» দ্বাবিংশ উপাখ্যান

বেতাল কহিল, মহারাজ! বিশ্বপুর নগরে নারায়ণ নামে ব্ৰাহ্মণ ছিলেন। এক দিন, তিনি মনে মনে বিবেচনা করিতে লাগিলেন, এক্ষণে, বাৰ্ধক্যবশতঃ, আমার শরীর দুর্বল ও ইন্দ্ৰিয় সকল বিকল হইয়াছে; কিন্তু ভোগাভিলাষ পূর্ব অপেক্ষা প্রদীপ্ত হইতেছে। আমি পরকলেবরপ্ৰবেশনীContinue Reading

» ত্ৰয়োবিংশ উপাখ্যান

বেতাল কহিল, মহারাজ! ধৰ্মপুরে গোবিন্দ নামে ব্ৰাহ্মণ ছিলেন। তাঁহার দুই পুত্র। তন্মধ্যে একজন ভোজনবিলাসী; অর্থাৎ, অন্নে ও ব্যঞ্জনে যদি কোনও দোষ থাকিত, তাহা দুজ্ঞেয় হইলেও, ঐ অন্নের ও ঐ ব্যঞ্জনের ভক্ষণে তাহার প্রবৃত্তি হইত না;Continue Reading

» চতুর্বিংশ উপাখ্যান

বেতাল কহিল, মহারাজ! কলিঙ্গদেশে যজ্ঞশৰ্মা নামে ব্ৰাহ্মণ ছিলেন। তিনি, অনেক কাল, অনেক দেবতার আরাধনা করিয়া, একমাত্র পুত্র প্রাপ্ত হয়েন। ঐ পুত্ৰ, অল্পকালমধ্যে, সর্ব শাস্ত্রে সবিশেষ পারদর্শী হইল; এবং, অনন্যকর্ম ও অনন্যধর্ম হইয়া, নিরন্তর পিতামাতার সেবাContinue Reading

» পঞ্চবিংশ উপাখ্যান‌

বেতাল কহিল, মহারাজ! দাক্ষিণাত্য দেশে ধর্মপুর নামে নগর আছে। তথায়, মহাবল নামে, মহাবল পরাক্রান্ত মহীপতি ছিলেন। এক প্রবল প্রতিপক্ষ রাজা, চতুরঙ্গিণী সেনা লইয়া, তদীয় রাজধানীর অবরোধ করিলে, রাজা মহাবল, স্বীয় সমস্ত সৈন্যসামন্ত সমভিব্যাহারে, সমরসাগরে অবগাহনContinue Reading

» উপসংহার

বেতাল কহিল, মহারাজ! আমি তোমার সাহস ও অধ্যবসায় দর্শনে অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছি। এক্ষণে তোমায় কিছু উপদেশ দিতেছি, অবধানপূর্বক শ্রবণ কর। যে যোগী তোমায় শবানয়নে নিযুক্ত করিয়াছে, সে কুম্ভকারকুলে উৎপন্ন; তাহার নাম শান্তশীল। আর, যে শবContinue Reading

» বাঙ্গালার ইতিহাস : দ্বিতীয় ভাগ

বাঙ্গালার ইতিহাসের দ্বিতীয় ভাগ, শ্ৰীযুক্ত মার্শমন সাহেবের রচিত ইঙ্গরেজী গ্রন্থের শেষ নয় অধ্যায় অবলম্বন পূর্ব্বক, সঙ্কলিত, ঐ গ্রন্থের অবিকল অনুবাদ নহে। কোনও কোনও অংশ, অনাবশ্যক বোধে, পরিত্যক্ত হইয়াছে, এবং কোনও কোনও বিষয়, আবশ্যক বোধে, গ্রন্থান্তর হইতে সঙ্কলন পূর্ব্বক, সন্নিবেশিত হইয়াছে।Continue Reading

» জীবনচরিত

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘জীবনচরিত’ চেম্বার্স বায়োগ্রাফী পুস্তকের অনুবাদ। এতে গালিলিও, নিউটন, হর্শেল, ডুবাল, জোন্স প্রভৃতির জীবনচরিত আলোচিত হয়েছে। এডুলিচার বিদ্যাসাগর রচনাবলীতে আমরা শ্রীব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংগৃহিত ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দে মুদ্রিত দশম সংস্করণের পাঠ অনুসরণ করেছি। Continue Reading

» বলণ্টিন জামিরে ডুবাল

ফ্রান্স রাজ্যে সাম্পেন নামে এক প্রদেশ আছে, ১৬৯৫ খৃঃ অব্দে, ডুবাল ঐ প্রদেশের অন্তর্বর্ত্তী আর্টনি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতা অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন, সামান্যরূপ কৃষিকৰ্ম্ম মাত্র অবলম্বন করিয়া, যথাকথঞ্চিৎ পরিবারের ভরণপোষণ নিৰ্বাহ করিতেন। ডুবালের দশবর্ষContinue Reading

» গ্রোশ্যস

গ্রোশ্যাস, ১৫৮৩ খৃঃ অব্দে, হলণ্ডের অন্তঃপাতী ডেল্‌ফট নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশবকালেই অসাধারণবিদ্যোপার্জ্জন দ্বারা অত্যন্ত খ্যাতি প্ৰাপ্ত হইয়াছিলেন; অষ্টবৰ্ষ বয়ঃক্রমকালে, লাটিন ভাষায় কাব্যরচনা করেন; চতুর্দশ বৎসরের সময়, পণ্ডিতসমাজে গণিত, ব্যবহারসংহিতা ও দর্শনশাস্ত্রের বিচার করিতে পারিতেন;Continue Reading

» সর উইলিয়ম জোন্স

উইলিয়ম জোন্স, ১৭৪৬ খৃঃ অব্দে ২০এ সেপ্‌টেম্বর, লণ্ডন নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার তৃতীয় বৎসর বয়ঃক্রম কালে পিতৃবিয়োগ হয়; সুতরাং তাঁহার শিক্ষার ভার তাঁহার জননীর উপর বর্ত্তে। এই নারী অসামান্যগুণসম্পন্না ছিলেন। জোন্স অতি শৈশবকালেই অদ্ভুত পরিশ্রমContinue Reading

» লিনিয়স

সুইডেন রাজ্যের অন্তর্গত স্মিলণ্ড প্রদেশে রাসল্ট নামে এক গ্রাম আছে। চার্লস লিনিয়স, ১৭০৭ খৃঃ অব্দে, তথায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতা মাতা অতি দীন গ্রামপুরোহিত ছিলেন। লিনিয়স, অত্যন্ত দরিদ্র ও অগণ্য হইয়াও, অলোকসামান্য বুদ্ধিশক্তি, মহোৎসাহশীলতা ওContinue Reading

পঞ্চম পরিচ্ছেদ : লুব্ধ

মৃণালিনী বা গিরিজায়া এতন্মধ্যে কেহই আত্মপ্রতিশ্রুতি বিস্মৃতা হইলেন না। উভয়ে প্রহরেক রাত্রিতে হৃষীকেশের গৃহপার্শ্বে সংমিলিত হইলেন। মৃণালিনী গিরিজাকে দেখিবামাত্র কহিলেন, “কই, হেমচন্দ্র কোথায়?” গিরিজায়া কহিল, “তিনি আইসেন নাই।” “আইসেন নাই!” এই কথাটি মৃণালিনীর অন্তস্তল হইতেContinue Reading

চতুর্থ পরিচ্ছেদ : দূতী

লক্ষ্মণাবতী নগরীর প্রদেশান্তরে সর্বধন বণিকের বাটীতে হেমচন্দ্র অবস্থিতি করিতেছিলেন। বণিকের গৃহদ্বারে এক অশোকবৃক্ষ বিরাজ করিতেছিল; অপরাহ্নে তাহার তলে উপবেশন করিয়া, একটি কুসুমিত অশোকশাখা নিষ্প্রয়োজনে হেমচন্দ্র ছুরিকা দ্বারা খণ্ড খণ্ড করিতেছিলেন, এবং মুহুর্মুহুঃ পথপ্রতি দৃষ্টি করিতেছিলেন,Continue Reading

তৃতীয় পরিচ্ছেদ : ভিখারিণী

সখীদ্বয় এই সকল কথাবার্তা কহিতেছিলেন, এমন সময়ে কোমলকণ্ঠনি:সৃত মধুর সঙ্গীত তাঁহাদিগের কর্ণরন্ধ্রে প্রবেশ করিল। “মথুরাবাসিনি, মধুরহাসিনি, শ্যামবিলাসিনি-রে!” মৃণালিনী কহিলেন, “সই, কোথায় গান করিতেছে?” মণিমালিনী কহিলেন, “বাহির বাড়ীতে গায়িতেছে!” গায়ক গায়িতে লাগিল। “কহ লো নাগরি, গেহContinue Reading

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : পিঞ্জরের বিহঙ্গী

লক্ষ্মণাবতী-নিবাসী হৃষীকেশ সম্পন্ন বা দরিদ্র ব্রাহ্মণ নহেন। তাঁহার বাসগৃহের বিলক্ষণ সৌষ্ঠব ছিল। তাঁহার অন্ত:পুরমধ্যে যথায় দুইটি তরুণী কক্ষপ্রাচীরে আলেখ্য লিখিতেছিলেন, তথায় পাঠক মহাশয়কে দাঁড়াইতে হইবে। উভয় রমণীই আত্মকর্মে সবিশেষ মনোভিনিবেশ করিয়াছিলেন, কিন্তু তন্নিবন্ধন পরস্পরের সহিতContinue Reading

প্রথম পরিচ্ছেদ : আচার্য

একদিন প্রয়াগতীর্থে, গঙ্গাযমুনা-সঙ্গমে, অপূর্ব প্রাবৃট্র‍দিনান্তশোভা প্রকটিত হইতেছিল। প্রাবৃট্।‍কাল, কিন্তু মেঘ নাই, অথবা যে মেঘ আছে, তাহা স্বর্ণময় তরঙ্গমালাবৎ পশ্চিম গগনে বিরাজ করিতেছিল। সূর্যদেব অস্তে গমন করিয়াছিলেন। বর্ষার জলসঞ্চারে গঙ্গা যমুনা উভয়েই সম্পূর্ণশরীরা, যৌবনের পরিপূর্ণতায় উন্মদিনী,Continue Reading

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ : হৃষীকেশ

মৃণালিনীর সঙ্গে সঙ্গে তাঁহার শয়নাগারে আসিয়া হৃষীকেশ কহিলেন, “মৃণালিনী! তোমার এ কি চরিত্র?” মৃ। আমার কি চরিত্র? হৃ। তুমি কার মেয়ে, কি চরিত্র কিছুই জানি না, গুরুর অনুরোধে আমি তোমাকে গৃহে স্থান দিয়াছি। তুমি আমারContinue Reading

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

সীতারামের এক গুরুদেব ছিলেন। তিনি ভট্টাচার্য্য অধ্যাপক গোছ মানুষ, তসর নামাবলী পরা, মাথাটি যত্নপূর্ব্বক কেশশূন্য করিয়াছেন, অবশিষ্ট আছে—কেবল এক “রেফ”। কেশাভাবে চন্দনের যথেষ্ট ঘটা,—খুব লম্বা ফোঁটা, আর আর বামুনগিরির সমান সব আছে। তাঁহার নাম চন্দ্রচূড়Continue Reading

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এক খুব বড় ফর্‌দা জায়গায়, সহরের বাহিরে, গঙ্গারাম দাসের কবর প্রস্তুত হইয়াছিল। বন্দী সেখানে আসিবার আগেই লোক আসিতে আরম্ভ হইল। অতি প্রত্যূষে,—তখনও গাছের আশ্রয় হইতে অন্ধকার সরিয়া যায় নাই—অন্ধকারের আশ্রয় হইতে নক্ষত্র সব সরিয়া যায়Continue Reading