চোখের চাতক » আমার সাম্পান যাত্রী না লয়
১৮ ভাটিয়ালি–কার্ফা আমার সাম্পান যাত্রী না লয় ভাঙা আমার তরী। আমি আপনারে লয়ে রে ভাই এপার ওপার করি॥ আমায় দেউলিয়া করেছে রে ভাই যে নদীর জল আমি ডুবে দেখতে এসেছি ভাই সেই জলেরই তল। আমিContinue Reading
১৮ ভাটিয়ালি–কার্ফা আমার সাম্পান যাত্রী না লয় ভাঙা আমার তরী। আমি আপনারে লয়ে রে ভাই এপার ওপার করি॥ আমায় দেউলিয়া করেছে রে ভাই যে নদীর জল আমি ডুবে দেখতে এসেছি ভাই সেই জলেরই তল। আমিContinue Reading
১৯ ভাটিয়ালি–কাহারবা ওরে মাঝি ভাই। তুই কী দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥ তোর ঘরের রশি ছিঁড়ে রে গেল– ঘাটের কড়ি নাই, তুই মাঝদরিয়ায় ভেসে চলিস ভাসিয়ে তরি তাই। ও ভাই দরিয়ায় আসে জোয়ার-ভাটি রেContinue Reading
২০ কীর্তন কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া গো॥ আমি যত ভুলি ভুলি করি তত আঁকড়িয়া ধরি তত মরি সাধিয়া সাধিয়া সাধিয়া সাধিয়া গো॥ শ্যামের সে রূপ ভোলা কি যায় নিখিল শ্যামল যার শোভায়।Continue Reading
২১ দেশ-পিলু–দাদরা আঁধার রাতে কে গো একেলা নয়ন-সলিলে ভাসালে ভেলা। কাঁদিয়া কারে খোঁজো ওপারে আজও যে তোমার প্রভাতবেলা॥ কী দুখে আজি যোগিনী সাজি আপনারে লয়ে এ হেলাফেলা॥ সোনার কাঁকন ও দুটি করে হেরো গো জড়ায়েContinue Reading
২২ ভাটিয়ালি–কার্ফা কী হবে লাল পাল তুলে ভাই সাম্পানের উপর। তোর পালে যত লাগবে হাওয়া রে ও ভাই ঘর হবে তোর ততই পর॥ তোর কী দুঃখ হায় ভুলতে চাস ভাই, ছেঁড়া পাল রাঙিয়ে, এবার পরানContinue Reading
সুকান্তের কবিতা আজও সমান আদরনীয়। এর প্রধান কারণ, কবিতার বিষয়বস্তু, শব্দচয়নে ও ধ্বনিসৌকর্যে তাঁর অসামান্য দক্ষতা, ছন্দ ও মিলের উপরে তাঁর অসামান্য দখল এবং ঘৃণা ও ক্রোধে সংযত অভিব্যক্তি। এই কাব্যিক গুণাবলী তাঁর কবিতাকে অমরContinue Reading
বাংলা সাহিত্যের একটি প্রিয়তম নাম সুকান্ত ভট্টাচার্য। বাঙালীর ঘরে ঘরে নিঃসন্দেহে একটি প্রিয়তম গ্রন্থ হবে ‘সুকান্ত-সমগ্র’। সুকান্তর সব লেখা একত্রে পাওয়ার বাসনা আমাদের বহু দিনের এবং বহু জনের। এতদিনে সে আকাঙ্ক্ষা মিটিয়ে সারস্বত লাইব্রেবী আমাদেবContinue Reading
প্রকাশকের কথা ‘সুকান্ত-সমগ্র’র ষষ্ঠ সংস্করণে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও পরিবর্তন করা হল। ‘ক্ষুধা’, ‘দুর্বোধ্য’, ‘ভদ্রলোক’, ‘দরদ কিশোর ও “কিশোরের স্বপ্ন’—এই পাঁচটি গল্প এবং ‘ছন্দ ও অণবৃত্তি’ প্রবন্ধটি এই সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত হয়েছে ‘ব্যর্থতা’ ওContinue Reading
ছাড়পত্র সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে। মাত্র একুশ বছর বয়সে সুকান্ত মারা যাবার কিছুদিন পূর্বে এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সুকান্ত যখন রোগাক্রান্তContinue Reading
যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে তার মুখে খবর পেলুম : সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে। খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত উত্তোলিত, উদ্ভাসিত কী একContinue Reading
জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ, আমি তো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ; মাটিতে লালিত ভীরু, শুধু আজ আকাশের ডাকে মেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, স্বপ্ন ঘিরে রয়েছে আমাকে। যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজেContinue Reading
এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি, প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি, এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি, নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি। এখনো প্রাণের স্তরে স্তরে, তোমার দানের মাটি সোনার ফসল তুলেContinue Reading
ভাঙা কুঁড়ে ঘরে থাকি : পাশে এক বিরাট প্রাসাদ প্রতিদিন চোখে পড়ে; সে প্রাসাদ কী দুঃসহ স্পর্ধায় প্রত্যহ আকাশকে বন্ধুত্ব জানায়; আমি তাই চেয়ে চেয়ে দেখি। চেয়ে চেয়ে দেখি আর মনে মনে ভাবি— এ অট্টালিকারContinue Reading
খবর আসে! দিগ্দিগন্ত থেকে বিদ্যুদ্বাহিনী খবর; যুদ্ধ, বিদ্রোহ, বন্যা, দুর্ভিক্ষ ঝড় —এখানে সাংবাদিকতার নৈশ নৈঃশব্দ্য। রাত গভীর হয় যন্ত্রের ঝঙ্কৃত ছন্দে— প্রকাশের ব্যগ্রতায়; তোমাদের জীবনে যখন নিদ্রাভিভূত মধ্যরাত্রি চোখে স্বপ্ন আর ঘরে অন্ধকার। অতল অদৃশ্যContinue Reading
ওখানে এখন মে-মাস তুষার-গলানো দিন, এখানে অগ্নি-ঝরা বৈশাখ নিদ্রাহীন; হয়তো ওখানে শুরু মন্থর দক্ষিণ হাওয়া; এখানে বোশেখী ঝড়ের ঝাপ্টা পশ্চাৎ ধাওয়া; এখানে সেখানে ফুল ফোটে আজ তোমাদের দেশে কত রঙ, কত বিচিত্র নিশি দেখা দেয়Continue Reading
কালো মৃত্যুরা ডেকেছে আজকে স্বয়ম্বরায়, নানাদিকে নানা হাতছানি দেখি বিপুল ধরায়। ভীত মন খোঁজে সহজ পন্থা, নিষ্ঠুর চোখ; তাই বিষাক্ত আস্বাদময় এ মর্তলোক, কেবলি এখানে মনের দ্বন্দ আগুন ছড়ায়। অবশেষে ভুল ভেঙেছে, জোয়ার মনের কোণে,Continue Reading
হে সূর্য! শীতের সূর্য! হিমশীতল সুদীর্ঘ রাত তোমার প্রতীক্ষায় আমরা থাকি, যেমন প্রতীক্ষা ক’রে থাকে কৃষকদের চঞ্চল চোখ, ধানকাটার রোমাঞ্চকর দিনগুলির জন্যে। হে সূর্য, তুমি তো জানো, আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব ! সারারাত খড়কুটোContinue Reading
একটি মোরগ হঠাৎ আশ্রয় পেয়ে গেল বিরাট প্রাসাদের ছোট্ট এক কোণে, ভাঙা প্যাকিং বাক্সের গাদায়– আরো দু’তিনটি মুরগীর সঙ্গে। আশ্রয় যদিও মিলল, উপযুক্ত আহার মিলল না। সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে প্রতিবাদ জানিয়ে গলা ফাটাল সেই মোরগ ভোরContinue Reading
আমরা সিঁড়ি, তোমরা আমাদের মাড়িয়ে প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও, তারপর ফিরেও তাকাও না পিছনের দিকে; তোমাদের পদধূলিধন্য আমাদের বুক পদাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় প্রতিদিন। তোমরাও তা জানো, তাই কার্পেটে মুড়ে রাখতে চাও আমাদের বুকেরContinue Reading
কলম, তুমি কত না যুগ কত না কাল ধরে অক্ষরে অক্ষরে গিয়েছ শুধু ক্লান্তিহীন কাহিনী শুরু ক’রে। কলম, তুমি কাহিনী লেখো, তোমার কাহিনী কি দুঃখে জ্বলে তলোয়ারের মতন ঝিকিমিকি? কলম, তুমি শুধু বারংবার, আনত ক’রেContinue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬