সিন্ধু হিন্দোল » অভিযান
নতুন পথের যাত্রা পথিক চালাও অভিযান! উচ্চকণ্ঠে উচ্চারো আজ– ‘মানুষ মহীয়ান!’ চারদিকে আজ ভীরুর মেলা, খেলবি কে আয় নতুন খেলা? জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা বাইবি কে উজান? পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল স্বর্গে দিবি টান॥ সমর-সাজেরContinue Reading
নতুন পথের যাত্রা পথিক চালাও অভিযান! উচ্চকণ্ঠে উচ্চারো আজ– ‘মানুষ মহীয়ান!’ চারদিকে আজ ভীরুর মেলা, খেলবি কে আয় নতুন খেলা? জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা বাইবি কে উজান? পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল স্বর্গে দিবি টান॥ সমর-সাজেরContinue Reading
সই পাতালো কি শরতে আজিকে স্নিগ্ধ আকাশ ধরণী? নীলিমা বাহিয়া সওগাত নিয়া নামিছে মেঘের তরণী! অলকার পানে বলাকা ছুটিছে মেঘ-দূত-মন মোহিয়া চঞ্চুতে রাঙা কলমির কুঁড়ি–মরতের ভেট বহিয়া। সখীর গাঁয়ের সেঁউতি-বোঁটার ফিরোজায় রেঙে পেশোয়াজ আশমানি আরContinue Reading
কোদালে মেঘের মউজ উঠেছে গগনের নীল গাঙে, হাবুডুবু খায় তারা-বুদ্বুদ, জোছনা সোনায় রাঙে। তৃতীয় চাঁদের ‘শাম্পানে’ চড়ি চলিছে আকাশ-প্রিয়া, আকাশ দরিয়া উতলা হল গো পুতলায় বুকে নিয়া। তৃতীয়া চাঁদের বাকি ‘তেরো কলা’ আবছা কালোতে আঁকা,Continue Reading
আজ লালসা-আলস-মদে বিবশা রতি শুয়ে অপরাজিতায় ধনি স্মরিছে পতি। তার নিধুবন-উন্মন ঠোঁটে কাঁপে চুম্বন, বুকে পীন যৌবন উঠিছে ফুঁড়ি, মুখে কাম-কণ্টক ব্রণ মহুয়া-কুঁড়ি! করে বসন্ত বনভূমি সুরত কেলি, পাশে কাম-যাতনায় কাঁপে মালতী বেলি! ঝুরে আলু-থালুContinue Reading
দ্বারে বাজে ঝঞ্ঝার জিঞ্জীর, খোলো দ্বার ওঠ ওঠ বীর! নিদাঘের রৌদ্র খর কণ্ঠে শোনে প্রদীপ্ত আহ্বান— জয় অভিনব যৌবন-অভিযান!… শ্রান্ত গত বরষের বিশীর্ণ শর্বরী স্খলিত মন্থর পদে দূরে যায় সরি বিরাটের চক্রনেমি-তলে। চম্পমালা দোলাইয়া গলেContinue Reading
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নির্বাচিত গান ও কবিতার সঙ্কলন ‘সঞ্চিতা’ প্রথম প্রকাশিত হয় আশ্বিন ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ মুতাবিক অক্টোবর ১৯২৮ খৃষ্টাব্দে। নজরুলের কাব্য-সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বমূলক এই কাব্য সঙ্কলনটি বিশেষ সমাদৃত। বহুল পরিচিত ও প্রচলিত এই সঙ্কলনটি অনেকContinue Reading
‘বুলবুল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিগ্রন্থ, এটিই তাঁর প্রথম গ্রন্থ যাতে শুধু গান প্রকাশিত হয়েছিল। বুলবুল প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মুতাবিক নভেম্বর ১৯২৮, প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।Continue Reading
সুর-শিল্পী, বন্ধু দিলীপকুমার রায় করকমলেষু আমার শুধু এ বাণী হে বন্ধু, আমার শুধু এ গান। তুমি তারে দিলে রূপ-রঙ্গিমা, তুমি তারে দিলে প্রাণ। আমার ব্যথায় বেঁধেছিল নীড় যে গানের বুল্বুলি, আপনি আসিয়া আদরে তাহারে বক্ষেContinue Reading
ফরাসি জাদুকর আনাতোল ফ্রাঁস ঘটনাটি এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন,—জীবনের সায়াহ্নে বিসমার্ক শহর ছাড়িয়া গ্রামে (Villa-তে) আসিয়া বাস করিতেছিলেন, কর্মক্লান্ত জীবনের শেষ শান্তিকে এখানেই গ্রহণ করিবেন এই আশায়। একদিন ভোরবেলা বৃদ্ধ বিসমার্ক বারান্দায় ইজিচেয়ারে একাকী বসিয়া আছেন।Continue Reading
১ ভৈরবী—কাহারবা বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিসনে আজি দোল। আজও তার ফুলকলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল॥ আজও হায় রিক্ত শাখায় উত্তরী-বায় ঝুরছে নিশিদিন, আসেনি দখ্নে হাওয়া গজল্-গাওয়া মৌমাছি বিভোল॥ করে সে ফুলকুমারী ঘোমটা চিরি আসবে বাহিরে,Continue Reading
২ জৌনপুরী-আশাবরী—কাহারবা আমারে চোখ-ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদী। খুলে দাও রং-মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি॥ গোপনে চৈতি হাওয়ায় গুল-বাগিচায় পাঠালে লিপি, দেখে তাই ডাকছে ডালে কূ কূ বলে কোয়েলা ননদী॥ পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখেContinue Reading
৩ ইমন-মিশ্র গজল—কাহারবা বসিয়া বিজনে কেন একা মনে পানিয়া ভরণে চল লো গোরী। চল জলে চল কাঁদে বনতল, ডাকে ছলছল জল-লহরী॥ দিবা চলে যায় বলাকা-পাখায়, বিহগের বুকে বিহগী লুকায়! কেঁদে চখাচখি মাগিছে বিদায় বারোয়াঁর সুরেContinue Reading
৪ পিলু—কাহারবা-দাদরা ভুলি কেমনে আজও যে মনে বেদনা-সনে রহিল আঁকা। আজও সজনি দিন রজনি সে বিনে গণি তেমনই ফাঁকা॥ আগে মন করলে চুরি, মর্মে শেষে হানলে ছুরি, এত শঠতা এত যে ব্যথাContinue Reading
৫ মিশ্র বেহাগ-খাম্বাজ — দাদরা কেন কাঁদে পরান কী বেদনায় কারে কহি সদা কাঁপে ভীরু হিয়া রহি রহি॥ সে থাকে নীল নভে আমি নয়ন-জল-সায়রে, সাতাশ তারার সতিন-সাথে সে যে ঘুরে মরে, কেমনে ধরি সে চাঁদেContinue Reading
৬ সিন্ধু-ভৈরবী—কাহারবা মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে গোপন পায়ে কে ওই আসে। আকাশ-ছাওয়া চোখের চাওয়া উতল হাওয়া কেশের বাসে॥ উষার রাগে সাঁঝের ফাগে যুগল তাহার কপোল রাঙে, কমল দুলে সূরয শশী নিশীথ-চুলে আঁধার-রাশে॥ চরণ-ছোঁয়ায় পাতার ঠোঁটেContinue Reading
৭ ভৈরবী-আশাবরী — কাহারবা কে বিদেশি মন-উদাসী বাঁশির বাঁশি বাজাও বনে। সুর-সোহাগে তন্দ্রা লাগে কুসুম-বাগের গুল্-বদনে॥ ঝিমিয়ে আসে ভোমরা-পাখা, যূথীর চোখে আবেশ মাখা, কাতর ঘুমে চাঁদিমা রাকা (ভোর গগনের দর-দালানে) দর-দালানে ভোর গগনে॥ লজ্জাবতীর লুলিতContinue Reading
৮ সিন্ধু—কাওয়ালি করুণ কেন অরুণ আঁখি দাও গো সাকি দাও শারাব। হায় সাকি এ আঙ্গুরি খুন, নয় ও হিয়ার খুন-খারাব॥ দুর্দিনের এই দারুণ দিনে শরণ নিলাম পানশালায়, হায় শাহারার প্রখর তাপে পরান কাঁপে দিল্-কাবাব॥ আরContinue Reading
৯ মান্দ্—কাওয়ালি এত জল ও-কাজল-চোখে পাষাণী, আনলে বল কে। টলমল জল-মোতির মালা দুলিছে ঝালর-পলকে॥ দিল কি পুব্-হাওয়াতে দোল, বুকে কি বিঁধিল কেয়া? কাঁদিয়া কুটিলে গগন এলায়ে ঝামর-অলকে॥ চলিতে পৈচি কি হাতের বাধিল বৈঁচি-কাঁটাতে? ছাড়াতে কাঁচুলিরContinue Reading
১০ ভীমপলশ্রী—দাদরা আসে বসন্ত ফুলবনে সাজে বনভূমি সুন্দরী। চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি॥ ফুলরেণু-মাখা দখিনা বায় বাতাস করিছে বনবালায়, বনকরবী-নিকুঞ্জছায় মুকুলিকা ওঠে মুঞ্জরি॥ কুহু আজি ডাকে মুহুমুহু, ‘পিউ কাঁহা’ কাঁদে উহু উহু পাখায় পাখায়Continue Reading
১১ কাফি-সিন্ধু — কাহারবা দুরন্ত বায়ু পুরবৈয়াঁ বহে অধীর আনন্দে। তরঙ্গে দুলে আজি নাইয়া রণ-তুরঙ্গ-ছন্দে॥ অশান্ত অম্বর-মাঝে মৃদঙ্গ গুরুগুরু বাজে, আতঙ্কে থরথর অঙ্গ মন অনন্তে বন্দে॥ ভুজঙ্গী দামিনীর দাহে দিগন্ত শিহরিয়া চাহে, বিষণ্ণ-ভয়-ভীতা যামিনী খোঁজেContinue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬