জিঞ্জির

» অঘ্রাণের সওগাত

ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এল কি ধরণির সওগাত? নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হল মাত। ‘গিন্নি-পাগল’ চালের ফির্‌নি তশতরি ভরে নবীনা গিন্নি হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশিতে কাঁপিছে হাত। শিরনি বাঁধেন বড়ো বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাত!Continue Reading

জিঞ্জির

» মিসেস এম. রহমান

মোহর‍্‍রমের চাঁদ ওঠার তো আজিও অনেক দেরি, কেন কারবালা-মাতম উঠিল এখনই আমায় ঘেরি? ফোরাতের মৌজ ফোঁপাইয়া ওঠে কেন গো আমার চোখে! নিখিল-এতিম ভিড় করে কাঁদে আমার মানস-লোকে! মর্সিয়া-খান! গাস নে অকালে মর্সিয়া শোকগীতি, সর্বহারার অশ্রু-প্লাবনেContinue Reading

জিঞ্জির

» নকিব

নব-জীবনের নব-উত্থান-আজান ফুকারি এসো নকিব। জাগাও জড়! জাগাও জীব! জাগে দুর্বল, জাগে ক্ষুধা-ক্ষীণ, জাগিছে কৃষাণ ধুলায়-মলিন, জাগে গৃহহীন, জাগে পরাধীন জাগে মজলুম বদ-নসিব! মিনারে মিনারে বাজে আহ্বান– ‘আজ জীবনের নব উত্থান!’ শঙ্কাহরণ জাগিছে জোয়ান জাগেContinue Reading

জিঞ্জির

» খালেদ

খালেদ! খালেদ! শুনিতেছে নাকি সাহারার আহা-জারি? কত ‘ওয়েসিস’ রচিল তাহার মরু-নয়নের বারি। মরীচিকা তার সন্ধানী-আলো দিকে দিকে ফেরে খুঁজি কোন নিরালায় ক্লান্ত সেনানী ডেরা গাড়িয়াছ বুঝি! বালু-বোররাকে সওয়ার হইয়া ডাক দিয়া ফেরে ‘লু’, তব তরেContinue Reading

জিঞ্জির

» সুবহ্-উম্মেদ

[পূর্বাশা] সর্বনাশের পরে পৌষ মাস এল কি আবার ইসলামের? মন্বন্তর-অন্তে কে দিল ধরণীরে ধন-ধান্য ঢের? ভুখারীর রোজা রমজান পরে এল কি ঈদের নওরোজা? এল কি আরব-আহবে আবার মূর্ত মর্ত-মোর্তজা? হিজরত করে হজরত কি রে এলContinue Reading

জিঞ্জির

» খোশ-আমদেদ

আসিলে কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান সোনালী। ও চরণ ছুঁই কেমন হাতে মোর মাখা যে কালি॥ দখিনের হালকা হাওয়ায় আসলে ভেসে সুদূর বরাতি শবে-রাত আজ উজালা গো আঙিনায় জ্বলল দীপালি॥ তালিবান ঝুমকি বাজায়, গায় মোবারক-বাদContinue Reading

জিঞ্জির

» নওরোজ

রূপেরে সওদা কে করিবি তোরা আয় রে আয়, নওরোজের এই মেলায়! ডামাডোল আজি চাঁদের হাট লুট হল রূপ হল লোপাট! খুলে ফেলে লাজ শরম-টাট রূপসীরা সব রূপ বিলায় বিনি-কিম্মতে হাসি-ইঙ্গিতে হেলাফেলায় নওরোজের এই মেলায়! শা’জাদাContinue Reading

জিঞ্জির

» অগ্র-পথিক

অগ্র-পথিক হে সেনাদল, জোর  -কদম  চল্ রে চল্। রৌদ্রদগ্ধ মাটিমাখা শোন ভাইরা মোর, বসি বসুধায় নব অভিযান আজিকে তোর! রাখ তৈয়ার হাথেলিতে হাথিয়ার জোয়ান, হান রে নিশিত পাশুপতাস্ত্র অগ্নিবাণ! কোথায় হাতুড়ি কোথা শাবল? অগ্র-পথিক রেContinue Reading

জিঞ্জির

» ঈদ-মোবারক

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গা, কত বালুচরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো, বরষের পরে আসিলে ঈদ! ভুখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের, কণ্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের, সাকিরে ‘জামের’ দিলে তাগিদ! খুশির পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ‍্‍বিদিক,Continue Reading

জিঞ্জির

» আয় বেহেশ‍্‍তে কে যাবি আয়

আয় বেহেশ‍্‍তে কে যাবি, আয় প্রাণের বুলন্দ দরওয়াজায়, ‘তাজা-ব-তাজা’-র গাহিয়া গান চির-তরুণের চির-মেলায়! আয় বেহেশ‍্‍তে কে যাবি আয়॥ যুবা-যুবতির সে দেশে ভিড়, সেথা যেতে নারে বুঢ‍্‍ঢা পীর, শাস্ত্র-শকুন জ্ঞান-মজুর যেতে নারে সেই হুরি-পরির শারাব সাকিরContinue Reading

জিঞ্জির

» চিরঞ্জীব জগলুল

প্রাচী’র দুয়ারে শুনি কলরোল সহসা তিমির-রাতে, মেসেরের শের, শির, শমশের–সব গেল এক সাথে! সিন্ধুর গলা জড়ায়ে কাঁদিতে–দু’ তীরে ললাট হানি ছুটিয়া চলেছে মরু-বকৌলি ‘নীল’ দরিয়ার পানি! আঁচলের তার ঝিনুক মাণিক কাদায় ছিটায়ে পড়ে, সোঁতের শ্যাওলাContinue Reading

জিঞ্জির

» আমানুল্লাহ্

খোশ্-আম্‌দেদ আফগান-শের! – অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে আজ– সালাম জানায় মুসলিম-হিন্দ শরমে নোয়ায়ে শির বে-তাজ! বান্দা যাহারা বন্দেগী ছাড়া কী দিবে তাহারা, শাহানশাহ্! নাই সে ভারত মানুষের দেশ! এ শুধু পশুর কতল‌্গাহ্! দস্তে তোমার দস্ত রাখিয়া নাইContinue Reading

জিঞ্জির

» উমর ফারুক

তিমির রাত্রি –‘এশা’র আজান শুনি দূর মসজিদে, প্রিয়হারা কার কান্নার মত এ-বুকে আসিয়া বিঁধে! আমির-উল-মুমেনীন, তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি–জানে না মুয়াজ্জিন! তকবির শুনি শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি, বাতায়নে চাই–উঠিয়াছে কি রে গগনে মরুরContinue Reading

চক্রবাক

» চক্রবাক

কাজী নজরুল ইসলামের ‘চক্রবাক’ কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে মুতাবিক ১৯২৯ খৃষ্টাব্দের আগস্টে; প্রকাশক শ্রীগোপালদাস মজুমদার; ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিস্ ষ্ট্রীট, কলিকাতা। প্রবাসী প্রেস, ৯১ আপার সার্কুলার রোড, কলিকাতা হতে শ্রীসজনীকান্ত দাস কর্তৃকContinue Reading

চক্রবাক

» উৎসর্গ

বিরাট-প্রাণ, কবি দরদী– প্রিন্সিপাল শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র শ্রীচরণারবিন্দেষু দেখিয়াছি হিমালয়, করিনি প্রণাম, দেবতা দেখিনি, দেখিয়াছি স্বর্গধাম।… সেদিন প্রথম যবে দেখিনু তোমারে, হে বিরাট মহাপ্রাণ, কেন বারেবারে মনে হল এত দিনে দেখিনু দেবতা! চোখ পুরে এলContinue Reading

চক্রবাক

» ঝরা পালক

–ওগো ও চক্রবাকী তোমারে খুঁজিয়া অন্ধ হল যে চক্রবাকের আঁখি! কোথা কোন লোকে কোন নদী পারে রহিলে গো তারে ভুলে? হেথা সাথী তব ডেকে ডেকে ফেরে ধরণীর কূলে কূলে। দিবসে ঘুমালে সব ভুলে যার পাখায়Continue Reading

চক্রবাক

» তোমারে পড়িছে মনে

তোমারে পড়িছে মনে আজি   নীপ-বালিকার ভীরু-শিহরণে, যূথিকার অশ্রু-সিক্ত ছলছল মুখে কেতকী-বধূর অবগুন্ঠিত ও বুকে– তোমারে পড়িছে মনে। হয়ত তেমনই আজি দূর বাতায়নে ঝিলিমিলি-তলে ম্লান     লুলিত অঞ্চলে চাহিয়া বসিয়া আছ একা, বারেবারে মুছেContinue Reading

চক্রবাক

» বাদল-রাতের পাখি

বাদল-রাতের পাখি! কবে পোহায়েছে বাদলের রাতি, তবে কেন থাকি থাকি কাঁদিছ আজিও ‘বউ কথা কও’ শেফালির বনে একা, শাওনে যাহারে পেলে না, তারে কি ভাদরে পাইবে দেখা?… তুমি কাঁদিয়াছ ‘বউ কথা কও’ সে-কাঁদনে তব সাথেContinue Reading

চক্রবাক

» স্তব্ধ-রাতে

থেমে আসে রজনীর গীত-কোলাহল, ওরে মোর সাথী আঁখি-জল, এইবার তুই নেমে আয়– অতন্দ্র এ নয়ন-পাতায়। আকাশে শিশির ঝরে, বনে ঝরে ফুল, রূপের পালঙ্ক বেয়ে ঝরে এলোচুল; কোন্ গ্রহে কে জড়ায়ে ধরিছে প্রিয়ায়, উল্কার মাণিক ছিঁড়েContinue Reading

চক্রবাক

» বাতায়ন-পাশে গুবাক-তরুর সারি

বিদায়, হে মোর বাতায়ন-পাশে নিশীথ জাগার সাথী! ওগো বন্ধুরা, পাণ্ডুর হয়ে এল বিদায়ের রাতি! আজ হতে হল বন্ধ আমার জানালার ঝিলিমিলি, আজ হতে হল বন্ধ মোদের আলাপন নিরিবিলি।… অস্ত-আকাশ-অলিন্দে তার শীর্ণ কপোল রাখি কাঁদিতেছে চাঁদ,Continue Reading