» » চতুর্থ অধ্যায় : বণিকরাজা

জগৎশেঠদের কাছ থেকে সহজে টাকা ধার করা গেলেও শতকরা ১২ টাকা সুদ কোম্পানিরা খুব বেশি বলেই মনে করত এবং কোনও উপায় নেই বলেই এত চড়া সুদ দিতে বাধ্য হত। কোম্পানিগুলির কর্ণধাররা ইউরোপ থেকে বার বার লিখে পাঠাত যে সুদের হার ‘exorbitant’ এবং তাই ‘rank poison to our commerce’। তাই তারা বাংলায় ধার করাটা একেবারেই চাইত না কারণ ‘the interest…eats deep and insensibly’[১]। কিন্তু বাংলায় টাকা ধার না করে তাদের পক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব ছিল না। ১৭৩০-র দশক ও ১৭৪০-র দশকের প্রথম দিকে বাংলায় ফরাসি কোম্পানির প্রধান ডুপ্লে (Dupleix) জগৎশেঠ ফতেচাঁদকে ‘greatest of Jews’ এবং ‘our chopping-block’ বলে বর্ণনা করলেও টাকার জন্য তাঁর কাছেই হাত পাততে বাধ্য হতেন বারবার।[২] ১৭১৮ থেকে ১৭৩০ সালের মধ্যে ইংরেজ কোম্পানি মুর্শিদাবাদে জগৎশেঠদের কাছ থেকে বছরে গড়ে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মতো ধার করেছিল।[৩] আর ১৭৫৫ থেকে ১৭৫৭, এই তিন বছরে জগৎশেঠদের কাছ থেকে ডাচ কোম্পানি ২৪ লক্ষ টাকা ধার করেছিল।[৪] ১৭৫৭ সালের মার্চ মাসে যখন ইংরেজদের কাছে চন্দননগরের পতন হল, তখন শেঠদের কাছে ফরাসিদের ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ লক্ষ টাকা।[৫]

সুদের হার কমানোর কোনও উপায় নেই দেখে কোম্পানিগুলি জগৎশেঠদের কাছে এ জন্য অনুনয় বিনয় করত। তাতে আগে কোন ফল হয়নি। ১৭৪০ নাগাদ শেঠদের বোধহয় মনটা একটু নরম হল। ১৭৪০-র ১১ ডিসেম্বর কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠিয়ালরা কলকাতায় জানাল যে কোম্পানি যদি জগৎশেঠদের কাছে সুদের হার কমাবার জন্য আবেদন করে, তা হলে তা হয়তো মঞ্জুর হয়ে যাবে।[৬] সে অনুযায়ী কলকাতা কাউন্সিল সেদিন জগৎশেঠ ফতেচাঁদকে সুদের হার শতকরা ১২ টাকা থেকে কমিয়ে শতকরা ৯ টাকা করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখে। ইংরেজদের প্রার্থনা অনুযায়ী জগৎশেঠরা সুদের হার কমিয়ে শতকরা ৯ টাকা করে দিলেন। ১৭৪০-র ২১ ডিসেম্বর কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠিয়ালরা জগৎশেঠের কুঠি থেকে শতকরা ৯ টাকা হারে ৬০,০০০ টাকা ধার করল।[৭] তখন থেকে ইউরোপীয়রা কলকাতা, ঢাকা, পাটনা, কাশিমবাজার, মুর্শিদাবাদ ও জগৎশেঠদের অন্যান্য কুঠি থেকে ওই হারে টাকা ধার করতে লাগল। ১৭৪২ সালের ২৯ মার্চ একদিনে ইংরেজ কোম্পানি কলকাতায় জগৎশেঠদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ধার করে।[৮] ইংরেজদের মতো ডাচ, ফরাসি ও অন্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি জগৎশেঠদের বিভিন্ন কুঠি থেকে প্রয়োজন মতো ঋণ নিত, একই সুদের হারে। জগৎশেঠরা যে একদিনের মধ্যেই সুদের হার কমিয়ে দিতে পারল তা থেকে বাংলা তথা উত্তর ভারতের টাকার বাজারে তাঁদের একাধিপত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অষ্টাদশ শতকের চল্লিশের দশক থেকে জগৎশেঠরা একটি প্রতিষ্ঠানের মতো হয়ে ওঠে। বাংলার অন্য সব ব্যাঙ্কার, সওদাগর-ব্যবসায়ী, শরাফ প্রভৃতি সব ব্যাপারেই জগৎশেঠদের অনুকরণ করে চলত। মারাঠা আক্রমণের জন্য জগৎশেঠ যখন মুর্শিদাবাদ ছেড়ে চলে যান, তখন কাশিমবাজারের ইংরেজ কাউন্সিল কলকাতায় লিখেছিল (৭ জুন ১৭৪২) যে যতদিন না জগৎশেঠ মুর্শিদাবাদে ফিরে আসছেন, ততদিন সেখানকার কোনও সওদাগর, মহাজন বা শরাফ নিজেদের নিরাপদ ভাববে না। তাই নবাব আলিবর্দি জগৎশেঠকে অনুনয় জানালেন তিনি যেন তাড়াতাড়ি মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন কারণ ‘his presence being as necessary to the Nabub as to the merchants’ এবং ‘his conduct being the general guide to all of them’।[৯] ক’দিন পর (১৪ জুন ১৭৪২) কাশিমবাজার থেকে কুঠিয়ালরা জানাল যে জগৎশেঠ মুর্শিদাবাদে ফিরে এসেছেন এবং সে খবর পেয়ে অন্যান্য মহাজন ও ব্যবসায়ীরাও শহরে ফিরে এসেছে।[১০] আবার ফতোচাঁদ যখন পরের বছর (১৭৪৩ সাল) মারাঠা আক্রমণের আশঙ্কায় মুর্শিদাবাদ ছেড়ে চলে গেলেন তখন কাশিমবাজার কাউন্সিল ফোর্ট উইলিয়ামে লিখছে যে ফতেচাদ চলে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদে টাকা ধার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে—বাজারে টাকার এত অভাব জগৎশেঠের মুর্শিদাবাদ ছেড়ে যাওয়ার জন্য।[১১] তারা আবার ২ জুলাই লিখেছে যে ফতেচাঁদ ফিরে এসেছেন, ফলে বাজারে এখন টাকার কোনও অভাব নেই।[১২]

জগৎশেঠরা অষ্টাদশ শতকের প্রায় প্রথম থেকেই মুর্শিদাবাদ দরবারের স্থায়ী সদস্য ছিলেন। বাংলার নবাব ও তাঁদের শাসনপ্রক্রিয়ার ওপর জগৎশেঠদের যে বিরাট প্রভাব ছিল তা অভূতপূর্ব—বাংলার ইতিহাসে এমনটি আর কখনও দেখা যায়নি। অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার প্রত্যেকটি রাজনৈতিক পালাবদলে শেঠরা মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। দিল্লির মুঘল শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গেও ছিল তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।[১৩] বাদশাহি দরবারে তাঁদের যে কতটা প্রভাব ছিল তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, তাঁরা মুঘল দরবার থেকে বাংলার নবাবদের স্বীকৃতি ও অনুমোদন জানিয়ে ফরমান আনিয়ে দিতেন। এভাবে জগৎশেঠ ফতোচাঁদ মুর্শিদকুলির মৃত্যুর পর নবাব সজাউদ্দিনের জন্য দিল্লিতে দরবার করে তাঁর জন্য অনুমোদন জোগাড় করেন। তাই সুজাউদ্দিন ফতোচাঁদের প্রতি মুর্শিদকুলির চেয়েও অনেক বেশি উদার ছিলেন এবং শেঠদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নানা রকমের সুবিধা দিয়েছিলেন। ১৭৩০ সালে কাশিমবাজারে শেঠদের সঙ্গে ইংরেজদের একটা ঝামেলা হয়—কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠির ভারতীয় গোমস্তাকে নিয়ে। ইংরেজরা তখন নবাবের অন্যতম দুই প্রধান অমাত্য, হাজি আহমেদ ও দেওয়ান আলমচাঁদকে দিয়ে শেঠদের বিরুদ্ধে সুজাউদ্দিনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দু’জনেই তাদের পরামর্শ দিলেন, ফতোচাঁদকে নবাব খুবই শ্রদ্ধা এবং সমীহ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোন কথাই নবাব শুনবেন না। তাই শেঠদের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে নিলেই ইংরেজরা ভাল করবে, কোনও অমাত্যেরই জগৎশেঠের বিরুদ্ধে নবাবকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করার সাধ্য নেই।[১৪] হাজি আহমেদ কাশিমবাজার কাউন্সিলকে জানান যে ‘Futtichund’s Estate was esteemed as the King’s treasure and the Nabob was resloved to see him satisfied.[১৫]

অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার সব রাষ্ট্রবিপ্লবেই জগৎশেঠদের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ হাত ছিল। তাঁদের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া বাংলায় কোনও রাজনৈতিক পালাবদলই সম্ভব ছিল না। সমসাময়িক প্রায় সব ইউরোপীয় পর্যবেক্ষক ও ফারসি ইতিহাসে এর সমর্থন পাওয়া যায়। পলাশির যড়যন্ত্র ও বিপ্লবে ভারতীয় ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে জগৎশেঠরাই মুখ্য ভূমিকা নেন, যদিও এ চক্রান্তের মূল উদ্যোক্তা ছিল ইংরেজরা। তারা উমিচাঁদের মাধ্যমে প্রথমে ইয়ার লতিফকে নবাব করার পরিকল্পনা করে। লতিফ সিরাজদ্দৌল্লার পরিবর্তে নবাব হওয়ার বাসনা জানিয়েছিল এবং তিনি যে জগৎশেঠদের সমর্থন পাবেন তা জানাতেও ভোলেনি। পরে যখন মীরজাফরকে পাওয়া গেল তখন ইংরেজরা তাড়াতাড়ি ইয়ার লতিফকে বাদ দিয়ে মীরজাফরকেই নবাব করার ষড়যন্ত্র করল। তার কারণ শুধু এই নয় যে ইয়ার লতিফের তুলনায় মীরজাফর অনেক বেশি ক্ষমতাশালী অমাত্য (তিনি নবাবের প্রধান সৈন্যাধ্যক্ষ), তার চেয়েও বড় কারণ তিনি জগৎশেঠদের অনেক বেশি কাছের লোক।[১৬] কাশিমবাজারের ফরাসি কুঠির প্রধান জাঁ ল’ লিখেছেন: ‘It is this family [of Jagat Seth] who conducted all his (Alivardi’s) business and it may be said that it had long been the chief cause of all the revolutions in Bengal.:[১৭]

বাংলায় জগৎশেঠদের যে প্রবল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ছিল তা দেখে বাংলায় ডাচ কোম্পানির অধ্যক্ষরা সবাই তাদের উত্তরসূরিদের জন্য লেখা ‘মেমোরি’তে (mem- orie—যাতে বাংলার শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, সওদাগর-মহাজন সবকিছু সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ ও পরামর্শ থাকত) জগৎশেঠদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখার ওপর বিশেষ জোর দিতেন। ১৭৪৪-এ বাংলায় ডাচ কোম্পানির প্রধান সিকটারম্যান (Sichtermann) তাঁর ‘মেমোরি’তে লেখেন যে জগৎশেঠ ফতেচাঁদ সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্কার (‘greatest banker of Hindosthan’ বা ‘voornaamsten wis- selaar van geheel Hindosthan’)। তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য, মহাজনি কারবার ভারতবর্ষের সর্বত্র বিস্তৃত। তিনি যদিও ব্যক্তিগতভাবে শাসনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তা হলেও পুরো ব্যাপারটাতেই তাঁর প্রচণ্ড প্রভাব ছিল। সে জন্য তাকে সবসময় খুশি রাখা এবং তাঁর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা খুবই দরকার। এটা করার সবচেয়ে ভাল উপায় তাঁকে নিয়মিত বিরল প্রজাতির ছোট পাখি, ভাল মশলা ও ছোটখাট এবং দুষ্প্রাপ্য জিনিস উপহার দেওয়া।[১৮]

সিকটারম্যানের পরবর্তী ডাইরেক্টর ইয়ান হাউখেনস (Jan Huijghens) ১৭৫০ সালে তাঁর ‘মেমোরি’তে লিখেছেন যে কোম্পানির পক্ষে হুগলিতে জগৎশেঠের গোমস্তা বৈজনাথের (Baijnath) সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার কারণ তা হলে তিনি তাঁর মনিব জগৎশেঠদের দিয়ে মুর্শিদাবাদ দরবার থেকে তাদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধে আদায় করতে পারবেন।[১৯] তাঁর উত্তরসূরি ইয়ান কারসেবুম (Jan Kerseboom) ১৭৫০ সালে তার ‘মেমোরি’তে লেখেন যে জগৎশেঠ ফতেচাঁদের দুই উত্তরাধিকারী, জগৎশেঠ মহতাব রাই ও মহারাজা স্বরূপ চাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে ও বিস্তৃত হচ্ছে। কারণ তাঁরা নবাবকে সবসময় নবাবের প্রয়োজনমতো অর্থ সাহায্য করে যাচ্ছিলেন। তাই কারসেবুম জোর দিয়েছেন যাতে কোম্পানি জগৎশেঠদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখে।[২০]

কারসেবুমের উত্তরসূরি লুই টেইলেফারটও (Louis Taillefert) তাঁর ‘মেমোরি’তে লিখেছেন যে জগৎশেঠরা ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্কার। তিনি জানাচ্ছেন ডাচরা বাংলা থেকে চিঠিপত্রে এতদিন ধরে জগৎশেঠ ফতেচাঁদের কথা লিখেছে যে হল্যান্ডে কোম্পানির কর্মকর্তাদের সন্দেহ হতে পারে এমন নামের কোনও ব্যক্তি আদৌ ছিল কি না। আসলে বিভিন্ন শহর ও বাণিজ্যকেন্দ্রে জগৎশেঠদের কুঠিগুলি বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। হুগলিতে তাঁদের কুঠির নাম ছিল শেঠ মানিকচাঁদজী ও শেঠ আনন্দচাঁদজী, ঢাকায় শেঠ মানিকচাঁদজী ও জগৎশেঠ ফতেচাঁদজী, পাটনায় শেঠ মানিকচাঁদজী ও শেঠ দয়ানন্দজী।[২১] আনন্দচাঁদ, দয়াচাঁদ ও মহাচাঁদ জগৎশেঠ ফতেচাঁদের তিন ছেলে। ফতেচাঁদ বেঁচে থাকতেই প্রথম জনের মৃত্যু হয়। আমরা আগেই দেখেছি জগৎশেঠ মহতাবচাঁদ ও মহারাজা স্বরূপচাঁদ ফতেচাঁদের পৌত্র ও তাঁর উত্তরসূরী।[২২] এখানে উল্লেখযোগ্য যে জগৎশেঠদের এমনই প্রতিপত্তি ও প্রভাব ছিল যে বাংলা ও বিহারের সব ব্যাঙ্কার-মহাজন, শরাফ তাঁদের তাঁবে থেকেই নিজেদের কাজকারবার করত। কেউ তার অন্যথা করলে তার রক্ষা ছিল না—জগৎশেঠরা তাকে শেষ করে ছাড়তেন।[২৩]

ইউরোপে যেমন কিছু কিছু পরিবার রাষ্ট্রের ব্যাঙ্কার হিসেবে কাজ করতেন, জগৎশেঠরাও তেমনি কার্যত বাংলার নবাবের ব্যাঙ্কার ছিলেন। তাই বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এন. কে. সিনহা মন্তব্য করেছেন: ‘The Jagat Seth house was to the Bengal Nawabs what the Fugger of Augsburg were to the Emperor Charles V of Germany and the Medicis of Florence were to the Papacy in the Middle Ages’.[২৪]

শেঠদের ধনসম্পদের পরিমাণ সম্বন্ধে কোন স্পষ্ট ধারণা করা খুবই কঠিন। সিয়র-এর লেখক গোলাম হোসেন খান লিখেছেন:

…their riches were so great that no such bankers were ever seen in Hindustan or Deccan…. nor was there any banker or merchant that could stand comparison with them all over India…. Their wealth was such that there is no mentioning it without seeming to exaggerate and to deal in extravagant fables.[২৫]

এক বাঙালি কবি বলেছেন গঙ্গা যেমন শতমুখে জলরাশি এনে সমুদ্রে ফেলে, তেমনি ধনরত্ন এসে জমা হত জগৎশেঠদের কোষাগারে।[২৬] ১৭৬০-এর দশকের প্রথম দিকে ইংরেজ কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারী উইলিয়াম বোল্টস (William Bolts) অনুমান করেন যে শেঠদের ব্যবসার মূলধন ছিল ৭ কোটি টাকার মতো।[২৭] অন্যদিকে এন. কে. সিনহার ধারণা, জগৎশেঠদের সমৃদ্ধির যুগে তাঁরা অন্তত ১৪ কোটি টাকার মালিক ছিলেন।[২৮] লিউক স্ক্র্যাফ্‌টনের হিসেব অনুযায়ী ১৭৫৭ সালে জগৎশেঠদের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মতো।[২৯]

সারণি ১
জগৎশেঠদের বার্ষিক আয়, ১৭৫৭
(টাকায়)

রাজস্বের দুই-তৃতীয়াংশ জমা নেওয়া বাবদ ১০% হারে১০,৬০,০০০
জমিদারদের কাছ থেকে সুদ বাবদ ২০% হারে১৩,৫০,০০০
বছরে ৫০ লক্ষ টাকা টাঁকশালে
নতুন মুদ্রায় পরিবর্তন করার জন্য ৭%৩,৫০,০০০
৪০ লক্ষ টাকার ওপর সুদ, ৩৭-১/২% হারে১৫,০০,০০০
বাট্টা বা বিনিময়ের সুদ বাবদ, ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা৭,০০,০০০
মোট৪৯,৬০,০০০

(সূত্র: ক্লাইভকে লেখা স্ক্র্যাফ্‌টনের চিঠি, ১৭ ডিসেম্বর ১৭৫৭)

সূত্রনির্দেশ ও টীকা

  1. D. B., vol. 95, f, 519, 18 Jan. 1705.
  2. Indrani Ray, ‘Some Aspects of French Presence in Bengal, 1731-40’. CHJ. vol. 1, no. 1, July 1976, pp. 99-101.
  3. J. H. Little, ed., N. K. Sinha, Jagatseth, p. x, See also, Kantu Papers, BPC, vol. 8, f, 256, Annex. to Consult., 29 June 1730.
  4. VOC, 2874 থেকে তথ্যের ভিত্তিতে।
  5. J. H. Little, ed., N. K. Sinha, Jagatseth, p. XI; ক্যাপ্টেন ফেনউইক (Fenwick) বলেছেন, ১৭৪৭-৪৮ সালে জগৎশেঠদের কাছে ফরাসি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লক্ষ টাকা আর ১৭৫৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উইলিয়াম ওয়াটস একটি চিঠিতে ক্লাইভকে লিখেছেন যে শেঠদের কাছে ফরাসিদের ১৩ লক্ষ টাকা ধার আছে। Orme Mss. India, VI, f. 1525; ক্লাইভকে লেখা ওয়াটসের চিঠি, ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭, Hill, Bengal, vol. II, p. 229-এ উদ্ধৃত।
  6. BPC, vol. 14, f. 317-17vo, 11 Dec. 1740.
  7. ঐ, vol. 14, f. 337, 26 Dec. 1740.
  8. ঐ, vol. 15, f. 84vo, 29 March 1742.
  9. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, 7 June 1742; BPC, vol. 15, f. 188, 10 June 1742.
  10. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, 14 June 1742; BPC, vol. 15, f. 194vo, 21 June 1742.
  11. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, 6 June 1743; BPC, vol. 16, f. 181vo, 10 June 1743.
  12. Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, 2 July 1743.
  13. W.W. Hunter, Statistical Account of Bengal, vol. IX, p. 254.
  14. BPC, vol. 8, f. 260, 13 July 1730.
  15. ঐ, vol. 8, f. 234vo, 2 June 1730.
  16. বিস্তারিত আলোচনার জন্য আমার বই পলাশির অজানা কাহিনী, The Prelude to Empire: Plassey Revolution of 1757 ও এ বইয়ের চতুর্থ অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
  17. S.C. Hill, Three Frenchmen in Bengal, p. 77.
  18. Sichtermann’s ‘Memorie’, VOC, 2629, f. 967, 14 March 1744.
  19. Jan Huijghens’ ‘Memorie’, VOC, 2763, f. 467, 20 March 1750.
  20. Jan Kerseboom’s ‘Memorie’, VOC, 2849, ff. 128-128vo, 14 Feb. 1755.
  21. Louis Taillefert’s ‘Memorie’, VOC, 2849, ff. 247vo-248vo, 27 Oct. 1755.
  22. নিখিলনাথ রায়, মুর্শিদাবাদ কাহিনী, পৃ. ৩৮
  23. Louis Taillefert’s ‘Memorie’, VOC, 2849, f. 248-248vo, 27 Oct. 1755.
  24. J.H. Little, Jagatseth, ed., N. K. Sinha, p. IV.
  25. সিয়র, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৫৮।
  26. J.H. Little, Jagatseth, ed., N. K. Sinha, p. 3.
  27. William Bolts, Considerations, p. 158.
  28. J. H. Little, Jagatseth, ed., N. K. Sinha, p. XVII.
  29. Luke Scrafton to Colonel Clive, 17 Dec. 1747, Orme Mss., India, XVIII, f. 5043; Eur. G 23, Box 37.