তৃতীয় পরিচ্ছেদ : সুন্দরীসন্দর্শনে

_______ধর দেবি মোহন মূরতি দেহ আজ্ঞা, সাজাই ও বরবপু আনি নানা আভরণ! মেঘনাদবধ নবকুমার গৃহস্বামীকে ডাকিয়া অন্য প্রদীপ আনিতে বলিলেন। অন্য প্রদীপ আনিবার পূর্বে একটি দীর্ঘনিশ্বাসশব্দ শুনিতে পাইলেন। প্রদীপ আনিবার ক্ষণেক পরে ভৃত্যবেশী একজন মুসলমানContinue Reading

চতুর্থ পরিচ্ছেদ : শিবিকারোহণে

“_________________খুলিনু সত্বরে, কঙ্কণ, বলয়, হার, সীঁথি, কণ্ঠমালা, কুণ্ডল, নূপুর কাঞ্চি।” মেঘনাদবধ গহনার দশা কি হইল, বলি শুন। মতিবিবি গহনা রাখিবার জন্য একটি রৌপ্যজড়িত হস্তিদন্তের কৌটা পাঠাইয়া দিলেন। দস্যুরা তাঁহার অল্প সামগ্রীই লইয়াছিল–নিকটে যাহা ছিল, তদ্ব্যতীতContinue Reading

পঞ্চম পরিচ্ছেদ : স্বদেশে

“শব্দাখ্যেয়ং যদপি কিল তে যঃ সখীনাং পুরস্তাৎ। কর্ণে লোলঃ কথয়িতুমভূদাননস্পর্শলোভাৎ॥” মেঘদূত নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে লইয়া স্বদেশে উপনীত হইলেন। নবকুমার পিতৃহীন, তাঁহার বিধবা মাতা গৃহে ছিলেন, আর দুই ভগিনী ছিল। জ্যেষ্ঠা বিধবা; তাহার সহিত পাঠক মহাশয়ের পরিচয়Continue Reading

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ : অবরোধে

“কিমিত্যপাস্যাভরণানি যৌবনে ধৃতং ত্বয়া বার্ধকশোভি বল্কলম্। বদ প্রদোষে স্ফুটচন্দ্রতারকা বিভাবরী যদ্যরুণায় কল্পতে॥” — কুমারসম্ভব সকলেই অবগত আছেন যে, পূর্বকালে সপ্তগ্রাম মহাসমৃদ্ধিশালী নগর ছিল। এককালে যবদ্বীপ হইতে রোমক পর্যন্ত সর্বদেশের বণিকেরা বাণিজ্যার্থ এই মহানগরে মিলিত হইত।Continue Reading

প্রথম পরিচ্ছেদ : ভূতপূর্বে

“কষ্টোহয়ং খলু ভৃত্যভাবঃ।” রত্নাবলী। যখন নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে লইয়া চটি হইতে যাত্রা করেন, তখন মতিবিবি পথান্তরে বর্ধমানাভিমুখে যাত্রা করিলেন। যতক্ষণ মতিবিবি পথবাহন করে, ততক্ষণ আমরা তাঁহার পূর্ববৃত্তান্ত কিছু বলি। মতির চরিত্র মহাদোষ কলুষিত, মহদ্গুণেও শোভিত। এরূপContinue Reading

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : পথান্তরে

“যে মাটিতে পড়ে লোকে উঠে তাই ধরে বারেক নিরাশ হয়ে কে কোথায় মরে॥ তুফানে পতিত কিন্তু ছাড়িব না হাল। আজিকে বিফলা হলো, হতে পারে কাল॥” নবীন তপস্বিনী যে দিন নবকুমারকে বিদায় করিয়া মতিবিবি বা লুৎফ-উন্নিসাContinue Reading

তৃতীয় পরিচ্ছেদ : প্রতিযোগিনী-গৃহে

“শ্যামাদন্যো নহি নহি প্রাণনাথে মমাস্তি।” উদ্ধবদূত এ সময়ে শের আফগান বঙ্গদেশের সুবাদারের অধীনে বর্ধমানের কর্মাধ্যক্ষ হইয়া অবস্থিতি করিতেছিলেন। মতিবিবি বর্ধমানে আসিয়া শের আফগানের আলয়ে উপনীত হইলেন। শের আফগান সপরিবারে তাঁহাকে অত্যন্ত সমাদরে তথায় অবস্থিতি করাইলেন।Continue Reading

চতুর্থ পরিচ্ছেদ : রাজনিকেতনে

“পত্নীভাবে আর তুমি ভেবো না আমারে।” বীরাঙ্গানা কাব্য মতি আগ্রায় উপনীতা হইলেন। আর তাঁহাকে মতি বলিবার আবশ্যক করে না। কয়দিনে তাঁহার চিত্তবৃত্তিসকল একেবারে পরিবর্তিত হইয়াছিল। জাহাঁগীরের সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ হইল। জাহাঁগীর তাঁহাকে পূর্ববৎ সমাদর করিয়া,Continue Reading

পঞ্চম পরিচ্ছেদ : আত্মমন্দিরে

“জনম অবধি হম রূপ নেহারনু নয়ন না তিরপিত ভেল। সোই মধুর বোল শ্রবণহি শুননু শ্রুতিপথে পরশ না গেল॥ কত মধুযামিনী রভসে গোঁয়ায়নু না বুঝনু কৈছন কেল। লাখ লাখ যুগ হিয়ে হিয়ে রাখনু তবু হিয়া জুড়ানContinue Reading

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ : চরণতলে

“কায় মনঃ প্রাণ আমি সঁপিব তোমারে। ভুঞ্জ আসি রাজভোগ দাসীর আলয়ে॥” বীরাঙ্গানা কাব্য ক্ষেত্রে বীজ রোপিত হইলে আপনিই অঙ্কুর হয়। যখন অঙ্কুর হয়, তখন কেহ জানিতে পারে না–কেহ দেখিতে পায় না। কিন্তু একবার বীজ রোপিতContinue Reading

সপ্তম পরিচ্ছেদ : উপনগরপ্রান্তে

“_______ I am settled, and bend up Each corporal agent to this terrible feat.” Macbeth. কক্ষান্তরে গিয়া লুৎফ-উন্নিসা দ্বার রুদ্ধ করিলেন। দুই দিন পর্যন্ত সেই কক্ষ হইতে নির্গত হইলেন না। এই দুই দিনে তিনি নিজContinue Reading

প্রথম পরিচ্ছেদ : শয়নাগারে

“রাধিকার বেড়ী ভাঙ্গ, এ মম মিনতি।” ব্রজাঙ্গনা কাব্য লুৎফ-উন্নিসার আগ্রা গমন করিতে এবং তথা হইতে সপ্তগ্রাম আসিতে প্রায় এক বৎসর গত হইয়াছিল। কপালকুণ্ডলা এক বৎসরের অধিক কাল নবকুমারের গৃহিণী। যেদিন প্রদোষকালে লুৎফ-উন্নিসা কাননে, সেদিন কপালকুণ্ডলাContinue Reading

তৃতীয় পরিচ্ছেদ : স্বপ্নে

“I had a dream, which was not all a dream.” Byron কপালকুণ্ডলা ধীরে ধীরে দ্বার রুদ্ধ করিলেন। ধীরে ধীরে শয়নাগারে আসিলেন, ধীরে ধীরে পালঙ্কে শয়ন করিলেন। মনুষ্যহৃদয় অনন্ত সমুদ্র, যখন তদুপরি ক্ষিপ্ত বায়ুগণ সমর করিতেContinue Reading

চতুর্থ পরিচ্ছেদ : কৃতসঙ্কেতে

“― I will have grounds More relative than this.” Hamlet কপালকুণ্ডলা সেদিন সন্ধ্যা পর্য্যন্ত অনন্যচিন্ত হইয়া কেবল ইহাই বিবেচনা করিতেছিলেন যে, ব্রাহ্মণবেশীর সহিত সাক্ষাৎ বিধেয় কি না। পতিব্রতা যুবতীর পক্ষে রাত্রিকালে নির্জ্জনে অপরিচিত পুরুষের সহিতContinue Reading

পঞ্চম পরিচ্ছেদ : গৃহদ্বারে

“Stand you awhile apart, Confine yourself but in a patient list.” Othello যখন সন্ধ্যার প্রাক্কালে কপালকুণ্ডলা গৃহকার্য্যে ব্যাপৃতা ছিলেন, তখন লিপি কবরীবন্ধনচ্যুত হইয়া ভূমিতলে পড়িয়া গিয়াছিল। কপালকুণ্ডলা তাহা জানিতে পারেন নাই। নবকুমার তাহা দেখিয়াছিলেন। কবরীContinue Reading

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ : পুনরালাপে

“তদগচ্ছ সিদ্ধ্যৈ কুরু দেবকার্য্যম্‌।” কুমারসম্ভব কাপালিক আসন গ্রহণ করিয়া দুই বাহু নবকুমারকে দেখাইলেন। নবকুমার দেখিলেন, উভয় বাহু ভগ্ন। পাঠক মহাশয়ের স্মরণ থাকিতে পারে যে, যে রাত্রে কপালকুণ্ডলার সহিত নবকুমার সমুদ্রতীর হইতে পলায়ন করেন, সেই রাত্রেContinue Reading

সপ্তম পরিচ্ছেদ : সপত্নীসম্ভাসে

“Be at peace; it is your sister that addresses you. Requite Lucretia’s love.” Lucretia কপালকুণ্ডলা গৃহ হইতে বহির্গতা হইয়া কাননাভ্যন্তরে প্রবেশ করিলেন। প্রথমে ভগ্নগৃহমধ্যে গেলেন। তথায় ব্রাহ্মণকে দেখিলেন। যদি দিনমান হইত, তবে দেখিতে পাইতেন যে,Continue Reading