Tag: কাজী নজরুল ইসলাম

  • পিছু-ডাক

    পিছু-ডাক

    পিছু-ডাক

    সখি!
    নতুন ঘরে গিয়ে আমায় পড়বে কি আর মনে?
      
    সেথা তোমার নতুন পূজা নতুন আযোজনে!
      
          প্রথম দেখা তোমায় আমায়
      
          যে গৃহ-ছায় যে আঙিনায়,
      
          যেথায় প্রতি ধূলি-কণায়,
      
                    লতাপাতার সনে –
      
    নিত্য চেনার বিত্ত রাজে চিত্ত-আরাধনে,
      
    শূন্য সে ঘর শূন্য এখন কাঁদছে নিরজনে।

      

    সেথা
    তুমি যখন ভুলতে আমায়, আসত অনেক কেহ,
    তখন
    আমার হয়ে অভিমানে কাঁদত যে ঐ গেহ।
      
              যেদিক পানে চাইতে সেথা
      
              বাজতে আমার স্মৃতির ব্যথা,
      
                        নতুন আলাপনে।
      
    আমিই শুধু হারিয়ে গেলেম হারিয়ে-যাওয়ার বনে॥

      

    আমার
    এত দিনের দূর ছিল না সত্যিকারের দুর,
    ওগো
    আমার সুদুর করতে নিকট ঐ পুরাতন পুর।
      
          এখন তোমার নতুন বাঁধন
      
          নতুন হাসি, নতুন কাঁদন,
      
          নতুন সাধন, গানের মাতন
      
                    নতুন আবাহনে।
      
    আমারই সুর হারিয়ে গেল সুদুর পুরাতন।

      

    সখি!
    আমার আশাই দুরাশা আজ, তোমার বিধির বর,
    আজ
    মোর সমাধির বুকে তোমার উঠবে বাসর-ঘর!
      
          শূণ্য ভরে শুনতে পেনু
      
          ধেনু-চরা বনের বেণু-
      
           হারিয়ে গেনু হারিয়ে গেনু
      
                        অস্ত–দিগঙ্গনে।
      
    বিদায় সখি, খেলা-শেষ এই বেলা-শেষের খনে!
      
    এখন তুমি নতুন মানুষ নতুন গৃহকোণে।

      

  • মুখরা

    মুখরা

    মুখরা

    আমার
     কাঁচা মনে রং ধরেচে আজ,
      
    ক্ষমা করো মা গো আমার আর কি সাজে লাজ?
    আমার
     কাঁচা মনে রং ধরেচে আজ,

      

      
          আমার ভুবন উঠচে রেঙে
      
          তাঁর পরশের সোহাগ লেগে,
      
          ঘুমিয়ে ছিনু দেখনু জেগে মা,
    আমায়
    জড়িয়ে বুকে দাঁড়িয়ে আছেন নিখিল হৃদয়-রাজ।
      
    ক্ষমা করো মা গো আমার আর কি সাজে লাজ?

      

    আমায়
    দিনের আলোয় নিলেন বুকে আপনি লজ্জাহারী!
      
    মা গো, আমি আর কি মিথ্যা লজ্জা করে পারি?
    আমায়
    দিনের আলোয় নিলেন বুকে আপনি লজ্জাহারী।
      
          জগৎ যারে পায় না সেধে
      
          সেই সে যখন সাধছে কেঁদে
      
          আমার চরণ বক্ষে বেঁধে মা,
    আমি
    বাঁধব না চুল, এই ভালো মোর ভিখারিনির সাজ।
      
    ক্ষমা করো মা গো আমার আর কি সাজে লাজ?

      

    আমার
    কীসের সজ্জা, কীসের লজ্জা, কীসের পরানপণ?
    মা গো
    বক্ষে আমার বিশ্বলোকের চির-চাওয়া ধন,
    আমার
    কীসের সজ্জা, কীসের লজ্জা, কীসের পরানপণ?

      

      
          বিশ্ব-ভুবন যার পদছায়
      
          সেই এসে হায় মোর পদ চায়,
    আমার
    সুখ-আবেগে বুক ফেটে যায় মা,
    আজ
    লাজ ভুলেছি, সাজ ভুলেছি, ভুলেছি সব কাজ।
      
    ক্ষমা করো মা গো আমার আর কি সাজে লাজ?

      

  • সাধের ভিখারিণী

    সাধের ভিখারিণী

    সাধের ভিখারিণী

    তুমি
    মলিন বাসে থাক যখন, সবার চেয়ে মানায়!
    তুমি
    আমার তরে ভিখারিনি, সেই কথা সে জানায়!
      
          জানি প্রিয়ে জানি জানি,
      
          তুমি হতে রাজার রানি,
      
          খাটত দাসী, বাজত বাঁশি
      
              তোমার বালাখানায়
    তুমি
    সাধ করে আজ ভিখারিনি, সেই কথা সে জানায়।

      

    দেবী!
    তুমি সতী অন্নপূর্ণা, নিখিল তোমার ঋণী,
    শুধু
    ভিখারিকে ভালোবেসে সাজলে ভিখারিনি
      
          সব ত্যজি মোর হলে সাথি,
      
          আমার আশায় জাগছ রাতি,
      
          তোমার পূজা বাজে আমার
      
              হিয়ার কানায় কানায়!
    তুমি
    সাধ করে আজ ভিখারিনি, সেই কথা সে জানায়।

      

  • কবি-রাণী

    কবি-রাণী

    কবি-রাণী

    তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো আমি কবি।

    আমার এ রূপ-সে যে তোমায় ভালোবাসার ছবি॥

    আপন জেনে হাত বাড়ালো-

    আকাশ বাতাস প্রভাত-আলো,

    বিদায়-বেলার সন্ধ্যা-তারা

    পুবের অরুণ রবি,—

    তুমি ভালোবাস ব’লে ভালোবাসে সবি?

      

    আমার আমি লুকিয়েছিল তোমার ভালোবাসায়,

    আমার আশা বাইরে এল তোমার হঠাৎ আসায়।

    তুমিই আমার মাঝে আসি

    অসিতে মোর বাজাও বাঁশি,

    আমার পূজার যা আয়োজন

    তোমার প্রাণের হবি।

    আমার বাণী জয়মাল্য, রাণি! তোমার সবই।

      

    তুমি আমায় ভালোবাস তাই তো আমি কবি।

    আমার এ রূপ-সে যে তোমার ভালোবাসার ছবি।

      

  • আশা

    আশা

    আশা

    আমি
    শ্রান্ত হয়ে আসব যখন পড়ব দোরে টলে,
    আমার
    লুটিয়ে-পড়া দেহ তখন ধরবে কি ওই কোলে?
      
          বাড়িয়ে বাহু আসবে ছুটে?
      
          ধরবে চেপে পরানপুটে?
      
          বুকে রেখে চুমবে কি মুখ
      
                নয়নজলে গলে?
    আমি
    শ্রান্ত হয়ে আসব যখন পড়ব দোরে টলে!

      

    তুমি
    এতদিন যা দুখ দিয়েছ হেনে অবহলা,
    তা
    ভুলবে না কি যুগের পরে ঘরে-ফেরার বেলা?
      
          বলো বলো জীবন-স্বামী
      
          সেদিনও কি ফিরব আমি
      
          অন্তকালেও ঠাঁই পাব না
      
                ওই চরণের তলে?
    আমি
    শ্রান্ত হয়ে আসব যখন পড়ব দোরে টলে!

      

  • বিষের বাঁশী

    বিষের বাঁশী

    বিষের বাঁশী

    ‘বিষের বাঁশী’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দের ১৬ই শ্রাবণ—আগষ্ট ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবি নিজেই হুগলি থেকে ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন। নামপৃষ্ঠায় এর মুদ্রণসংখ্যা ২২০০ বলে উল্লিখিত ছিল এবং লেখা ছিল, “গ্রন্থকার কর্তৃক সর্ব্বস্বত্ব সংরক্ষিত”। গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৪+৬০, মূল্য এক টাকা ছয় আনা এবং “সোল এজেণ্ট ও প্রাপ্তিস্থান— ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রিট, কলিকাতা।” এই গ্রন্থে ২৭টি কবিতা রয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের বাজেয়াপ্ত ৫টি গ্রন্থের মধ্যে এটি অন্যতম। প্রকাশের অব্যবহিত পরে তৎকালীন ভারত সরকার ২২ অক্টোবর ১৯২৪ সালে ‘বিষের বাঁশী’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয় ২৭ এপ্রিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে।

    ‘বিষের বাঁশী’র দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় নূর লাইব্রেরি, ১২/১ সারেঙ্গ লেন, তালতলা, কলিকাতা থেকে ১৩৫২ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে। বাংলা একাডেমি ‘নজরুল রচনাবলী’তে আবদুল কাদির এই সংস্করণের পাঠ অনুসরণ করেছিলেন। রচনাবলীর নতুন সংস্করণে ‘বিষের বাঁশী’র প্রথম দুই সংস্করণের পাঠ মিলিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।

    প্রথম সংস্করণে উৎসর্গপত্রটি ছিল গ্রন্থের শুরুতে, দ্বিতীয় সংস্করণে তা কৈফিয়তের পরে আনা হয়। প্রথম সংস্করণের ‘জাগৃহী’ কবিতার শিরোনাম সংশোধিত হয়ে দ্বিতীয় সংস্করণে হয় ‘জাগৃহি’—বাংলা একাডেমি শেষেরটিই গ্রহণ করেছে। কৈফিয়তে মূলে ডি. এম. লাইব্রেরির ‘গোপাল-দা’ প্রসঙ্গে যে বাক্যটি ছিল, তা দ্বিতীয় সংস্করণে বর্জিত হয়েছে।

    ‘উৎসর্গ’ কবিতাটি মিসেস্ এম. রহমান [মুসাম্মাৎ মাসুদা খাতুন : জন্ম ১৮৮৪ খ্রি. মৃত্যু ২০শে ডিসেম্বর ১৯২৬ খ্রি.] সাহেবার উদ্দেশে রচিত। মিসেস্ এম. রহমান এদেশে নারী-অধিকার-আন্দোলনের একজন অগ্রনায়িকা ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা, সওগাত, সহচর, সাম্যবাদী, ধূমকেতু, লাঙল, অভিযান প্রভৃতি সাময়িকপত্রে বহু প্রবন্ধ ও ছোটগল্প লেখেন। তাঁর ‘মা ও মেয়ে’ নাম অসমাপ্ত উপন্যাসখানি ১৩২৯ আষাঢ় হতে ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘সহচর’ পত্রে প্রকাশিত হয়। তাঁর ‘চানাচুর’ পুস্তকের ‘আমাদের দাবী’, ‘পর্দা বনাম প্রবঞ্চনা’, ‘নারীর বন্ধন’ প্রভৃতি প্রবন্ধগুলি তৎকালে পাঠকমহলে আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল।

    ‘ফাতেমা-ই-দোয়াজদহম : আবির্ভাব’ ১৩২৭ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণে এবং ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজদহম : তিরোভাব’ ১৩২৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় বের হয়।

    ‘জাগৃহি’ ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ৩০শে শ্রাবণ ১ম বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যক ‘ধূমকেতু’তে ‘জাগরণী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

    ‘তুর্য-নিনাদ’ ১৩২৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখে ১ম বর্ষের ১ম সংখ্যক মাসিক ‘বসুমতী’তে বের হয়।

    ‘বোধন’ ১৩২৭ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠের ‘মোসলেম ভারতে’ প্রকাশিত হয়। শিরোনামের নীচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল : “সূর—যেদিন সুনীল জলধি হইতে উঠিলে জননী ভারতবর্ষ।” তার পাদটীকায় লেখা ছিল : “হাফিজের ‘য়ুসোফে গুম্ গশ্‌তা বাজ্‌ আয়েদ্‌ ব-কিনান গম্ মখোর’ গজল অবলম্বনে।” কবিতাটির প্রথম (এবং পরবর্তী চারটি স্তবকের প্রত্যকটির শেষে পুনরাবৃত্ত) শ্লোকটি ছিল এরূপ—

    দুঃখ কি ভাই! হারানো য়ুসোফ কিনানে আবার আসিবে ফিরে;
    দলিত শুষ্ক এ মরুভু পুনঃ হয়ে গুলিস্তাঁ হাসিবে ধীরে।

    ‘উদ্বোধন’ গানটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখে ২য় বর্ষের ৬ষ্ঠ সংখ্যক ‘সওগাতে’ ছাপা হয়েছিল।

    ‘মরণ-বরণ’ গানটি ১৩২৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে ৪র্থ বর্ষের তৃতীয় সংখ্যক ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়েছিল।

    ‘বন্দী-বন্দনা’ গানটি ১৩২৮ বঙ্গাব্দের মাঘে ৮ম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যক ‘নারায়ণে’ এবং ৪র্থ বর্ষের চতুর্থ সংখ্যক ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকায় রচনা-স্থান ছাপা আছে : “কান্দিরপাড়, কুমিল্লা।” ‘নারায়ণে’ শিরোনামের নীচে লেখা ছিল ‘মল্লার—তেওরা’। তাতে শেষাংশ ছিল এইরূপ—

    আজি
    ধ্বনিছে দিগ্বধু শঙ্গ দিকে দিকে,
     
    গগনে কা’রা যেন চাঁহিয়া অনিমিখে
    ভারত হোমশিখা জ্বলিল জয়টিকা
     
    পরাতে ও কপালে।
    সে
    কারা মুক্তি-কারা যেখানে ভৈরব-রুদ্র-শিখা জ্বলে।
     
    কোরাস; জয় হে বন্ধন-মৃত্যু শঙ্কাজয়ী।
     
    মুক্তি-কামী জয়।
     
    স্বাধীন-চিত জয়। জয় হে॥

    ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা’য় পঞ্চম স্তবকের শেষ চরণটি ছিল এরূপ—

    ‘সে কারা নহে কারা যেখানে ভগবান-রুদ্র-শিখা জ্বলে॥’

    ‘বন্দনা-গান’ ১৩২৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণের ‘সাধনা’ পত্রিকায় ‘বিজয়-গান’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। রচনা-স্থান : ‘কান্দিরপাড়, কুমিল্লা।’

    ‘শিকল-পরার গান’ ১৩৩১ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠের ‘ভারতী’তে প্রকাশিত হয়। শিরোনামের নীচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল : ‘খাম্বাজ—দাদ্‌রা’। তাতে কবির কৃত ‘স্বরলিপি’ও ছাপা হয়েছিল।

    ‘চরকার গান’ ১৩৩১ বঙ্গাব্দের বৈশাখের ‘ভারতী’তে ছাপা হয়। বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল : ‘খাম্বাজ—কীর্তন—দাদ্‌রা’। সে সংখ্যাতে ‘চরকার গানে’র স্বরলিপিও ছাপা হয়েছিল। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনে মহাত্মা গান্ধীর উপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম ‘চরকার গান’ গেয়েছিলেন।

    ‘জাতের বজ্জাতি’ গানটি ‘জাত-জালিয়াত’ শিরোনামে ‘বিজলী’তে ছাপা হয়। পাদটীকায় লেখা ছিল : ‘মাদারীপুর শান্তি-সেনা চারণ-দলের জন্য লিখিত অপ্রকাশিত নাটক থেকে।’ ‘বিজলী’ হতে গানটি ১৩৩০ বঙ্গাব্দের শ্রাবণের ‘উপাসনা’য় ‘উদ্ধৃত’ হয়েছিল।১৩৩০ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে ষষ্ঠ বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যক ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা’য়ও গানটি ‘জাত-জালিয়াত’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

    ‘বিজয়-গান’ ১৩২৮ শ্রাবণের ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়। রচনা-স্থান : ‘কান্দিরপাড়, কুমিল্লা’।

    ‘পাগল পথিক’ ১৩২৮ বঙ্গাব্দের ভাদ্রের ‘মোসলেম ভারতে’ ‘গান’ শিরোনামে বের হয়েছিল। শিরোনামের নীচে বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল : ‘সুর—মেঘ-ছায়ানট; তাল—দাদ্‌রা’।

    ‘বিদ্রোহীর বাণী’ ১৩৩১ বঙ্গাব্দের বৈশাখের ‘ভারতী’তে ‘এবার তোরা সত্য বল্’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

    ‘ঝড়’ [পশ্চিম তরঙ্গ] ১৩৩১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়ে দ্বিতীয় বর্ষ তৃতীয় সংখ্যক ‘কল্লোলে’ প্রকাশিত হয়েছিল।

  • চিঠি

    চিঠি

    চিঠি

    [ছন্দ :- “এই পথটা কা-ট্‌ব

    পাথর ফেলে মা-র্‌ব”]

    ছোট্ট বোন্‌টি লক্ষ্মী

    ভো ‘জটায়ু পক্ষী’!

    য়্যাব্বড়ো তিন ছত্র

    পেয়েছি তোর পত্র।

    দিইনি চিঠি আগে,

    তাইতে কি বোন্ রাগে?

    হচ্ছে যে তোর কষ্ট

    বুঝতেছি খুব পষ্ট।

    তাইতে সদ্য সদ্য

    লিখতেছি এই পদ্য।

    দেখলি কী তোর ভাগ্যি!

    থামবে এবার রাগ কি?

    এবার হতে দিব্যি

    এমনি করে লিখবি!

    বুঝলি কী রে দুষ্টু

    কী যে হলুম তুষ্টু

    পেয়ে তোর ওই পত্র –

    যদিও তিন ছত্র!

    যদিও তোর অক্ষর

    হাত পা যেন যক্ষর,

    পেটটা কারুর চিপসে,

    পিঠটে কারুর ঢিপসে,

    ঠ্যাংটা কারুর লম্বা,

    কেউ বা দেখতে রম্ভা!

    কেউ যেন ঠিক থাম্বা,

    কেউ বা ডাকেন হাম্বা!

    থুতনো কারুর উচ্চে,

    কেউ বা ঝুলেন পুচ্ছে!

    এক একটা যা বানান

    হাঁ করে কী জানান!

    কারুর গা ঠিক উচ্ছের,

    লিখলি এমনি গুচ্ছের!

    না বোন, লক্ষ্মী, বুঝছ?

    করব না আর কুচ্ছো!

    নইলে দিয়ে লম্ফ

    আনবি ভূমিকম্প!

    কে বলে যে তুচ্ছ!

    ওই যে আঙুর গুচ্ছ!

    শিখিয়ে দিল কোন্ ঝি

    নামটি যে তোর জন্টি?

    লিখবে এবার লক্ষ্মী

    নাম ‘জটায়ু পক্ষী!’

    শিগগির আমি যাচ্চি,

    তুই বুলি আর আচ্ছি

    রাখবি শিখে সব গান

    নয় ঠেঙিয়ে – অজ্ঞান!

    এখনও কি আচ্ছু

    খাচ্ছে জ্বরে খাপচু?

    ভাঙেনি বউদির ঠ্যাংটা।

    রাখালু কি ন্যাংটা?

    বলিস তাকে, রাখালী!

    সুখে রাখুন মা কালী!

    বৌদিরে কোস দোত্তি

    ধরবে এবার সত্যি।

    গপাস করে গিলবে

    য়্যাব্বড়ো দাঁত হিলবে!

    মা মাসিমায় পেন্নাম

    এখান হতেই করলাম!

    স্নেহাশিস এক বস্তা,

    পাঠাই, তোরা লস তা!

    সাঙ্গ পদ্য সবিটা?

    ইতি। তোদের কবি-দা।