গীতিগুচ্ছ » শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল
৯ শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল ফুলের বনে, শিউলি-বকুল উদাস হল ক্ষণে ক্ষণে, ধূলি-ওড়া পথের ‘পরে বনের পাতা শীতের ঝড়ে যায় ভেসে ক্ষীণ মলিন হেসে আপন মনে রাতের বেলা বইল বাতাস নিরুদ্দেশে, কাঁপনটুকু রইল শুধু বনেরContinue Reading
৯ শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল ফুলের বনে, শিউলি-বকুল উদাস হল ক্ষণে ক্ষণে, ধূলি-ওড়া পথের ‘পরে বনের পাতা শীতের ঝড়ে যায় ভেসে ক্ষীণ মলিন হেসে আপন মনে রাতের বেলা বইল বাতাস নিরুদ্দেশে, কাঁপনটুকু রইল শুধু বনেরContinue Reading
১০ কিছু দিয়ে যাও এই ধূলিমাখা পান্থশালায়, কিছু মধু দাও আমার বুকের ফুলের মালায়। কত জন গেল এ পথ দিয়ে আমার বুকের সুবাস নিয়ে কিছু ধন তারা দিয়ে গেল মোর সোনার থালায়। পথ চেয়ে আমিContinue Reading
১১ ক্লান্ত আমি, ক্লান্ত আমি কর ক্ষমা, মুক্তি দাও হে এ-মরু তরুরে, প্রিয়তমা। ছিন্ন কর এ গ্রন্থিডোর রিক্ত হয়েছে চিত্ত মোর নেমেছে আমার হৃদয়ে শ্রান্তি ঘন-অমা। যে আসব ছিল তোমার পাত্রে, শোষণ করেছি দিনে ওContinue Reading
১২ সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন শাল-পিয়ালের বন, তারই আভাস দিল আমায় হঠাৎ সমীরণ। কুটির ছেড়ে বাইরে এসে দেখি আকাশকোণে তারার লেখালেখি শুরু হয়ে গেছে বহুক্ষণ। আজকে আমার মনের কোণে কে দিল যে গান, ক্ষণে ক্ষণেContinue Reading
১৩ কঙ্কণ-কিঙ্কিণী মঞ্জুল মঞ্জীর ধ্বনি, মন অন্তর-প্রাঙ্গণে আসন্ন হল আগমনী। ঘুমভাঙা উদ্বেল রাতে, আধ-ফোটা ভীরু জ্যোৎস্নাতে কার চরণের ছোঁয়া হৃদয়ে উঠিল রণরণি মেঘ-অঞ্জন-ঘন কার এই আঁখি পাতে লিখা, বন্দন-নন্দিত উৎসবে জ্বালা দীপশিখা। মুকুলিত আপনার ভারেContinue Reading
১৪ মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে― কে তুমি আমারে ডাকিলে শ্রাবণ বাতাসে? তোমার আহ্বান ধ্বনি― পরশিয়া মোরে গরজিল দূর আকাশে। বেদনা বিভোল আমি ক্ষণেক দুয়ারে থামি বাহিরে ধূসর দিনে― ছুটে চলি পথে মদির-বিবশ নিশাসে। মেঘে মেঘে ছাওয়া মলিনContinue Reading
১৫ গুঞ্জরিয়া এল অলি; যেথা নিবেদন অঞ্জলি। পুষ্পিত কুসুমের দলে গুন্গুন্ গুঞ্জিয়া চলে দলে দলে যেথা ফোটা-কলি। আমার পরাণে ফুল ফুটিল যবে, তখন মেতেছি আমি কী উৎসবে। আজ মোর ঝরিবার পালা, সব মধু হয়ে গেছেContinue Reading
১৬ কোন অভিশাপে নিয়ে এল এই বিরহ বিধুর-আষাঢ়। এখানে বুঝি বা শেষ হয়ে গেছে উচ্ছল ভালবাসার। বিরহী যক্ষ রামগিরি হতে পাঠাল বারতা জলদের স্রোতে প্রিয়ার কাছেতে জানাতে চাহিল সব শেষ সব আশার॥ আমার হৃদয়ে এলContinue Reading
১৭ ভুল হল বুঝি এই ধরণীতলে, তাই প্রাণে চিরকাল আগুন জ্বলে তাই আগুন জ্বলে। দিনের শেষে এক প্লাবন এসে জানি ঘিরিবে আমার মন কৌতূহলে, নব কৌতূহলে। আমার জীবনে ভুল ছিল না বুঝি, তাই বারে বারেContinue Reading
১৮ মুখ তুলে চায় সুবিপুল হিমালয়, আকাশের সাথে প্রণয়ের কথা কয়, আকাশ কহিছে ডেকে, কথা কও কোথা থেকে? তুমি যে ক্ষুদ্র মোর কাছে মনে হয়॥ হিমালয় তাই মূর্ছিত অভিমানে, সে কথা কেহ না জানে। ব্যর্থContinue Reading
১৯ ফোটে ফুল আসে যৌবন সুরভি বিলায় দোঁহে বসন্তে জাগে ফুলবন অকারণে যায় বহে॥ কোনো এককাল মিলনে, বিশ্বেরে অনুশীলনে কাটে জানি জানি অনুক্ষণ অতি অপরূপ মোহে॥ ফুল ঝরে আর যৌবন চলে যায়, বার বার তারাContinue Reading
‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়। তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে।Continue Reading
রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়Continue Reading
একটি মাছি একজন মানুষের কাছে উড়ে এসে বলল : তুমি সব জানোয়ারের মুরুব্বি, তুমি সব কিছুই করতে পার, কাজেই আমাকে একটি লেজ করে দাও। মানুষটি বললে : কি দরকার তোমার লেজের? মাছিটি বললে : আমিContinue Reading
একটি লোকের একটা ষাঁড়, একটা গাধা আর একটা ছাগল ছিল। লোকটি বেজায় অত্যাচার করত তাদের ওপর। ষাঁড়কে দিয়ে ঘানি টানাত, গাধা দিয়ে মাল বওয়াত আর ছাগলের সবটুকু দুধ দুয়ে নিয়ে বাচ্চাদের কেটে কেটে খেত, কিন্তুContinue Reading
[পাত্র-পাত্রী : ইন্দ্র, ব্রহ্মা, নারদ, অগ্নি, বরুণ ও পবন ] ইন্দ্র : কি ব্যাপার? ব্রহ্মা : আমার এত কষ্টের ব্রহ্মাণ্ডটা বোধহয় ছারখার হয়ে গেল। হায়—হায়—হায়! নারদ : মানুষের হাত থেকে স্বর্গের আর নিস্তার নেই মহারাজ,Continue Reading
সূর্য যখন লাল টুকটুকে হয়ে দেখা দেয় ভোরবেলায়, রাখাল ছেলে তখন গরু নিয়ে যায় মাঠে। আর সাঁঝের বেলায় যখন সূর্য ডুবে যায় বনের পিছনে, তখন তাকে দেখ যায় ফেরার পথে। একই পথে তার নিত্য যাওয়া-আসা।Continue Reading
সুকান্ত ভট্টাচার্য যে সকল পত্র লিখেছেন, তার মধ্যে বেশির ভাগই বন্ধু অরুণাচলকে লেখা। ‘পত্রগুচ্ছে’ অরুণাচল ও অন্যান্যদের লেখা তাঁর পত্রগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। সারস্বত লাইব্রেরী, ২০৬ বিধান সরণী, কলিকাতা-৬ থেকে প্রকাশিত ‘সুকান্ত সমগ্র’র ২৭১ থেকে ৩৪৩Continue Reading
বেলেঘাটা ৩৪ হরমোহন ঘোষ লেন, কলিকাতা। শ্রীরুদ্রশরণম্ পরম হাস্যাম্পদ, অরুণ,—আমার ওপর তোমার রাগ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক, আর আমিও তোমার রাগকে সমর্থন করি। কারণ, আমার প্রতিবাদ করবার কোনো উপায় নেই, বিশেষত তোমার স্বপক্ষে আছে যখন বিশ্বাসভঙ্গেরContinue Reading
শ্রদ্ধাস্পদাসু, মা, আপনার ছোট্ট মৌচাকটি আমার হস্তগত হল। কিন্তু কৃপণতার জন্য দুঃখ পেলাম। আপনি আমায় যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি যেতে বলেছেন। আপনার আগ্রহ আমায় লজ্জা দিচ্ছে তাড়াতাড়ি যেতে পারছি না বলে। আপনার আগ্রহ উপেক্ষা করতে পারব বলেContinue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬