন্মুখ বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য রক্ষা করার কোন উপায় নেই। তাই মরিয়া হয়ে তিনি আবার জুয়া খেলে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চাইলেন। জুয়ায় আবার হারলেও তাঁর আর বেশি কী ক্ষতি হবে, জিতলে অনেক লাভ—হয়তো এটাই তিনি ভেবেছিলেন। তিনি ডাচদের সঙ্গে পরিকল্পনা করলেন, ডাচরা বাংলা আক্রমণ করে ইংরেজদের তাড়াবার চেষ্টা করবে। কিন্তু পলাশির মতো তাঁর এই দ্বিতীয় জুয়া খেলাও ব্যর্থ হল। ডাচদের পরাজয়ের পর ওয়াজিদের সর্বনাশ ঠেকানো আর কোনও রকমেই সম্ভব ছিল না। ক্লাইভ খুব উৎফুল্ল হয়ে ওয়াজিদের পতন বর্ণনা করেছেন: ‘আমি জানতাম যে নবাবের সঙ্গে আমাদের কলকাতায় যে সাম্প্রতিক ঝামেলাটা হয়েছিল তার প্রধান হোতা হচ্ছে ওই ‘রাসকেল’ ওয়াজিদটা। আবার আমাদের সঙ্গে ডাচদের বিরোধ বাঁধাতে সে এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাই আমি ভাবলাম তাকে হাতকড়া পরানো দরকার যাতে সে ভবিষ্যতে মহামান্য নবাব [মীরজাফর], আপনি [মীরণ] এবং আমার [ক্লাইভ] মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধুত্ব হয়েছে তা ভাঙতে না পারে।’[২১] ওয়াজিদকে ধরে জেলে পোরা হল। সেখানে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।[২২]

উপরোক্ত তিন বণিকরাজা ছাড়াও মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজার অঞ্চলে অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী, ব্যাঙ্কার, মহাজনও ছিল। কারণ এই অঞ্চল ছিল কাঁচা রেশম ও রেশমিবস্ত্রের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র। শুধু বাংলা থেকে নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকী ভারতবর্ষের বাইরে থেকেও বহু এশীয় বণিকরা কাঁচা রেশম ও রেশমিবস্ত্র সংগ্রহ করার জন্য এই অঞ্চলে আসত। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কাশিমবাজারের কাটমা পরিবার ছিল কাঁচা রেশম ও রেশমিবস্ত্রের অন্যতম ব্যবসায়ী। এরা মহাজনি কারবারেও লিপ্ত ছিল। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি এদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা ধার করত। ১৭২৪-র সেপ্টেম্বর মাসে কাশিমবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে ডাচ কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিল কাটমা পরিবারের।[২৩] ফরাসি কোম্পানির অধ্যক্ষ ডুপ্লের (Dupleix) সময় তারা কাশিমবাজারের কাটমাদের কাছ থেকে ধার নিতে বাধ্য হয়েছিল।[২৪]

এই কাটমা পরিবার থেকে ইংরেজ কোম্পানি কাশিমবাজারে তাদের ‘ব্রোকার’ বা প্রধান সওদাগর নিয়োগ করত। ১৭৩০ সালে তারা হাতু (Hathu) কাটমাকে এই পদে নিযুক্ত করেছিল। কারণ তিনি ছিলেন ‘a man of unquestionable credit and the properest person for the post of a broker’, এবং ‘a man of considerable estate.’[২৫] কিন্তু কোম্পানির সঙ্গে বিবাদের ফলে ১৭৩৭ সালে তিনি পদচ্যুত হন এবং তার জায়গায় ‘ব্রোকার’ হলেন কাটমা পরিবারেরই অন্যতম সদস্য, বলাই বা বলরাম কাটমা (রেকর্ডসে Bally)। তাঁকে নিয়োগ করার কারণ তাঁর ছিল ব্যবসায়ী হিসেবে বহুদিনের অভিজ্ঞতা এবং তিনি ছিলেন খুব ধনী পরিবারের লোক।[২৬] ১৭৪১ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন—সে বছর ওই পদটি তুলে দেওয়া হয়।

মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজার থেকে পণ্য, বিশেষ করে কাঁচা রেশম, সংগ্রহ করার জন্য ওখানে গুজরাট, লাহোর, মুলতান, দিল্লি, আগ্রা, বেনারস, গোরখপুর, পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ প্রভৃতি অঞ্চল থেকে বহু সওদাগর ভিড় জমাত।[২৭] তা ছাড়া ছিল আর্মানিরা—মুর্শিদাবাদের সৈয়দাবাদে তাদের বড় ঘাঁটি ছিল। তবে কাঁচা রেশমের বাজারে সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল গুজরাটিরা—দামের কোনও তোয়াক্কা না করে তারাই সবচেয়ে ভাল রেশম কিনত, যার জন্য সবথেকে উৎকৃষ্ট রেশমের নামই হয়ে যায় ‘গুজরাটি সিল্ক’। অবশ্য বাজারে অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীও ছিল, যাদের সাধারণত পাইকার বলা হত। এরা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি ও এশীয় বণিকদের কাঁচা রেশমের জোগান দিত। এ সব ব্যপারীদের মধ্যে বাঙালি ছাড়াও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের অবাঙালি এবং আর্মানিরাও ছিল। ১৭৫৩ সালে ইংরেজ কোম্পানি কাঁচা রেশম ও রেশমিবস্ত্র সরবরাহের জন্য যে ৪২ জন ব্যাপারীর সঙ্গে চুক্তি করে তার মধ্যে অন্তত ১০/১২ জন ছিল গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও উত্তর ভারতের ব্যবসায়ী। বাঙালিদের মধ্যে উঁচু নিচু সব জাতের লোকই ছিল—ব্রাহ্মণ, বৈদ্য থেকে তেলি পর্যন্ত।[২৮]

এখানে উল্লেখযোগ্য যে মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতির, গোষ্ঠীর হলেও তাদের মধ্যে একটা জোটবদ্ধতা ছিল যার ফলে কলকাতার দাদনি বণিকদের চেয়েও তারা অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। তারা অনেক সময়ই এরকম ‘জোট’ (ring) তৈরি করে ইউরোপীয় কোম্পানি বা বড় বড় এশীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করত এবং নিজেদের দাবিতে অটল থাকতে পারত। ১৭৪১ সালে ইংরেজ কোম্পানির এসব দাদনি বণিকরা চুক্তিমতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করার চেষ্টা করা হলে তারা জোটবদ্ধভাবে তা দিতে অস্বীকার করল কারণ এরকম জরিমানা তাদের কোনওদিন দিতে হয়নি। তাই এখনও তারা তা দেবে না। কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি কলকাতা কাউন্সিলকে জানাল, কোম্পানির দাদনি বণিকরা জোটবদ্ধ হয়ে এমনই দৃঢ়তার সঙ্গে জরিমানা দিতে অস্বীকার করছে যে ইংরেজদের ক্ষমতা নেই তাদের বাধ্য করে।[২৯]

এসব ব্যবসায়ীরা জোটবদ্ধ হয়ে থাকায় তাদের ওপর জোরজুলুম করার প্রচেষ্টাকে তারা অনেকাংশেই প্রতিহত করতে পারত। সাধারণভাবে কোম্পানিগুলি ব্যবসায়ীদের যে অগ্রিম (দাদনি) দিত, তার জন্য তাদের কাছ থেকে জামিন নিত। কিন্তু মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারের বণিকগোষ্ঠী এরকম কোনও জামিন দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। এরা যে কত স্বাধীনভাবে কাজ কারবার করত তা কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠির লেখা চিঠি থেকে স্পষ্ট: (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭৪২)[৩০]

…as to giving security as demanded of them [the merchants] is what they would not do on any account that some of them did business for Guzzeraters, Multaners, Armenians and other merchants and for greater amounts than with us and yet no such thing was ever demanded of them…besides there were none among them but what were esteemed men of credit and many of them substantial men….In short that none of them would submit to the reproaches/as they call it/ of giving security.

কোনওমতেই এ ব্যবসায়ীদের জামিন দিতে রাজি করাতে না পেরে কোম্পানি তাদের শর্ত মেনে নিয়েই তাদের সঙ্গে কাঁচা রেশম সরবরাহের চুক্তি করতে বাধ্য হয়।[৩১]

আসলে মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারের বণিকগোষ্ঠী অগ্রিমের জন্য জামিন দিতে এত অনিচ্ছুক ছিল কারণ তারা অনেকেই বিশিষ্ট সওদাগর এবং তারা বড় বড় ভারতীয় ও এশীয় ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ করত। তাদের আশঙ্কা ছিল, একবার যদি তাদের জামিন দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ে তা হলে বাজারে তাদের যে সুনাম আছে তা নষ্ট হয়ে যাবে এবং সবাই ভাববে যে তারা তেমন নির্ভরযোগ্য নয়।[৩২] ১৭৪৪ সালে কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি থেকে কলকাতায় জানাচ্ছে যে তাদের যে পরিমাণ রেশমিবস্ত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে, তা ওখানে পাওয়া সম্ভব নয়। তার জন্য তাদের মুর্শিদাবাদ-সৈয়দাবাদ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হবে। এদের মধ্যে অনেকে বেশ ধনী এবং বাজারে এদের খুব সুনাম, বিশেষ করে রাম সিং, গোঁসাইরাম, রামনাথ ইচ্ছানাথ প্রভৃতি। এদের সাহায্য ছাড়া ওই পরিমাণ রেশমিবস্ত্র সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এরাই প্রধানত এই পণ্যের ব্যবসায়ী এবং এরা সবচেয়ে ভাল মানের জিনিস সরবরাহ করে—অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এই পণ্য সরবরাহ করতে একেবারে চাইত না। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীরা অগ্রিমের জন্য কিছুতেই জামিন দিতে নারাজ। আর যদি এদের সঙ্গে রেশমিবস্ত্রের জোগান দেওয়ার জন্য ইংরেজরা চুক্তি না করে, তাহলে ফরাসি ও ডাচ কোম্পানি সঙ্গে সঙ্গে এদের লুফে নেবে। তাই শেষ পর্যন্ত ইংরেজ কোম্পানি জামিন ছাড়াই এদের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।[৩৩]

সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সুরাটে যেমন বণিকদের ‘মহাজন’ বা ‘গিল্ড’ গোছের জিনিস ছিল,[৩৪] তেমনি মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজার অঞ্চলের ব্যবসায়ীদেরও পঞ্চায়েত ছিল (রেকর্ডে ‘punch or whole body’)। পঞ্চায়েত যা ঠিক করত, সব ব্যবসায়ী তা মেনে নিত। ১৭৫৫ সালের কাশিমবাজার কুঠির লেখা থেকে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম ও বিধান সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা করা যেতে পারে:[৩৫]

Our merchants having entered into and signed a punch or agreement whereby they are bound not to allow of our taking the 10 percent penalty for the short delivery of goods in the year 1752, and that in case of our discharging any of them from our Employ, the whole body should quit our Business, and that any one or more, should for private ends violate these agreements, he or they should be liable to pay a penalty both to the merchants dismissed and to the Government with several other restrictions.

এটা থেকে বোঝা যায়, মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারের ব্যবসায়ীদের পঞ্চায়েত বেশ শক্তিশালী ও কার্যকরী সংগঠনই ছিল।

সূত্রনির্দেশ ও টীকা

  1. P. C. Majumdar, Musnud, p. 233.
  2. S. Chaudhury, From Prosperity to Decline, p. 120.
  3. BPC, vol. 26, f. 110, 2 April 1753; Beng. Letters Recd., vol. 22, para 18, f. 410.
  4. Orme Mss., O.V. 134, f. 13; Mss. Eur. D. 283, f. 22; S. Chaudhury, From Prosperity to Decline, pp. 120-21.
  5. এসব তথ্য ডাচ রেকর্ডস থেকে সংগৃহীত। VOC 2661, 2689. 2862.
  6. VOC 2849; Hill, II, p. 87.
  7. BPC, vol. 26, f. 132vo, 3 May 1758; C & Abst., col. 5, f. 424; Beng. Letters Recd., vol. 22, f, 412.
  8. Orme, Military Transactions, vol. II, Sec. I, p. 58.
  9. Records of Fort St. George, Diary and Consultation Book, 1756, vol. 86, p. 32; Orme Mss., O.V. 19, p. 104.
  10. Yusuf Ali Khan, Zamia-i-Tadhkira-i-Yusufi, p. 17.
  11. ‘Memorie’ of Jan Huijghens, VOC 2763, f. 458, 20 March 1750.
  12. ‘Memorie’ of Jan Kerseboom, VOC 2849, f. 128 vo, 14 Feb. 1755.
  13. Law’s Memoir, Hill, vol. III, p. 187.
  14. ওয়াটসকে লেখা ক্লাইভের চিঠি, ৪ আগস্ট ১৭৫৮, Orme Mss. India, X, f. 112 vo.
  15. Law’s Memoir, Hill, vol. III, p. 190.
  16. সিলেক্ট কমিটিকে ওয়াটস, Select Committee Consults., Orme Mss., India V, f. 1210; O.V. 170, f. 215.
  17. ক্লাইভের ওয়াটস, ৩ মে ১৭৫৭ Hill, II, pp. 374-75.
  18. ক্লাইভের ওয়াটস, ৯-১৩ মে ১৭৬৭, Hill, II, pp. 379.
  19. Law’s Memoir, Hill, III, p. 190, f. n. 1.
  20. ওয়াটসকে ক্লাইভ, ৪ আগস্ট ১৭৫৮, Orme Mss., India X, f. 112 vo.
  21. মীরণকে ক্লাইভের চিঠি, ২৭ নভেম্বর ১৭৫৯, Clive Mss., 269 No. 982.
  22. Mss. Eur. G 37, Box 22.ওয়াজিদ সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণের জন্য আমার প্রবন্ধ “Trading Networks in a Traditional Diaspora. Armenians in India, c. 1600-1800’, paper presented at the XIIIth International Economic History Congress, Buenos Aires, July 2002.
  23. VOC 2030, ff. 156-58, 16 March 1725.
  24. Indrani Ray, ‘Some Aspects of French Presence in Bengal, 1731-40’, CHJ, vol. 1, No. 1, July 1976, pp. 99-101.
  25. BPC, vol. 8, f. 321, 7 Dec. 1730.
  26. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 5. Consult. 5 Feb: 21 Feb; 19 March 1737; C & B.Abstr. vol.4, f.210. para 4, 15 Feb. 1737; BPC, vol. 12, f.162, 16 April 1737.
  27. S. Chaudhury, From Prosperity to Decline, p. 233.
  28. ঐ, p.241, fn. 82.
  29. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, 25 Dec. 1741.
  30. ঐ, vol. 6, 26 Frb. 1742.
  31. ঐ.
  32. ঐ. vol. 6, 27 Jan. 1744.
  33. BFC, vol. 17, f. 66, 23 April 1744; Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, 19 April 1744.
  34. S. Chaudhury, The Surat Crisis of 1669—A Case Study of Mercantile Protest in Medieval India’, CHJ, vol. V, no. 2, Jan-June 1981, pp. 129-46.
  35. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 12, 21 Oct. 1754.