[গান]
Tag: নজরুল সঙ্গীত
-

সত্য-মন্ত্র
পুথির বিধান যাক পুড়ে তোর,বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!!(এই)খোদার উপর খোদকারি তোরমানবে না আর সর্বলোক!মানবে না আর সর্বলোক!!(তোর)ঘরের প্রদীপ নিবেই যদি,নিবুক না রে, কীসের ভয়?আঁধারকে তোর কীসের ভয়?(ওই)ভুবন জুড়ে জ্বলছে আলো,ভবনটাই সে সত্য নয়।ঘরটাই তোর সত্য নয়।(ওই)বাইরে জ্বলছে চন্দ্র সূর্যনিত্যকালের তাঁর আলোক।বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!!লোক-সমাজের শাসক রাজা,(আর)রাজার শাসক মালিক যেই,বিরাট যাঁহার সৃষ্টি এই,তাঁর শাসনকে অগ্রে মানতার বড়ো আর শাস্ত্র নেই,তার বড়ো আর সত্য নেই!সেই খোদা খোদ সহায় তোর,ভয় কী? নিখিল মন্দ ক’ক!বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!!বিধির বিধি মানতে গিয়েনিষেধ যদি দেয় আগলবিশ্ব যদি কয় পাগল,আছেন সত্য মাথার পর,–বে-পরোয়া তুই সত্য বল।বুক ঠুকে তুই সত্য বল!(তখন)তোর পথেরই মশাল হয়েজ্বলবে বিধির রুদ্র-চোখ!বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!!মনুর শাস্ত্র রাজার অস্ত্রআজ আছে কাল নাইকো আশ,কাল তারে কাল করবে গ্রাস।হাতের খেলা সৃষ্টি যাঁরতাঁর শুধু ভাই নাই বিনাশ,স্রষ্টার সেই নাই বিনাশ!সেই বিধাতায় মাথায় করেবিপুল গর্বে বক্ষ ঠোক!বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!সত্যতে নাই ধানাই পানাইসত্য যাহা সহজ তাই,সত্য যাহা সহজ তাই;আপনি তাতে বিশ্বাস আসে,আপনি তাতে শক্তি পায়সত্যের জোর-জুলুম নাইসেই সে মহান সত্যকে মান–রইবে না আর দুঃখ-শোক।বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!!নানান মুনির নানান মত যে,মানবি বল সে কার শাসন?কয় জনার বা রাখবি মন?এক সমাজকে মানলে করবেআরেক সমাজ নির্বাসন,চারিদিকে শৃঙ্খল বাঁধন!সকল পথের লক্ষ্য যিনিচোখ পুরে নে তাঁর আলোক!বিধির বিধান সত্য হোক!বিধির বিধান সত্য হোক!! -

বিজয়-গান
[গান]
ওইঅভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজাউড়ল আকাশ-পথে।মা গো, তোমার রথ-আনা ওইরক্ত-সেনার রথে॥ললাট-ভরা জয়ের টিকা,অঙ্গে নাচে অগ্নিশিখা,রক্তে জ্বলে বহ্নিলিখা–মা!ওই বাজে তোর বিজয়-ভেরি,নাই দেরি আর নাই মা দেরি,মুক্ত তোমার হতে॥আনো তোমার বরণডালা, আনো তোমার শঙ্খ, নারী!
ওই দ্বারে মা-র মুক্তি সেনা, বিজয়-বাজা উঠছে তারই।ওরে ভীরু! ওরে মরা!মরার ভয়ে যাসনি তোরা;তোদেরও আজ ডাকছি মোরা ভাই!ওই খোলে রে মুক্তি-তোরণ,আজ একাকার জীবন-মরণমুক্ত এ ভারতে॥ -

পাগল পথিক
[গান]
এ কোন্পাগল পথিক ছুটে এল বন্দিনী মা-র আঙিনায়।ত্রিশ কোটি ভাই মরণ-হরণ গান গেয়ে তাঁর সঙ্গে যায়॥অধীন দেশের বাঁধন-বেদনকে এল রে করতে ছেদন?শিকল-দেবীর বেদির বুকে মুক্তি-শঙ্খ কে বাজায়॥মরা মায়ের লাশ কাঁধে ওই অভিমানী ভায়ে ভায়েবুক-ভরা আজ কাঁদন কেঁদে আনল মরণ-পারের মায়ে।পণ করেছে এবার সবাই,পর-দ্বারে আর যাব না ভাই!মুক্তি সে তো নিজের প্রাণে, নাই ভিখারির প্রার্থনায়॥শাশ্বত যে সত্য তারই ভুবন ভরে বাজল ভেরি,অসত্য আজ নিজের বিষেই মরল ও তার নাইকো দেরি।হিংসুকে নয়, মানুষ হয়েআয় রে, সময় যায় যে বয়ে!মরার মতন মরতে, ওরে মরণভীতু! ক-জন পায়!ইসরাফিলের শিঙা বাজে আজকে ঈশান-বিষাণ সাথে,প্রলয়-রাগে নয় রে এবার ভৈরবীতে দেশ জাগাতে।পথের বাধা স্নেহের মায়ায়পায় দলে আয় পায় দলে আয়!রোদন কীসের? – আজ যে বোধন!বাজিয়ে বিষাণ উড়িয়ে নিশান আয় রে আয়॥
ভূত-ভাগানোর গান
[বাউল গান]
১
ওইতেত্রিশ কোটি দেবতাকে তোর তেত্রিশ কোটি ভূতেআজনাচ বুড্ঢি নাচায় বাবা উঠতে বসতে শুতে!ও ভূতযেই দেখেছে মন্দির তোরনাই দেবতা নাচছে ইতর,আরমন্ত্র শুধু দন্ত-বিকাশ, অমনি ভূতের পুতে,তোরভগবানকে ভূত বানালে ঘানি-চক্রে জুতে॥২
ও ভূতযেই জেনেছে তোদের ওঝাআজ নকলের বইছে বোঝা,ওরেঅমনি সোজা তোদের কাঁধে খুঁটো তাদের পুঁতে,আজভূত-ভাগানোর মজা দেখায় বোম-ভোলা বম্বুতে!৩
ও ভূতসর্ষে-পড়া অনেক ধুনোদেখে শুনে হল ঝুনো,তাইতুলো-ধুনো করছে ততই যতই মরিস কুঁথে,ও ভূতনাচছে রে তোর নাকের ডগায় পারিসনে তুই ছুঁতে!৪
আগে বোঝেনিকো তোদের ওঝাতোরা গোঁজামিলের মন্ত্র-ভজা।(শিখলি শুধু চক্ষু-বোঁজা)শিখলি শুধু কানার বোঝা কুঁজোর ঘাড়ে থুতে,তাইআপনাকে তুই হেলা করে ডাকিস স্বর্গদূতে॥৫
ওরেজীবন-হারা, ভূতে-খাওয়া!ভূতের হাতে মুক্তি পাওয়াসে কি সোজা? – ভূত কি ভাগে ফুসমন্তর ফুঁতে?তোরাফাঁকির ‘কিন্তু’ এড়িয়ে – পড়বি কূলহারা ‘কিন্তু’তে!৬
ওরেভূত তো ভূত – ওই মারের চোটেভূতের বাবাও উধাও ছোটে!ভূতের বাপ ওই ভয়টাকে মার, ভূত যাবে তোর ছুটে।তখনভূতে-পাওয়া এই দেশই ফের ভরবে দেবতা দূতে॥
ভাঙার গান (গান)
১
কারার ওই লৌহ-কবাটভেঙে ফেল কর রে লোপাটরক্তজমাটশিকল-পুজোর পাষাণবেদি!ওরে ও তরুণ ঈশান!বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ!ধ্বংসনিশানউড়ুক প্রাচী-র প্রাচীর ভেদি।২
গাজনের বাজনা বাজাকে মালিক? কে সে রাজা?কে দেয় সাজামুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?হা হা হা পায় যে হাসিভগবান পরবে ফাঁসি?সর্বনাশীশিখায় এ হীন তথ্য কে রে?৩
ওরে ও পাগলা ভোলা!দে রে দে প্রলয়-দোলাগারদগুলাজোরসে ধরে হ্যাঁচকা টানে!মার হাঁক হইদরি হাঁককাঁধে নে দুন্দুভি ঢাকডাক ওরে ডাকমৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!৪
নাচে ওই কালবোশেখী,কাটাবি কাল বসে কি?দে রে দেখিভীম কারার ওই ভিত্তি নাড়িলাথি মার ভাঙ রে তালা!যত সব বন্দিশালায়আগুন জ্বালা,আগুন জ্বালা, ফেল উপাড়ি।
জাগরণী
কোরাস :ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও!ফিরে চাও ওগো পুরবাসী,সন্তান দ্বারে উপবাসী,দাও মানবতা ভিক্ষা দাও!জাগো গো, জাগো গো,তন্দ্রা-অলস জাগো গো,জাগো রে! জাগো রে!১মুক্ত করিতে বন্দিনী মা-য়কোটি বীরসূত ওই হেরো ধায়মৃত্যুতোরণ-দ্বার-পানে –কার টানে?দ্বার খোলো দ্বার খোলো!একবার ভুলে ফিরিয়া চাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও … …২জননী আমার ফিরিয়া চাও!ভাইরা আমার ফিরিয়া চাও!চাই মানবতা, তাই দ্বারেকর হানি মা গো বারে বারে–দাও মানবতা ভিক্ষা দাও।পুরুষসিংহ জাগো রে!সত্যমানব জাগো রে!বাধাবন্ধন-ভয়হারা হওসত্যমুক্তিমন্ত্র গাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও … …৩লক্ষ্য যাদের উৎপীড়ন আর অত্যাচার,নর-নারায়ণে হানে পদাঘাতজেনেছে সত্য-হত্যা সার!অত্যাচার! অত্যাচার!!ত্রিশ কোটি নর-আত্মার যারা অপমান হেলাকরেছে রেশৃঙ্খল গলে দিয়েছে মা-র –সেই আজ ভগবান তোমার!অত্যাচার! অত্যাচার!!ছি— ছি— ছি ছি— ছি— ছি নাই কি লাজ–নাই কি আত্মসম্মান ওরে, নাই জাগ্রতভগবান কি রেআমাদেরও এই বক্ষোমাঝ?অপমান বড়ো অপমান ভাইমিথ্যার যদি মহিমা গাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও … …৪আল্লায় ওরে হকতালায়পায়ে ঠেলে যারা অবহেলায়,আজাদ-মুক্ত আত্মারে যারা শিখায়ে ভীরুতাকরেছে দাস–সেই আজ ভগবান তোমার!সেই আজ ভগবান তোমার!সর্বনাশ! সর্বনাশ!ছি-ছি নির্জীব পুরবাসী আর খুলো না দ্বার!জননী গো! জননী গো!কার তরে জ্বালো উৎসব-দীপ?দীপ নেবাও! দীপ নেবাও!!মঙ্গল-ঘট ভেঙে ফেলো,সব গেল মা গো সব গেল!অন্ধকার! অন্ধকার!ঢাকুক এ মুখ অন্ধকার!দীপ নেবাও! দীপ নেবাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও … …৫ছি ছি ছি ছিএ কী দেখিগাহিস তাদেরই বন্দনা-গান,দাস সম নিস হাত পেতে দান!ছি ছি ছি ছি ছি ছিওরে তরুণ ওরে অরুণ!নরসুত তুমি দাসত্বের এ ঘৃণ্য চিহ্নমুছিয়া দাও!ভাঙিয়া দাও,এ কারা এ বেড়ি ভাঙিয়া দাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও … …৬পরাধীন বলে নাই তোমাদেরসত্য-তেজের নিষ্ঠা কি?অপমান সয়ে মুখ পেতে নেবে বিষ্ঠা ছি!মরি লাজে, লাজে মরিএক হাতে তোরে ‘পয়জার’ মারেঅপমান সে যে অপমান।জাগো জাগো ওরে হতমান।কেটে ফেলো লোভী লুব্ধ রসনা,আঁধারে এ হীন মুখ লুকাও।কোরাস : ভিক্ষা দাও … …৭ঘরের বাহির হোয়ো না আর,ঝেড়ে ফেলো হীন বোঝার ভার,কাপুরুষ হীন মানবের মুখঢাকুক লজ্জা অন্ধকার।পরিহাস ভাই পরিহাস সে যেপরাজিতে দিতে মনোব্যথা–যদিজয়ী আসে রাজ-রাজ সেজে।পরিহাস, এ যে নির্দয় পরিহাস!ওরে কোথা যাস্বল কোথা যাস ছি ছিপরিয়া ভীরুর দীন বাস?অপমান এত সহিবার আগেহে ক্লীব, হে জড়, মরিয়া যাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও … …৮পুরুষসিংহ জাগো রে!নির্ভীক বীর জাগো রে!দীপ জ্বালো কেন আপনারই হীন কালো অন্তরকালামুখ হেন হেসে দেখাও।নির্লজ্জ রে ফিরিয়া চাও!আপনার পানে ফিরিয়া চাও!অন্ধকার! অন্ধকার!নিশ্বাস আজি বন্ধ মা-রঅপমানে নির্মম লাজে,তাই দিকে দিকে ক্রন্দন বাজে–দীপ নেবাও! দীপ নেবাও!আপনার পানে ফিরিয়া চাও!কোরাস : ভিক্ষা দাও …
মিলন-গান
[গান]
ভাই হয়ে ভাই চিনবি আবার গাইব কি আর এমন গান।(সেদিন)দুয়ার ভেঙে আসবে জোয়ার মরা গাঙে ডাকবে বান॥(তোরা)স্বার্থ-পিশাচ যেমন কুকুর তেমনি মুগুর পাস রে মান।(তাই)কলজে চুঁয়ে গলছে রক্ত দলছে পায়ে ডলছে কান॥(যত)মাদি তোরা বাঁদি-বাচ্চা দাস-মহলের খাস গোলাম।(হায়)মাকে খুঁজিস? চাকরানি সে, জেলখানাতে ভানছে ধান॥(মা-র)বন্ধ ঘরে কেঁদে কেঁদে অন্ধ হল দুই নয়ান।(তোরা)শুনতে পেয়েও শুনলি নে তা মাতৃহন্তা কুসন্তান॥(ওরে)তোরা করিস লাঠালাঠি (আর) সিন্ধু-ডাকাত লুঠছে ধান!(তাই)গোবর-গাদা মাথায় তোদের কাঁঠাল ভেঙে খায় সেয়ান॥(ছিলি)সিংহ ব্যাঘ্র, হিংসা-যুদ্ধে আজকে এমনি খিন্নপ্রাণ।(তোদের)মুখের গ্রাস ওই গিলছে শিয়াল তোমরা শুয়ে নিচ্ছ ঘ্রাণ॥(তোরা)কলুর বলদ টানিস ঘানি গলদ কোথায় নাইকো জ্ঞান।(শুধু)পড়ছ কেতাব, নিচ্ছ খেতাব, নিমক-হারাম বে-ইমান॥(তোরা)বাঁদর ডেকে মানলি সালিশ, ভাইকে দিতে ফাটল প্রাণ।(এখন)সালিশ নিজেই ‘খা ডালা সব’ বোকা তোদের এই দেখান॥(তোরা)পথের কুকুর দু-কান-কাটা মান-অপমান নাইকো জ্ঞান।(তাই)যে জুতোতে মারছে গুঁতো করছ তাতেই তৈল দান॥(তোরা)নাক কেটে নিজ পরের যাত্রা ভঙ্গ করিস বুদ্ধিমান।(তোদের)কে যে ভালো কে যে মন্দ সব শিয়ালই এক সমান॥(শুনি)আপন ভিটেয় কুকুর রাজা, তার চেয়েও হীন তোদের প্রাণ।(তাই)তোদের দেশ এই হিন্দুস্থানে নাই তোদেরই বিন্দু স্থান॥(তোদের)হাড় খেয়েছে, মাস খেয়েছে, (এখন) চামড়াতে দেয় হেঁচকা টান(আজ)বিশ্ব ভুবন ডুকরে ওঠে দেখে তোদের অসম্মান॥(আজ)সাধে ভারত-বিধাতা কি চোখ বেঁধে ওই মুখ লুকান।(তোরা)বিশ্বে যে তাঁর রাখিস নে ঠাঁই, কানা গোরুর ভিন বাথান॥(তোরা)করলি কেবল অহরহ নীচ কলহের গরল পান।(আজও)বুঝলি না হায় নাড়ি-ছেঁড়া মায়ের পেটের ভায়ের টান॥(ওই)বিশ্ব ছিঁড়ে আনতে পারি, পাই যদি ভাই তোদের প্রাণ।(তোরা)মেঘ-বাদলের বজ্রবিষাণ (আর) ঝড়-তুফানের লাল নিশান॥
পূর্ণ-অভিনন্দন
[গান]1
এসো অষ্টমী-পূর্ণচন্দ্র! এসো পূর্ণিমা-পূর্ণচাঁদ!
ভেদ করি পুন বন্ধ কারার অন্ধকারের পাষাণফাঁদ!
এসো অনাগত নব-প্রলয়ের মহাসেনাপতি মহামহিম!
এসো অক্ষত মোহান্ধ-ধৃতরাষ্ট্র-মুক্ত লৌহ ভীম!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
ছয়বার জয় করি কারা-ব্যূহ রাজ-রাহুগ্রাসমুক্ত চাঁদ!
আসিলে চরণে দুলায়ে সাগর নয়-বছরের মুক্ত বাঁধ।
নবগ্রহ ছিঁড়ি ফণি-মনসার মুকুটে তোমার গাঁথিলে হার,
উদিলে দশম মহাজ্যোতিষ্ক ভেদিয়া গভীর অন্ধকার!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
স্বাগত শুদ্ধ রুদ্ধপ্রতাপ, প্রবুদ্ধ নব মহাবলী!
দনুজদমন দধীচি-অস্থি, বহ্নিগর্ভ দম্ভোলি!
স্বাগত সিংহবাহিনী-কুমার! স্বাগত হে দেবসেনাপতি!
অনাগত রণ-কুরুক্ষেত্রে সারথি পার্থ মহারথী!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
নৃশংস রাজ-কংসবংশে হানিতে তোমার ধ্বংস-মার
এসো অষ্টমী-পূর্ণচন্দ্র, ভাঙিয়া পাষাণ-দৈত্যাগার!
এসো অশান্তি-অগ্নিকাণ্ডে শান্তিসেনার কাণ্ডারি!
নারায়ণী-সেনা-সেনাধিপ, এসো প্রতাপের হারা-তরবারি!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
ওগো অতীতের আজও-ধূমায়িত আগ্নেয়গিরি ধূম্রশিখ!
না-আসা-দিনের অতিথি তরুণ তব পানে চেয়ে নির্নিমিখ।
জয় বাংলার পূর্ণচন্দ্র, জয় জয় আদি-অন্তরীণ,
জয় যুগে-যুগে-আসা-সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি-অন্তহীন!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
স্বর্গ হইতে জননী তোমার পেতেছেন নামি মাটিতে কোল,
শ্যামল শস্যে হরিৎ ধান্যে বিছানো তাঁহারই শ্যাম আঁচল।
তাঁহারই স্নেহের করুণ গন্ধ নবান্নে ভরি উঠিছে ওই,
নদীস্রোত-স্বরে কাঁদিছেন মাতা, ‘কই রে আমার দুলাল কই?’
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
মোছো আঁখি-জল, এসো বীর! আজ খুঁজে নিতে হবে আপন মা-য়,
হারানো মায়ের স্মৃতি-ছাই আছে এই মাটিতেই মিশিয়া, হায়!
তেত্রিশ কোটি ছেলের রক্তে মিশেছে মায়ের ভস্ম-শেষ,
ইহাদেরই মাঝে কাঁদিছেন মাতা, তাই আমাদের মা স্বদেশ।
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
এসো বীর! এসো যুগ-সেনাপতি! সেনাদল তব চায় হুকুম,
হাঁকিছে প্রলয়, কাঁপিছে ধরণি, উদ্গারে গিরি অগ্নিধূম।
পরাধীন এই তেত্রিশ কোটি বন্দির আঁখি-জলে হে বীর,
বন্দিনী মাতা যাচিছে শক্তি তোমার অভয় তরবারির।
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!
গলশৃঙ্খল টুটেনি আজিও, করিতে পারি না প্রণাম পা-য়
রুদ্ধ কণ্ঠে ফরিয়াদ শুধু গুমরিয়া মরে গুরু ব্যথায়!
জননীর যবে মিলিবে আদেশ, মুক্ত সেনানী দিবে হুকুম,
শত্রুখড়্গ-ছিন্নমুণ্ড দানিবে ও-পায়ে প্রণাম-চুম।
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর,
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা-ভাগীরথীর!

মোহান্তের মোহ-অন্তের গান
[গান]
জাগো আজ দণ্ড-হাতে চণ্ড বঙ্গবাসী।ডুবাল পাপ-চণ্ডাল তোদের বাংলা দেশের কাশী।জাগো বঙ্গবাসী॥তোরাহত্যা দিতিস যাঁর থানে, আজ সেই দেবতাই কেঁদেওরেতোদের দ্বারেই হত্যা দিয়ে মাগেন সহায় আপনি আসি।জাগো বঙ্গবাসী॥মোহের যার নাইকো অন্তপূজারি সেই মোহান্ত,মা বোনে সর্বস্বান্ত করছে বেদি-মূলে।তোদেরেপূজার প্রসাদ বলে খাওয়ায় পাপ-পুঁজ সে গুলে।তোরাতীর্থে গিয়ে দেখে আসিস পাপ-ব্যভিচার রাশি রাশি।জাগো বঙ্গবাসী॥পুণ্যের ব্যাবসাদারিচালায় সব এই ব্যাপারি,জমাচ্ছে হাঁড়ি হাঁড়ি টাকার কাঁড়ি ঘরে।হায়ছাই মেখে যে ভিখারি-শিব বেড়ান ভিক্ষা করে –ওরেতাঁর পূজারি দিনে-দিনে ফুলে হচ্ছে খোদার খাসি।জাগো বঙ্গবাসী॥এইসব ধর্ম-ঘাগিদেবতায় করছে দাগি,মুখে কয় সর্বত্যাগী ভোগ-নরকে বসে।সে যেপাপের ঘণ্টা বাজায় পাপী দেবদেউলে পশে।আরভক্ত তোরা পূজিস তারেই, জোগাস খোরাক সেবাদাসী!জাগো বঙ্গবাসী॥দিয়ে নিজ রক্তবিন্দুভরালি পাপের সিন্ধু –ডুবলি তায়ডুবলি হিন্দু ডুবালি দেবতারে।দেখভোগের বিষ্ঠা পুড়ছে তোদের বেদির ধূপাধারে।পূজারীরকমণ্ডলুর গঙ্গাজলে মদের ফেনা উঠছে ভাসি।জাগো বঙ্গবাসী॥দিতে যায় পূজা-আরতিসতীত্ব হারায় সতী,পুণ্য-খাতায় ক্ষতি লেখায় ভক্তি দিয়ে,তারভোগ-মহলের জ্বলছে প্রদীপ তোদের পুণ্য-ঘিয়ে।তোদেরফাঁকা ভক্তির ভণ্ডামিতে মহাদেব আজ ঘোড়ার ঘাসি।জাগো বঙ্গবাসী॥তোরা সব শক্তিশালীবুকে নয়, মুখে খালি!বেড়ালকে বাছতে দিলি মাছের কাঁটা যে রে!তোরাপূজারিকে করিস পূজা পূজার ঠাকুর ছেড়ে।মা-র অসুর শোধরা সে ভুল, আদেশ দেন মা সর্বনাশী।‘জয় তারকেশ্বর’ বলে পরবি রে নয় গলায় ফাঁসি।জাগো বঙ্গবাসী॥
আশু-প্রয়াণগীতি
কোরাস :বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহাভারতের মহাপ্রয়াণ॥বাংলার ঋষি বাংলার জ্ঞান বঙ্গবাণীর শ্বেতকমল,শ্যাম বাংলার বিদ্যাগঙ্গা অবিদ্যানাশী তীর্থজল!মহামহিমার বিরাট পুরুষ শক্তি-ইন্দ্র তেজ-তপন –রক্ত-উদয় হেরিতে সহসা হেরিনু সে রবি মেঘমগন।কোরাস :বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহাভারতের মহাপ্রয়াণ॥মদগর্বীর গর্বখর্ব বলদর্পীর দর্পনাশশ্বেতভীতুদের শ্যাম বরাভয় রক্তাসুরের কৃষ্ণ ত্রাস!!নব ভারতের নব আশা-রবি প্রাচী-র উদার অভ্যুদয়হেরিতে হেরিতে হেরিনু সহসা বিদায়গোধূলি গগনময়।কোরাস :বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহাভারতের মহাপ্রয়াণ॥পড়িল ধসিয়া গৌরীশংকর হিমালয়-শির স্বর্গচূড়,গিরি কাঞ্চনজঙ্ঘা গিরিল – বাংলার যবে দিনদুপুর।শক্তিহাঙর শোষিছে রক্ত, মৃত্যু শোষিছে সাগরপ্রাণ, –পরাধীন মা-র স্বাধীন সুতের মেদ-ধূমে কালো দেশ শ্মশান।কোরাস :বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহাভারতের মহাপ্রয়াণ॥অরাজক মারি মড়াকান্নায় দেশজননীর বদ্ধ শ্বাস,হে দেব-আত্মা! স্বর্গ হইতে দাও কল্যাণ, দাও আভাস,কেমন করিয়া মৃত্যু মথিয়া মৃত্যুঞ্জয় হয় মানব।শব হয়ে গেছ, শিব হয়ে এসো দেবকী-কারার নীল কেশব।কোরাস :বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহাভারতের মহাপ্রয়াণ॥
ল্যাবেন্ডিশ বাহিনীর বিজাতীয় সংগীত
ল্যাবেন্ডিশ2 বাহিনীর বিজাতীয় সংগীত
কোরাস :কে বলে মোদেরে ল্যাডাগ্যাপচার? আমরা সিভিল গাড়,অরাজক এই ভারত-মাঠে হে আমরা উদ্মো ষাঁড়॥মোরা লাঙল জোয়াল দড়াদড়ি-ছাড়া,বড় সুখে তাই দিই শিং-নাড়া,অসহ-যোগীও করিবে না তাড়া রে–ওরেভয় নাই, ওরা বৈষ্ণব বাঘ, খাবে না মোদের হাড়!চলোব্যাং-বীর বলো ঠ্যাং নেড়ে জোর, ছেডেডে ডেডেং হার্র্!কোরাস :কে বলে ইত্যাদি–মোরা গলদঘর্ম যদিও গলিয়া,বড় বেজুত করেছে লেজুড় ডলিয়া,তবু গলদ কোরো না বলদ বলিয়া হে,মোরাবড়ো দরকারি সরকারি গোরু, তরকারি নহি তার!তবেগতিক দেখিয়া অধিক না গিয়া সটান পগার পার!কোরাস :কে বলে ইত্যাদি –আজ গোবরগণেশ গোবরমন্তল্যাজে ও গোবরে খিঁচেন দন্ত,তবু করুণার নাহিকো অন্ত হে,যতমামাদের কড়ি ধামা-ধরে দিয়া আমাদেরই ভাঙে ঘাড়!আরবাবাদেরে বেঁধে ঠ্যাঙাতে মোরাই কেটে দি বাঁশের ঝাড়।কোরাস :কে বলে ইত্যাদি –হয়ে ইভিলের গুরু ডেভিল পশুর –সিভিল-বাহিনী, কী এত কসুরকরেছি মাইরি? বলো তো শ্বশুর হে!ওইরাঙামুখে বাবা অন্ন দিয়ে তুলি নিজে খাই জোলো মাড়,তবুসেলাম ঠুকিতে মলাম বাবা গো বক্র মাজা ও ঘাড়!কোরাস :কে বলে ইত্যাদি –বহে কালাতে ধলাতে গঙ্গা-যমুনাআমরা তাহারই দিব্যি নমুনা,এ-রীতি পিরিতি বুঝিবে কভু না হে,তাইকালামুখ প্রেমে আলা করি হাঁকি – ‘তাড় রে, নেটিভ তাড়’!তবেকোপন-স্বভাব দেখিলে অমনি গোপন খাম্বা-আড়!কোরাস :কে বলে ইত্যাদি –এবে কাঁপিবে মেদিনী শত উৎপাতেচিৎপটাং সে কত ‘ফুটপাথে’হবে আমাদেরই ভীম-কোঁৎকাতে হে!তবেপরোয়া কী দাদা? ক্যাঁকড়ার সম নিসপিস নাড়ো দাঁড়,যদিনিশ্চল হাতে পিস্তল কাঁপে তবু গোঁফে দাও চাড়।কোরাস :কে বলে ইত্যাদি –বাবা! যদিও এ-দেহ ঝুনো ঠনঠনতবু লোকে ভাবে ঠুঁটো পলটন!আরে ঘোড়া নাই! বাস, পায়ে হন্টন হে!বাজেকরতাল – আজ হরতাল। ডাকে আত্মা যে খাঁচা ছাড়!ওরে‘ওয়ান পেস স্টেপ ফরওয়ার্ড মার্চ, থুড়ি থুড়ি ব্যাকওয়ার্ড।’
সুপার (জেলের) বন্দনা
[ব্যঙ্গ-অনুকৃতি]
তোমারই জেলে পালিছ ঠেলে, তুমি ধন্য ধন্য হে।
আমার এ গান তোমারই ধ্যান, তুমি ধন্য ধন্য হে॥
রেখেছ সান্ত্রি পাহারা দোরে
আঁধার-কক্ষে জামাই-আদরে
বেঁধেছ শিকল-প্রণয়-ডোরে
তুমি ধন্য ধন্য হে॥
আ-কাঁড়া চালের অন্ন-লবণ
করেছ আমার রসনা-লোভন,
বুড়ো ডাঁটা-ঘাঁটা লাপসি শোভন,
তুমি ধন্য ধন্য হে॥
ধরো ধরো খুড়ো চপেটা মুষ্টি,
খেয়ে গয়া পাবে সোজা স-গুষ্টি,
ওল-ছোলা দেহ ধবল-কুষ্টি
তুমি ধন্য ধন্য হে॥

শহীদী-ঈদ
(১)
শহিদের ইদ এসেছে আজ
শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ,
আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ;
জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে
আল্লার রাহে তাহারে দে,
চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।
(২)
চাহি নাকো গাভি দুম্বা উট
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানি, চাই না দান।
রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি? কে আছ মুসলমান?
(৩)
ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,
আপনারে আর দিসনে লাজ, –
গোরু ঘুষ দিয়ে চাস সওয়াব?
যদিই রে তুই গোরুর সাথ
পার হয়ে যাস পুলসেরাত,
কী দিবি মোহাম্মদে (দঃ) জওয়াব!
(৪)
শুধাবেন যবে – ওরে কাফের,
কী করেছ তুমি ইসলামের?
ইসলামে দিয়ে জাহান্নম
আপনি এসেছ বেহেশ্ত পর –
পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর!
দেখাসনে মুখ, লাগে শরম।
(৫)
গোরুরে করিলে সেরাত পার,
সন্তানে দিলে নরক-নার!
মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখ।
কোরবানি দিলি গোরু-ছাগল,
তাদেরই জীবন হল সফল
পেয়েছে তাহারা বেহেশ্ত-লোক!
(৬)
শুধু আপনারে বাঁচায় যে,
মুসলিম নহে, ভণ্ড সে!
ইসলাম বলে – বাঁচো সবাই!
দাও কোরবানি জান ও মাল,
বেহেশ্ত তোমার করো হালাল।
স্বার্থপরের বেহেশ্ত নাই।
(৭)
ইসলামে তুমি দিয়ে কবর
মুসলিম বলে কর ফখর!
মোনাফেক তুমি সেরা বে-দীন!
ইসলামে যারা করে জবেহ্,
তুমি তাহাদেরই হও তাঁবে।
তুমি জুতো-বওয়া তারই অধীন।
(৮)
নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং,
ইয়া উয়া পরে সেজেছ সং,
ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম!
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা করো জড়ো,
ত্যাগের বেলাতে জড়সড়ো!
তোর নামাজের কী আছে দাম?
(৯)
খেয়ে খেয়ে গোশ্ত রুটি তো খুব
হয়েছ খোদার খাসি বেকুব,
নিজেদের দাও কোরবানি।
বেঁচে যাবে তুমি, বাঁচিবে দ্বীন,
দাস ইসলাম হবে স্বাধীন,
গাহিছে কামাল এই গানই!
(১০)
বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে
জান্নাত পানে আছ চেয়ে
ভাবিছ সেরাত হবেই পার।
কেন না, দিয়েছ সাত জনের
তরে এক গোরু! আর কী ঢের!
সাতটি টাকায় গোনাহ্ কাবার!
(১১)
জান না কি তুমি, রে বে-ইমান
আল্লা সর্বশক্তিমান
দেখিছেন তোর সব কিছু?
জাব্বা-জোব্বা দিয়ে ধোঁকা
দিবি আল্লারে, ওরে বোকা!
কেয়ামতে হবে মাথা নিচু!
(১২)
ডুবে ইসলাম, আসে আঁধার!
ইব্রাহিমের মতো আবার
কোরবানি দাও প্রিয় বিভব!
‘জবীহুল্লাহ্’ ছেলেরা হোক,
যাক সব কিছু – সত্য রোক!
মা হাজেরা হোক মায়েরা সব।
(১৩)
খাবে দেখেছিলেন ইব্রাহিম –
‘দাও কোরবানি মহামহিম!’
তোরা যে দেখিস দিবালোকে
কী যে দুর্গতি ইসলামের!
পরীক্ষা নেন খোদা তোদের
হবিবের সাথে বাজি রেখে!
(১৪)
যত দিন তোরা নিজেরা মেষ,
ভীরু দুর্বল, অধীন দেশ, –
আল্লার রাহে ততটা দিন
দিয়ো নাকো পশু কোরবানি,
বিফল হবে রে সবখানি!
(তুই) পশু চেয়ে যে রে অধম হীন!
(১৫)
মনের পশুরে কর জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
কশাই-এর আবার কোরবানি! –
আমাদের নয়, তাদের ইদ,
বীর-সুত যারা হল শহিদ,
অমর যাদের বীরবাণী।
(১৬)
পশু কোরবানি দিস তখন
আজাদ মুক্ত হবি যখন
জুলুম-মুক্ত হবে রে দীন। –
কোরবানির আজ এই যে খুন
শিখা হয়ে যেন জ্বালে আগুন,
জালিমের যেন রাখে না চিন॥
আমিন রাব্বিল আলমিন!!
আমিন রাব্বিল আলমিন!!