মানুষের ঘরবাড়ি

» » চার

পড়াশোনার ব্যাপারটা আমাদের এখনও কিছু তেমন ঠিকঠাক হয়নি। দেশ ছেড়ে আসার সময় আমার কিছু বই সম্বল ছিল। ইতিহাস, ভূগোল, অঙ্ক সব ক্লাসেই চলবে এমন ভেবে বাবা পাকাপাকিভাবে বাক্সে তুলে রেখেছিলেন। দুটো একটা বের করে নিতেContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » পাঁচ

আমাদের খাওয়া-দাওয়াটা এখন কোনো নিয়মমাফিক ব্যাপার নয়! ভাত খাওয়াটা আমাদের কাছে ভোজের মতো। ভাত না থাকলে, বনআলু না পাওয়া গেলে শুধু গাছের পেঁপে সিদ্ধ করে খাওয়া। কিছু পেঁপে শহরে নিয়ে যেতে পারলে বিক্রি হত। দু-একদিনContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » ছয়

মাকে ফিরে এসে বললাম, বাবা বেথুয়াডহরি গেছেন। —কার কাছে? —বলে যাননি কিছু। –কবে ফিরবে, কিছু বলেনি? –না। মা’র মুখটা কেমন দুশ্চিন্তায় ভরে গেল। এই আবাস তৈরির পর, না অন্য কোনো কারণে, ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না,Continue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » সাত

সকালে উঠেই দেখি মা’র মুখ ভার। বাবার ওপর অভিমানে মা কারো সঙ্গে একটা কথা বলছে না। পিলু কোথায় গেল, দুপুর হয়ে গেল, এখনও ফিরে আসছে না— অন্য সময়ে মা স্থির থাকতে পারতো না। অথচ আজContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » আট

সকালে ঢাকের বাদ্যিতে বনভূমিটা জেগে গেল। ঠাকুরের নতুন ঘর উঠছে। ঠাকুর ঘরের জন্য শেষ পর্যন্ত দু বান টিন কিনে এনেছেন বাবা। এক বান টিন দিয়ে ঠাকুরের দোচালা ঘর, বাঁশের চাটাই-এর বেড়া। ছোট্ট একটা কাঠের সিংহাসনওContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » নয়

বাড়িতে ঠাকুরের অভিষেক হয়ে যাবার পর গাছপালা বনের মধ্যে আমাদের অনেকটা ভয় কেটে গেল। কাছে পিঠে নতুন আবাস এখনও তেমন গড়ে ওঠেনি। তেমনি মাঠ পার হলে পুলিসের ব্যারাক, কালীর দীঘি, বাদশাহী সড়ক— কেবল সেই চৌমাথায়Continue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » দশ

দেশ ছেড়ে আসার পর, দু-তিন বছর আমাদের কারো কেনো অসুখ হয়নি। এমন কি সামান্য সর্দি কাশিতেও কেউ ভুগিনি। মানুষের অসুখ বিসুখ থাকে আমরা প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম। গাছপালা আর মাটির সঙ্গে লেপ্টে থাকলে তাই বুঝি হয়।Continue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » এগার

সকালেও পিলুর জ্বরটা সারল না। মা গায়ে হাত দিয়ে বলল, দেখি। পিলু হাত সরিয়ে দিয়ে বলল, বলছি তো জ্বর নেই। মা তবু কপালে হাত রেখে বলল, জ্বর আছে। বের হবে না কোথাও। সকালে কিছু খাবেContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » বারো

এই বনভূমিটা তার জঙ্গল গাছপালা নিয়ে আগে একরকমের ছিল, মানুষের বাড়িঘর হয়ে যাওয়ায় এখন অন্যরকমের। দূরে দূরে দরমার বেড়া দিয়ে মানুষজন ঘরবাড়ি কেবল তুলছেই। বনজঙ্গল ক্রমশ শ্রীহীন হয়ে যাচ্ছিল। তবু বাবা তাঁর বাড়িঘরে নিয়ে আসছেনContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » তেরো

এইভাবে আমাদের দিন যায়। বাবা কালুবাবুর মা’র কাজে চণ্ডীপাঠের জন্য সকালে রওনা হয়ে গেলেন। বেলডাঙ্গা থেকে বাবাকে সাত ক্রোশের মতো পথ হেঁটে যেতে হবে। সকালের ট্রেনে স্টেশনে নামলে, রাতে রাতে পৌঁছে যাবেন। পরদিন কাজ। বাবাContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » চোদ্দ

যথারীতি বাবা তাঁর কথামত রাতে ফিরে এলেন না। মানুষটা আসবে ভেবে মা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে বসেছিল। আমি রাত জেগে অঙ্ক কষছিলাম। বাকি সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। মা দরজায় হেলান দিয়ে—কেমন নিরুপায় রমণীর মতো মুখ তাঁর।Continue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » পনের

খোঁড়া গরুটাকে নিয়ে আসার পর বাবার ঘরবাড়ি ষোলকলা পূর্ণ হয়ে গেল। কারণ অভাব বলতে তাঁর তখন সন্তান-সন্ততিদের পাতে একটু দুধ দেওয়াই ছিল প্রাণাধিক ইচ্ছা। ইচ্ছা-পূরণে বাবা আমার ক’দিন থেকে মেজাজী মানুষ। তারপর এল বাবার জীবনেContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » ষোল

আমি বাড়ি ফিরে আসায় পিলু ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পিলুর সব ছিল, গাছপালা, শস্যক্ষেত্র, বনজঙ্গল, খোঁড়া গরু—সব। কেবল দাদা নেই। দাদা ফেরার। সে নিজে কত জায়গায় দাদাকে খুঁজতে গেছে। নিবারণ দাসের আড়তে গিয়ে বলেছে,Continue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » সতের

এভাবেই আমি বড় হচ্ছিলাম। আমার মান-সম্মান বোধ এখন নানাভাবে আমাকে বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। লক্ষ্মীর আঁচল নিয়ে কাড়াকাড়ির বিষয়টা মাঝে মাঝে আমাকে এখনও তাড়া করে। থিতু হয়ে কোথাও যেন বসতে পারি না। কেবল মনে হয়,Continue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » আঠারো

আজকাল জানলায় বসে থাকলে কত কিছু টের পাই। আমার এই ছোট্ট জানলা এখন ভারি প্রিয়। মানুষের বুঝি এমনই হয়। যেখানে নিত্যদিন তার বসবাস, শোওয়া থাকা, এক রকমের অভ্যাসের দাস বলা চলে, আমার মধ্যে সেই দাসত্বContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » এক

শেষ পর্যন্ত সাদুল্লা আমগাছটায় মুকুল আসায় বাবার গাছ লাগানো যেন ষোল আনা সার্থক। বাবার একটাই দুঃখ ছিল, গাছের কলমটা তাহলে সৈয়দ আলি ঠিক দেয় নি। সব গাছে মুকুল আসে, এটায় আসে না কেন—হাতের দোষ মনেContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » দুই

আসলে বুঝতে পারছি আমি অন্যমনস্ক থাকার চেষ্টা করছি। ছিমছাম বাংলো বাড়ির দিকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটা সবুজ লন। বড় একটা নীল রঙের নেট টাঙানো। দু’পাশে নীল রঙের বেতের চেয়ার সাজানো। ওটা পার হলেই সুন্দরContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » তিন

মনে পড়ে কবে এক তারাভরা রাতের বাতাসে/ধর্মাশোকের ছেলে মহেন্দ্রের সাথে/ উতরোল বড় সাগরের পথে অন্তিম আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রাণে/তবুও কাউকে আমি পারি নি বোঝাতে/ সেই ইচ্ছা সংঘ নয়, শক্তি নয়, কর্মীদের সুধীদের বিবর্ণতা নয়, আরো আলোContinue Reading

মানুষের ঘরবাড়ি

» » চার

ঘাসের উপর শুয়ে যেন স্বপ্ন দেখছিলাম। টিউশনিটা ছাড়তে পারছি না। অথচ বড় ইজ্জতে লাগছে। চাকর-বাকরের মতো ব্যবহার। এমন কি এক কাপ চা পর্যন্ত দেয় না। সাহেবের বাপ কাছ থেকে নড়ে না। মেয়ে দুটো পড়ে, আমিContinue Reading