» আমি সৈনিক

এখন দেশে সেই সেবকের দরকার যে-সেবক সৈনিক হতে পারবে। সেবার ভার নেবে নারী কিংবা সেই পুরুষ, যে-পুরুষের মধ্যে নারীর-করুণা প্রবল। নারীর ভালোবাসা আর পুরুষের ভালোবাসা বিভিন্ন রকমের। নারীর ভালোবাসায় মমতা আর চোখের জলের করুণাই বেশি।Continue Reading

» সর্বহারা

‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে, মুতাবিক ১৯২৬ খৃষ্টাব্দের অক্টোবরে। প্রকাশক ব্রজবিহারী বর্মণ রায়, বর্মণ পাবলিশিং হাউস, ১৯৩ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২+৬৪, মূল্য এক টাকা ছয় আনা। তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়— সর্বহারা, কৃষাণেরContinue Reading

» মা (বিরজাসুন্দরী দেবী)-র শ্রীচরণারবিন্দে

মা (বিরজাসুন্দরী দেবী)-র শ্রীচরণারবিন্দে সর্বসহা সর্বহারা জননী আমার। তুমি কোনদিন কারো করনি বিচার, কারেও দাওনি দোষ। ব্যথা-বারিধির কূলে ব’সে কাঁদ’ মৌনা কন্যা ধরণীর একাকিনী! যেন কোন্‌ পথ-ভুলে-আসা ভিন্‌-গাঁ’র ভীর” মেয়ে! কেবলি জিজ্ঞাসা করিতেছে আপনারে, ‘Continue Reading

» সর্বহারা

১ ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা চোরাবালির চর, ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস সেই চরে তোর ঘর? শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা, হাট তুলে দে সর্বহারা, মেঘ-জননীর অশ্র”ধারা ঝ’রছে মাথার’ পর, দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি দুলিয়ে তর”-কর॥ ২ কন্যারা তোরContinue Reading

» কৃষাণের গান

ওঠ রে চাষি জগদ্‌বাসী ধর কষে লাঙল। আমরা মরতে আছি – ভালো করেই মরব এবার চল॥ মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্য-ভরা দেশ ওই বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ, ও ভাই লক্ষ হাতে টানছেContinue Reading

» শ্রমিকের গান

ওরে ধ্বংস-পথের যাত্রীদল! ধর হাতুড়ি, তোল কাঁধে শাবল॥ আমরা হাতের সুখে গড়েছি ভাই, পায়ের সুখে ভাঙব চল। ধর হাতুড়ি, তোল কাঁধে শাবল॥ ও ভাই আমাদেরই শক্তিবলে পাহাড় টলে তুষার গলে মরুভূমে সোনার ফসল ফলে রে!Continue Reading

» ধীবরদের গান

আমরা নীচে পড়ে রইব না আর শোন রে ও ভাই জেলে, এবার উঠব রে সব ঠেলে! ওই বিশ্ব-সভায় উঠল সবাই রে, ওই মুটে মজুর হেলে। এবার উঠব রে সব ঠেলে॥ আজ সবার গায়ে লাগছে ব্যথাContinue Reading

» ছাত্রদলের গান

আমরা শক্তি আমরা বল আমরা ছাত্রদল। মোদের পায়ের তলায় মুর্সে তুফান উর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল। আমরা ছাত্রদল॥ মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে যাত্রা নাঙ্গা পায়, আমরা শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই বিষম চলার ঘায়! যুগে-যুগে সিক্ত হলContinue Reading

» কাণ্ডারী হুশিয়ার!

কোরাস : ১ দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার! দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছেContinue Reading

» ফরিয়াদ

১ এই ধরণীর ধূলি-মাখা তব অসহায় সন্তান মাগে প্রতিকার, উত্তর দাও, আদি-পিতা ভগবান!- আমার আঁখির দুখ-দীপ নিয়া বেড়াই তোমার সৃষ্টি ব্যাপিয়া, যতটুকু হেরি বিস্ময়ে মরি, ভ’রে ওঠে সারা প্রাণ! এত ভালো তুমি? এত ভালোবাসা? এতContinue Reading

» আমার কৈফিয়ৎ

১ বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’, কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি! কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে! যেমন বেরোয় রবির হাতে সেContinue Reading

» প্রার্থনা

[গান] এসো যুগ-সারথি নিঃশঙ্ক নির্ভয়। এসো চির-সুন্দর অভেদ অসংশয়। জয় জয়। জয় জয়। এসো বীর অনাগত বজ্র-সমুদ্যত। এসো অপরাজেয় উদ্ধত নির্দয়। জয় জয়। জয় জয়। হে মৌনী জন-গণ- বেদনা-বিমোচন- যুগ-সেনানায়ক! জাগো জ্যোতির্ময়। জয় জয়। জয়Continue Reading

» গোকুল নাগ

না ফুরাতে শরতের বিদায়-শেফালি, না নিবিতে আশ্বিনের কমল-দীপালি, তুমি শুনেছিলে বন্ধু পাতা-ঝরা গান ফুলে ফুলে হেমন্তের বিদায়-আহবান! অতন্দ্র নয়নে তব লেগেছিল চুম ঝর-ঝর কামিনীর, এল চোখে ঘুম রাত্রিময়ী রহস্যের; ছিন্ন শতদল হ’ল তব পথ-সাথী; হিমানী-সজলContinue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» রুদ্রমঙ্গল

‘রুদ্রমঙ্গল’ প্রবন্ধ সঙ্কলনের প্রথম প্রকাশকাল জানা যায় না, কেননা মুদ্রিত পুস্তিকায় প্রকাশকালের উল্লেখ নেই। ৭৮ পৃষ্ঠার পুস্তিকা ‘রুদ্রমঙ্গলে’র মুদ্রাকর ছিলেন শ্রীঅমূল্যচন্দ্র ভট্টাচার্য্য, ‘ভট্টাচার্য্য প্রিণ্টিং ওয়ার্কস’, ২ নিবেদিতা লেন, বাগবাজার, কলিকাতা। মূল্য আট আনা। আলী আহমদContinue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» রুদ্রমঙ্গল (প্রবন্ধ)

নিশীথ রাত্রি। সম্মুখে গভীর তিমির। পথ নাই। আলো নাই। প্রলয়-সাইক্লোনের আর্তনাদ মরণ-বিভীষিকার রক্ত-সুর বাজাচ্ছে। তারই মাঝে মাকে আমার উলঙ্গ করে টেনে নিয়ে চলেছে আর চাবকাচ্ছে যে, সে দানবও নয়, দেবতাও নয়, রক্ত-মাংসের মানুষ। ধীরে ধীরেContinue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» আমার পথ

আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার। ‘মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে’ ‘জয় প্রলয়ংকর’ বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য।Continue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» মোহর্‌রম

ফিরে এসেছে আজ সেই মোহর্‌রম—সেই নিখিল-মুসলিমের ক্রন্দন-উৎসবের দিন। কিন্তু সত্য করে আজ কে কেঁদেছে বলতে পার হে মুসলিম? আজ তোমার চোখে অশ্রু নাই। আজ ক্রন্দন-স্মৃতি তোমার উৎসবে পরিণত! তোমার অশ্রু আজ ভণ্ডামি, ক্রন্দন আজ কৃত্রিমContinue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» বিষ-বাণী

মাভৈঃ! মাভৈঃ!! ভয় নাই, ভয় নাই–ওগো আমার বিষ-মুখ অগ্নি-নাগ-নাগিনীপুঞ্জ! দোলা দাও, দোলা দাও তোমাদের কুটিল ফণায় ফণায়। তোমাদের যুগ যুগ-সঞ্চিত কাল-বিষ আপন আপন সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে ফেলো। তোমাদের বিভূতি-বরণ অঙ্গ কাঁচা বিষের গাঢ় সবুজ রাগে রেঙেContinue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» ক্ষুদিরামের মা

ক্ষুদিরামের ফাঁসির সময়ের একটা গানে আছে, ক্ষুদিরাম বলছে – ‘আঠার মাসের পরে জনম নেব মাসীর ঘরে, মা গো, চিনতে যদি না পার মা দেখবে গলায় ফাঁসি–’ একবার বিদায় দে মা ফিরে আসি। সেই হারা-ক্রন্দনের আশ্বাস-গানContinue Reading

রুদ্রমঙ্গল

» ‘ধূমকেতু’র পথ

অনেকেই প্রশ্নের পর প্রশ্ন করছেন, ‘ধূমকেতু’-র পথ কী? সে কী বলতে চায়? এর দিয়ে কোন্ মঙ্গল আসবে ইত্যাদি। নীচে মোটামুটি ‘ধূমকেতু’র পথনির্দেশ করছি। প্রথম সংখ্যায় ধূমকেতুতে ‘সারথির পথের খবর’ প্রবন্ধে একটু আভাস দিবার চেষ্টা করেছিলাম,Continue Reading