☼ অনিল ভৌমিক ☼
ফ্রান্সিস সমগ্র
প্রথম প্রকাশ : শুভ দীপাবলী, ১৩৮৬; নভেম্বর, ১৯৭৯।
অষ্টম মুদ্রণ : শুভ অক্ষয় তৃতীয়া, ১৩৯৪; মে, ১৯৮৭।
প্রকাশনায়: সুপ্রিয়া পাল; উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির, সি-৩, কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলিকাতা, ৭০০০০৭ (প্রথম তলা)। প্রতিষ্ঠাতা: শরচ্চন্দ্র পাল; কিরীটিকুমার পাল।
মুদ্রাকর: সন্তোষী প্রিণ্টার্স, তাপস সাঁতরা; ১৪৩, গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেন, কলিকাতা-৯।
প্রচ্ছদচিত্র : নারায়ণ দেবনাথ; পরিকল্পনায় : দিব্যদ্যুতি পাল।
* * *
সোনার ঘণ্টা প্রসঙ্গে
ঘণ্টা সোনার কি রূপোর কি নেহাৎই তামার বা পিতলের, সেটা কোন বিচারের কথাই নয়। আসল যা হ’ল বিচার্য তা হচ্ছে ঘণ্টার ধ্বনি। সে ধ্বনি দিয়েই ঘণ্টার সত্যকার পরিচয়।
‘সোনার ঘণ্টা’ নামটির দরুণ যে কথাগুলি বলবার সুযোগ পেলাম শ্রীঅনিল ভৌমিকের সেই কিশোর উপন্যাসটি সম্বন্ধে সেগুলি বিশেষভাবে খাটে। বাংলা ভাষায় ছোটদের জন্য লেখা বই-এর সংখ্যা ইদানীং যথেষ্ট বাড়লেও সত্যিকার সার্থক লেখার দেখা খুব কমই মেলে। ‘সোনার ঘণ্টা’ তার মধ্যে একটি বিশেষভাবে সমাদর পাবার বই, একথা অসঙ্কোচে বলতে পারি। গল্পের বিষয় ও বলবার মুন্সিয়ানা সব দিক দিয়েই বইটি মনে রাখবার মত।
প্রেমেন্দ্র মিত্র
* * *
‘কসবা জগদীশ বিদ্যাপীঠ’-এর
প্রাক্তন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে–
নিবেদন
একটি চিত্রকাহিনীই “সোনার ঘণ্টা” উপন্যাসটির মূল প্রেরণা। সেই কাহিনী ঢেলে সাজাতে গিয়ে ঘটনা, চরিত্র সবকিছু আমাকে নতুন ক’রে ভাবতে হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ– ইহুদী জ্যাকব, কাসেম, মকবুল, ফজল, হ্যারি প্রভৃতি চরিত্রগুলো আমারই চিন্তার ফসল। কুয়াশা, ঝড় আর ডুবো পাহাড়ের প্রতিকুলতা পেরিয়ে সোনার ঘণ্টার দ্বীপে যাওয়া ও ফেরা, দু’টো মোহরে খোদিত নক্সার কাহিনী ইত্যাদি ঘটনাগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার মতো ক’রে আমাকে সাজাতে হয়েছে। অনেকস্থলে চিত্রকাহিনীর ফাঁকও পূরণ করতে হয়েছে। এইভাবে বর্তমান উপন্যাসের পূর্ণরূপ গড়ে উঠেছে।
সবিশেষ নিবেদন– উপন্যাসটি কিশোরদের জন্য রচিত। তাই কাহিনীর নায়ক ফ্রান্সিসকে নিচক এ্যাডভেঞ্চার বিলাসীরূপে অঙ্কন না ক’রে তাকে একটা জীবন-দর্শনের ভিত্তিভূমিতে প্রতিষ্ঠিত করবার চেষ্টা করেছি। কিশোরদের মনে এই দৃষ্টিভঙ্গীটুকু স্বীকৃতি পেলেই “সোনার ঘণ্টা” রচনা সার্থক ব’লে মনে করবো।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য– “সোনার ঘণ্টা” প্রথমে ‘শুকতারা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক উপন্যাসরূপে প্রকাশিত হয়েছিল।
* * *
আজকের দিনে যেসব জাতি পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করেছে, সমস্ত পৃথিবীর সবকিছুর উপরেই তাদের অপ্রতিহত উৎসুক্য। এমন দেশ নেই, এমন কাল নেই, এমন বিষয় নেই যার প্রতি তাদের মন ধাবিত না হচ্ছে।