চিত্তনামা » অর্ঘ্য
হায় চির-ভোলা! হিমালয় হতে অমৃত আনিতে গিয়া ফিরিয়া এলে যে নীলকণ্ঠের মৃত্যু-গরল পিয়া! কেন এত ভালো বেসেছিলে তুমি এই ধরণির ধূলি? দেবতারা তাই দামামা বাজায়ে স্বর্গে লইল তুলি! হুগলি ৩রা আষাঢ়, ১৩৩২Continue Reading
হায় চির-ভোলা! হিমালয় হতে অমৃত আনিতে গিয়া ফিরিয়া এলে যে নীলকণ্ঠের মৃত্যু-গরল পিয়া! কেন এত ভালো বেসেছিলে তুমি এই ধরণির ধূলি? দেবতারা তাই দামামা বাজায়ে স্বর্গে লইল তুলি! হুগলি ৩রা আষাঢ়, ১৩৩২Continue Reading
[জয়জয়ন্তী কীর্তন] খোলো মা দুয়ার খোলো প্রভাতেই সন্ধ্যা হল দুপুরেই ডুবল দিবাকর গো। সমর শয়ান ওই সুত তোর বিশ্বজয়ী কাঁদনের উঠছে তুফান ঝড় গো॥ সবারে বিলিয়ে সুধা, সে নিল মৃত্যু-ক্ষুধা, কুসুম ফেলে নিল খঞ্জর গো!Continue Reading
চিত্ত-কুঁড়ি-হাসনাহেনা মৃত্যু-সাঁঝে ফুটল গো! জীবন-বেড়ার আড়াল ছাপি বুকের সুবাস টুটল গো! এই তো কারার প্রাকার টুটে বন্দি এল বাইরে ছুটে, তাই তো নিখিল আকুল-হৃদয় শ্মশান-মাঝে জুটল গো! ভবন-ভাঙা আলোর শিখায় ভুবন রেঙে উঠল গো। ২Continue Reading
তখনও অস্ত যায়নি সূর্য, সহসা হইল শুরু অম্বরে ঘন ডম্বরু-ধ্বনি গুরুগুরুগুরু গুরু। আকাশে আকাশে বাজিছে এ কোন্ ইন্দ্রের আগমনি? শুনি, অম্বুদ-কম্বু-নিনাদে ঘন বৃংহিত-ধ্বনি। বাজে চিক্কুর-হ্রেষা-হর্ষণ মেঘ-মন্দুরা-মাঝে, সাজিল প্রথম আষাঢ় আজিকে প্রলংকর সাজে! ঘনায় অশ্রু-বাষ্প-কুহেলি ঈশান-দিগঙ্গনে,Continue Reading
কোন্ ঘর-ছাড়া বিবাগির বাঁশি শুনে উঠেছিলে জাগি ওগো চির-বৈরাগী! দাঁড়ালে ধূলায় তব কাঞ্চন-কমল-কানন ত্যাগি– ওগো চির-বৈরাগী! ছিলে ঘুম-ঘোরে রাজার দুলাল, জানিতে না কে সে পথের কাঙাল ফেরে পথে পথে ক্ষুধাতুর-সাথে ক্ষুধার অন্ন মাগি, তুমি সুধারContinue Reading
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে (পৌষ,১৩৩২) প্রকাশিত হয়। প্রকাশক মৌলভী শামসুদ্দীন হুসেন, বেঙ্গল পাবলিশিং হোম, ৫ নূর মহম্মদ লেন, কলিকাতা। ১৫ নং নয়ান চাঁদ [দত্ত] ষ্ট্রীট, কলিকাতা, মেটকাফ প্রেসে শ্রীমণিভূষণ মুখার্জীContinue Reading
গাহি সাম্যের গান– যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-ক্রীশ্চান। গাহি সাম্যের গান! কে তুমি?–পারসি? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো? কনফুসিয়াস? চার্বাক-চেলা? বলে যাও, বলো আরও! বন্ধু, যা-খুশি হও, পেটে পিঠে কাঁধেContinue Reading
কে তুমি খুঁজিছ জগদীশ ভাই আকাশ পাতাল জুড়ে’ কে তুমি ফিরিছ বনে-জঙ্গলে, কে তুমি পাহাড়-চূড়ে? হায় ঋষি দরবেশ, বুকের মানিকে বুকে ধরে তুমি খোঁজ তারে দেশ-দেশ। সৃষ্টি রয়েছে তোমা পানে চেয়ে তুমি আছ চোখ বুঁজে,Continue Reading
গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান্ । নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। – ‘পূজারি দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজারContinue Reading
সাম্যের গান গাই!– যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই। এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনিকো কে আছে পুরুষ-নারী? আমরা ত ছার;–পাপে পঙ্কিল পাপীদের কাণ্ডারি! তেত্রিশ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ সে টলমল, দেবতার পাপ-পথContinue Reading
কে তোমায় বলে ডাকাত বন্ধু, কে তোমায় চোর বলে? চারিদিকে বাজে ডাকাতি ডঙ্কা, চোরেরই রাজ্য চলে! চোর-ডাকাতের করিছে বিচার কোন সে ধর্মরাজ? জিজ্ঞাসা করো, বিশ্ব জুড়িয়া কে নহে দস্যু আজ? বিচারক! তব ধর্মদণ্ড ধরো, ছোটোদেরContinue Reading
কে তোমায় বলে বারাঙ্গনা মা, কে দেয় থুতু ও-গায়ে? হয়ত তোমায় স্তন্য দিয়াছে সীতা-সম সতী মায়ে। না-ই হলে সতী, তবু তো তোমরা মাতা-ভগিনীরই জাতি; তোমাদের ছেলে আমাদেরই মতো, তারা আমাদের জ্ঞাতি; আমাদেরই মতো খ্যাতি যশContinue Reading
মিথ্যা বলেছ বলিয়া তোমায় কে দিল মনস্তাপ? সত্যের তরে মিথ্যা যে বলে স্পর্শে না তারে পাপ। গোটা সত্যটা শুধু তো সত্যকথা বলাতেই নাই, মিথ্যা কয়েও সত্যনিষ্ঠ হতে পারি আমরাই! সত্যবাক সে বড়ো কিছু নয়, কজনContinue Reading
সাম্যের গান গাই– আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই! বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি, অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী। নরককুন্ডContinue Reading
সাম্যের গান গাই যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই। এ প্রশ্ন অতি সোজা, এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা? অদ্ভুত দর্শন– এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন! প্রজা হয় শুধুContinue Reading
গাহি সাম্যের গান– বুকে বুকে হেথা তাজা সুখ ফোটে, মুখে মুখে তাজা-প্রাণ! বন্ধু, এখানে রাজা-প্রজা নাই, নাই দরিদ্র-ধনী, হেথা পায় নাকো কেহ খুদ-ঘাঁটা, কেহ দুধ-সর-ননী। অশ্ব-চরণে মোটর-চাকায় প্রণমে না হেথা কেহ, ঘৃণা জাগে নাকো সাদাদেরContinue Reading
দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে, বাবু সাব এসে চড়িলContinue Reading
‘পূবের হাওয়া’ প্রকাশের কালক্রমে কাজী নজরুল ইসলামের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশকাল আশ্বিন ১৩৩২ বঙ্গাব্দ (অক্টোবর ১৯২৫)। প্রকাশক মজিবল হক, বি,কম্, ভোলা বরিশাল। মুদ্রাকর মজিবল হক, বি,কম্। ওরিয়েণ্টাল প্রিণ্টার্স লিমিটেড, ২৬/৯/১এ, হ্যারিসন রোড, কলিকাতা। পৃষ্ঠা: ২+৫০।Continue Reading
স্মরণে আজ নতুন করে পড়ল মনে মনের মতনে এই শাঙন সাঁঝের ভেজা হাওয়ায়, বারির পতনে। কার কথা আজ তড়িৎ-শিখায় জাগিয়ে গেল আগুন লিখায়, ভোলা যে মোর দায় হল হায় বুকের রতনে। এই শাঙন সাঁঝের ভেজাContinue Reading
লক্ষ্মী আমার! তোমার পথে আজকে অভিসার, অনেক দিনের পর পেয়েছি মুক্তি-রবিবার। দিনের পর দিন গিয়েছে হয়নি আমার ছুটি, বুকের ভিতর ব্যর্থ কাঁদন পড়ত বৃথাই লুটি বসে ঢুলত আঁখি দুটি! আহা আজ পেয়েছি মুক্ত হাওয়া লাগলContinue Reading
© All Right Reserved by Eduliture ২০২৬