ফণী মনসা

» অন্তর-ন্যাশন্যাল সঙ্গীত

জাগো—   জাগো অনশন-বন্দী, ওঠো রে যত জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত! যত অত্যাচারে আজি বজ্র হানি হাঁকে নিপীড়িত-জন-মন-মথিত বাণী, নব জনম লভি অভিনব ধরণি ওরে ওই আগত॥ আদি শৃঙ্খল সনাতন শাস্ত্র-আচার মূল সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার!Continue Reading

ফণী মনসা

» জাগর-তূর্য

[ শেলির ভাব-অবলম্বনে ] ওরে ও শ্রমিক, সব মহিমার উত্তর-অধিকারী! অলিখিত যত গল্প-কাহিনি তোরা যে নায়ক তারই॥ শক্তিময়ী সে এক জননির স্নেহ-সুত সব তোরা যে রে বীর, পরস্পরের আশা যে রে তোরা, মার সন্তাপ-হারী॥ নিদ্রোত্থিতContinue Reading

ফণী মনসা

» যুগের আলো

নিদ্রা-দেবীর মিনার-চুড়ে মুয়াজ্জিনের শুনছি আরাব,– পান করে নে প্রাণ-পেয়ালায় যুগের আলোর রৌদ্র-শারাব! উষায় যারা চমকে গেল তরুণ রবির রক্ত-রাগে, যুগের আলো! তাদের বলো, প্রথম উদয় এমনি লাগে! সাতরঙা ওই ইন্দ্রধনুর লাল রংটাই দেখল যারা, তাদের গাঁয়ে মেঘ নামায়েContinue Reading

ফণী মনসা

» পথের দিশা

চারিদিকে এই গুণ্ডা এবং বদমায়েসির আখ্‌ড়া দিয়ে রে অগ্রদূত, চ’লতে কি তুই পারবি আপন প্রাণ বাঁচিয়ে? পারবি যেতে ভেদ ক’রে এই বক্র-পথের চক্রব্যুহ? উঠবি কি তুই পাষাণ ফুঁড়ে বনস্পতি মহীরুহ? আজকে প্রাণের গো-ভাগাড়ে উড়ছে শুধুContinue Reading

ফণী মনসা

» যা শত্রু পরে পরে

রাজ্যে যাদের সূর্য অস্ত যায় না কখনও, শুনিস হায়, মেরে মেরে যারা ভাবিছে অমর, মরিবে না কভু মৃত্যু-ঘায়, তাদের সন্ধ্যা ওই ঘনায়! চেয়ে দেখ ওই ধূম্র-চূড় অসন্তোষের মেঘ-গরুড় সূর্য তাদের গ্রাসিল প্রায়! ডুবেছে যে পথেContinue Reading

ফণী মনসা

» হিন্দু-মুসলিম যুদ্ধ

১ মাভৈঃ! মাভৈঃ! এতদিনে বুঝি জাগিল ভারতে প্রাণ সজীব হইয়া উঠিয়াছে আজ শ্মশান গোরস্থান! ছিল যারা চির-মরণ-আহত, উঠিয়াছে জাগি’ ব্যথা-জাগ্রত, ‘খালেদ’ আবার ধরিয়াছে অসি, ‘অর্জুন’ ছোঁড়ে বাণ। জেগেছে ভারত, ধরিয়াছে লাঠি হিন্দু-মুসলমান! ২ মরিছে হিন্দু,Continue Reading

বাঁধনহারা

» বাঁধনহারা

‘বাঁধনহারা’ পত্রোপন্যাস বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস। করাচিতে থাকাকালীন তিনি ‘বাঁধনহারা’ উপন্যাস রচনা শুরু করেন। ১৯২১ খৃষ্টাব্দ মুতাবিক ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ থেকে প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ‘বাঁধনহারা’ ধারাবাহিকভাবেContinue Reading

বাঁধনহারা

» উৎসর্গ

সুর-সুন্দর শ্রীনলিনীকান্ত সরকার করকমলেষু বন্ধু আমার! পরমাত্মীয়! দুঃখ-সুখের সাথী! তোমার মাঝারে প্রভাত লভিল আমার তিমির রাতি। চাওয়ার অধিক পেয়েছি–বন্ধু আত্মীয় প্রিয়জন, বন্ধু পেয়েছি–পাইনি মানুষ, পাইনি দরাজ মন। চারিদিক হতে বর্ষেছে শিরে অবিশ্বাসের গ্লানি, হারায়েছি পথ–আঁধারেContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ক : পত্র এক

করাচি সেনানিবাস, ২০এ জানুয়ারি (সন্ধ্যা) ভাই রবু! আমি নাকি মনের কথা খুলে বলিনে বলে তুমি খুব অভিমান করেছ? আর তাই এতদিন চিঠি-পত্তর লেখনি? মনে থাকে যেন, আমি এই সুদূর সিন্ধুদেশে আরব-সিন্ধুর তীরে পড়ে থাকলেও আমারContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ক : পত্র দুই

করাচি সেনানিবাস ২১এ জানুয়ারি (প্রভাত) মনু! আজ করাচিটা এত সুন্দর বোধ হচ্ছে সে আর কী বলব! কী হয়েছে জানিস? কাল সমস্ত রাত্তির ধরে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে খুব একটা দাপাদাপির পর এখানকার উলঙ্গ প্রকৃতিটা অরুণোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেইContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ খ : পত্র এক

সালার ২৯শে জানুয়ারি (প্রভাত,– চায়ের টেবিল সম্মুখে) নূরু! তোর চিঠিটা আমার ভোজপুরী দারোয়ান ম’শায়ের ‘থ্রু’ দিয়ে কাল সান্ধ্য-চায়ের টেবিলে ক্লান্ত করুণ বেশে এসে হাজির। দেখি, রিডাইরেক্‌টের ধস্তাধস্তিতে বেচারার অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আমি ক্ষিপ্রহস্তে সেইContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ খ : পত্র দুই

বাবা নূরু! আমার স্নেহ-আশিস জানবে। মা’কে এরই মধ্যে ভুলে গেলে নিমকহারাম ছেলে? আমাকে ভুলেও একটা চিঠি দেওয়া হল না এতদিনের মধ্যে? আমি প্রথমে রেগে চিঠিই দিইনি। যে ছেলে মায়ের নয়, তার ওপর দাবি-দাওয়া কিসের? ওরে,Continue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ গ : পত্র এক

বাঁকুড়া ২৬এ জানুয়ারি (বিকেলবেলা) অথ নরম গরম পত্রমিদম কার্যনঞ্চাগে বিশেষ! বাঙালি পল্টনের তালপাতার সিপাই শ্রীল শ্রীযুক্ত নূরুল হুদা বরাবরেষু।… বুঝলি নূরু! তোর চিঠি নিয়ে কিন্তু আমাদের বোর্ডিং-এর কাব্যিরোগাক্রান্ত যাবতীয় ছোকরাদের মধ্যে একটা বিভ্রাট রকমের আলোচনাContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ গ : পত্র দুই

সালার ৬ই ফাল্গুন নিরাপদ্দীর্ঘজীবেষু, ভাই নূরুল হুদা, আমার শত স্নেহাশিস জানবে। অনেকদিন চিঠি দিতে পারিনি বলে তুমি তোমার ভাইসাহেবের পত্রে অনুযোগ করে বেশ একটু খোঁচা দিয়েছ। কী করি ভাই, সংসারের সব ঝক্কি এখন আমার ওপর।Continue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র এক

১০ই ফাল্গুন (নিঝুম রাত্তির) ভাই সোফি! অভিমানিনী, তুমি হয়ত এতদিনে আমার ওপর রাগ করে ভুরু কুঁচকে, ঠোঁট ফুলিয়ে, গুম হয়ে বসে আছ! কারণ আমি আসবার দিনে তোমার মাথা ছুঁয়ে দিব্যি করেছিলাম যে গিয়েই চিঠি দেব।Continue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র দুই

সালার ১৩ইফাল্গুন সই মাহ্‌বুবা! এলোকেশী দূতীর মারফত তোর চিঠিটা পেয়ে যেন আমার মস্ত একটা বুকের বোঝা নেমে গেল। বাস্‌রে বাস্! এত বড় দস্যি মেয়ে তুই! কী করে এতদিন চুপ করে ছিলি? জানটা যেন আমার রাত-দিনContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ঘ : পত্র তিন

করাচি সেনানিবাস ১৫ই ফেব্রুয়ারি (দুপুর) ভাবি সাহেবা! হাজার হাজার আদাব। আপনার চিঠি পেয়েছি। সব কথা বুঝে উত্তর দেওয়ার মত মনের অবস্থা নেই আর সময়ও নেই। পরে যদি সময় পাই আর ইচ্ছা হয়, তবে আপনার সবContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ঙ

বাঁকুড়া ২রা ফেব্রুয়ারি (নিশুত রাত্তির) কবি-সৈনিক নূরু! ‘একচোখো’ ‘এক-রোখো’ প্রভৃতি তোর দেওয়া ঝুড়ি ঝুড়ি বিশেষণ আমি আমার আঁতুড়-ঘর থেকে এই বিশ বছরের ‘যৈবন বয়েস’ নাগাদ বরাবর কুইনাইন-মিক্সচারের মতন গলাঃধকরণ করতে প্রাণপণে আপত্তি জানিয়েছি, কারণ সেসময়Continue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ চ

করাচি সেনানিবাস, (শ্রীঘর) ১৭ ফেব্রুয়ারি বাঁদর মনো! শুয়োর-পাজি-ছুঁচো-উল্লু-গাধা-ড্যাম-ব্লাডিফুল-বেল্লিক-বেলেল্লা-উজবুক-বেয়াদব-তমিজ!–ওঃ আর যে মনে পড়ছে না ছাই, নইলে এ চিঠিতে অন্য কিছুই না লিখে শুধু হাজার খানেক পৃষ্ঠা ধরে তোকে আষ্টে-পিষ্টে গাল দিয়ে তবে কখনও ক্ষান্ত হতাম! একটাContinue Reading

বাঁধনহারা

» পরিচ্ছেদ ছ

সালার, ১২ই ফাল্গুন ভাগ্যবতীসু, আমার বুক-ভরা স্নেহ-আশিস নাও। তারপর কিগো সব ‘কলমিলতা’ ‘সজনে ফুল’-এর দল, বলি–তোমরা যে-লতা যে-দলই হও তাতে আমার বিশেষ আপত্তি নেই, কিন্তু পথের পাশের এই ‘আলোক-লতা’, ‘ঘলঘসি ফুল’ দু-একটারও তো সেই সঙ্গেContinue Reading