বুলবুল » ঝরে ঝরঝর কোন গভীর
৩২ দেশ-সুরাট — একতালা ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে। আজি রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে॥ ঘনিয়া ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে, ডাহুকিরে খুঁজি ডাহুক কাঁদে আঁধার গহনে॥ কেয়া-বনে দেয়া তূণীর বাঁধিয়াContinue Reading
৩২ দেশ-সুরাট — একতালা ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে। আজি রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে॥ ঘনিয়া ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে, ডাহুকিরে খুঁজি ডাহুক কাঁদে আঁধার গহনে॥ কেয়া-বনে দেয়া তূণীর বাঁধিয়াContinue Reading
৩৩ জয়জয়ন্তী—একতালা হৃদয় যত নিষেধ হানে নয়ন ততই কাঁদে। দূরে যত পলাতে চাই নিকট ততই বাঁধে॥ স্বপন-শেষে বিদায়-বেলায় অলক কাহার জড়ায় গো পায়, বিধুর কপোল স্মরণ আনায় ভোরের করুণ চাঁদে॥ বাহির আমার পিছল হল কাহারContinue Reading
৩৪ কালাংড়া-ভৈরোঁ—আদ্ধা কাওয়ালি শুকাল মিলন-মালা আমি তবে যাই। কী যেন এ নদী-কূলে খুঁজিনু বৃথাই॥ রহিল আমার ব্যথা দলিত কুসুমে গাঁথা, ঝুরে বলে ঝরা পাতা — নাই কেহ নাই॥ যে-বিরহে গ্রহতারা সৃজিল আলোক, সে-বিরহে এ-জীবন জ্বলিContinue Reading
৩৫ দরবারি কানাড়া—যৎ স্মরণ-পারের ওগো প্রিয়, তোমায় আমি চিনি যেন। তোমার চাঁদে চিনি আমি, তুমি আমার তারায় চেন॥ নতুন পরিচয়ের লাগি তারায় তারায় থাকি জাগি, বারে বারে মিলন মাগি বারে বারে হারাই হেন॥ নতুন চোখেরContinue Reading
৩৬ পিলু—কাহারবা গহীন রাতে ঘুম কে এলে ভাঙাতে। ফুল-হার পরায়ে গলে দিলে জল নয়ন-পাতে॥ যে জ্বালা পেনু জীবনে ভুলেছি রাতে স্বপনে, কে তুমি এসে গোপনে ছুঁইলে সে বেদনাতে॥ যবে কেঁদেছি একাকী কেন মুছালে না আঁখি,Continue Reading
৩৭ সিন্ধু—কাওয়ালি কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ আসিলে এ ধরাতল। কে মথিল তব তরে কোন্ সে ব্যথার সিন্ধু-জল॥ দুয়ার-ভাঙা জাগল জোয়ার বেদনার ওই দরিয়ায়। আজ ভারতী অশ্রুমতী মধ্যে দুলে টলমল॥ কখন তোমার বাজল বেণু প্রাণের বংশীবটছায়। মরাContinue Reading
৩৮ ভীমপলশ্রী — দাদরা জাগিলে ‘পারুল’ কি গো ‘সাত ভাই চম্পা’ ডাকে। উদিলে চন্দ্র-লেখা বাদলের মেঘের ফাঁকে॥ চলিলে সাগর ঘুরে অলকার মায়ার পুরে, ফোটে ফুল নিত্য যথায় জীবনের ফুল্ল-শাখে॥ আঁধারের বাতায়নে চাহে সাজ লক্ষ তারা,Continue Reading
৩৯ খাম্বাজ — আড়-খেমটা চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে মথিয়া চলি গো প্রাণ। মর্ত্যের মাটি মহীয়ান করি স্বর্গেরে করি ম্লান॥ চিতার বিভূতি মাখিয়া গায় লজ্জা হানি গো অন্নদায়, বাঁধিয়াছি বিদ্যুল্লতায়, দেবরাজ হতমান। পাতাল ফুঁড়িয়া করি গোContinue Reading
৪০ বৃন্দাবনী সারং—ঝাঁপতাল নমো হে নমো যন্ত্রপতি নমো নমো অশান্ত। তন্ত্রে তব ত্রস্ত ধরা, সৃষ্টি পথভ্রান্ত॥ বিশ্ব হল বস্তুময় মন্ত্রে তব হে, নন্দনে-আনন্দে তুমি গ্রাসিলে মহাধ্বান্ত॥ শংকর হে, সে কোন্ সতী-শোকে হয়ে নৃশংস বসেছ ধ্যানেContinue Reading
৪১ ভীমপলশ্রী—দাদরা পুরবের তরুণ অরুণ পুরবে আসলে ফিরে কাঁদায়ে মহাশ্বেতায় হিমানীর শৈল-শিরে॥ কুহেলির পর্দা ডারি ঘুমাত রূপ-কুমারী, জাগালে স্বপনচারী তাহারে নয়ন-নীরে॥ তোমার ওই তরুণ গলার শুনি গান সিন্ধু-পারে, দুলিছ মধ্যমণি সুরমার কণ্ঠ-হারে। ধেয়ানী দিলে ধরা,Continue Reading
৪২ দেশ—গীতঙ্গী কে শিব সুন্দর শরৎ-চাঁদ চূড় দাঁড়ালে আসিয়া এ অঙ্গনে, পীড়িত নরনারী আসিল গেহ ছাড়ি ভরিল নভতল-ক্রন্দনে॥ বেদনা-মন্দিরে আরতি বাজে তব, কে তুমি সুন্দর শ্মশানচারী নব, দিগদিগন্তরে জীবন-উৎসব— শঙ্খ শুনি তব আগমনে॥ মৃত্যু-জয়ী তুমিContinue Reading
৪৩ গারা-ভৈরবী—কাহারবা কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আসলে প্রাতে পুষ্পচোর। ডাকছে পাখি, ‘বউ গো জাগো, আর ঘুমায় না, রাত্রি ভোর’॥ জুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায়, চুমকুড়ি দেয় মৌমাছি। শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর॥Continue Reading
৪৪ ভীমপলশ্রী—কাহারবা কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদায় বেলা। মোছো মোছো আঁখি-লোর যদি ভাঙিল মেলা॥ কেন মেঘের স্বপন আন মরুর চোখে, ভুলে দিয়ো না কুসুম যারে দিয়েছ হেলা॥ আছে বাহুর বাঁধন তব শয়ন-সাথি, আমি এসেছি একাContinue Reading
৪৫ (রাতের) দুর্গা—আদ্ধা কাওয়ালি কেমনে রাখি আঁখি-বারি চাপিয়া। প্রাতে কোকিল কাঁদে, নিশীথে পাপিয়া॥ এ ভরা বাদরে আমার মরা নদী, উথলি উথলি উঠিছে নিরবধি। আমার এ ভাঙা ঘাটে আমার এ হৃদিতটে চাপিতে গেলে ওঠে দু-কূল ছাপিয়া॥Continue Reading
৪৬ (দিনের) দুর্গা—আদ্ধা কাওয়ালি কেন আসিলে যদি যাবে চলি গাঁথিলে না মালা ছিঁড়ে ফুল-কলি॥ কেন বারেবারে আসিয়া দুয়ারে ফিরে গেলে পারে কথা নাহি বলি॥ কী কথা বলিতে আসিয়া নিশীথে শুধু ব্যথা-গীতে গেলে মোরে ছলি॥ প্রভাতেরContinue Reading
৪৭ যোগিয়া—ঝাঁপতাল সাজিয়াছ যোগী বলো কার লাগি তরুণ বিবাগী॥ হেরো তব পায়ে কাঁদিছে লুটায়ে নিখিলের পিয়া তবে প্রেম মাগি তরুণ বিবাগী॥ ফাল্গুনে কাঁদে দুয়ারে বিষাদে খোলো দ্বার খোলো! যোগী, যোগ ভোলো! এত গীতহাসি সব আজিContinue Reading
৪৮ বারোয়াঁ—কাহারবা মুসাফির! মোছ এ আঁখি জল ফিরে ছল আপনারে নিয়া। আপনি ফুটেছিল ফুল গিয়াছে আপনি ঝরিয়া॥ রে পাগল! এ কী দুরাশা, জলে তুই বাঁধিবি বাসা! মেটে না হেথায় পিয়াসা হেথা নাই তৃষ্ণা-দরিয়া॥ বরষায় ফুটলContinue Reading
৪৯ মান্দ্—কাহারবা এ নহে বিলাস বন্ধু, ফুটেছি জলে কমল। এ যে ব্যথা-রাঙা হৃদয় আঁখি-জলে-টলমল॥ কোমল মৃণাল-দেহ ভরেছে কণ্টক-ঘায়, শরণ লয়েছি গো তাই শীতল দিঘির জল॥ ডুবেছি এ কালো নীরে কত যে জ্বালা সয়ে, শত ব্যথাContinue Reading
‘জিঞ্জির’ ১৩৩৫ সালে মুতাবিক ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়; প্রকাশক শ্রীগোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা। মুদ্রাকর শ্রী অমূল্যচন্দ্র ভট্টাচার্য, ভট্টাচার্য প্রিণ্টিং ওয়ার্কস, ২ নিবেদিতা লেন, কলিকাতা। রয়্যাল অক্টোভো আকার,Continue Reading
বন্ধু গো সাকি আনিয়াছ নাকি বরষের সওগাত– দীর্ঘ দিনের বিরহের পরে প্রিয়-মিলনের রাত। রঙিন রাখি, শিরীন শারাব, মুরলী, রবাব, বীণ, গুলিস্তানের বুলবুল পাখি, সোনালি রুপালি দিন। লালা-ফুল সম দাগ-খাওয়া দিল, নার্গিস-ফুলি আঁখ, ইস্পাহানির হেনা-মাখা হাত,Continue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬